1. mesharulislammonir1122@gmail.com : দৈনিক সংযোগ প্রতিদিন : দৈনিক সংযোগ প্রতিদিন
  2. info@www.sangjogprotidin.com : দৈনিক সংযোগ প্রতিদিন :
শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ০৮:১২ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
কালিগঞ্জের চৌমুহনী ডিগ্রি মাদ্রাসার সাফল্য উজিরপুর উপজেলা শ্রমিক দলের দোয়া ও মিলাদ মাহফিল নড়াইল–১ ও নড়াইল–২ আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ঘোষণা তালায় শ্রেষ্ঠ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধান হলেন সুপার আব্দুর রাজ্জাক মোল্লাহাটে সংসদ নির্বাচন ২০২৬ ও গণভোট উপলক্ষে ভোটের গাড়ির প্রচারণা দিঘলিয়ায় ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ থানা সম্মেলন অনুষ্ঠিত শ্যামনগরে সড়ক নির্মাণের খোঁড়া গর্তে যাত্রীবাহী বাস কালিয়ায় বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর সঙ্গে সাংবাদিকদের মতবিনিময় কেরানীগঞ্জে নিখোঁজ ছাত্রী ও তার মায়ের লাশ উদ্ধার খালেদা জিয়ার স্মরণে শোকসভা শুরু, অনুষ্ঠানস্থলে তারেক রহমান

মুন্সীগঞ্জ আকাশ নীলা ইকো ট্যুরিজম সেন্টারে পর্যটকদের সংখ্যা বাড়লেও আশানুরূপ নয়

  • প্রকাশিত: সোমবার, ১ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৯৮ বার পড়া হয়েছে

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি : বঙ্গোপসাগরের কোল ঘেঁষে গড়ে ওঠা বিধৌত সুন্দরবন যেন চির সুন্দর। তার অনন্ত চিরযৌবনা সৌন্দর্য হাতছানি দিয়ে ডাকে ভ্রমণ পিপাসু মানুষ কে। ভ্রমণ পিপাসু মানুষ ও তার এ সৌন্দর্যে বিমোহিত।প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করতে কার না মন চায়। সৌন্দর্যের এই লীলাভূমির ডাকে সাড়া দিয়ে দিনে দিনে বাড়ছে ভ্রমণ পিপাসু মানুষের সংখ্যা। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে জানা গেল এমন তথ্য। তবু এ সংখ্যা যেন পর্যাপ্ত নয়। সুন্দরবনকেন্দ্রিক যে পরিমাণ মানুষ আসার কথা হিসাব অনুযায়ী আদৌ মিলছে না। অনিন্দ সুন্দর প্রকৃতির অপরুপ সৌন্দর্য্যের আধার আমাদের গর্বের প্রতিক প্রিয় সুন্দর বন। বিশ্বের সবচেয়ে বড় ম্যানগ্রোভ, লোনাপানির বন সুন্দর বন। এ বনের বিশেষ পরিচিতি ও চেনাতে এবং জানাতে দেশী বিদেশীদের কে, সময়ের আবর্তে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসনের চিন্তার আকাশে জন্ম নেয় এক মহতি উদ্যোগ। যার ফল আজকের এই আকাশ নীলা ইকোট্যুরিজম। জন্ম লগ্ন থেকে যেন মানুষকে আকৃষ্ট করছে। মানুষের অভূতপূর্ব সাড়া মিললেও পর্যাপ্ত নিরাপত্তা, থাকার সুষম ব্যবস্থা না থাকায় দিনে দিনে যেন তার কর্ম পরিধি কমছে এই কাব্যিক লীলাভূমিতে জন্ম নেওয়া আকাশ লীনা ইকোট্যুরিজমের। সৃষ্টি লগ্নে তার সৃষ্টির উপর যে কর্মযজ্ঞ ছিল তা দিনে দিনে যেন ঝিমিয়ে পড়ছে। তার সৃষ্টি শৈলীর যে পরিকল্পনা ছিল আজ যেন তা মন্থর। আন্তরিকতার অভাব, ভবন অবকাঠামো সহ আনুষঙ্গিক অন্যান্য কাজগুলো অগ্রগতিহীনতার কারণে সুন্দরবনের যে জৌলুস তা ঠিকঠাক মতো মানুষ উপভোগ করতে পরছে না। ঝড়-ঝঞ্ঝা প্রাকৃতিক দুর্যোগ সহ জলোচ্ছাসের হাত থেকে রক্ষা করে। মায়ের মত পরম মমতায় সুন্দরবন উপকূলবর্তী অঞ্চলকে আগলে রাখা আমাদের এ প্রিয় সুন্দর বন সম্পর্কে সবাই চিনবে জানবে এমন প্রত্যাশা সুধী মহলের। শুধু চিনবে বা জানবে কেন,সুন্দর বনের বিশাল জায়গা জুড়ে বিস্তৃত ছোট বড় কয়েক প্রজাতির সবুজ গাছের অপরুপ মনোরম দৃশ্য,বনের মধ্য বানরের সারাক্ষন লুকচুরি,বিভিন্ন প্রজাতির পাখির কলরব,নদীর কুল কুল ধ্বনি,নদীতে পাল তোলা নৌকার মনোহরী দৃশ্য,প্রকৃতির ফুরফুরে বাতাসে শুধু দেহ মন জুড়ায় না মনের ক্ষুধা – তৃষ্নার খোরাক ও বটে।এ ট্যুরিজম স্পটের পরিপূর্ণ গঠন শিল্প আর সুন্দর বনের বিভিন্ন প্রজাতির পাখি, বানর,হরিণ,জীব জন্তুর,ও কৃত্রিম কারু ক্য্যা সহ গ্রামের সাধারন দৃশ্যের সমন্বয়ে সময়ের আবর্তে পরিনত হবে অপরুপ সৌন্দর্য্যের এক মিলন মেলায় এমন টা মনে করে স্থানীয় জনগন।বর্তমানে নির্মানাধীন এ পার্কের গেস্ট হাউস,পার্কিং স্পট,ওয়াচ টাওয়ার সহ বিভিন্ন কাজ চলছে।ওয়াচ টাওয়ারে বসে বনের বিচরনকৃত বন্য প্রানী দেখা যাবে যা অত্যন্ত মজার ব্যাপার বলে অনেকে মনে করেন।ইতোমধ্যে এ পার্কে মোঃ আবদুস সামাদ ফিস মিউজিয়ামে সংগ্রহ করে রাখা হয়েছে বিভিন্ন প্রজাতির নদী ও সামুদ্রিক মাছ।এ ছাড়া গাছে গাছে ঝুলছে কৃত্রিম বানর,ঘাস আর গাছের নিচে বাঘ, পাখি ও দলে দলে চিত্রালী মায়াবী হরিন। এত সুন্দর নান্দনিক সৌন্দর্য নিয়ে যায় কল্পনার গহীন রাজ্যে। আমাদের গর্বের প্রতিক আকাশনীলা ইকোট্যুরিজমে বিটিভির সবচেয়ে জনপ্রিয় শিক্ষা ও তথ্য বিষয়ক ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ইত্যাদি এ পার্কে হওয়ায় এক অন্যরকম মাত্রা সৃষ্টি হয়েছিল। এর পর থেকে দর্শনার্থীদের ভিড় আনুপাতিক হারে বেড়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। গর্বের প্রতীক প্রিয় সুন্দর বন পরিচিতিতে আরও একধাপ এগিয়ে গেল আকাশ নীলা। বেড়েছে দর্শনার্থীদের সংখ্যা। তবুও যেন আশানুরূপ চাহিদা পূরণ হচ্ছে না। জাতীয় আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সমাদৃত সৌন্দর্যের এই ভূস্বর্গে দর্শনার্থীদের পদচরণায় মুখরিত হবে। আনন্দ উচ্ছ্বাসের উদ্বেলিত হবে প্রতিটি দিনের প্রতিটি ক্ষণ। এই কাঙ্ক্ষিত ফল মিললেই সড়কপথে সুন্দরবন ভ্রমণে বাংলাদেশের ভূখণ্ডে চির জাগ্রত সুন্দরবনের যে আসল রূপ বৈচিত্র তা মানব মনে প্রস্ফুটিত হবে। এমন প্রত্যাশা-আশা, আকাঙ্ক্ষায় সংশ্লিষ্ট প্রশাসনসহ স্থানীয় সুধী মহলের।
দর্শনার্থীদের জন্য অপরুপ সাজে সেজেছে আকাশ লীনা ইকো ট্যুরিজম সেন্টার। বিশেষ করে ঈদেকে কেন্দ্র করে সবার মিলনমেলায় এর সৌন্দর্য যেন আরও কয়েক গুন বেড়ে গেছে। প্রিয়জনদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে ঈদের প্রথম দিন থেকেই দর্শনার্থীদের আনাগোনা চোঁখে পড়ার মতো আকাশ লীনা ইকো ট্যুরিজম সেন্টার সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলা বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের সুন্দরবন কোল ঘেঁষে ২১ একর জায়গার নদীর উপর নির্মিত। সারি সারি কেওড়া, বাইন, খলিশা, পশুর, সুন্দরী, গাছ ও সুন্দরবনের বিভিন্ন প্রজাতির মাছ আছে ফিস মিউজিয়াম, শিতাতপ নিয়ন্ত্রিত রেস্ট হাউস,ক্যানটিন, বিভিন্ন প্রসাধনী দোকান, বসার জন্য দৃষ্টিনন্দন ঘর, জোয়ার, ভাটার এ এক প্রকৃতির খেলা। এখানে দর্শক নন্দিত জন প্রিয় অনুষ্ঠান। ওপারে সুন্দরবন মাঝখানে মালঞ্চ নদী এপারে নদীর উপর নির্মিত আকাশ লীনা ইকো ট্যুরিজম সেন্টার। পাশেই মুন্সিগঞ্জ ফরেস্ট অফিস নৌকা ও ট্রলার যোগে বনের ভিতর নির্মিত কলাগাছি টুরিষ্ট সেন্টার, দোবেকি। ওখানে চিত্রা হরিণ,বানর,নাম না জানা কত পশুপাখি আকাশ লীনা ওয়াচ টাওয়ারে উঠলে সুন্দরবনের অনেক অংশ দেখা যাবে। বিভিন্ন জায়গাতে ঘুরতে আসা দর্শনার্থীরা একেই শুরে বলেন আল্লাহ তায়ালা অনুরুপ সাজে সাজিয়েছেন সুন্দরবন। সুন্দরবনকে না দেখলে কাওকে বুঝাতে পারব না সুন্দরবন দেখে আমরা মুগ্ধ হয়েছি, আল্লাহ তায়ালা আমাদের হায়াতে বাঁচিয়ে রাখলে আবার আসবো। শুধু ঈদে নয় বিশেষ বিশেষ দিনে বিনোদন পেতে পাশের জেলার দর্শনার্থীদের ঘুরতে আসে এই আকাশ লীনা ইকো ট্যুরিজম সেন্টারে। তবে দর্শনার্থীরা অভিযোগ করে বলেন এখানে যদি থাকার মত সুন্দর হোটেলে ব্যবস্থা থাকত তাহলে আমরা ২-৩ দিন পরিবার সহ এখানে থেকে আরো সুন্দরভাবে সুন্দরবনকে উপভোগ করতাম। বাংলাদেশের কোথাও সড়কপথে সুন্দরবন দেখার মত সুযোগ নেই। যাহা সাতক্ষীরা জেলায় শ্যামনগর উপজেলার উপকূলীয় মুন্সিগঞ্জ ও বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নে সুন্দরবন সংলগ আছে।
বাড়ছে সুন্দরবনকেন্দ্রিক পর্যটকের সংখ্যা। বাগেরহাট ও সাতক্ষীরা দিয়ে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ম্যানগ্রোভ বনটি দেখতে যাচ্ছেন তারা। সড়কপথে সাতক্ষীরা দিয়ে সহজেই সুন্দরবনে প্রবেশের সুযোগ থাকায় এপথে পর্যটকদের আগ্রহ বেশি। তবে, দূরদূরান্ত থেকে সুন্দরবনে বেড়াতে এসে ভালো সড়ক যোগাযোগ ও আবাসন ব্যবস্থা না থাকায় বিপাকে পড়তে হচ্ছে সাতক্ষীরা অংশে থাকা সুন্দরবন দেখতে আসা ভ্রমণপিপাসুদের।
সুন্দরবন দেখতে আসা পর্যটকরা জানান, পর্যাপ্ত আবাসন ব্যবস্থা না থাকায় পুরুষদের চেয়ে নারীদের বেশি দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে। অবকাঠামোগত সমস্যার সমাধান হলে পর্যটকদের সংখ্যা বড়বে। সেই সঙ্গে প্রচুর রাজস্ব আয় করতে পারবে সরকার।
পর্যটন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পদ্মা সেতুর সুবিধা নিয়ে সুন্দরবনের সাতক্ষীরা অংশে পর্যটনের অপার সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু, সরকারি উদ্যোগ না থাকায় সেটি বিকশিত হচ্ছে না। বিশেষ করে, প্রচারণা না থাকায় এবং সরকারিভাবে সাতক্ষীরার সুন্দরবন-সংলগ্ন এলাকাকে এখনো পর্যটন এলাকা ঘোষণা না কারায় পিছিয়ে রয়েছে এখানকার পর্যটন খাত। এজন্য বড় বিনিয়োগে কেউ আগ্রহী হয়নি।
সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বিশ্বের একমাত্র অখণ্ড ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন। বাঘ, কুমির ও বানরসহ ৪৫৩ প্রজাতির বন্য প্রাণীর বাসস্থান এটি। তাই এই বনের প্রতি রয়েছে ভ্রমণপিপাসুদের প্রবল আকর্ষণ। বিশেষ করে শীত মৌসুমে সাপ্তাহিক ছুটির দিন শুক্রবার ও শনিবার ভিড় থাকে জেলার শ্যামনগর উপজেলার মুন্সীগঞ্জ ও বুড়িগোয়ালিনীতে। এই দুই গ্রাম দিয়ে ইঞ্জিনচালিত নৌকায় করে সুন্দরবনের সৌন্দর্য উপভোগ করতে ভিড় জমান পর্যটকরা।
গত অর্থবছরে ৫২ হাজার ৭০০ পর্যটক সাতক্ষীরা রেঞ্জ দিয়ে সুন্দরবন ভ্রমণ করেন, যার মধ্যে ১২৮ জন বিদেশি ছিলেন। গত অর্থবছরে রাজস্ব আহরণের পরিমাণ ছিল ৩১ লাখ ২২ হাজার টাকা। এই অর্থবছরের পাঁচ মাসে প্রায় ২০ হাজার পর্যটক সুন্দরবন ভ্রমণ করেছেন, যা গতবারের একই সময়ের চেয়ে ২ হাজার বেশি। জীববৈচিত্র্য রক্ষায় জুন, জুলাই ও আগস্ট এই তিন মাস সুন্দরবনে প্রবেশ বন্ধ থাকে। কোনো পর্যটক বা জেলে-বাওয়ালি এ সময়ে সুন্দরবনে প্রবেশ করতে পারেন না। সরেজমিন দেখা যায়, সুন্দরবনের কলাগাছি ও দোবেকি পর্যটন স্থানে যেতে মুন্সীগঞ্জ পয়েন্টে ভিড় করেছিলেন পর্যটকরা। মুন্সীগঞ্জ ছাড়াও বুড়িগোয়ালিনী এলাকার নীলডুমুর ও কদমতলা থেকেও সুন্দরবনে যাওয়া যায়। তবে ওই দুটি স্থানে ভিড় কম ছিল। ঢাকার গুলশান থেকে আসা ফাইম হোসেন, শারমিন সুলতানা সোমা, শাহানা মুন বলেন, আমরা ঢাকা থেকে পরিবার নিয়ে সুন্দরবনে যাব বলে এসেছি। প্রাইভেট কার কোথায় রাখব, নিরাপদ সে জায়গা এখানে নেই।
সাভারের রুপকুর রহমান বলেন, সুন্দরবন উপকূলে ভালো মানের হোটেল-মোটেল নেই। রাস্তার অবস্থাও খুব ভালো নয়। ভালো আবাসিক হোটেল ও রেস্টুরেন্ট থাকলে পর্যটক দ্বিগুণ হতো এই সড়ক পথে। শ্যামনগর উপজেলার মুন্সীগঞ্জ আবু সুফিয়ান, শহিদুল ইসলামসহ একাধিক ট্রলার মালিক বলেন, দীর্ঘদিন মুন্সীগঞ্জ দিয়ে ট্রলারে ওঠার জন্য পন্টুন ছিল না। অনুরোধ করতে করতে একটি পন্টুন পেয়েছি। অন্য দুই জায়গায় এখনো পর্যটকদের ট্রলারে তুলতে পন্টুন নির্মাণ করা হয়নি। সুন্দরবন-সংলগ্ন আকাশ নীলা ইকো ট্যুরিজমের ম্যানেজার সাইফুল ইসলাম বলেন, প্রতিদিন হাজারও দর্শানার্থী প্রবেশ করছেন এখানে, যা বিগত বছরের তুলনায় অনেক বেশি। ঈদের ছুটিতে সুন্দরবনে পর্যটকদের ঢল নেমেছে।
