
নিজস্ব প্রতিবেদক : রূপসার নৈহাটী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান সাইফুর রহমান মোল্লা’র বিরুদ্ধে পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক ভাইরাল হয়েছে।
এই সাইফ মোল্লা’র বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কেউ কথা না বললেও রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে চলছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা। এমনকি তার নানা অপকর্মের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশিত হলে তিনি হুটহাট করে বিভিন্ন যায়গায় তেলেবেগুনে জ্বলছে।
তাছাড়া নিজের অপকর্মকে আড়াল করতে বিভিন্ন লোকদের সামনে সাধু সাজছেন।
এই সাইফুর রহমান মোল্লা’র অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকার ফলে এলাকার মানুষকে ভাবিয়ে তুলেছে। এমনকি তার অত্যাচারে এলাকার সাধারণ মানুষ এবং ক্ষতিগ্রস্ত ভুক্তভোগীরা অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। এই সাইফের বিরুদ্ধে ভয়ে কেউ প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস পর্যন্ত পাচ্ছেনা।
বর্তমানে চান্দা ভাই নাম আখ্যা দিয়ে সাইফুর রহমান মোল্লাকে এলাকার অনেকেই মন্তব্য করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে, বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলেই ফেসবুক ভিন্ন ভিন্ন নামে-বেনামে বিভিন্ন ধরনের মন্তব্য করে তার পক্ষে-বিপক্ষে কমেন্ট করেছেন অনেকেই।
জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি একটি জনপ্রিয় বড় রাজনৈতিক দলের সুনাম যাতে স্থানীয় ভাবে বিতর্ক করতে না পারে সেই দাবি জানিয়ে নাম প্রকাশ করার না শর্তে অনেকেই মন্তব্য করে বলেন, এধরণের চাঁদাবাজ লোক জনপ্রিয় বিএনপির বড় দলে থাকলে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হবে। এর বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত হবে বলে মনে করেছেন তারা।
এদিকে, ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা বরাবর লিখিত অভিযোগে সাইফুর রহমান মোল্লা’র বিরুদ্ধে উল্লেখ করা হয়েছে। ৫ আগষ্ট ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশত্যাগ করে পালিয়ে যাওয়ার পর ওইদিন রাতে তিনি এবং তার লোকজন নিয়ে এলাকার বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভাংচুর চালিয়ে মালামাল ও অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে।
সাইফুর রহমান মোল্লা ও তার সহযোগীরা গত ৫ আগস্টের পর থেকে এ পর্যন্ত এলাকায় ঘের দখল বিভিন্ন শ্রমিক ইউনিয়ন, বাস মালিক সমিতিসহ লোভনীয় ইউনিয়নগুলো নিজ নিয়ন্ত্রণে নিয়ে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড করেছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
বিশেষ করে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের মধ্যে পূর্ব রূপসার রেল ষ্টেশন এলাকায় দিনার আয়রন স্টোর থেকে ট্রাক ভর্তি আনুমানিক ১৫ থেকে ১৬ লাখ টাকার দামি ভাঙাড়ি সহ অন্যান্য ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের লুটপাটের বিষয়টি লিখিত অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে। তাছাড়া সাইফের বিরুদ্ধে একাধিক নারী কেলেংকারীর অভিযোগও রয়েছে।
শুধু সাইফুর রহমান মোল্লা একানন, তার আপন ২ সহোদর রূপসা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতি আরিফুর রহমান মোল্লা ও রূপসা-বাগেরহাট মটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি ও জেলা যুবলীগ নেতা হারুন মোল্লা বিগত প্রায় ১০-১২ বছর ধরে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ড চালিয়ে আসলেও তারা থেকে গেছেন ধরা-ছোঁয়ার বাইরে। কারণ সাইফুর রহমান মোল্লা বিএনপি নেতা হওয়ার কারনে তিনি এই দুই ভাইকে আশ্রয় দিয়ে রেখেছিলে বলে অভিযোগ রয়েছে। কিন্তু রাজনৈতিক নেতাদের চাপে তাদের সুকৌশলে পালিয়ে রেখে তদারকি করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। অপরদিকে, এমনকি রূপসার নৈহাটী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মো. কামাল হোসেন বুলবুলের একান্ত সহযোগী ফ্যাসিস্ট আ’লীগের দোসর পদধারী জনৈক এক দালালকে দিয়ে তার রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের জন্য প্রতিনিয়ত ফেসবুকে ভিডিও এবং নিউজের জন্য সুযোগ নিচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। এসব ঘটনায় স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতা নাম প্রকাশ করার না শর্তে বলেন, বিএনপি একটি জনপ্রিয় রাজনৈতিক বড় দল। সেই দলের সম্মান ক্ষুন্ন করতে সাইফ মোল্লার মতো ব্যক্তিদের জন্য দলের ক্ষতি হতে পারে না। গঠণতন্ত্র অনুযায়ী তদন্তপূর্বক সাইফের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি তাদের।
একইভাবে স্থানীয় কয়েকজন ভুক্তভোগী নাম প্রকাশ করার না শর্তে মন্তব্য করে বলেন, ৫ আগষ্টের পর থেকে বেপরোয়া চাঁদাবাজি করার কারনে সাইফ মোল্লার নাম চান্দা ভাই নামে আখ্যা দিয়েছে।
তার ভয়ে কেউ কথা বলতে সাহস পায় না। তবে লোকজনের মুখে মুখে সাইফ মোল্লার নাম এখন চাঁদা ভাই নামে উপাধি এই নেতার হাত থেকে পরিত্রাণ পেতে হলে বিএনপির দলীয় সিদ্ধান্তের পাশাপাশি আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে রূপসায় এ বিএনপি নেতা
মোল্লা সাইফুর রহমানের সেলফোনে বার বার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
এ বিষয়ে খুলনা জেলা বিএনপির আহবায়ক মো. মনিরুজ্জামান মন্টু বলেন, দলের কোন নেতা-কর্মী অনৈতিক বা অপরাধমূলক কোন কর্মকান্ডের সঙ্গে জড়িত থাকলে গঠণতন্ত্র অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।