
কয়রা প্রতিনিধি : সুন্দরবন সংলগ্ন বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণে উপকূলীয় উপজেলা কয়রায় চলতি শীত মৌসুমে তীব্র ঠান্ডা ও ঘন কুয়াশার কারণে স্বাভাবিক জনজীবন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। উপজেলার সাতটি ইউনিয়নে প্রায় দুই লক্ষাধিক মানুষের বসবাস। এ অঞ্চলের মানুষের প্রধান জীবিকা কৃষি, সুন্দরবননির্ভর মাছ ধরা, কাঠ সংগ্রহ ও দিনমজুরি হলেও বিরূপ আবহাওয়ার কারণে এসব কাজে স্থবিরতা নেমে এসেছে।
গত কয়েক দিন ধরে সূর্যের দেখা না পাওয়ায় শীতের তীব্রতা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত পুরো এলাকা ঘন কুয়াশায় আচ্ছন্ন থাকছে, কোথাও কোথাও দুপুর পর্যন্ত কুয়াশা কাটছে না। এর ফলে সড়কে যানবাহন চলাচল মারাত্মকভাবে কমে গেছে। প্রয়োজন ছাড়া সাধারণ মানুষ ঘর থেকে বের হচ্ছেন না, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে খেটে খাওয়া মানুষের জীবিকায়।
বিশেষ করে সুন্দরবননির্ভর জেলে, বাওয়ালি, মৌয়াল ও দিনমজুর শ্রেণির মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। অতিরিক্ত শীত ও কুয়াশার কারণে অনেক জেলে নদীতে মাছ ধরতে যেতে পারছেন না। স্থানীয় জেলে বাওয়ালিরা জানান, ঠান্ডার কারণে নদীতে নামা অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে উঠেছে। কয়েক দিন মাছ ধরতে না পারলে সংসারের খরচ চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
কৃষিখাতেও পড়েছে শীত ও কুয়াশার নেতিবাচক প্রভাব। কয়রা উপজেলার কৃষকদের কাছ থেকে জানা গেছে,অতিরিক্ত কুয়াশার কারণে ধানের পাতায় ছত্রাক ও বিভিন্ন রোগ দেখা দিচ্ছে, এতে ফলন কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। অনেক কৃষক সময়মতো ক্ষেতে যেতে না পারায় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন।
শীতের তীব্রতায় সবচেয়ে বেশি কষ্টে আছেন ভ্যানচালক ও শ্রমজীবী মানুষ। উপজেলার নারানপুর গ্রামের ভ্যানচালক গনি সরদার বলেন, প্রচণ্ড ঠান্ডা ও কুয়াশার মধ্যে ভ্যান চালাতে গিয়ে হাত-পা অবশ হয়ে আসে। যাত্রীও আগের তুলনায় অনেক কম, ফলে দৈনিক আয় উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে।
শীতের প্রকোপে এলাকায় বাড়ছে বিভিন্ন রোগব্যাধি। স্থানীয় পল্লী চিকিৎসক রফিকুল ইসলাম জানান, অতিরিক্ত ঠান্ডার কারণে জ্বর, সর্দি, কাশি, আমাশা ও শ্বাসকষ্টজনিত রোগে আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্করা বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন। তিনি শিশুদের নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কার কথা উল্লেখ করে শিশু ও বৃদ্ধদের শীত থেকে রক্ষা করতে গরম কাপড় ব্যবহারের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেন।
এদিকে উপজেলার দরিদ্র ও অসহায় মানুষের জন্য পর্যাপ্ত শীতবস্ত্রের অভাব থাকায় দুর্ভোগ আরও তীব্র হয়েছে। অনেক পরিবারে শিশু ও বৃদ্ধরা প্রয়োজনীয় শীতবস্ত্র না থাকায় কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে শীতবস্ত্র বিতরণের দাবি জানিয়েছেন।
উপকূলীয় এই জনপদে শীতের তীব্রতা আরও কয়েক দিন অব্যাহত থাকলে মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
Like this:
Like Loading...
Related