সুন্দরবন সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) ফজলুল হক এই প্রতিবেদককে ‌বলেন, আসলে সুন্দরবন সংরক্ষিত এলাকা। এখানে পর্যটনের ক্ষেত্রে কিছুটা বিধিনিষেধ মানতে হয়। চাইলাম আর ঢুকে গেলাম এই ধরনের ব্যাপার কিন্তু নেই। সেক্ষেত্রে সরকারিভাবে পর্যটন কেন্দ্র ঘোষণার বিষয়টি কিছু আলাপ-আলোচনার মধ্যে রয়েছে।
সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক (ডিসি) মিসেস আফরোজা আক্তার এই প্রতিবেদক কে ‌বলেন, সুন্দরবনকেন্দ্রিক পর্যটন খাতকে সমৃদ্ধ করতে অবকাঠামোগত উন্নয়নের কাজ চলমান রয়েছে। আমরা চেষ্টা করছি, সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষা করে যতটুকু সম্ভব, পর্যটনের জন্য উন্মুক্ত করা যায়। তিনি আরো বলেন, আমরা অবকাঠামোগত সুবিধা থেকে পিছিয়ে আছি, এটা সত্য। সরকারিভাবে একটি রিসোর্ট আমরা করেছি। বেসরকারিভাবে কয়েকটি হোটেল রয়েছে। তবে সেটা যথেষ্ট নয়। আমরা পর্যটন করপোরেশনের কাছে চিঠি লিখেছি, যাতে তারা সেখানে হোটেল-মোটেল নির্মাণ করে। কয়েক বছরের মধ্যে সাতক্ষীরা-মুন্সীগঞ্জ সড়ক চার লেনের হয়ে যাবে।
সাতক্ষীরার আকর্ষণ, সড়ক পথে সুন্দরবন” এই স্লোগানকে সামনে রেখে গড়ে ওঠা সাতক্ষীরার সুন্দরবন ভিত্তিক পর্যটন শিল্প ক্ষতির মুখে পড়েছে শুধুমাত্র সড়কের বেহাল দোশার কারণে! সুন্দরবন পৃথিবীর সব থেকে বড় ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল যা আমাদের বাংলাদেশের দক্ষিণে অবস্থিত।
বাংলাদেশের দক্ষিণের বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা এই তিনটি জেলাতেই মূলত সুন্দরবন এর অবস্থান এবং এই তিনটি জেলার মধ্যে শুধুমাত্র সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার মুন্সিগঞ্জ থেকে সড়কপথে সুন্দরবন দেখা যায়। সেই অনুযায়ী সাতক্ষীরা জেলার জেলা ব্র্যান্ডিং এর প্রধান উপপাদ্য ছিল “সাতক্ষীরার আকর্ষণ সড়ক পথের সুন্দরবন”।
কিন্তু অতি সম্প্রতি সাতক্ষীরা থেকে শ্যামনগর হয়ে মুন্সিগঞ্জ পর্যন্ত সড়ক ও জনপদ বিভাগের যে সড়কটি আছে তার বেহাল দশার কারণে পর্যটকরা এই অঞ্চল থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। অন্যান্য বছরের তুলনায় পর্যটন মৌসুমে এবছর সাতক্ষীরা অঞ্চল দিয়ে সুন্দরবনের পর্যটকের সংখ্যা খুবই কম লক্ষ্য করা যাচ্ছে। যার জন্য স্থানীয় ট্যুরিজম ব্যবসায়ীরা সহ অন্যান্য ব্যবসায়ীরা অন্যান্য বছরে তুলনায় এ বছর অনেক বেশি ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। তাদের কপালে পড়েছে চিন্তার ভাজ।
এ ব্যাপারে স্থানীয় ট্যুরিজম ব্যবসায়ীদের সাথে মতবিনিময় কালে তারা বলেন অন্যান্য বছর এই সময়ে সাতক্ষীরার শ্যামনগরের মুন্সিগঞ্জ এবং বুড়িগোয়ালিনীর নীল ডুমুর পয়েন্টে প্রচুর পর্যটকের আনাগোনা থাকে কিন্তু এবছর পর্যটকের সংখ্যা খুবই কম। কারণ হিসেবে তারা প্রধানত সাতক্ষীরা টু শ্যামনগর হয়ে মুন্সীগঞ্জের প্রধান সড়কের বেহাল দশাকে দায়ী করছেন।
এ ব্যাপারে মুন্সিগঞ্জ সুন্দরবন ট্যুরিস্ট নৌযান মালিক সমিতির সভাপতি কে এম আনিসুর রহমান বলেন অন্যান্য বছরে তুলনায় এ বছর এখনো পর্যন্ত পর্যটকের সমাগম অনেক কম। কারণ হিসেবে তিনি সাতক্ষীরা থেকে মুন্সিগঞ্জ প্রধান সড়কের বেহাল দশা, দেশের রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা র কথা উল্লেখ করেন। অতি সম্প্রতি শ্যামনাগর উপজেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে চালিত আকাশলীনা ইকো ট্যুরিজম পার্কেও দর্শনার্থীদের সমাগম খুবই কম দেখা গেছে।
এ ব্যাপারে সুন্দরবন পশ্চিম বনবিভাগের মুন্সিগঞ্জ টহল ফাঁড়ির দায়িত্ব রত কর্মকর্তা  মোঃ গুলশান (বি এম) আমাদেরকে জানান অন্যান্য বছরের ন্যায় এবারও সুন্দরবনের মধ্যে অবস্থিত কলাগাছিয়া ইকো ট্যুরিজম সেন্টার এবং দোবেকি এই দুটি স্পট দর্শনার্থীদের জন্য খোলা থাকলেও অন্যান্য বছরের তুলনায় এখনো পর্যন্ত দর্শনার্থীর সংখ্যা খুবই কম। দশানার্থীদের সংখ্যা কম থাকায় এই খাত থেকে সরকারের রাজস্ব কমে যাওয়ার আশঙ্কা করছে বন বিভাগের কর্মকর্তারা।
সড়কের বেহাল দশার কারণ হিসেবে সাতক্ষীরা রোডস এন্ড হাইওয়ে অফিসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এই বছরের অতি বৃষ্টিকে দায়ী করেছেন এবং আরও জানান সাতক্ষীরা থেকে কালিগঞ্জ, শ্যামনগর হয়ে ভেটখালী এই রাস্তাটি ফোর লেনে উন্নীত করা হবে এবং এর ঠিকাদার নির্ধারণ করে অলরেডি একনেকের বৈঠকে অর্থ ছাড় করা হয়েছে। খুব শীঘ্রই এই সড়কটির চার লেনে উন্নীত করার কাজ শুরু হবে।
উল্লেখ্য যে, যে কোন এলাকায় পর্যটন শিল্পের উন্নয়নের সাথে সাথে স্থানীয় পর্যটন ব্যবসার পাশাপাশি আরও ১৫ থেকে ২০ রকম ব্যবসার প্রসার ঘটে। এবছর পর্যটক আশঙ্কাজনক হারে কমে যাওয়ায় এই এলাকার সকল ব্যবসায়ীরা ক্ষতির মধ্যে পড়বে। স্থানীয় ব্যবসায়ী, সমাজের জ্ঞানীগুণী ব্যক্তি, সমাজসেবক মুন্সিগঞ্জ সুন্দরবন প্রেসক্লাবের সাংবাদিকবৃন্দ সকলেই এই সমস্যার আসু সমাধান কামনা করে। আকাশ নীলা থেকে কলাগাছিয়া।
সুন্দরবনের কলাগাছিয়া ইকো-ট্যুরিজম সেন্টারে ট্রলার থেকে নামতেই এক ঝাঁক বানর ছুটে এসে স্বাগত জানাবে আপনাকে। এর পরেই দেখতে পাবেন কিছু হরিণ আপনার আশেপাশেই ঘোরাঘুরি করছে। এছাড়াও আছে গেওয়া, গরান, বাইন, পশুর, গোলপাতা, হোগলাপাতাসহ নানান প্রজাতির বৃক্ষ। রয়েছে কুমির, মদন টাকসহ হাজারো প্রাণবৈচিত্র্য।
এসব দারুণ দৃশ্য উপভোগ করতে শীতের শুরু থেকেই পর্যটকমুখর হয়ে পড়েছে সুন্দরবনের কলাগাছিয়া ইকো-ট্যুরিজম সেন্টার। সুন্দরবন সংলগ্ন জেলা সাতক্ষীরাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পর্যটক আসতে শুরু করেছে এখানে। মেতে উঠেছে সুন্দরবনের নৈসর্গিক সৌন্দর্য উপভোগে।
কলাগাছিয়া ইকো-ট্যুরিজম সেন্টারের ওয়াচ টাওয়ারে উঠে যতদূর চোখ যায় শুধু সবুজ আর সবুজ।
কেউ বানরের সাথে খেলায় মত্ত, কেউবা ছবি কিংবা সেলফি তুলেই হারিয়ে যেতে চান প্রকৃতির মাঝে।
সাতক্ষীরা থেকে সুন্দরবন দেখার একটা বিশেষত্ব আছে আর তা হলো এখানে বাস থেকে নেমেই স্বল্প খরচে সুন্দরবন দেখা যায়। সাতক্ষীরা শহর থেকে ৬৫ কিলোমিটার দূরে চুনা নদীর তীরে মুন্সীগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড। এ পাশে বাসস্ট্যান্ড, ওপারে সুন্দরবন
রাজশাহী থেকে সুন্দরবন ভ্রমণে আসা কলেজ শিক্ষক জিয়াউল হক জানান, ছেলেমেয়েদের নিয়ে সুন্দরবন ভ্রমণের স্বপ্ন ছিল অনেকদিনের। এবার তা পূরণ হলো। অন্যান্য জায়গার তুলনায় সাতক্ষীরা অংশের সুন্দরবন দেখা সহজ। এখানকার ব্যবস্থাপনাও ভালো। রাজধানীর আব্দুল্লাহপুর থেকে সুন্দরবন ভ্রমণে আসা ব্যাংক কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, সুন্দরবন প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমী।
শ্যামনগরের নীলডুমুর ট্রলার চালক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হালিম বলেন, বাংলাদেশের যে পাঁচটি জেলা নিয়ে সুন্দরবন, তার মধ্যে সাতক্ষীরা দিয়ে কেবল বাস থেকে নেমেই সুন্দরবন দেখা যায়। দেশের যেকোনো এলাকা থেকে বাসযোগে শ্যামনগর, মুন্সীগঞ্জে নামলেই সামনে পড়ে পৃথিবীর সর্ববৃহৎ ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট সুন্দরবন। আর একটু ভেতরে যেতে চাইলে লোকালয় থেকে একেবারে কাছাকাছি কলাগাছিয়া। খুব অল্প খরচে ট্রলারে যাওয়া যায় কলাগাছিয়া। শীতের শুরু থেকেই পর্যটকরা আসতে শুরু করেছেন।
এদিকে, সুন্দরবন ভ্রমণে আসা দর্শনার্থীদের জন্য নতুন মাত্রা যুক্ত করেছে চুনা নদীর তীরে সুন্দরবনের কোলে প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে গড়ে তোলা আকাশলীনা ইকো ট্যুরিজম সেন্টার। বিকেলের সময়টা ভালোই কাটবে সেখানে। কিভাবে যাবেন :
রাজধানী ঢাকা থেকে সরাসরি শ্যামনগরের বাস পাওয়া যায়। অথবা দেশের যেকোনো স্থান থেকে যেকোনো মাধ্যমে শ্যামনগর পৌঁছে লোকাল বাস বা অন্য যেকোনো যানবাহনে চড়ে মুন্সীগঞ্জ বাসস্ট্যান্ডে নামতে হবে। মুন্সীগঞ্জ বাসস্ট্যান্ডে পৌঁছুলেই রাস্তার পাশের দোকানগুলোর পিছনে তাকালেই চোখে পড়বে সুন্দরবন।
থাকা খাওয়া ভ্রমণের জন্য পাবেন বেশ কয়েকটা রিসোর্ট। থাকতে পারেন ব্যক্তিগত ব্যবস্থাপনায়ও। মুন্সীগঞ্জ থেকে সুন্দরবনের ভেতরে কলাগাছিয়া ইকো ট্যুরিজম সেন্টারে যেতে ট্রলার ভাড়া পড়বে তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকা। যদি আরেকটু এগিয়ে নীলডুমুর ঘাট থেকে ট্রলার নেওয়া যায়, খরচ হবে অর্ধেক।

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০৩১  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত -২০২৫, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট