1. mesharulislammonir1122@gmail.com : দৈনিক সংযোগ প্রতিদিন : দৈনিক সংযোগ প্রতিদিন
  2. info@www.sangjogprotidin.com : দৈনিক সংযোগ প্রতিদিন :
বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১২:৩১ অপরাহ্ন

জলবায়ু পরিবর্তনে বিপর্যয়ের মুখে উপকূল

  • প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারি, ২০২৬
  • ১২৫ বার পড়া হয়েছে

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি ‌ : ৫ জুন পালিত হয় ‌বিশ্ব পরিবেশ দিবস। সারা বিশ্বে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব পড়েছে। বৈশ্বিক উষ্ণতা ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বাংলাদেশ বিপর্যয়ের মুখোমুখি। বায়ুমন্ডলে পুঞ্জিভূত গ্রিণহাউস গ্যাস উৎসারণের কারণে বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি পাওয়ায় নানা প্রাকৃতিক দূর্যোগের সৃষ্টি হচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশের আবহাওয়া বদলে যাচ্ছে। আর এর প্রভাব পড়েছে মানুষের জীবনযাত্রা, স্বাস্থ্য ও কৃষিতে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনে বাংলাদেশের ভূমিকা নেই বললেই চলে। তবে বিশ্বে ক্ষতিগ্রস্থদের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে বাংলাদেশের নাম। ১৯৭২ সালের জুন মাসে সুইডেনের স্টকহোমে জাতিসংঘের মানব পরিবেশের ওপর প্রথম সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। জাতিসংঘের ২৭ তম অধিবেশনের প্রতি বছর ৫ জুন বিশ্ব পরিবেশ দিবস উদ্যাপনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। ঐ সম্মেলনের পর থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পরিবেশ দিবস উদযাপিত হচ্ছে। বৈশ্বিক উষ্ণতা ও জলবায়ু পরিবর্তন জনিত কারণে ঝুঁঁকির মধ্যে পড়েছে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপূর্ব লীলাভূমি বাংলাদেশ। সবুজ বন, নদী, নালা ও জলপ্রপাত এদেশের নৈস্বর্গিক সৌন্দর্য আরো মণোরম করেছে। কিন্তু বর্তমানে বৈশ্বিক উষ্ণতা ও জলবায়ু পরিবর্তনে দেশের প্রাকৃতিক পরিবেশ বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। বৈশ্বিক উষ্ণতা ও জলবায়ু পরিবর্তনের দিক থেকে বাংলাদেশ দ্বিতীয় ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে রয়েছে। ইতোমধ্যে প্রাকৃতিক দুর্যোগের নানা কারণে দেশের উপকূলীয় অঞ্চলগুলি আক্রান্ত হয়েছে জনজীবনে নেমে এসেছে নানা বিপর্যয়। বিশ্বে মানুষের যত রকম ঝুঁকি রয়েছে বৈশ্বিক উষ্ণতা তার মধ্যে অন্যতম। বৈশ্বিক উষ্ণতার জন্য মূলত কার্বনডাই অক্সাইডকে দায়ী করা হয়। কিন্তু এর সাথে মিথেন, নাইট্রস অক্সাইড, ক্লোরফ্লরো ইত্যাদি গ্যাস বিশেষ ভূমিকা রাখে। গ্রীণহাউস গ্যাসের প্রভাবে পৃথিবী ক্রমাগত উষ্ণ হচ্ছে। মানব সভ্যতার অগ্রগতি, প্রযুক্তি ও শিল্প উন্নয়নে নির্মাণকারী কারখানা, শিল্প কারখানা থেকে বায়ুমন্ডলে সি এফ সি গ্যাস যুক্ত হচ্ছে। মানুষের অসচেতন কর্মকান্ডের ফলে বায়ুমন্ডলে এসব গ্যাস যুক্ত হয়ে বৈশ্বিক উষ্ণতায় ভূমিকা রাখছে। বর্তমানে সারা বিশ্বের জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব পড়েছে। পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে ঘুর্ণিঝড়, বন্যা, খরা, ভূমিকম্পন, জলোচ্ছাস, পাহাড় ধস, লবণাক্ততা বৃদ্ধি, নদী ভাঙ্গন, পানির স্থর নিচে নেমে যাওয়া, অসময়ে অধিক বৃষ্টি ও অধিক খরা সহ বিধ্বংসী প্রাকৃতিক দুর্যোগ বৃদ্ধি পাচ্ছে। বৈশ্বিক উষ্ণতার কারণে হিমালয়ের বরফ, উত্তর মেরু ও এ্যান্টাকটিকার বরফ গলতে শুরু করেছে। সমুদ্রের পানি বৃদ্ধি ও সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়ছে। গত ১০০ বছরে সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা বেড়েছে ১৫ সে: মি: থেকে ২৫ সে: মি:। বছরে বৃদ্ধির হার ১.৫ সে: মি: থেকে ২.৫ সে: মি:। যা গত ৩০০ বছরের ১০ গুন। পরিবেশ বিজ্ঞানীদের আশঙ্কা তাপমাত্রা এভাবে বাড়তে থাকলে আগামী শতকে সমুদ্রের উচ্চতা বছরে বৃদ্ধি পাবে ৩০ সে: মি: থেকে ৪০ সে: মি:। এর ফলে পৃথিবীর অনেক নিম্ন অঞ্চল তলিয়ে যাবে। সূত্র মতে বৈশ্বিক উষ্ণতার ফলে ২০৩০ সাল নাগাদ প্রতি বছর ৫ লক্ষ মানুষ মৃত্যু বরণ করবে। পৃথিবীর ১০ভাগ মানবিক বিপর্যয়ের মুখোমুখি হবে। বছরে প্রায় ৩৪০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সম পরিমাণ ক্ষতি হবে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বায়ুমন্ডলের পুঞ্জিভূত গ্রীণহাউস গ্যাস উৎসারণে বিশ্ব উষ্ণায়নে নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগের সৃষ্টি হচ্ছে। বাংলাদেশে দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলীয় এলাকায় ক্রমাগত ঝুঁকি বাড়ছে। সাগরে প্রতিনিয়ত নিম্নচাপ, বন্যা, ঘুর্ণিঝড়, জলোচ্ছাস, খরা, কৃষি কাজকে বাধাগ্রস্থ করছে। পানি, প্রাণী সম্পদ ও নগর উন্নয়ন হুমকির মুখে পড়েছে। বিশেষ করে খাদ্য নিরাপত্তা অর্জন বড় চালেজ্ঞ হয়ে দাঁড়িয়েছে। জীববৈচিত্র বিপন্ন হচ্ছে এবং ভূমি, বনাঞ্চল, শিল্প, বাসস্থান, পশু সমস্যা প্রকট হচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পৃথিবীর একক বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন মারাক্তক ঝুঁকিপূর্ণ। বৃষ্টিপাত ও মাটির লবণাক্ততা বৃদ্ধি পেয়েছে। বঙ্গোপসাগরে ঘুর্ণিঝড়ের পরিমাণ বেড়েছে। বিজ্ঞানীরা আশাঙ্কা করছে আগামী ৫০ বছরে বিশ্বরে তাপমাত্রা ২ ডিগ্রী থেকে ৪ ডিগ্রী সেলসিয়াস পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে এবং সমুদ্র পৃষ্ঠ ১ মিটার বৃদ্ধি পেতে পারে। এর ফলে সুন্দরবন সহ উপকূলীয় এলাকা তলিয়ে যাবে। উপকূলীয় ১৩ জেলার ৬৩ উপজেলার ৫৬ লক্ষ ৩৭ হাজার ৮ শত ৭৬ একর জমি তলিয়ে যাবে। যা দেশের মোট জমির ১৫.৮ ভাগ। খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাট জেলার আংশিক তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন বিজ্ঞানীরা। এতে বাংলাদেশের প্রায় ৩ কোটি মানুষ বাস্তুহারা হবে। মানুষের জীবন ও জীবিকায় নেমে আসবে বিপর্যয়। বিপন্ন হবে উপকূলীয় অঞ্চল। মানব সভ্যতার উন্নয়ন কার্যক্রমে মানুষের অসচেতন কর্মকা-ে আমাদের কৃষি, বনজ, পানি, মৎস্য সম্পদ সমুহ ও জীব বৈচিত্র ঝুঁকিতে পড়েছে। আরো অনিশ্চয়তায় পড়বে যদি দ্রুত জলবায়ুর পরিবর্তন ঘটে। তাই আর চুপ করে বসে থাকলে হবে না। সবাইকে সচেতন ও স্বোচ্চার হতে হবে। বিশ্ব উষ্ণায়নে যে সমস্ত গ্যাস দায়ী আমাদের অসেচতন কর্মকা-ে সে সমস্ত গ্যাস সম্মেলিত উদ্যোগের মাধ্যমে পরিহার করতে হবে। উন্নত বিশ্ব দীর্ঘদিন ধরে গ্রীণহাউস গ্যাস উৎসারণ করে বিশ্ব উষ্ণতা বৃদ্ধি ঘটিয়েছে। বিশ্ব বাসিকে সুস্থভাবে বাঁচার জন্য আবহাওয়া, জলবায়ু ও বিশুদ্ধ বায়ু নিশ্চিত করতে হবে। তাই দায়ী উন্নত দেশগুলোকে এর সমাধানে এগিয়ে আসতে হবে। পৃথিবীতে সুস্থভাবে বাঁচার জন্য আবহাওয়া ও জলবায়ু নিশ্চিত করতে হবে বিশ্ববাসীকে। এ ছাড়া জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করতে হবে।
নেতিবাচক প্রভাবের ভুক্তভোগী দেশের প্রায় সব মানুষ। তবে সীমিত আর্থ সামাজিক সহায়তা, স্বাস্থ্যকেন্দ্রের অপ্রতুলতা, ওষুধের ঘাটতি, ডায়াগনস্টিক সেন্টারের অপ্রতুলতা এবং বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা পরিসেবা নাগালের বাইরে থাকায় জলবায়ু সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলছে উপকূলের মানুষের ওপর। এসব সংকটে উপকূলের প্রায় অর্ধেক মানুষই মানসিক চাপ নিয়ে জীবন চালাচ্ছেন।
‘দেশের উপকূলীয় অঞ্চলে মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর জলবায়ুর প্রভাব’ শীর্ষক এক গবেষণায় এমন ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। এতে গুরুতর দুশ্চিন্তা, বিষণœতা, মানসিক চাপ, মানসিক বৈকল্য এবং ঘুম না হওয়ার মতো জটিল স্বাস্থ্য সমস্যার চিত্র উঠে এসেছে।
সেন্টার ফর ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল রিসার্চ, ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ হেলথ ওয়াচ ও সিভিল সোসাইটি প্ল্যাটফর্ম এই যৌথ গবেষণা চালিয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টারে এই গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।
এতে দেখা যায়, উপকূলীয়দের মধ্যে মানসিক চাপ নিয়ে বসবাস করছেন ৪৯ দশমিক ৪২ শতাংশ মানুষ। একই সঙ্গে উদ্বেগজনিত সমস্যায় ভুগছেন ২৫ দশমিক ৭ শতাংশ, বিষণœœতায় ভুগছেন প্রায় ২২ শতাংশ, দুর্ঘটনা পরবর্তী মানসিক বৈকল্য দেখা দিয়েছে ২০ শতাংশের এবং ভালো ঘুম হয় না প্রায় ৪৪ শতাংশ উপকূলবাসীর।
গবেষণায় মানসিক স্বাস্থ্য পরিষেবার বিধান বাড়ানো, পর্যাপ্ত বাজেট বরাদ্দ করা, কাউন্সেলিং ইউনিট স্থাপন এবং ন্যাশনাল আডাপটেশান প্ল্যান (ন্যাপ) এবং জাতীয় স্বাস্থ্য অভিযোজন পরিকল্পনার সঙ্গে একীভূতকরণ, দুর্বল জনগোষ্ঠীর প্রতি গুরুত্ব দেওয়া, নীতি ও আইনি কাঠামোর পরিবর্তন এবং মানসিক স্বাস্থ্য পরিসেবা প্রদানকারীদের জন্যস্বাস্থ্য সুবিধা এবং বিধানগুলো উন্নত করার সুপারিশ করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্র্যাক বিশ^বিদ্যালয়ের সেন্টার ফর ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল
রিসার্চের ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. আইনুন নিশাত। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক ডা. হেলাল উদ্দিন আহমেদ এবং সুইডেন দূতাবাসের ফার্স্ট সেক্রেটারি ডা. ড্যানিয়েল নোভাক।
আইনুন নিশাত বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তন মানুষের ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলে। এটা ভালো যে একটা বেসলাইন স্টাডি করা হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তন এবং মানসিক স্বাস্থ্যের আরও প্রভাব জানতে এখন আমাদের পরিবারগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে হবে।’
মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. হেলাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তন এবং মানসিক স্বাস্থ্যের একটি সমন্বয়মূলক প্রভাব রয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে মানুষের ব্যক্তিত্বের নানা সমস্যা দেখা যায়। গবেষণা পরিচালনার সময় গবেষকদের বিষয়গত গুরুত্ব দেওয়া উচিত।’
বিশেষ অতিথি ডা. ড্যানিয়েল নোভাক টেলিমেডিসিনের গুরুত্বের পাশাপাশি জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনায় স্বাস্থ্যের অন্তর্ভুক্তির কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তন বিপজ্জনক, সুইডেনে মানুষ জলবায়ু পরিবর্তনের ভবিষ্যৎ প্রভাব জেনে তাদের বাচ্চাদের হত্যা করেছে এমনও উদাহরণ আছে।’

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত -২০২৫, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট