
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি : সামাদ সানা ছিলেন সচ্ছল। বসতবাড়ি খুলনার কয়রার চরামুখা গ্রামে। নদীভাঙন আর ঘূর্ণিঝড়ের ধাক্কায় সব হারিয়ে এখন নদীর চরে অস্থায়ী ঘরে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন। তাঁর স্ত্রী আনজুয়ারা বেগম বলেন, ‘চার বিঘা জমি ছিল, এখন কিচ্ছু নেই। নদীর নোনাপানিতেই গোসল, রান্না—সব করতি হয়। খাবার পানি আনতি হয় দূর থেইকে। নদীর সঙ্গে যুদ্ধ কইরেই বাঁইচে আছি আমরা।’
এমন গল্প উপকূলের প্রায় প্রতিটি পরিবারেরই। শাকবাড়িয়া নদী–তীরের মোবারক হোসেন ২২ বিঘা চিংড়িঘের ও পাকা ঘর হারিয়ে শহরের বস্তিতে ঠাঁই নিয়েছেন। কয়রার বামিয়া গ্রামের কামরুল সরদার ঘূর্ণিঝড় আম্পানের পর সব হারিয়ে খুলনা শহরে দিনমজুর হিসেবে কাজ করছেন। কেউ রিকশা চালাচ্ছেন, কেউ ঠেলাগাড়ি, কেউবা ভ্যান—সবাই জীবিকার সন্ধানে গ্রাম ছেড়ে শহরমুখী।
খুলনা জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৯ বছরে উপকূলে আঘাত হেনেছে ১৩টি ঘূর্ণিঝড়। সিডর, আইলা, ফণী, বুলবুল, আম্পান, ইয়াস—সবই রেখেছে গভীর ক্ষত। তবে বাস্তুচ্যুত মানুষের সঠিক সংখ্যা নেই সরকারের কাছে। নরওয়েভিত্তিক আইডিএমসির হিসাবে, শুধু ২০২৪ সালেই বাংলাদেশে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা ২৪ লাখের বেশি।
এমন বাস্তবতায় আজ সোমবার থেকে ব্রাজিলের বেলেম শহরে শুরু হচ্ছে বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলন কপ-৩০। ১১ দিনব্যাপী এই সম্মেলনে বাংলাদেশ জোরালোভাবে দাবিগুলো তুলে ধরার প্রস্তুতি নিয়েছে।
দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ প্রতিনিয়ত জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়াবহতার সঙ্গে যুদ্ধ করছে। খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাটের বিস্তীর্ণ উপকূল এখন ঝড়, জলোচ্ছ্বাস এবং নদীভাঙনের চক্রে বিপর্যয়ের কেন্দ্রবিন্দু। স্থানীয় লোকজন জানাচ্ছেন, প্রতিবছর ক্ষতির পরিমাণ বেড়েই চলছে।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, ঘূর্ণিঝড় ও নদীভাঙনের কারণে উপকূলীয় মানুষের জীবনযাত্রা, কর্মসংস্থান ও স্বাস্থ্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রায় ৩০ শতাংশ মানুষ খাবারের পরিমাণ কমিয়ে দিয়েছেন, অনেকেই পুষ্টিকর খাদ্য থেকে বঞ্চিত। নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশনের অভাবে নারী ও মেয়েদের মধ্যে জরায়ু ও প্রজননজনিত রোগ আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে।
গবেষণাটি পরিচালনা করেছেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশবিজ্ঞান ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক আবদুল্লাহ হারুন চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘উপকূলে লবণাক্ততা ও কর্মসংস্থানের অভাবে মানুষ ঘরবাড়ি হারিয়ে শহরের বস্তিতে আশ্রয় নিচ্ছে। কিন্তু সেখানেও দারিদ্র্য, জলাবদ্ধতা ও নোংরা পরিবেশে তাদের দুর্ভোগের শেষ নেই।
উপকূলীয় কয়রা উপজেলার ঘোড়িলাল গ্রামের অহিদুল ইসলাম বলেন, ‘একসময় ধানভরা মাঠ ছিল, এখন সব ঘেরের নিচে। লবণাক্ততার কারণে জমি মরে গেছে। এখন আমরাই অন্য জেলায় ধান কাটতে যাই।’
হড্ডা গ্রামের আমেনা বেগমের কথায় উঠে আসে লবণাক্ততার নির্মমতা। তিনি বলেন, ঘেরের নোনাপানিতে গাছপালা মরে যাচ্ছে, মানুষ পেটের সমস্যা আর চর্মরোগে ভুগছেন। যদি এমনই চলে, এলাকা বসবাসের অযোগ্য হয়ে যাবে।
১৯৭৩ সালে দেশে ৮ লাখ ৩৩ হাজার হেক্টর লবণাক্ত জমি থাকলেও ২০২২ সালের জরিপে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১১ লাখ হেক্টরে। গত ৫০ বছরে লবণাক্ত জমি বেড়েছে প্রায় ২৬ শতাংশ।
মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের (এসআরডিআই) সর্বশেষ জরিপে দেখা গেছে, খুলনার মাটির লবণাক্ততা ৫ দশমিক ৯৭ থেকে ১২ দশমিক ০২ ডিএস/মিটার পর্যন্ত পৌঁছেছে। ১৯৭৩ সালে দেশে ৮ লাখ ৩৩ হাজার হেক্টর লবণাক্ত জমি থাকলেও ২০২২ সালের জরিপে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১১ লাখ হেক্টরে। গত ৫০ বছরে লবণাক্ত জমি বেড়েছে প্রায় ২৬ শতাংশ।
সাতক্ষীরার সোনাখালীর কবির গাজী বলেন, ‘চার বছর ধরে বাড়ির উঠানে একটা আমগাছ লাগানোর চেষ্টা করছি, কিন্তু প্রতিবছরই শুকিয়ে মরে যায়। চিনি মিশিয়ে মাটিকে মিষ্টি করার চেষ্টা করছিলাম, তাতেও লাভ হলো না।’
কয়রার মহেশ্বরীপুর, মঠবাড়ি ও সোনাপাড়া এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, নারীরা নদীর নোনাপানিতে গোসল ও গৃহস্থালির কাজ করছেন। মহেশ্বরীপুর গ্রামের আম্বিয়া বেগম বলেন, ‘নোনাপানির কারণে মেয়েদের ছোট বয়সেই বিয়ে দিতে হয়, না হলে চেহারা কালো হয়ে যায়। দূরের আত্মীয়স্বজন আসতেও চান না।’
কয়রার মহেশ্বরীপুরের কমিউনিটি ক্লিনিকের স্বাস্থ্যকর্মী সুলতা মণ্ডল বলেন, লবণাক্ততার কারণে এখানে চর্মরোগ, পেটের পীড়া ও উচ্চ রক্তচাপ সাধারণ সমস্যা। সবচেয়ে বেশি ভোগেন গর্ভবতী মায়েরা—অপরিণত সন্তানপ্রসব ও ভ্রূণ নষ্ট হওয়ার ঘটনা বেড়েছে।
বাঁধের বাইরে আশ্রয় নেওয়া লোকজনের আবাসস্থল পানিতে ডুবে গেছে। সম্প্রতি খুলনার কয়রার সুন্দরবনসংলগ্ন শাকবাড়িয়া নদীর তীর থেকে
সুন্দরবনসংলগ্ন কয়রার পাথরখালী, হারেজখালী ও পাবনা এলাকায় ঘূর্ণিঝড় আইলা ও আম্পানের ক্ষত এখনো স্পষ্ট। জলোচ্ছ্বাসে তৈরি খালে এখনো নোনাপানি জমে আছে। বেড়িবাঁধের পাশে শত শত পরিবার এখনো বসবাস করছে।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফরেস্ট্রি অ্যান্ড উড টেকনোলজি ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক নাজমুস সাদাত বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ও উপকূলের বাস্তব চিত্র তুলে ধরতে গবেষণার ঘাটতি রয়েছে। সুন্দরবনের ক্ষতি নিয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্য-উপাত্ত নেই। গবেষণা বাড়াতে হবে আর আন্তর্জাতিক কূটনীতিতেও শক্ত অবস্থান নিতে হবে।
গত বছর কপ-২৯ সম্মেলনে অংশ নেওয়া গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এস এম শাহিন আলম বলেন, ‘আমাদের তরুণ প্রতিনিধিরা প্রস্তুত। বড় চ্যালেঞ্জ তথ্য-উপাত্ত উপস্থাপন ও লবিং। এখন পর্যন্ত যে ক্ষতিপূরণ পাই, তা খুবই সামান্য ও ঋণ হিসেবে। অথচ এটা গ্র্যান্ট (অনুদান) হওয়া উচিত। এবারে আমরা সেটাই জোরালোভাবে দাবি করব।’
উপকূলীয় মানুষের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে আন্তর্জাতিক মহলে আমাদের দাবিগুলো স্পষ্টভাবে পৌঁছে দেওয়াই মূল লক্ষ্য। সে অনুযায়ী আমরা প্রস্তুতি নিয়েছি।
আসন্ন সম্মেলনে উপকূলীয় ক্ষতি, বাস্তুচ্যুতি ও ক্ষতিপূরণ আদায়ের বিষয়টিকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিতে চায় বাংলাদেশ। এ লক্ষ্যকে সামনে রেখে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়, সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলো ইতিমধ্যে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ এবং দাবিনামা চূড়ান্ত করেছে। ক্ষতিগ্রস্ত উপকূলীয় অঞ্চলের অভিজ্ঞতা তুলে ধরতে রাখা হয়েছে বিশেষ উপস্থাপনাও।
এ বিষয়ে গত শনিবার মুঠোফোনে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফারুক ই আজম বলেন, ‘উপকূলীয় মানুষের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে আন্তর্জাতিক মহলে আমাদের দাবিগুলো স্পষ্টভাবে পৌঁছে দেওয়াই মূল লক্ষ্য। সে অনুযায়ী আমরা প্রস্তুতি নিয়েছি।’
উপকূল ও সুন্দরবন সংরক্ষণ আন্দোলনের সদস্যসচিব সাইফুল ইসলাম বলেন, আজ থেকে ব্রাজিলের বেলেম শহরে বিশ্বের ১৯৮টি দেশের প্রতিনিধিরা জলবায়ু অর্থায়ন, কার্বন নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণ ও ক্ষতিপূরণ কাঠামো নিয়ে আলোচনা করবেন। বাংলাদেশের মানুষের আশা—এবার হয়তো ক্ষতিপূরণের প্রতিশ্রুতি কেবল কাগজে-কলমে নয়, বাস্তবেও রূপ পাবে।
সুন্দরবন সংলগ্ন চুনকুড়ি নদীর লোকালয় অংশে বেড়িবাঁধে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। ইতিমধ্যে সাতক্ষীরার শ্যামনগরের হরিনগরের স্লুইস গেট সংলগ্ন ঋষিপাড়া এলাকার চুনকুড়ি নদীর ভাঙনে একটি পরিবারের বসতঘর নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। নদীভাঙনের কারণে আতঙ্কে রয়েছে নদী পাড়ের মানুষ। নদীভাঙন ঠেকাতে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে হরিনগর বাজার ও বিস্তীর্ণ জনপদসহ অনেক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করছেন গ্রামবাসী। স্থানীয়রা জানান, মালঞ্চ ও চুনকুড়ি নদীর মিলনস্থল হরিনগর বাজারের স্লুইস গেট সংলগ্ন এলাকায় তীব্র স্রোতের কারণে নদী তীরবর্তী এলাকায় ব্যাপক ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে। ইতিমধ্যে নদীভাঙনের কারণে একটি পরিবারের বসতঘর ভেঙে নদীতে বিলীন হয়েছে। এখন যেকোনো সময় আশপাশের অন্যান্য পরিবারের বসতঘর বিলীন হয়ে যাবে বলে আশঙ্কা করছেন তারা। এ ছাড়াও ঝুঁকিতে রয়েছে হরিনগর বাজারের শত শত ব্যবসা প্রতিষ্ঠান।
সরজমিন দেখা যায়, উপজেলার হরিনগরের ঋষিপাড়া এলাকায় নদী তীরের মানুষ ঘরবাড়ি ভেঙে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছেন। কেউ কেউ নদী তীরে বাঁশ ও গাছ দিয়ে বাঁধ তৈরি করে বসতবাড়ি রক্ষার চেষ্টা করছেন। ভাঙনের ঝুঁকি থাকায় আশপাশের লোকজন তাদের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানসহ সেখানকার বাসিন্দারা বসতভিটা ভেঙে নিয়ে অন্য জায়গায় আশ্রয় নিচ্ছেন। এ ছাড়াও ভাঙনকবলিত ওই এলাকার মানুষ সহায় সম্বল হারিয়ে চরম সংকটের মধ্যে পড়েছেন। নদীর এমন ভয়াল রূপ ধারণ করায় নদীর তীরের মানুষগুলো আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন। পরিবারগুলো নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন। স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, গত দুই সপ্তাহে এই চুনকুড়ি নদীর দু’টি স্থানে ভাঙন দেখা দেয়। কিন্তু এখনো স্থায়ীভাবে ভাঙন রোধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। হরিনগরের ঋষিপাড়া এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, স্থানীয় বাসিন্দা হামিদা খাতুন ঘরের কিছু জিনিসপত্র সরিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। তিনি জানান, গত ৪০ বছর ধরে তার পরিবার এই চুনকুড়ি নদীর তীরে বসবাস করে আসছেন। প্রায়ই নদীভাঙনের শিকার হন তারা। গত দুই সপ্তাহ আগে তাদের ঘর সংলগ্ন এলাকায় ফাটল দেখা দেয়। আস্তে আস্তে সেটি বড় আকার ধারণ করেছে। একটি ঘরও নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। রাতে বাড়িতে থাকতে পারেন না তারা। জোয়ারের পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে তীব্র ভাঙন শুরু হয়। পানি উন্নয়ন বোর্ডের সেকশন কর্মকর্তা প্রিন্স রেজা বলেন, হরিনগরের স্লুইস গেট সংলগ্ন ঋষিপাড়া এলাকায় নদীভাঙনের ওই স্থান পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। জানতে চাইলে স উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, খবর পেয়ে পাউবোর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে নিয়ে ওই এলাকা পরিদর্শন করেছি। হরিনগর স্লুইস গেট সংলগ্ন ঋষিপাড়া এলাকায় নদীভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। ইতিমধ্যে একটি পরিবারের বসতঘরসহ বিভিন্ন স্থাপনা বিলীন হয়ে গেছে। এই মুহূর্তে ওই স্থানের চারটি পরিবারকে সরিয়ে নিরাপদ স্থানে স্থানান্তরের ব্যবস্থা করেছি। এ ছাড়া দ্রুত ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। আশা করছি খুব দ্রুতই ভাঙন রোধে কাজ করবে পানি উন্নয়ন বোর্ড।
এ ব্যাপারে সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আশরাফুল আলম সাথে কথা হলে তিনি এই প্রতিবেদককে জানান হরিণগরের যে নদী ভাঙ্গনের সমস্যা এটি আমাদের অনিয়ন বোর্ডের আওতাধীন নয়, তারপরেও আমরা ওখানে কাজ করব ইতিমধ্যে আমরা প্রকল্পের অনুমোদনের জন্য প্রস্তাব পাঠিয়েছি প্রধান প্রকৌশলী বরাবর এছাড়া আমরা স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সাথে কথা বলে জরুরি ভিত্তিতে ভাঙবেন রথ করার জন্য কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। ভাঙ্গনটি হরিনগর বাজার সংলগ্ন ভেড়িবাদের সাথে সম্পৃক্ত থাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের আইনগত একটু বাধ্যবাধকতা রয়েছে আপনারা সকলেই জানেন মান উন্নয়ন বোর্ডের ভেড়ি বাড়তি হরিনগরের বাজারের ভেতর দিয়ে চলে গেছে বাইরে যে বাড়তি রয়েছেন সেটি হচ্ছেন সেটি হচ্ছেন হরিনগর বাজার রক্ষা ভেড়িবাজ এটি প্রায় সময় কাজ করে আসছেন স্থানীয় সরকার উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা দপ্তরের বরাদ্দ থেকে তারপরেও আমরা কাজ করব কারণ বাজার রক্ষা বেরিবাদ যদি না থাকে তাহলে ঝুঁকি পড়বে পানি উন্নয়ন বোর্ডের রাস্তায় সে কারণে আমরা জরুরি ভিত্তিতে এই ভাঙ্গন রোধের কাজ শুরু করব। আমরা ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম সেখানে দেখেছি চারটি পরিবার একেবারেই ঘরবাড়ি ভেঙ্গে নদীতে নিয়ে গেছে তারা এখন রাস্তার উপর মাথা জীবন যাপন করছেন।সাতক্ষীরার শ্যামনগরের মাদার নদীর ভাঙনে উপকূল রক্ষাবাঁধটির একটি অংশে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে নদীর তীরবর্তী কয়েক হাজার পরিবার ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে। বাঁধটি সড়ক হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ায় এটি নদীতে বিলীন হয়ে গেলে আশপাশের কয়েকটি গ্রামের বাসিন্দাদের চলাচল বন্ধ হয়ে যাবে। তাই এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত গাইড বাঁধ ও ব্লক দিয়ে ভাঙন রোধ করতে হবে। এদিকে ভাঙন সংস্কার না করে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ও স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) পরস্পর একে অন্যকে দোষারোপ করছে।
উপজেলার রমজাননগর ইউনিয়নের ভেটখালী, শেখবাড়ি, টেংরাখালী, কালিঞ্চী, গোলাখালী, যতীন্দ্রনগর, পারশেখালী ও মীরগাং গ্রামের মানুষের চলাচলের একমাত্র সড়ক এটি। বর্ষার আগে ভাঙনরোধে কোনো ব্যবস্থা না নিলে ওই এলাকার সুপেয় পানির একমাত্র উৎস শেখবাড়ি দিঘি, শেখবাড়ি জামে মসজিদ-মাদ্রাসাটি বিলীন হওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সম্প্রতি সরেজমিন দেখা গেছে, ভেটখালী কোস্টগার্ড অফিসের সামনে থেকে টেংরাখালী স্লুইসগেট পর্যন্ত সড়কের শেখবাড়ি এলাকার কয়েকটি অংশে ফাটল ধরেছে। বিশেষ করে সাবেক চেয়ারম্যান শেখ আলমগীর হায়দারের বাড়িসংলগ্ন সড়কটি মাদার নদীতে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। স্থানীয় পাউবো ভাঙন অংশে জিও ব্যাগ ও জিও ফিল্টার দিয়ে বাঁধরক্ষার চেষ্টা করে আসছে।
গত রবিবার এলাকাবাসীর উদ্যোগে ‘নদীভাঙন ঠেকাও, রমজাননগরবাসীকে বাঁচাও’ এই দাবি নিয়ে নদীর তীরে মানববন্ধন করা হয়। মানববন্ধনে স্থানীয়রা অংশ নেন। ভেটখালীর শেখবাড়ি এলাকার বাসিন্দা হযরত আলী বলেন, ‘এই নদীতে অনেকের ঘরবাড়ি বিলীন হয়েছে। অনেকে জায়গা-জমি হারিয়ে এখান থেকে অন্যত্র চলে গেছে। এখন চলাচলের একমাত্র সড়কটি নদীতে চলে যাচ্ছে। আমরা প্রশাসনের কাছে ভাঙনরোধে জরুরি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি। না হলে আগামী বর্ষায় হয়তো সড়কটি নদীতে চলে যাবে। নদীর তীরবর্তী হাজারও পরিবার ভাঙনের ঝুঁকিতে আছি।’
স্থানীয় বাসিন্দা আবদুর রউফ বলেন, ‘এখানে আতঙ্কের মধ্যে বসবাস করছি। যেভাবে রাস্তা ভেঙে নদীতে চলে যাচ্ছে, ব্লক দিয়ে দ্রুত মেরামত না করলে যেকোনো সময় আমাদের এলাকা নদীগর্ভে চলে যেতে পারে।’
স্থানীয় ইউপি সদস্য আবদুল হামিদ লাল্টু জানান, এ সড়কটি রমজাননগর ও মুন্সীগঞ্জ ইউনিয়নের পাঁচ থেকে সাতটি গ্রামের বাসিন্দাদের চলাচলের একমাত্র পথ। সাবেক চেয়ারম্যান আলম শেখের বাড়ির সামনের অংশে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এদিকে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) গত বছর পাকা রাস্তা নির্মাণ করে দিলেও নদীভাঙন রোধে গাইড বাঁধ নির্মাণ করেনি। তাই রাস্তার ওই অংশ নদীতে বিলীন হয়ে যাচ্ছে।’
এদিকে ভাঙন এলাকা সংস্কার না করে পাউবো ও এলজিইডি কর্তৃপক্ষ পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দিচ্ছে। পাউবো কর্তৃপক্ষ বলছে, এ রাস্তাটি এলজিইডির আওতাধীন তাই সংস্কারের দায়িত্ব তাদের। আর এলজিইডি বলছে, নদীভাঙনের কারণে সড়কটি ভেঙে গেছে। এটা পাউবোর বেড়িবাঁধ, তাই পানি উন্নয়ন বোর্ডের দায়িত্ব মাদার নদীর ওই অংশের পাইলিংয়ের কাজ করা। তাহলে সড়কটিকে রক্ষা করা যাবে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের-১-এর উপসহকারী প্রকৌশলী (ভেটখালী পওর শাখা) প্রিন্স রেজা বলেন, ‘রমজাননগরের ভেটখালী শেখবাড়িসহ কয়েকটি স্থানে নদীর ভাঙন দেখা দিয়েছে শুনেছি। আমরা নদীগুলোর ভাঙন এলাকার খোঁজখবর নিয়ে সেখানে জিও ফিল্টার স্থাপন করেছি। এ ছাড়া বিষয়টি আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ইতোমধ্যে জানিয়েছি। তবে যেহেতু এ রাস্তাটি এলজিইডির, তাই সংস্কারের দায়িত্ব তাদের।
এ ব্যাপারে এলজিইডি উপজেলা প্রকৌশলী জাকির হোসেন বলেন, ‘রমজাননগরের ভেটখালী শেখবাড়ি এলাকায় মাদার নদী তীরের সড়কে ভাঙনের বিষয়ে আমাকে জানানো হয়েছে। কয়েক দিনের মধ্যে ঘটনাস্থলে গিয়ে ভাঙনরোধের ব্যবস্থা করা যায় কি না দেখব। যদি না হয়, তাহলে অন্য দপ্তরের সহযোগিতা চাওয়া হবে। এটা পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেড়িবাঁধ, তাই পানি উন্নয়ন বোর্ডের দায়িত্ব নদীর ওই অংশের পাইলিংয়ের কাজ করা। তাহলে সড়কটিকে রক্ষা করা যাবে।লবণাক্ততায় পুড়ছে সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপকূলের মাটি। এতে বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে কৃষি প্রাণ বৈচিত্র্য। ব্যাহত হচ্ছে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ঘন ঘন প্রাকৃতিক দুর্যোগের শিকার হওয়ায় উপকূলীয় এলাকায় লবণাক্ততার মাত্রা ক্রমেই বাড়ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্থানীয়রা জানান, প্রতিবারই প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে নতুন নতুন এলাকা নদীর লোনা পানিতে প্লাবিত হচ্ছে। এতে মিষ্টি পানির পুকুরগুলো নষ্ট হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি মাটির উর্বরা শক্তি কমে যাচ্ছে। ব্যাহত হচ্ছে ফসল উৎপাদন। লবণের সাথে যুদ্ধ করে মানুষকে বেঁচে থাকতে হচ্ছে। গাছপালা মরে মরুভূমিতে পরিণত হচ্ছে উপকূল।
বিশ^ব্যাংকের ‘রিভার স্যালাইনিটি অ্যান্ড ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যাভিডেন্স ফ্রম কোস্টাল বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০৫০ সালের মধ্যে দেশের ১৯ জেলার ১৪৮টি থানার মধ্যে মাত্রাতিরিক্ত লবণাক্ততায় আক্রান্ত হবে ১০টি নদীর পানি। এর মধ্যে সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর, আশাশুনি ও কালিগঞ্জ উপজেলার নদীগুলো উল্লেখযোগ্য। এসব এলাকায় এখনই ১০ পিপিটি মাত্রার লবণাক্ততা বিরাজ করছে, যা ২০৫০ সালের মধ্যে স্থানভেদে ১৫-২৫ মাত্রায় উন্নীত হতে পারে।
সাতক্ষীরার শ্যামনগরের কৃষক সিরাজুল ইসলাম জানান, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে লবণাক্ততার মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় তারা ফসল উৎপাদন করতে পারছেন না। তিনি বলেন, ‘এমনিতে শ্যামনগরের পানি লোনা। তার উপর প্রতিবছর বেড়িবাঁধ ভেঙে সবকিছু লোনা পানিতে ভেসে যায়। এ কারণে লবণাক্ততার মাত্রার বাড়ছে, কৃষি জমির পরিমাণ কমছে।
কৃষকদের এমন মন্তব্যের সাথে সুর মিলিয়েছেন কৃষিবিদরাও। তারা বলছেন, লবণাক্ততার কারণে জমির উর্বরতা কমে যাচ্ছে। যার প্রভাব পড়ছে দীর্ঘমেয়াদী।
এ বিষয়ে শ্যামনগরের কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. লতিফুল হাসান বলেন, ‘প্রতিবছর শ্যামনগর উপকূলীয় এলাকা প্লাবিত হয়। সমস্যাটা শুধু প্লাবিত হওয়া নিয়ে নয়। একবার একটি উর্বর জমি লবণ পানিতে তলিয়ে গেলে, বৃষ্টিতে সেই লবণাক্ততা কাটাতে টানা দুই বছরের মতো সময় লাগে। কিন্তু লবণাক্ততা কাটতে না কাটতেই আবার প্লাবিত হয়। ফলে এখন এই অঞ্চলে ফসল কম হয়। বছরের পর বছর লবণ পানিতে তলিয়ে থাকায় জমির উর্বর নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।’
শ্যামনগর উপজেলা কৃষি অফিসার এস. এম এনামুল ইসলাম ‘মে ২০২১’ থেকে ‘মে ২০২২’ পর্যন্ত সময়কালের চিত্র তুলে ধরে বলেন, শ্যামনগর উপকূলীয় এলাকায় লবণের মাত্রা ৩ থেকে ৪ ডিএস/মিটার। যত দিন যাচ্ছে, লবণের মাত্রা আরও বাড়ছে। উপকূলীয় অঞ্চলের পানির উচ্চতা বৃদ্ধির ফলে লবণের মাত্রা ১৮ ডিএস/মিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে বলে আশংকা প্রকাশ করেছেন তিনি, যা মারাত্মক ক্ষতিকর।
শুধু কৃষি প্রাণ বৈচিত্র্য নয়, লবণাক্ততায় ক্ষতি হয় মৎস্যচাষীদেরও। এ প্রসঙ্গে, শ্যামনগরের সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা তুষার মজুমদার বলেন, ‘মাটি একবার পানি থেকে লবণ গ্রহণ করলে, পানি মিষ্টি হতে প্রচুর সময় লাগে। এ সময়ে প্লাবিত হওয়া ঘের-পুকুর-জলাশয়ে মাছ চাষ করলে তাতে শতভাগ লোকসান হয়। মাছ প্রচুর খাবার খায় ঠিকই, কিন্তু লবণাক্ততার কারণে বড় হয় না।
তিনি বলেন, শ্যামনগর উপকূলের কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদসহ পরিবেশ ও প্রকৃতি রক্ষায় লোনা পানির প্লাবন ঠেকাতে টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের আপাতত কোন বিকল্প নেই।
এ প্রসঙ্গে সাতক্ষীরা জেলা নাগরিক কমিটির সদস্য সচিব আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘সাতক্ষীরার শ্যামনগর ও আশাশুনির পানি বরাবরই লোনা। আস্তে আস্তে কালিগঞ্জ উপজেলাকেও লবণাক্ততায় গ্রাস করছে। নদীর পানির উচ্চতা বৃদ্ধির সাথে সাথে লবণক্ততায় গ্রাসকৃত এলাকার আওতা সম্প্রসারিত হচ্ছে। কিন্তু সবচেয়ে বড় ক্ষতি হচ্ছে প্রতিবছর একাধিক দুর্যোগে জরাজীর্ণ বেড়িবাঁধ ভেঙে উপকূলের বিস্তীর্ণ এলাকা লোনা পানিতে প্লাবিত হওয়ায়। এতে মিষ্টি পানির আধারগুলো একেবারেই ব্যবহার অযোগ্য হয়ে পড়ছে। যার প্রভাব কৃষি, প্রাণ বৈচিত্র্যসহ সরাসরি মানুষর জীবনে পড়ছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘এতে জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। লবণাক্ততার আগ্রাসন কমাতে প্রাথমিকভাবে টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণেই সরকারকে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। তা না হলে সাতক্ষীরা উপকূলের বিস্তীর্ণ এলাকা বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়বে।
শ্যামনগর উপজেলার মুন্সিগঞ্জের গোলাখালী গ্রামের মানুষ প্রতিনিয়ত জীবনের সাথে যুদ্ধ করে বেঁচে আছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ ঘূর্ণিঝড় জলোচ্ছ্বাস নদী ভাঙ্গন এলাকার মানুষের জীবনে প্রায় প্রতিবছরই অভিশাপ বয়ে আনে শুধু প্রাকৃতিক দুর্যোগ নয় পানি উন্নয়ন বোর্ডের উদাসীনতার কারণে মানুষ সৃষ্ট দুর্যোগ তাদের জীবনে ভয়ঙ্কর দুর্যোগ সৃষ্টি করে।
নদীর পার্শ্ববর্তী বেড়িবাঁধ কেটে নোনা পানি ঢুকিয়ে চিংড়ি চাষ করে এক শ্রেণীর অসাধু মৎস্য ব্যবসায়ীরা এর ফলে বর্ষা মৌসুম এলেই নদী ভাঙ্গন সৃষ্টি হয়। নদী ভাঙ্গনের কবলে ওই এলাকার মানুষের জীবন যাত্রার মান ব্যাহত হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা ২০০০৯ সাতক্ষীরা জেলায় আগমন করেন, সেসময় শ্যামনগর হরিচরণ পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত এক জনসভায় তিনি বলেন, অপরিকল্পিত ঘরে বেড়িবাঁধ দিয়ে মৎস্য চাষ করা যাবে না। এ ব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে নির্দেশনা প্রদান করেন।
প্রাকৃতিক দুর্যোগ ঘূর্ণিঝড় জলোচ্ছ্বাস লোনা পানি বৈরী আবহাওয়ায়, অতি মাত্রায় লবনাক্ত তার কারনে ফসল ফলাদি, শাকসবজি ঠিকমতো হয়না ওই এলাকায়।
সবমিলিয়ে ওই এলাকাতে সুপেয় পানি ও পুষ্টিহীনতা ভুগেছে ওই এলাকার মানুষ, বিশেষ করে শিশুরা। মানুষের বসবাসের জন্য একেবারেই অনুপোযোগী ওই এলাকা।
নদী ভাঙ্গন কবলিত এলাকার মানুষ দুর্বিষহ জীবন যাপন করে বেঁচে আছে। তাদের জীবিকা অন্বেষণের একমাত্র উপায় হিসেবে মৎস্য আহরণ করা মুল লক্ষ্য। তাতে ও তারা এখন সমস্যার ভিতরে আছে বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টির পানি বেড়ে যাওয়ার কারণে তারা মৎস্য আহরণ করতে পারছে না। প্রতিবছর ঘূর্ণিঝড় বন্যা জলোচ্ছ্বাস এলে প্রশাসনের নির্দেশনায় নৌকা যোগে স্থানান্তর করা হয় তাদের পরিবার পরিজন গৃহপালিত পশু পাখি নিয়ে বিপাকে পড়েতে হয় তাদের।
ওই এলাকায় মানুষের দাবি একটি সাইক্লোন সেন্টর ও টেকসই বেড়িবাঁধ করা হোক।
গোলাখালী গ্রামের আব্দুর রউফ এর কাছে তাদের জীবনযাত্রা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ঝড়তুফান হলে নৌকায় করে বউ বাচ্চা পরিবার পরিজন নিয়ে গরু ছাগল হাঁস মুরগি পারাপারের আমাদের ব্যাপক অসুবিধা হয় এবং জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হতে হয়।’
এদিকে, এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে দেশের উপকূলীয় অঞ্চলে মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে চিহ্নিত করে দুর্যোগ প্রবণ এলাকায় মানুষের জীবনমান উন্নয়নে ক্লাইমেট পার্লামেন্ট বাংলাদেশ এর সদস্যরা সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলা মুন্সিগঞ্জ সুন্দরবন সংলগ্ন রমজান নগর ইউনিয়নের গোলাখালী গ্রামে ক্লাইমেট পার্লামেন্ট বাংলাদেশের সদস্যরা পরিদর্শন করেছেন।
শনিবার (২ অক্টোবর) রমজান নগর ইউনিয়নের গোলাখালী গ্রামের সরোজমিনে সংসদ সদস্যবৃন্দ পরিদর্শনে যান। এসময় এলাকার মানুষের জীবন যাপন বিষয়ে খোঁজ খবর নেওয়া হয়।
এসব বিষয়ে বিভিন্ন আলোচনা করা হয়।
জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে দুর্যোগ প্রবণ এলাকার মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সরকারের বিভিন্ন সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করা হয়।
উপকূল এলাকার মানুষকে টিকে থাকতে হয় লবণাক্ত পানির সঙ্গে অনেকটা যুদ্ধ করে। সেখানে সুপেয় পানির সংকটের মধ্যেই করতে হয় দৈনন্দিন কাজ।
সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপকূলে সুন্দরবন ও খোলপেটুয়া নদীর লবণাক্ত পানিতে মিশে আছে স্থানীয় নারীদের জীবিকা। তাদের বেশিরভাগই নদীতে মাছ শিকার করেন।
লবণাক্ত পানিতে বেশি সময় ধরে থাকায় নারীদের মধ্যে বেড়েছে নানা ধরনের রোগ। বিশেষ করে নারীদের অনিয়মিত মাসিকসহ সন্তানধারণ ক্ষমতা হারাচ্ছেন অনেকেই। আর এতে অল্প বয়সেই জীবনে নেমে আসছে নানান দুর্ভোগ।
উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষদের নিয়ে কাজ করা বেসরকারি সংস্থাগুলো বলছে, অতিরিক্ত লবণাক্ততার কারণে জরায়ুজনিত সমস্যায় পড়ছেন নারীরা। আক্রান্ত হচ্ছেন নানা ধরনের চর্মরোগেও।
সাতক্ষীরা জেলার সিভিল সার্জন এমন সমস্যার মূল খুঁজতে আরও বেশি করে গবেষণার প্রয়োজন আছে বলে মনে করেন।
উপজেলার বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের ডুমুরিয়া গ্রামের সুব্রত মন্ডলের স্ত্রী শেফালী মণ্ডল। দিনমজুরের কাজ করেন শেফালী। দীর্ঘদিন থেকেই ভুগছেন জরায়ুর সমস্যায়।
বলেন, ‘আমাদের গ্রামের নারীদের সবচেয়ে বেশি জরায়ুর সমস্যা। আমরা লবণাক্ত পানিতে গোসল করি, কিন্তু পানিটা নিরাপদ নয়। তাই এই রোগ বাড়ছে।’
তিনি নিজেও রোগটিতে আক্রান্ত জানিয়ে বলেন, ‘ইন্ডিয়া, খুলনাসহ অনেক জায়গায় চিকিৎসা নিয়েছি। এখন নেকটা সুস্থ আছি, তবে পানিতে নেমে গোসল করতে পারি না, ডাক্তারের নিষেধ আছে, যতদিন বাঁচবো ততদিন পুকুরে গোসল করতে পারব না। এখনও এই অঞ্চলের নারীরা এই রোগে বেশি ভুগছে।’
দ্বীপ ইউনিয় গাবুরার ৯ নম্বর সোরা গ্রামের বিধবা রহিমা বেগম জানান, তার জরায়ু অপারেশন করা হয়েছে আরও আগে। তার পুরো পরিবারের সদস্যরা বর্তমানে ভুগছেন বিভিন্ন চর্মরোগে।
স্থানীয় কয়েকজন নারী জানান, জরায়ু কেটে ফেলার কারণে স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদ হয়ে গেছে তাদের। অপারেশনের বিষয়টি জানাজানি হওয়ায় এখন আর তাদের বিয়ে করতে কেউ রাজি হচ্ছে না। এ কারণে বাধ্য হয়ে বাপের বাড়িতেই বসবাস করছেন তারা।
সাতক্ষীরার উপকূলীয় অঞ্চলের পানির সমস্যা নিয়ে কাজ করছে বেসরকারি সংস্থা সুশীলন।
সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক মিসেজ আফরোজা আক্তার এই প্রতিবেদক কে বলেন, ‘ভাঙনের বিষয়টি আমি জেনেছি। ভাঙনরোধে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।’