1. mesharulislammonir1122@gmail.com : দৈনিক সংযোগ প্রতিদিন : দৈনিক সংযোগ প্রতিদিন
  2. info@www.sangjogprotidin.com : দৈনিক সংযোগ প্রতিদিন :
শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ০৬:৪১ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
খুলনায় ব্যাংকার্স ফ্রেন্ডশিপ ক্রিকেট টুর্নামেন্টের উদ্বোধন তালায় অবৈধ হ্যামার মেশিনে তোলা হচ্ছে বালু, ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী! সেবা প্রত্যাশীদের ব্যক্তিগত উপাত্ত উদ্যোক্তাদের নিকট আমান :ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব ফকিরহাটে ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে কৃষকের মৃত্যু দশমিনায় অর্ধকোটি টাকার সরকারী সম্পত্তি উদ্ধার যশোরে পৃথক ঘটনায় দু’জনের মৃত্যু দশমিনায় কৃষক সংগঠনের নির্বাহী কমিটির আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত সাতক্ষীরা-৩ আসনে বিএনপি প্রার্থীর আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ প্রচন্ড শীতে সাতক্ষীরায় খেজুরের রস, গুড় সংগ্রহে ব্যস্ত গাছিরা জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব : চার কোটি মানুষের বাস্তুচ্যুত হওয়ার শঙ্কা

পলিথিন ও প্লাস্টিক ডুমুরিয়ায় পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের জন্য মারাত্মক হুমকি

  • প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারি, ২০২৬
  • ২৪ বার পড়া হয়েছে

ডুমুরিয়া প্রতিনিধি : ডুমুরিয়া সহ সারাদেশে পলিথিন ও প্লাস্টিক মারাত্মক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের হুমকি, যা মাটি, পানি ও বায়ু দূষিত করে, জলজ প্রাণী ও পাখিসহ হাজার হাজার প্রজাতিকে হত্যা করে (খাবার ভেবে খেয়ে ফেলা বা আটকে পড়া), স্বাস্থ্য ঝুঁকি বাড়ায় এবং জলবদ্ধতা ও বন্যার কারণ হয়। এর সমাধানে প্লাস্টিক ব্যবহার কমানো, পুনর্ব্যবহার (recycle) এবং সরকারের কঠোর নীতিমালা ও জনসচেতনতা বৃদ্ধি অপরিহার্য।
খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলায় বর্তমানে পলিথিন ও প্লাস্টিক দূষণের কারণে মারাত্মক হুমকির মুখে রয়েছে। লোকালয়ে ব্যবহৃত পলিথিন ও প্লাস্টিক খাল, নদীতে জমা হচ্ছে। আগত পর্যটকদের থেকেও ব্যাপক হারে প্লাস্টিক বতল, চিপস,পলিথিন ও প্লাস্টিক ছড়িয়ে পড়ছে। এতে মাইক্রোপ্লাস্টিক কনা বন্যপ্রাণীর খাদ্যগ্রহণ ও প্রজননে বাধা, মাটি ও পানির গুণাগুণ হ্রাস এবং মানুষের খাদ্যচক্রে প্রবেশ করে বাস্তুতন্ত্রের ব্যাপক ক্ষতি করছে।
বাংলাদেশের প্রধান নদীগুলো থেকে বিপুল পরিমাণ প্লাস্টিক ও মাইক্রোপ্লাস্টিক বিভিন্ন নদী বঙ্গোপসাগরে জমা হচ্ছে। পর্যটকদের দ্বারা ব্যবহৃত ও ফেলে দেওয়া পলিথিন ও প্লাস্টিক সরাসরি বনের মধ্যে জমা হচ্ছে, যা সৌন্দর্যহানি ও দূষণ বাড়াচ্ছে। ঘূর্ণিঝড়ের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের পর ত্রাণসামগ্রীর প্লাস্টিক বর্জ্য বনের মধ্যে জমা হয়। নদীর পাড়ের আশেপাশের শহর ও কারখানা থেকে প্লাস্টিক বর্জ্য নদীতে মিশে বনের দিকে চলে আসছে।
বনের পরিবেশ ও প্রাণীজগতের ক্ষতি হচ্ছে। কচ্ছপ, বানর, মাছ ও অন্যান্য বন্যপ্রাণী প্লাস্টিক খেয়ে বা এতে জড়িয়ে মারা যাচ্ছে। মাইক্রোপ্লাস্টিক এখন মাটি ও পানির পাশাপাশি মাছের পেটেও পাওয়া যাচ্ছে, যা খাদ্য শৃঙ্খলের মাধ্যমে মানবদেহেও প্রবেশ করছে। প্লাস্টিক বর্জ্য ম্যানগ্রোভের ঘনত্ব ও উচ্চতা হ্রাস করছে এবং মাটি ও পানির গুণাগুণ নষ্ট করছে।
উল্লেখ্য সুন্দরবনের ম্যানগ্রোভ গাছ সুন্দরী, গেওয়া, কেওড়া মাটির ওপর উঠে আসা শ্বাসমূল বা নিউম্যাটোফোর দিয়ে অক্সিজেন গ্রহণ করে। পলিথিন ও প্লাস্টিক বর্জ্য এই শ্বাসমূলগুলো ঢেকে দেয়, যার ফলে গাছ পর্যাপ্ত অক্সিজেন না পেয়ে মারা যাচ্ছে। হরিণ, কচ্ছপ এবং মাছের মতো বন্যপ্রাণীরা অনিচ্ছাকৃতভাবে প্লাস্টিক খেয়ে ফেলছে, যা তাদের অকাল মৃত্যুর কারণ হচ্ছে। এছাড়া মাটির উর্বরতা কমে যাওয়ায় বনের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হচ্ছে। সুন্দরবনের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত নদ-নদীতে প্লাস্টিক মিশে মাছের প্রজনন ক্ষমতা নষ্ট করছে। পর্যটকদের ফেলে আসা ও জোয়ারের পানির মাধ্যমে আসা প্লাস্টিক বর্জ্য পানির গুণগত মান কমিয়ে দিচ্ছে।
খাদ্যশৃঙ্খলে মাইক্রোপ্লাস্টিক মানুষের শরীরে প্রবেশ করছে। প্লাস্টিক কণা বা মাইক্রোপ্লাস্টিক মাছ ও কাঁকড়ার শরীরে প্রবেশ করছে। এর ফলে ওই অঞ্চলের মানুষ যারা এসব মাছ খাচ্ছেন, তাদের শরীরেও ক্ষতিকর রাসায়নিক প্রবেশ করছে।
সচেতনতা বৃদ্ধিতে সমাধানের পথ দেখাবে। পর্যটকদের মধ্যে একক ব্যবহার্য প্লাস্টিকের ব্যবহার বন্ধে সচেতনতা তৈরি করা। বনের ভেতরে ও আশেপাশে কার্যকর বর্জ্য অপসারণ ও ব্যবস্থাপনার ব্যবস্থা করা। প্লাস্টিক দূষণ পর্যবেক্ষণ ও এর ঝুঁকি মূল্যায়নের জন্য একটি সমন্বিত ব্যবস্থা গড়ে তোলা।
সুন্দরবন পশ্চিম বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) এ জেড এম হাছানুর রহমান, যিনি সুন্দরবনকে প্লাস্টিক দূষণসহ বিভিন্ন সমস্যা থেকে বাঁচাতে কাজ করছেন এবং পর্যটকদের সচেতন করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন। তিনি বলেন, সুন্দরবনের এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে প্লাস্টিক দূষণ।
পর্যটন মৌসুমে পর্যটকরা সুন্দরবনের নদী-খালে চিপস, বিস্কুটের প্যাকেট, প্লাস্টিকের পানির বোতল, পলিথিন, ওয়ান টাইম প্লেট-গ্লাস সঙ্গে নিয়ে যান। এ সব প্লাস্টিক বর্জ্য নদীতে ফেলা হচ্ছে, আর নদীর জোয়ার-ভাটায়া ১০-১৫ কিলোমিটার পর্যন্ত বনের অভ্যন্তরে ঢুকে যায়। এ সব বর্জ্য সুন্দরবনের গাছের শ্বাসমূলের উপর জড়িয়ে থাকে। এর ফলে বায়ু থেকে অক্সিজেন গ্রহণ করতে বাধাগ্রস্থ হয় শ্বাসমূল, এতে প্রাণশক্তি হারিয়ে গাছ মরে যায়।
পলিথিন ও প্লাস্টিকের আগ্রাসন সুন্দরবনের পরিবেশ, বন্যপ্রাণী ও মানুষের জীবনযাত্রাকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে, যা মোকাবেলায় জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ অপরিহার্য। প্রতিরোধে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগ, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জরুরি প্রয়োজন। সুন্দরবন রক্ষায় এই দূষণ রোধে পর্যটকদের সচেতনতা এবং সরকারি পর্যায়ে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত -২০২৫, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট