
রামপাল প্রতিনিধিঃ তীব্র লবনাক্ততার মধ্যেও রামপালে চলতি বোরো চাষ মৌসুমে ভালো ফলনের আশা করছেন কৃষকরা। ভালো আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ও সঠিক সময়ে আবাদ করায় এবং কৃষি দপ্তরের নজরদারি থাকায় আশানুরূপ ফলন হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে বলে মনে করছে কৃষি বিভাগ।
রামপাল উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ বছর চলতি বোরোধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৪ হাজার ৯০০ হেক্টর জমি। এরমধ্যে হাইব্রিড ৪ হাজার ৯০ হেক্টর ও উফশী জাতের ৮১০ হেক্টর জমি বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। গত ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে একই সময়ে আবাদ হয়েছিল ৪ হাজার ৮০০ হেক্টর। আবাদের লক্ষমাত্রা অর্জিত হয়েছিল ৪ হাজার ৩৬০ হেক্টর জমিতে। এ বছর আরও ১০০ হেক্টর জমিতে বেশি আবাদ হয়েছে বলে কৃষি অফিস জানিয়েছে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে এবং আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ২৩ হাজার ৬২ মেট্রিক টন চাল উৎপাদনের আশা করা হচ্ছে।
রামপালের ১০ টি ইউনিয়নের মধ্যে গৌরম্ভা ইউনিয়নে হাইব্রিড ৬১৭ ও উফশী জাতের ১৮৯ হেক্টর, উজলকুড় ইউনিয়নে ২ হাজার ২৬১ হেক্টরে হাইব্রিড ও ১৮৯ হেক্টরে উফশী, বাইনতলা ইউনিয়নে ৭০১ হেক্টরে হাইব্রিড ও উফশী ২৩৫ হেক্টর এবং স্থানীয় জাতের ২ হেক্টর, রামপাল সদর ইউনিয়নে হাইব্রিড ৪৫৬ ও উফশী ১১৬ হেক্টর, রাজনগর ইউনিয়নে ৭৯ হেক্টরে হাইব্রিড ও উফশী ১৮ হেক্টরে, হুড়কা ইউনিয়নে হাইব্রিড ৪ হেক্টর ও উফশী ২ হেক্টরে, পেড়িখালী ইউনিয়নে হাইব্রিড ২ হেক্টর ও উফশী ১.৫ হেক্টরে, ভোজপাতিয়া ইউনিয়নে হাইব্রিড ৬ হেক্টর ও উফশী ৩ হেক্টরে, মল্লিকেরবেড় ইউনিয়নে ৮৩ হেক্টরে হাইব্রিড ও উফশী ১৩ হেক্টরে ও বাঁশতলী ইউনিয়নে হাইব্রিড ১০ হেক্টরে ও উফশী জাতের ৪ হেক্টর জমিতে আবাদ সম্পন্ন হয়েছে। সর্বমোট ১০ ইউনিয়নে হাইব্রিড ৪ হাজার ২১৯ হেক্টর, উফশী জাতের চাষ হয়েছে ৬৭৯ হেক্টর ও স্থানীয় জাতের ২ হেক্টর জমিতে এ আবাদ হয়েছে।
রামপাল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইনশাদ ইবনে আমিন জানান, রামপাল উপজেলা বাংলাদেশের একটি উপকূলীয় উপজেলা। জলবায়ু পরিবর্তন জনিত কারণে এবং এখানে অপরিকল্পিতভাবে চিংড়ি চাষের কারণে মাটিতে লবনাক্ততার মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে। মাটি ও পানির লবণাক্ততা, খার ও অম্লত্বের পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়ায় জমির গুনাগুন দারুণভাবে নষ্ট হয়ে গেছে। যে কারণে কৃষকগণ কাঙ্ক্ষিত ফসল ফলাতে পারছেন না। সরকারিভাবে বিকল্প চাষ বৃদ্ধি ও লবণ সহিষ্ণু জাতের উন্নত জাতের ধান চাষ শুরু করার কারণে আবাদ বৃদ্ধি পেয়েছে। এ ছাড়াও কৃষিতে যান্ত্রিকীকরণ, কৃষকদের প্রশিক্ষণ, বীজ, সার বিনামূল্যে বিতরণ এবং উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শে কৃষকরা সুফল পাচ্ছেন। সরকার কৃষক ও কৃষিতে সুরক্ষা দিতে নানান চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। মাঠ পর্যায়ে মাটি ও পানির গুনাগুন পরীক্ষা করে জমিতে উর্বরতা বৃদ্ধির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন এ কর্মকর্তা।