1. mesharulislammonir1122@gmail.com : দৈনিক সংযোগ প্রতিদিন : দৈনিক সংযোগ প্রতিদিন
  2. info@www.sangjogprotidin.com : দৈনিক সংযোগ প্রতিদিন :
শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১০:৪৭ অপরাহ্ন

রমজানের রোজা ফরজ হওয়ার ইতিহাস

  • প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
  • ৩৮ বার পড়া হয়েছে

সিরাজুল ইসলাম, (ইসলামী চিন্তাবিদ ও গবেষক) : ন্যায় পবিত্র মাহে রমজান আমাদের মাঝে আবার ফিরে এসেছে। মাহে রমজানুল মোবারক আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের অফুরন্ত রহমত নিয়ে আমাদের কাছে আসে; শ্রাবণের বৃষ্টিধারার মতো বর্ষিত হতে থাকে সেই রহমত। এই মোবারক মাসে মানুষ নিজের পাশবিকতা দমন করে ত্যাগের শক্তি সঞ্চয় করতে পারে। আর এটিই মূলত তাকওয়ার ভিত্তি। আল্লাহ তায়ালা এই মাসের নাম নিজের একটি সিফাতি নামের সাথে মিল রেখে নামকরণ করেছেন। এটা থেকেও এই মাসের মর্যাদা উপলব্ধি করা যায়।
রোজার ইতিহাস দীর্ঘতর। আগেকার উম্মতরাও যে রোজা পালন করতেন এবং তাদের ওপরও যে রোজা ফরজ ছিল, তা কোরআনুল কারীমের নিম্নোক্ত আয়াত দ্বারা উপলব্ধি করা যায়। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘হে ঈমানদারগণ, তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমন রোজা ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর, যাতে তোমরা পরহেজগার তথা খোদাভীরু হতে পার।’ (সূরা বাকারা : ১৮৩)।
রুহুল মা’আনী, আল বিদায়া ও আইনী প্রভৃতি তাফসিরগ্রন্থে বলা হয়েছে, ‘আল্লাযিনা মিন ক্বাবলিকুম’ তথা ‘তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর’ বলে বুঝানো হচ্ছে, হযরত আদম আ. থেকে রাসূল সা. পর্যন্ত সকল যুগের মানুষ, তথা সকল নবীর শরীয়তের রোজা পালনের বাধ্যবাধকতা ছিল নামাজের মতোই। হযরত আদম আ.-এর যুগে প্রতি মাসে তিনটি রোজা রাখার বিধান ছিল। হযরত দাউদ আ. একদিন পর একদিন রোজা রাখতেন। হযরত মারইয়াম আ.-এর ব্যাপারে কোরআন মাজীদে আছে, ‘আপনি বলুন, আমি আল্লাহর জন্যে রোজা পালন করছি, আজ আমি কারো সাথে কথা বলব না। (সূরা মারইয়াম : ২৬)।
তাফসীরে হক্কানীতে তওরাত তথা বাইবেলের ওল্ড টেস্টামেন্ট-এর উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে যে, ইহুদীদের ওপর সপ্তম মাসের ১০ তারিখে কাফফারার রোজা রাখা ওয়াজিব ছিল। প্রাচীন খ্রিষ্টানরাও সেই রোজা রাখত বলে প্রকাশ আছে। হযরত মুসা আ. তুর পর্বতে ৪০ দিন রোজা রেখেছেন। হযরত দানিয়াল আ. একাধারে তিন সপ্তাহ রোজা পালন করেছেন। বাইবেল হতে প্রতীয়মান হয়, ইহুদী-খ্রিষ্টানরা এছাড়া আরো রোজা রাখত। বর্তমান যুগেও তাদের ধর্মপরায়ণ লোকেরা বছরের বিভিন্ন সময়ে রোজা পালন করে আসছে।
পূর্বেকার শরীয়তসমূহে রমজান মাসের ৩০টি রোজা ফরজ ছিল কি না এ প্রশ্নের উত্তরে মুফাসসির ও ঐতিহাসিকদের ভিন্ন ভিন্ন মত রয়েছে। কেউ বলেন, খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের ওপর রমজান মাসের রোজা ফরজ ছিল। কিন্তু খ্রিষ্টানরা তাতে দু’ধরনের পরিবর্তন ঘটায়। প্রথমত, কষ্টের ভয়ে তারা গ্রীষ্মের পরিবর্তে শরৎকালে রোজা রাখত। দ্বিতীয়ত, এই ত্রুটি পূরণের জন্যে ত্রিশের অধিক রোজা রাখত। তবে অন্যরা বলেন, রোজা শুধুমাত্র উম্মতে মুহাম্মদীর জন্যই ফরজ করা হয়েছে।
ইসলামী শরীয়তের রোজা ফরজ হওয়া সম্পর্কে হাফেজ ইবনে হাজার রহ. বলেন, রমজানের রোজা ফরজ হওয়ার পূর্বে মুসলমানদের ওপর ১০ মুহাররমের রোজা ফরজ ছিল। অতঃপর রমজানের রোজার হুকুম নাজিল হলে উক্ত রোজার বাধ্যবাধকতা রহিত হয়ে যায়।
আল্লামা ইবনে কাসির রহ. স্বীয় তাফসীরগ্রন্থে মুসনাদে আহমদ থেকে হযরত মুয়াজ ইবনে জাবাল রা.-এর একটি দীর্ঘ বর্ণনা উল্লেখ করেছেন। এই রেওয়াতে বলা হয়েছে, ইসলামের শুরুতে রোজা তিনটি স্তর অতিক্রম করে। এক. রাসূল হিজরত করে মদীনায় গমন করলে তিনি প্রতিমাসে তিনটি করে রোজা রাখতেন। তার সাথে আশুরার রোজাও পালন করতেন।
অতঃপর রমজান মাসের রোজা ফরজ হয়। দুই. রমজান মাসের রোজার হুকুম এলে প্রথম দিকে মুসলমানদের এখতিয়ার দেয়া হয় যে, যার ইচ্ছা রাখবে এবং যার ইচ্ছা ফিদিয়া দিবে। তারপর আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘যারা রমজান মাসকে পায়, তারা অবশ্যই রোজা রাখবে।’ (সূরা বাকারা : ১৮৫)। এই আদেশের ফলে মুসাফির ও পীড়িত নয়, এমন প্রত্যেক নর-নারীর ওপর রোজা পালন আবশ্যকীয় হয়ে পড়ে।
তবে যারা চরম বার্ধক্যে উপনীত, তাদেরকে প্রতি রোজার পরিবর্তে ফিদিয়া দেয়ার অনুমতি দেয়া হয়েছে। তিন. ইতোপূর্বে রাতে শোয়ার পূর্ব পর্যন্ত খাওয়া-দাওয়া ও স্ত্রী সহবাসের অনুমতি ছিল। শুয়ে পড়লে এ সকল ধরনের কাজ নিষিদ্ধ ছিল। অতঃপর কোরআনের অপর আয়াত মতে সুবহে সাদিকের পূর্ব পর্যন্ত এসব কাজের অনুমতি দেয়া হয় এবং সুবহে সাদিকের পর হতে সূর্যাস্ত পর্যন্ত রোজা পালনের আদেশ আসে।
রোজা কোন মাসে ফরজ হয়েছিল, এই সম্পর্কে আল্লামা ইবনে কাসীর রহ. ‘আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া’ গ্রন্থে বলেন, হিজরী দ্বিতীয় সনে শাবান মাসে বদর যুদ্ধের আগে রমজানের রোজা ফরজ করা হয়। বিশ্ববিখ্যাত মুহাদ্দিস আল্লামা ইউসুফ বাননুরী রহ. বলেন, হিজরি দ্বিতীয় সনের ১০ শাবান রোজা ফরজ করা হয় এবং উক্ত সনেই কেবলা পরিবর্তনসহ যাকাত-ফিতরার হুকুম অবতীর্ণ হয়।রহমাত, বরকত ও মাগফিরাতের মাস রমজানুল মোবারক ফিরে এসেছে। এ মাস সিয়াম সাধনার। আত্মসংযমের। ধৈর্য, ত্যাগ, সহানুভূতি, সহমর্মিতা অর্জনের। মানবিক গুণাবলী অনুশীলনের। এ জন্য এ মাস অতি পবিত্র। মুসলিম জাতির জন্য তো বটেই অন্যান্য জাতির নিকটও এ মাসটি অতি পবিত্র, বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এ মাসে মানব জাতিকে সঠিক পথপ্রদর্শনের জন্য যেমন মহাগ্রন্থ আল-কুরআন নাজিল হয়েছে, তেমনি অন্যান্য আসমানী কিতাবও নাজিল হয়েছে এ পবিত্র মাসেই। এ মাসের মধ্যে অবস্থিত হাজার মাসের চেয়ে উত্তম কুরআনের নুজুল, তেমনি হযরত ইব্রাহীমের ছহিফা এ মাসের প্রথম কিংবা তৃতীয় তারিখে অবতীর্ণ হয়। অষ্টাদশ কিংবা দ্বাদশ তারিখে জবুর প্রাপ্ত হন হযরত দাউদ (আ.) ৬ষ্ঠ দিবসে তৌরাত পান হযরত মুসা (আ.)। দ্বাদশ কিংবা ত্রোয়দশ তারিখে ইঞ্জিল প্রাপ্ত হন হযরত ঈসা (আ.)। এরূপ সব আসমানী কিতাব এ মাসে নাজিল হওয়ায় সব জাতির নিকট এ মাস যেমন পবিত্র, তেমনি এর পবিত্রতা রক্ষার জন্য যত্নবান হওয়া উচিত প্রত্যেককেই। পবিত্রতা বা সম্মান রক্ষার অর্থ যার ওপর রোজা রাখা ফরজ তার রোজা রাখা, অধীনস্ত অন্যান্যের রোজা রাখানো। সব রকমের অন্যায়, অশ্লীলতা, বেলেল্লাপনা, নোংরামী, চরিত্রবিধ্বংসী ও নৈতিকতাবিরোধী কার্যকলাপ থেকে বিরত থাকা ও অন্যান্যেরও বিরত রাখার চেষ্টা করা, রাস্তা-ঘাটে প্রকাশ্য দিবালোকে ধূমপানসহ সর্বপ্রকার পানাহার বন্ধ রাখা। ঝগড়া-ঝাটি, ফ্যাসাদ, কলহ-কোন্দল এড়িয়ে থাকা এবং তা যাতে সৃষ্টি হতে না পারে সেজন্য সর্বাত্মক চেষ্টা চালানো। সব ব্যাপারে সংযমশীলতার পরিচয় দেয়া। কুরআন তিলাওয়াত, চরিত্র গঠনমূলক আলোচনা অনুষ্ঠান, ইবাদত-বন্দেগি ইত্যাদির মাধ্যমে মুত্তাকী হওয়ার জন্য সৎ ও ভালো হওয়ার সাধনায় ব্রতী হওয়াই এ মাসের দাবি। যত্নের সাথে দীর্ঘ একটি মাস যদি গোটা জাতি এই সাধনায় আত্মনিয়োগ করে তবে তার মনমানসিকতার পরিবর্তন সম্ভব। রমজানের উদ্দেশ্য যাতে সফল হয়, এ জন্য সাধ্য অনুযায়ী চেষ্টা চালানো উচিত প্রতিটি লোকের। বিশেষ করে, সমাজের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের এ ব্যাপারে পালন করা উচিত বিশেষ ভূমিকা। কারণ, আমাদের আর্থিক অভাব, অনটন আছে একথা সত্য, কিন্তু আজকে সবচেয়ে বড় অভাব হচ্ছে সততার, ন্যায়নিষ্ঠার, দায়িত্ববোধের, সৎ চরিত্রের, যার অভাবে একটা জাতি কখনও নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারে না, আত্মপ্রতিষ্ঠা লাভ করতে পারে না। আমাদের জনগণ, জাতি-বর্ণ নির্বিশেষে প্রায় সকলেই রমজানের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে থাকে। তারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে এজন্য চেষ্টাও চালায়। কিন্তু একশ্রেণির অসৎ অতিলোভী ব্যবসায়ী, কিছু দায়িত্বহীন উচ্ছৃংখল, বখাটে যুবক এর পবিত্রতা বিনষ্টের জন্য যেন ইচ্ছাকৃতভাবেই তৎপর হয়। এ ধরনের হীন মানসিকতাসম্পন্ন ব্যবসায়ীদের কথা অবশ্য আলাদা। লোভ তাদের পশুরও অধম করেছে। শকুন যেমন মড়া দেখলে খুশি হয়, তেমনি এরা মানুষের দুর্দশা দেখলে আনন্দিত হয়। একে মনে করে মুনাফা লোটার, স্ফীত হয়ে ওঠার একটা মোক্ষম মওকা। বানে, বন্যায়, প্রাকৃতিক দুর্যোগে অগণিত মানুষ যখন হাহাকার করে, তখন তারা মাল আটকে রেখে মওজুদারির মাধ্যমে বাজারে কৃত্রিম অভাব সৃষ্টি করার ধান্ধায় থাকে। জিনিসপত্রের দাম দ্বিগুণ, ত্রিগুণ বাড়িয়ে রাতারাতি বড়লোক হওয়ার প্রতিযোগিতায় উঠে-পড়ে লেগে যায়। রমজানকেও এরা মোক্ষম সুযোগ মনে করে মানুষের রক্ত চোষার ঘৃণ্য তৎপরতায় লিপ্ত হয়। এদেরই কারসাজিতে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদির দাম হু হু করে চড়ে যায়। চলে যায় সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে। উপর দিয়ে ধার্মিকতার যতই ভড়ং দেখাক না কেন, এদের কাছে রমজানের আবেদন ব্যর্থ হয়ে যায়। আত্মশুদ্ধি বা কৃচ্ছতা নয়, লোভ-লালসাই বর্ধিত হয় এদের। আর চরিত্রহীন উচ্ছংখল যুবকেরা রমজানকে মনে করে মহাগজব। তাদের শয়তানি, বদমাইশি চালানোর সুযোগ সীমিত হয়ে পড়ার ভয়ে তারা তৎপর হয়ে ওঠে। সমাজ ভালো হয়ে গেলে তাদের নষ্টামি আর নোংরামির অবারিত মওকা হারিয়ে যাবে। এ আতংকে তারা অস্থির হয়ে ওঠে রমজানের ডাক শুনেই।
রমজান মাস সহানুভূতি ও সহমর্মিতার মাস। রাসূলেপাক (সা.) একে আখ্যায়িত করেছেন শাহরুল মাওয়াছাত বা সমবেদনা ও সহমর্মিতার মাস বলে। গরিব-দুঃখী, দুস্থ, অনাথ, কাঙ্গালদের ব্যথা-কষ্ট দূর করার জন্য এ মাসে আরও অধিক যত্নবান হওয়া উচিত। কেবল ধনীরাই দান করবে, তা নয়। তারা তাদের মতো করবে, আমরাও পারি আমাদের মতো করতে। আমার ইফতারির জন্য ৫টা আইটেমের জায়গায় ৩টা আইটেম করে বাকি দুটো বা দুটোর পয়সা দিতে পারি আমাদের অভাবগ্রস্ত নিকট-প্রতিবেশীকে। আমাদের স্মরণ রাখতে হবে, রাসূলে করিম (সা.)-এর সেই সাবধান বাণী, খোদার কসম, সে ব্যক্তি মোমেন নয়, যে পেট পুরে আহার করে আর তার প্রতিবেশী অনাহারী ক্ষুধার্ত অবস্থায় রাত কাটায়। রাসূলে করিম (সা.) আরও বলেছেন, আর যদি না পারো তবে তোমাদের তরকারিতে একটু বেশি করে সুরওয়া বা ঝোল দিও এবং তা প্রতিবেশীকে পৌঁছিও। কত বাস্তব ও যুক্তিপূর্ণ একথা। আসলে লাখ টাকা দান করাই বড় কথা নয়, আমার যা আছে তা থেকে যতটা সম্ভব দেয়াই বড় কথা। এটা একটা মানসিকতা। আমরা প্রত্যেকেই যদি নিজ নিজ প্রতিবেশীর দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে সচেতন হতাম, তবে সমাজে এ হাহাকার থাকতে পারতো না। নিজ বাড়ির আশপাশের ৪০ ঘর হচ্ছে প্রতিবেশী। প্রত্যেকেই যদি এ ৪০ ঘরের খোঁজ-খবর রাখে, সাধ্যানুযায়ী তাদের অভাব-অভিযোগ, দুঃখ-কষ্ট লাঘবের জন্য সচেষ্ট হয়, তবে সমাজের অবস্থা পাল্টে যেতে পারে। ধর্মপরায়ণতা প্রদর্শনীর ব্যাপার নয়, অন্তরের। তেমনি সওয়াব আড়ম্বরতার মধ্যে নেই, তা নিয়ত বা মননের মধ্যে। যিনি দোকানদার তিনি রোজাদারদের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করে এই পবিত্র মাসের ফজিলতের প্রতি লক্ষ্য রেখে যদি যা ন্যায্যমূল্য তাই রাখে বা অন্য সময়ের তুলনায় একটু কম রাখে তবে অবশ্যই সে এর জন্য সওয়াব পাবে। এভাবে প্রত্যেকে নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে নিজ নিজ সাধ্যসীমার মধ্যে কিছু না কিছু অবশ্যই করতে পারে।
রমজান মাসে ভালো ভালো খাবার আর ভূরিভোজনের প্রবণতা লক্ষ করা যায়। সারা দিন অনাহারে থাকার মাসুল সুদে-আসলে পুরিয়ে নেয়ার জন্য সেহরি ও ইফতারিতে অধিক আয়োজন ও খাওয়ার প্রতিযোগিতা চলে। আসলে এতে রোজার মূল উদ্দেশ্যই ব্যর্থ হয়ে যায়। এ মাস তো কৃচ্ছ্রতা সাধনের। সংযম সাধনার। রোজার মূল উদ্দেশ্য কামভাব ও প্রবৃত্তি দমন। কিন্তু অতিরিক্ত আহারের দ্বারা তা সফল হলো কোথায়? শেখ সাদী বলেছেন, পেট ও শরীর পূজারীরা অন্তর জ্ঞান ও সূক্ষ্মতন্ত্রের আলোক থেকে বঞ্চিত থাকে। তাই অপচয় না করে বরং দৈনন্দিন রুটিন খাবার থেকে কিছু বাঁচিয়ে পাশের অনাহারী লোকদের মুখে যদি তা তুলে দেয়া যায় এর দ্বারাই রোজার মূল লক্ষ্য হাসিল করা সম্ভব। আল্লাহ পানাহার করেন না। নিদ্রা-তন্দ্রা তাকে স্পর্শ করতে পারে না। তিনি রাব্বুল আলামীন, মহান প্রতিপালক, রোজার মধ্যে দিয়ে তার এই গুণাবলী আত্মস্থ করার চেষ্টা চালানো হয়। তাই আজকে আমাদের প্রার্থনা, আমরা যেন রোজার তাৎপর্য উপলব্ধি করতে সক্ষম হই এবং রমজানের দাহনে সব পাপ-পংকিলতাকে ভস্মিভূত করে পবিত্র দেহ, মন ও সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে পারি।মাহে রমজান রহমত মাগফিরাত ও নাজাতের বারিধারায় সিক্ত হওয়ার মাস। এই মাসকে আল্লাহ তায়ালা খুব বেশি ইবাদত-বন্দেগির মাধ্যমে তার নৈকট্য অর্জনের ভরা বসন্ত বানিয়েছেন। রমজান মাস আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে বান্দার জন্য অনেক বড় নেয়ামত ও গনীমত স্বরূপ। আজ জুমার খুৎবা পূর্ব বয়ানে খতিব এসব কথা বলেন।
নগরীর মহাখালীস্থ মসজিদে গাউছুল আজম কমপ্লেক্সের খতিব মাওলানা কবি রুহুল আমিন খান আজ জুমার বয়ানে বলেন, রহমাত, বরকত ও মাগফিরাতের সিয়াম সাধনার মাস আত্মসংযমের। ধৈর্য, ত্যাগ, সহানুভ‚তি, সহমর্মিতা অর্জনের মাস। এ মাসে মানব জাতিকে সঠিক পথপ্রদর্শনের জন্য যেমন মহাগ্রন্থ আল-কোরআন নাজিল হয়েছে। অন্যান্য আসমানি কিতাবও এ মাসে নাজিল হয়েছে। এ মাসের মধ্যে অবস্থিত হাজার মাসের চেয়ে উত্তম কোরআনের নুজুল। তেমনি হযরত ইব্রাহীমের ছহিফা এ মাসের প্রথম কিংবা তৃতীয় তারিখে অবতীর্ণ হয়। অষ্টাদশ কিংবা দ্বাদশ তারিখে জবুর প্রাপ্ত হন হযরত দাউদ (আঃ)। ৬ষ্ঠ দিবসে তৌরাত পান হযরত মুসা। দ্বাদশ কিংবা ত্রয়দশ তারিখে ইঞ্জিল প্রাপ্ত হন হযরত ঈসা। এরূপ সব আসমানী কিতাব এ মাসে নাজিল হওয়ায় সব জাতির নিকট এ মাস যেমন পবিত্র তেমনি এর পবিত্রতা রক্ষার জন্য যতœবান হওয়া উচিত প্রত্যেককেই। পবিত্রতা বা সম্মান রক্ষার অর্থ যার ওপর রোজা রাখা ফরজ তার রোজা রাখা, অধিনস্তদের রোজা রাখানো। সব রকমের অন্যায়, অশ্লিলতা, বেলেল্লাপনা, নোংড়ামী, চরিত্রবিধ্বংসী ও নৈতিকতাবিরোধী কার্যকলাপ থেকে বিরত থাকা ও অন্যদেরও বিরত রাখার চেষ্টা করা। রাস্তা-ঘাটে প্রকাশ্য দিবালোকে ধূমপানসহ সর্বপ্রকার পানাহার বন্ধ রাখা। ঝগড়া-ঝাঁটি, ফ্যাসাদ, কলহ-কোন্দল এড়িয়ে থাকা এবং তা যাতে সৃষ্টি হতে না পারে সেজন্য সর্বাত্মক চেষ্টা চালানো। সব ব্যাপারে সংযমশীলতার পরিচয় দেয়া। কোরআন তিলাওয়াত, চরিত্র গঠনমূলক আলোচনা অনুষ্ঠান, ইবাদত-বন্দেগি ইত্যাদির মাধ্যমে, মুত্তাকি হওয়ার জন্য সৎ ও ভাল হওয়ার সাধনায় ব্রতী হওয়াই এ মাসের দাবি। যতেœর সাথে দীর্ঘ একটি মাস যদি গোটা জাতি এই সাধনায় আত্মনিয়োগ করে তবে তার মন- মানসিকতার পরিবর্তন সম্ভব। রমজানের উদ্দেশ্য যাতে সফল হয় এ জন্য সাধ্য অনুযায়ী চেষ্টা চালানো উচিত প্রতিটি লোকের। বিশেষ করে সমাজের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের এ ব্যাপারে পালন করা উচিত বিশেষ ভ‚মিকা। আমাদের জনগণ জাতি বর্ণ নির্বিশেষে প্রায় সকলেই রমজানের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে থাকেন। তারা স্বতঃস্ফ‚র্তভাবে এজন্য চেষ্টাও চালান । কিন্তু একশ্রেণীর অসৎ অতিলোভী ব্যবসায়ী, কিছু দায়িত্বহীন উচ্ছৃংখল বখাটে যুবক এর পবিত্রতা বিনষ্টের জন্য যেন ইচ্ছাকৃতভাবেই তৎপর হয়। এ ধরনের হীন মানসিকতাসম্পন্ন ব্যবসায়ীদের কথা অবশ্য আলাদা লোভ তাদের পশুরও অধম করেছে। বানে, বন্যায়, প্রাকৃতিক দুর্যোগে অগণিত মানুষ যখন হাহাকার করে তখন তারা মাল আটকে রেখে মওজুদারির মাধ্যমে বাজারে কৃত্রিম অভাব সৃষ্টি করার ধান্ধায় থাকে। জিনিসপত্রের দাম দ্বিগুণ ত্রিগুণ বাড়িয়ে রাতারাতি বড়লোক হওয়ার প্রতিযোগিতায় উঠে-পড়ে লেগে যায়। রমজানকেও অতিমুনাফাখোরীরা মোক্ষম সুযোগ মনে করে মানুষের রক্ত চোষার ঘৃণ্য তৎপরতায় লিপ্ত হয়। এদেরই কারসাজিতে নিত্য-প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদির দাম হু হু করে বাড়ছে। চলে যায় সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে। উপর দিয়ে ধার্মিকতার যতই ভড়ং দেখাক না কেন, এদের কাছে রমজানের আবেদন ব্যর্থ হয়ে যায়। আত্মশুদ্ধি বা কৃচ্ছতা নয়, লোভ-লালসাই বর্ধিত হয় এদের। খতিব বলেন, রমজান মাস সহানুভ‚তি ও সহমর্মিতার মাস। রাসূলেপাক (সা.) একে আখ্যায়িত করেছেন শাহরুল মাওয়াছাত বা সমবেদনা ও সহমর্মিতার মাস বলে। গরিব-দুঃখী, দুস্থ অনাথ কাঙ্গালদের ব্যথা-কষ্ট দূর করার জন্য এ মাসে আরও অধিক যতœবান হওয়া উচিত। কেবল ধনিরাই দান করবে তা নয়। তারা তাদের মতো করবে, আমরাও পারি আমাদের মতো করতে। আমার ইফতারির জন্য ৫টা আইটেমের জায়গায় ৩টা আইটেম করে বাকি দুটো বা দুটোর পয়সা দিতে পারি আমাদের অভাবগ্রস্ত নিকট-প্রতিবেশীকে। আমাদের স্মরণ রাখতে হবে রাসূলে করীম (সা.)-এর সেই সাবধান বাণী, খোদার কসম সে ব্যক্তি মোমেন নয়, যে পেট পুরে আহার করে আর তার প্রতিবেশী অনাহারীক্ষুধার্ত অবস্থায় রাত কাটায়। রাসূলে করীম (সা.) আরও বলেছেন, আর যদি না পার তবে “তোমাদের তরকারিতে একটু বেশি করে সুরা বা ঝোল দিও এবং তা প্রতিবেশীকে পৌছিও।” কত বাস্তব ও যুক্তিপূর্ণ একথা । আমরা প্রত্যেকেই যদি নিজ নিজ প্রতিবেশির দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে সচেতন হতাম তবে সমাজে এ হাহাকার থাকতে পারতো না । নিজ বাড়ির আশপাশের ৪০ ঘর হচ্ছে প্রতিবেশি। প্রত্যেকেই যদি এ ৪০ ঘরের খোঁজ-খবর রাখে, সাধ্যানুযায়ী তাদের অভাব-অভিযোগ, দুঃখ-কষ্ট লাঘবের জন্য সচেষ্ট হয় তবে সমাজের অবস্থা পাল্টে যেতে পারে। ধর্মপরায়ণতা প্রদর্শনীর ব্যাপার নয়, অন্তরের। তেমনি সওয়াব আড়ম্বরতার মধ্যে নেই তা নিয়ত বা মননের মধ্যে। যিনি দোকানদার তিনি রোজাদারদের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করে এই পবিত্র মাসের ফজিলতের প্রতি লক্ষ্য রেখে যদি যা ন্যায্যমূল্য তাই রাখেন বা অন্য সময়ের তুলনায় একটু কম রাখেন তবে অবশ্যই তিনি এর জন্য সওয়াব পাবেন। এভাবে প্রত্যেকে নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে নিজ নিজ সাধ্যসীমার মধ্যে কিছু না কিছু অবশ্যই করতে পারেন।
খুতবা বই
খতিব বলেন, রমজান মাসে ভাল ভাল খাবার আর ভুরি-ভোজনের প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়। সারা দিন অনাহারে থাকার মাসুল সুদে-আসলে পুরিয়ে নেয়ার জন্য সেহরি ও ইফতারিতে অধিক আয়োজন ও খাওয়ার প্রতিযোগিতা চলে। আসলে এতে রোজার মূল উদ্দেশ্যই ব্যর্থ হয়ে যায়। এ মাস তো কৃচ্ছতা সাধনের। সংযম সাধনার। রোজার মূল উদ্দেশ্য কামভাব ও প্রবৃত্তি দমন। কিন্তু অতিরিক্ত আহারের দ্বারা তা সফল হলো কোথায়? তাই আজকে আমাদের প্রার্থনা, আমরা যেন রোজার তাৎপর্য উপলব্ধি করতে সক্ষম হই এবং রমজানের দাহনে সব পাপ-পংকিলতাকে ভস্মিভ‚ত করে পবিত্র দেহ, মন ও সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে পারি। আমীন।
মসজিদের কার্পেট
বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতি মো. রুহুল আমিন আজ জুমার বয়ানে বলেন,মাহে রমজান সংযমের মাস। এগারো মাসের জন্য প্রস্তুতির মাস হচ্ছে রমজান। খতিব বলেন, আল্লাহর কাছে একজন রোজাদার হচ্ছে ভিআইপি। খতিব বলেন, মহান আল্লাহ বলেন, রোজা আমার জন্য এর প্রতিদান আমিই দিবো। এ মাসে গরিব অসহায়দের প্রতি সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিতে হবে। অনাহার অর্ধাহারে যারা আছেন তাদেরকে সামর্থ অনুযায়ী সাহায্য দিতে হবে। প্রতিবেশিরা গরিব হলে তাদের প্রতি খেয়াল রাখতে হবে। আত্মীয়-স্বজন না হলেও গরিব প্রতিবেশিকে সহায়তা করতে হবে। এ মাসে দানের জন্য দশ গুন থেকে সাতশ’গুন পর্যন্ত সওয়াব পাওয়া যায়। জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা পেতে রোজা ঢালস্বরূপ। একজন রোজাদারকে ইফতার করাতে পারলে বহু নেকি। রমজানের ফযিলত সর্ম্পকে ধরনা নিয়ে বেশি বেশি ইবাদত-বন্দেগিতে সময় কাটাতে হবে।
ঢাকার মিরপুরের বাইতুল আমান কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের খতিব মুফতি আবদুল্লাহ ফিরোজী আজ জুমার খুৎবা পূর্ব বয়ানে বলেন, রমজানকে বলা হয় ইবাদতের বসন্তকাল। সারা বছর ইবাদতে যে কমতি হয়েছে সেটা পুষিয়ে নেয়ার মাস রমজান। আল্লাহ তায়ালা রোজা ফরজ করেছেন আমাদেরকে মুত্তাকি বানানোর জন্য। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে ‘হে ঈমানদারগণ! তোমাদের উপর রোজা ফরজ করা হয়েছে যেরূপ ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তী লোকদের উপর, যাতে করে তোমরা মুত্তাকি (পরহেযগার) হতে পারো।’ (সূরা বাকারা, আয়াত নং-১৮৩)। এই মাস তাকওয়া অর্জন ও অনুশীলনের মাস। তাকওয়ার গুণ পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ নেয়ামত। কারণ, মুত্তাকিরাই আল্লাহ তায়ালার কাছে সর্বোচ্চ সম্মান ও মর্যাদার অধিকারী হবেন। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে ‘নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছে তোমাদের মধ্যে সর্বাধিক সম্মানের অধিকারী হবে সে, যে সর্বাধিক পরহেযগার (মুত্তাকি)।’ (সূরা হুজরাত, আয়াত নং-১৩)। হাদীস শরীফে রাসূলুল্লাহ (সা.) রোজাদারের জন্য বিভিন্ন পুরস্কার ও প্রতিদানের কথা বর্ণনা করেছেন। সেগুলোর কয়েকটি উল্লেখ করছি। প্রথমত রোজা ও কোরআন মাজীদ কিয়ামতের দিন বান্দার জন্য সুপারিশ করবে। রোজা বলবে, হে আল্লাহ! আমি তাকে দিনের বেলায় পানাহার ও যৌন সম্ভোগ থেকে পূর্ণ বিরত রেখেছি। কাজেই তাকে ক্ষমা করে দিন এবং পুরস্কৃত করুন এবং তার ব্যাপারে আমার সুপারিশ কবুল করুন। আর কোরআন বলবে, আমি তাকে রাতে নিদ্রা থেকে বিরত রেখেছি। কাজেই তার ব্যাপারে আমার সুপারিশ কুবল করুন। অতঃপর তাদের সুপারিশ গ্রহণ করা হবে। (মুসনাদে আহমদ, হাদীস নং-৬৫৮৯)। দ্বিতীয়ত রোজা জাহান্নামের আগুন থেকে পরিত্রাণের জন্য একটি ঢাল এবং দুর্গ। (মুসনাদে আহমদ, হাদীস নং-৮৯৭২)। তৃতীয়ত জান্নাতে রাইয়্যান নামক একটি শাহী গেট আছে যা দিয়ে একমাত্র রোজাদারগণই প্রবেশ করবে। অন্য কেউ সেই গেট দিয়ে প্রবেশ করতে পারবে না। (আর যে ব্যক্তি রাইয়্যান গেট দিয়ে প্রবেশ করবে সে আর কখনো তৃষ্ণার্ত হবে না। (সহীহ বুখারী ১/২৫৪)। চতুর্থত যে ব্যক্তি পূর্ণ বিশ্বাস সহকারে সওয়াবের আশায় রমজানের রোজা রাখে, আল্লাহ পাক তার জীবনের সকল গুনাহ ক্ষমা করে দিবেন। (সহীহ বুখারী, হাদীস নং-১৯০১)। পঞ্চমত নিশ্চয় রোজাদারের মুখের (পানাহার বর্জনজনিত) গন্ধ আল্লাহর কাছে মিশকের সুগন্ধি অপেক্ষা উত্তম। (সহীহ বুখারী, হাদীস নং-১৯০৪)। ষ্ঠতম রোজাদার ব্যক্তির ইফতারের সময়ের দোয়া কবুল করা হয়। (ইবনে হিব্বান, হাদীস নং-৩৪২৮)। খতিব আরও বলেন, এই মাস গোনাহের পঙ্কিলতায় নিমগ্ন আত্মার পরিশোধনের মাস। আমলের দুর্বল চাকাকে সবল করার মাস। রহমত মাগফিরাত ও নাজাতের বারিধারায় সিক্ত হওয়ার মাস। এই মাসকে আল্লাহ তায়ালা খুব বেশি ইবাদত-বন্দেগির মাধ্যমে তার নৈকট্য অর্জনের ভরা বসন্ত বানিয়েছেন। এ মাস থেকেই মুমিন সামনের দিনগুলোর ঈমানি প্রস্তুতি গ্রহণ করে এবং আখেরাতের পাথেয় সঞ্চয় করে। ইবনুল জাওযী (রহ.) বলেছেন, কোন কবরবাসীকে যদি বলা হয়, তুমি দুনিয়ার কি চাও? আল্লাহর শপথ সে বলবে, রমজানের একটি দিন চাই। এই মাসের প্রতিটা মুহ‚র্ত সীমাহীন কল্যাণ ও বরকত দ্বারা পরিপূর্ণ। কারণ, এই মাস আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে বান্দার জন্য অনেক বড় নেয়ামত ও গনীমত স্বরূপ। নবী কারীম (সা.) ইরশাদ করেছেন, রমজান মাস মুমিনের জন্য গনীমত এবং মুনাফেকের জন্য ক্ষতির কারণ। (মুসনাদে আহমদ ২/৩৩০)। এই মাস আখেরাতের ব্যবসার মৌসুম। যে ব্যবসার মাধ্যমে মানুষ আখেরাতের কঠিন শাস্তি থেকে মুক্তি পাবে। যে ব্যবসার মূল লক্ষ্য হল আল্লাহর সন্তুষ্টি ও জান্নাতুন নাঈম। যে ব্যবসায় ব্যর্থ হলে অনন্তকালের জন্য আজাব ও গজবে ভুগতে হবে। কোরআন নাযিলের এই মাসে বেশি করে কোরআন তেলাওয়াত করতে হবে। আন্তরিক প্রশান্তি মিলবে এবং ডিপ্রেশনে ভুগতে হবে না। মহান আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে আমল করার তৌফিক দান করুন, আমীন।বরকতময় রমজান মাস সম্পর্কে আমরা সকলেই কম-বেশী জানি। এটি আরবী মাসগুলোর মধ্যে ৯ম মাস। রমজান” শব্দটি আরবী ধাতু রামিয়া বা আর-রামম থেকে উদ্ভূত যার অর্থ “তাপমাত্রা,” বা “শুষ্কতা”। অ-আরবীয় মুসলিম দেশ যেমন ইরান, বাংলাদেশ, পাকিস্তান এবং তুরস্ক এটিকে “রামাজান” বা “রমজান” হিসাবে উল্লেখ করা হয়। রমজান মাসটি বেশ কিছু ঘটনার কারণে অন্য যেকোন মাসের তুলনায় বেশ মহিমান্বিত এবং আলাদা অবস্থান দখল করে আছে। ঘটনাগুলো নিম্নরুপ- হজরত ইব্রাহীম (আঃ) এর প্রতি ৩য় রমজানে সহিফা নাজিল হয়। হজরত মুসা (আঃ) এর প্রতি ৬ রমজানে আসমানী কিতাব “তাওরাত” নাজিল হয়। হজরত দাউদ (আঃ) এর প্রতি ১৮ রমজানে আসমানী কিতাব “যাবুর” নাজিল হয়। হজরত ঈসা (আঃ) এর প্রতি ১২ রমজানে আসমানী কিতাব “ইঞ্জিল” নাজিল হয়। হজরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর প্রতি ২৭ রমজানে আসমানী কিতাব “আল- কোরআন” নাজিল হয়। আবার মুসলমানদের অস্তিত্বের লড়াই ঐতিহাসিক “বদরের যুদ্ধ” সংগঠিত হয়েছিল এই রমজানেরই ১৭ তারিখে। মুসলমানরা ২০ রমজানে “মক্কাবিজয়” করেছিল। ২১ রমজানে হজরত মুসা (আঃ) ইহলোক ত্যাগ করেন। এই ২১ রমজানে হজরত ঈসা (আঃ) -কে মহান আল্লাহ ২য় আসমানে তুলে নিয়েছিলেন। আবার এই ২১ রমজানে হজরত আলী (রাঃ) শাহাদাৎ বরণ করেছিলেন।রমজান রহমত মাগফিরাত ও নাজাতের বারিধারায় সিক্ত হওয়ার মাস। এই মাসকে আল্লাহ তায়ালা খুব বেশি ইবাদত-বন্দেগির মাধ্যমে তার নৈকট্য অর্জনের ভরা বসন্ত বানিয়েছেন। রমজান মাস আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে বান্দার জন্য অনেক বড় নেয়ামত ও গনীমত স্বরূপ। আজ জুমার খুৎবা পূর্ব বয়ানে খতিব এসব কথা বলেন।
নগরীর মহাখালীস্থ মসজিদে গাউছুল আজম কমপ্লেক্সের খতিব মাওলানা কবি রুহুল আমিন খান আজ জুমার বয়ানে বলেন, রহমাত, বরকত ও মাগফিরাতের সিয়াম সাধনার মাস আত্মসংযমের। ধৈর্য, ত্যাগ, সহানুভ‚তি, সহমর্মিতা অর্জনের মাস। এ মাসে মানব জাতিকে সঠিক পথপ্রদর্শনের জন্য যেমন মহাগ্রন্থ আল-কোরআন নাজিল হয়েছে। অন্যান্য আসমানি কিতাবও এ মাসে নাজিল হয়েছে। এ মাসের মধ্যে অবস্থিত হাজার মাসের চেয়ে উত্তম কোরআনের নুজুল। তেমনি হযরত ইব্রাহীমের ছহিফা এ মাসের প্রথম কিংবা তৃতীয় তারিখে অবতীর্ণ হয়। অষ্টাদশ কিংবা দ্বাদশ তারিখে জবুর প্রাপ্ত হন হযরত দাউদ (আঃ)। ৬ষ্ঠ দিবসে তৌরাত পান হযরত মুসা। দ্বাদশ কিংবা ত্রয়দশ তারিখে ইঞ্জিল প্রাপ্ত হন হযরত ঈসা। এরূপ সব আসমানী কিতাব এ মাসে নাজিল হওয়ায় সব জাতির নিকট এ মাস যেমন পবিত্র তেমনি এর পবিত্রতা।

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত -২০২৫, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট