1. mesharulislammonir1122@gmail.com : দৈনিক সংযোগ প্রতিদিন : দৈনিক সংযোগ প্রতিদিন
  2. info@www.sangjogprotidin.com : দৈনিক সংযোগ প্রতিদিন :
সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬, ১০:৫০ অপরাহ্ন
শিরোনাম :

কেমন ছিল প্রিয় নবীজির (সা.) রমজান

  • প্রকাশিত: সোমবার, ২ মার্চ, ২০২৬
  • ৩৮ বার পড়া হয়েছে

সিরাজুল ইসলাম,(ইসলামী চিন্তাবিদ ও গবেষক) : রোজা স্রষ্টা ও সৃষ্টির মাঝে মেলবন্ধনের সেতু। রমজান, দেহ-মন পরিচর্যার, আত্মিক শুচিশুদ্ধতা লাভের অন্যতম মাধ্যম। রমজান, মুমিনের জীবনের শ্রেষ্ঠতম আনন্দের ক্ষণ।
রমজান মাসকে ঘিরে মুমিনের মনোহৃদয় নতুন সাজে সজ্জিত হতে থাকে ,চোখের তারায় চিরসবুজ জান্নাতের ছবি ফুটে ওঠে। শুদ্ধতার- শুভ্রতার ফুল ফোটে মুমিনের হৃদবাগে।
আকুলপ্রাণে অনেকেই জানতে চায়, আচ্ছা! কেমন ছিলো আমাদের প্রিয় নবীজির রমজান ? কীভাবে কেটেছিলো তার দিনরাত? আমরাও তো চাই প্রিয় নবীজির মতো রমজান কাটাতে, তার আদর্শে আদর্শিত হতে। কেননা তার রেখে যাওয়া আদর্শে আমাদের জন্য কল্যাণ নিহিত আছে।
মুমিন হৃদয়ের এ বাসনা পূরণ করতে আমাদের হৃদয়ের বাদশাহ নবী কারীম (সা.) মহিমান্বিত এ মাসে রবের পরম সান্নিধ্য লাভে নিজেকে সফলভাবে সমর্পণ করার শিক্ষা দিয়ে গেছেন।
একজন সফল-স্বার্থক রোজাদার হিসেবে স্বীকৃতি পাবার জন্যে কী কী করতে হবে তা আমল করে দেখিয়েছেন। চলুন, তাহলে আলোচনা করি কীভাবে কেটেছে প্রিয় নবীজির রমজান।
সাদাসিধে ও সরল জীবনে অভ্যস্ত ছিলেন আমাদের প্রিয় নবীজি। জীবনে সবকিছুতেই তিনি ছিলেন অনাড়ম্বর। সীমাহীন প্রাচুর্যের হাতছানি উপেক্ষা করে তিনি বেছে নিয়েছিলেন সাধারণ জীবন। খাবারের ব্যাপারেও ছিলো এ সারল্যের ছাপ। নবীজির খাবার গ্রহণের এ সারল্য ও অল্পতুষ্টি বজায় থাকতো রমজানের সেহরির সময়ও।
তিনি সাধারণ খাবার দিয়ে সেহরি করতেন। ঘরে যখন যা থাকতো তাই সেহরি হিসেবে গ্রহণ করতেন।
সেহরির খাবার হিসেবে তার বিশেষ কোনো পছন্দের কথা জানা যায় না। তবে হ্যাঁ, তিনি অন্য সব সময়ের মতো সেহরিতেও খেজুর পছন্দ করতেন।
হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, ‘উত্তম সেহরি খেজুর এবং উত্তম তরকারি সিরকা। আল্লাহতায়ালা সেহরি গ্রহণকারীদের প্রতি দয়া করুন। ’(কানজুল উম্মাল: ২৩৯৮৩)
সেহরির খাবার যাই হোক না কেন, নবী কারীম (সা.) নিয়মিত সেহরি গ্রহণ করতেন এবং সাহাবীদেরও সেহরি গ্রহণের প্রতি বিশেষভাবে উৎসাহিত করেছেন। তিনি বলেছেন, তোমরা সেহরি গ্রহণ করো,কেননা সেহরিতে বরকত রয়েছে।  (বোখারি: ১৯২৩, মুসলিম ১০৯৫)
নবী কারীম (সা.) সেহরি খেতেন রাতের শেষ ভাগে সুবহে সাদিকের আগ মুহূর্তে। হজরত যায়েদ বিন সাবেত (রা.) বলেন, আমরা আল্লাহর রাসুলের (সা.) সঙ্গে সেহরি খেতাম, এরপর তিনি সালাতের জন্য দাঁড়াতেন। বর্ণনাকারী বলেন, আমি জিজ্ঞেস করলাম, ফজরের আজান ও  সেহরির মাঝে কতটুকু ব্যবধান ছিলো? তিনি বললেন, পঞ্চাশ আয়াত (পাঠ করা) পরিমাণ। (বুখারি, হাদিস : ১৯২
সেহরির পর যখন ফজরের আজান হতো, নবী কারীম  (সা.) নামাজ আদায় করে নিতেন। দিনের আলো ফুটলে সাহাবীদের রমজান ও রোজা সংক্রান্ত মাসআলা শিক্ষা দিতেন।
হজরত লাকিত বিন সাবিরা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী কারীম (সা.) বলেন, তোমরা ভালোভাবে নাকে পানি পৌঁছাও,তবে রোজা অবস্থায় নয়। অর্থাৎ রোজা অবস্থায় হালকাভাবে পানি পৌঁছাও, অতিরঞ্জন কোরো না। (আবু দাউদ ২৩৬৩)
সাহাবীদের রমজান সম্পর্কে সতর্ববাণীও শোনাতেন। যেমন আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুল (সা.) বলেছেন, ওই ব্যক্তি ধুলোয় ধূসরিত হোক, যার কাছে আমার নাম উল্লিখিত হলো; কিন্তু সে আমার ওপর দরুদ পাঠ করেনি। ওই ব্যক্তি ধুলোয় ধূসরিত হোক, যার কাছে রমজান মাস এলো অথচ তার গুনাহ মাফ হওয়ার আগেই তা অতিবাহিত হয়ে গেল। ওই ব্যক্তি ধুলোয় ধূসরিত হোক, যার নিকট তার বাবা-মা বৃদ্ধে উপনীত হলো; কিন্তু তারা তাকে জান্নাতে প্রবেশ করায়নি (সে তাদের সঙ্গে ভালো আচরণ করে জান্নাত অর্জন করেনি)। (তিরমিজি, হাদিস : ৩৫৪৫)
রোজা অবস্থায় রাসুল (সা.) মেসওয়াকের খুব বেশি  গুরুত্ব দিতেন; অন্যদেরও উৎসাহ দিতেন। আমের বিন রাবিয়া (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রোজা অবস্থায় রাসুলকে (সা.) এতো বেশি মেসওয়াক করতে দেখেছি, যা গণনা করে শেষ করা যাবে না। (আত তালখিছুল হাবিব ১/৯)
রোজাদারের জন্য ইফতার বড় আনন্দের। ইফতার  সারাদিনের রোজার ক্লান্তি ও অবসাদ দূর করে মনে অপার্থিব আনন্দ-উচ্ছ্বাস নিয়ে আসে। রোজাদার কেমন আনন্দানুভব করে তা কেবল যারা রোজা রাখে তারাই অনুধাবন করতে পারেন। হাদিসে বলা হয়েছে, রোজাদারের জন্য দুইটি আনন্দ- একটি ইফতারের সময় ও অপরটি যখন আল্লাহর সঙ্গে মিলবে তখন। (বোখারী, ১৯০৪)
স্বাভাবিকতই ইফতারে খেজুর অত্যন্ত উপযোগী উপকরণ। এটি শর্করা ও পুষ্টি উপাদানের উৎস হিসেবে কাজ করে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, খেজুর দিয়ে ইফতার শুরু করা রাসুলের ( সা.) অভ্যাস ছিলো।
আনাস বিন মালেক (রা.) থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, ‘নবী (সা.) নামাজের আগে কয়েকটি কাঁচা খেজুর খেয়ে ইফতার করতেন। যদি কাঁচা খেজুর না থাকতো, তাহলে শুকনো খেজুর দিয়ে। যদি শুকনো খেজুরও না থাকত তাহলে কয়েক ঢোক পানি দিয়ে।’ (সুনানে তিরমিজি; রোজা অধ্যায় : ৬৩২)
অনতিবিলম্বে ইফতার করা মহানবীর (সা.) সুন্নত। রাসুলের (সা.) বিভিন্ন হাদিস থেকে ও সাহাবিদের আমল থেকে এমনটাই প্রমাণ হয়। সাহল ইবনে সাদ (রা.) থেকে বর্ণিত যে, রাসুল (সা.) বলেন, ‘যতদিন মানুষ অনতিবিলম্বে ইফতার করবে, ততদিন তারা কল্যাণের মধ্যে থাকবে।’ (সহিহ বুখারি, ১৮২
রবের সঙ্গে গভীর সম্পর্ক তৈরীর অন্যতম মাধ্যম হলো তাহাজ্জুদ। তাহাজ্জুদ অত্যন্ত মূল্যবান আমল। কুরআন মাজীদে নবী কারীমকে (সা.) তাহাজ্জুদের বিশেষ হুকুম করা হয়েছে। তাহাজ্জুদের সময় তথা রাতের শেষ ভাগে আল্লাহর রহমত বান্দার প্রতি নিবিষ্ট থাকে।
আল্লাহ তাআলা বান্দাকে ডেকে ডেকে বলতে থাকেন, আছে কি কেউ, যে আমাকে ডাকবে অমি তার ডাকে সাড়া দিব। কেউ আমার কাছে কিছু চাইবে আমি তাকে তা দিয়ে দিব। কেউ আমার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করবে আমি তাকে ক্ষমা করে দিব।
রাতের দুই তৃতীয়াংশ অতিবাহিত হওয়ার পর থেকে ফজর পর্যন্ত প্রতি রাতে রাব্বুল আলামীন এভাবে বান্দাকে ডাকতে থাকেন। (বোখারি,  ৬৩২১;  মুসলিম, ৭৫৮)
রাসুল (সা.) সব সময় তাহাজ্জুদের নামাজ আদায় করতেন। রমজানে তাহাজ্জুদের নামাজে আরও বেশি মগ্ন হয়ে যেতেন। রমজানে কখনো তার তাহাজ্জুদ না ছুটতো না। রাতের শেষ অংশে তাহাজ্জুদের জন্য তিনি দাঁড়িয়ে যেতেন।
আয়েশা (রা.) বলেন, ‘রাসুল (সা.) রমজান মাসে ও অন্য সব মাসের রাতে ১১ রাকাতের অধিক সালাত আদায় করতেন না। প্রথমে চার রাকাত পড়তেন। এ চার রাকাত আদায়ের সৌন্দর্য ও দীর্ঘতা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করো না। এরপর তিন রাকাত আদায় করতেন। তখন আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসুল, আপনি কি বিতর নামাজ আদায়ের আগে ঘুমিয়ে পড়েন? নবী (সা.) বললেন, আমার চোখ ঘুমায়, আমার অন্তর ঘুমায় না।’ (বুখারি: ৩৫৬৯)
আল্লাহ রাব্বুল আলামীন রমজানের দিবসের রোজাকে ফরজ করেছেন। আর তার হাবীব (সা.) ‘কিয়ামে রমজান’-এর ঘোষণার মাধ্যমে তারাবির মতো মূল্যবান এ তোহফা দান করেছেন।
তারাবিতে কালামুল্লাহর সঙ্গে বান্দার বিশেষ সম্পর্ক স্থাপিত হয় এবং এর মাধ্যমে বান্দার গুনাহ মাফ হয়। নবীজী (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি ঈমান ও ইহতিসাব তথা আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস ও সওয়াবের প্রত্যাশা নিয়ে কিয়ামে রমজান আদায় করবে তার বিগত গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে। (সহিহ বোখারি, ২০০৯
ইসলামে দান-সদকা ও অন্যকে সহযোগিতার গুরুত্ব অনেক বেশি। আর রমজানে দানের গুরুত্ব আরও বেশি। এ মাসকে দানের মাস বলা হয়, কেননা এ মাসে একটি নফল ইবাদত করলে একটি ফরজের সমান সওয়াব। আর একটি ফরজ ইবাদত করলে ৭০টি ফরজের সওয়াব দেওয়া হয়।
প্রিয় নবীজি (সা.) স্বভাবগতভাবেই মানবকুলের মধ্যে সর্বাধিক দানশীল ছিলেন। রমজান মাস এলে তার দানের পরিমাণ বহুগুণে বেড়ে যেত। আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, ‘রাসুল (সা.) মানুষের মধ্যে সর্বাধিক দানশীল ব্যক্তি ছিলেন। রমজান মাসে জিবরাইল (আ.)-এর সঙ্গে সাক্ষাৎকালে কল্যাণবহ মুক্ত বায়ুর চেয়েও বেশি দানশীল হয়ে যেতেন। (বোখারি, ৩২২০)
নবী কারীম (সা.) সব সময়ই কুরআন তেলাওয়াত করতেন। কয়েকটি প্রিয় জিনিসের মধ্যে কুরআন মাজীদের তেলাওয়াত ছিলো অন্যতম। আর রমজান আসলে তিনি তেলাওয়াত আরও বাড়িয়ে দিতেন। কারণ রমজান মাসেই আল্লাহতায়ালা কুরআন নাজিল করেছেন।
আল্লাহতায়ালা বলেন, রমজান মাস, যাতে কুরআন নাজিল হয়েছে, যা মানবজাতির জন্য হেদায়েতের দিশারী, সৎপথের স্পষ্ট নিদর্শন এবং সত্যাসত্যের পার্থক্যকারী। অতএব তোমাদের যে এ মাস লাভ করবে, সে যেন তাতে অবশ্যই রোযা রাখে। বাকারা (২) : ১৮৫
আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, ‘রমজান এলে প্রতি রাতে নবীজির (সা.) কাছে জিবরাইল (আ.) আগমন করতেন। একে অপরকে কুরআন তেলাওয়াত করে শোনাতেন।’ (বোখারি : ৩৫৫৪
ইতিকাফ তাকওয়া অর্জনের বড় মাধ্যম। নির্জনতায় প্রভুকে স্মরণ করার শ্রেষ্ঠ উপায়। প্রভুর দরবারে নিজেকে মেলে ধরার অবারিত সুযোগ। নবীজী প্রতি বছর অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে রমযানের শেষ দশকে ইতিকাফ করতেন।
আম্মাজান হজরত আয়েশা সিদ্দীকা (রা.) বলেন,নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইন্তিকালের আগ পর্যন্ত রমজানের শেষ দশকে ইতিকাফ করতেন। নবীজীর পর তার স্ত্রীগণও ইতিকাফ করতেন। (সহিহ মুসলিম,  ১১৭২)
আল্লাহতায়ালা আমাদেরকে রমজানের মূল্যবান সময়গুলোর যথাযথ মূল্যায়ন করার তাওফিক দান করুক। সর্বকালের সেরা মহামানব মানবতার মুক্তির দূত মুহাম্মদ (সা.) যেভাবে রোজা পালন করেছেন তার উম্মতদেরও সেভাবেই রোজা পালন করতে হতে। তাই প্রতিটি মুসলমানকে জেনে রাখা দরকার কিভাবে হুজুর (সা.) রোজা পালন করেছেন। রাসুল (সা.) রমজানের জন্য দু’মাস আগ থেকেই প্রস্তুতি নিতেন। রজবের চাঁদ দেখে তিনি বার বার রমজান পর্যন্ত পৌঁছার দোয়া করতেন। হজরত আনাস ইবনে মালেক (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রজব মাস শুরু হলে রাসুল (সা.) এই দোয়া পড়তেন- ‘আল্লাহুম্মা বারিকলানা ফি রাজাবিও ওয়া শা’বান। ওয়া বাল্লিগনা রামাদান।’ অর্থ- ‘হে আল্লাহ আমাদের জন্য রজব ও শাবান মাসকে বরকতময় করে দিন। আর আমাদেরকে রমজান মাস পর্যন্ত পৌঁছে দিন।’ (নাসায়ি) এভাবেই রজবের প্রতিটি দিন রমজানের প্রার্থনায় সিক্ত হত রাসুল (সা.)-এর নূরানী চোখদ্বয়।
রমজানের প্রস্তুতির জন্য শাবান থেকেই নফল রোজা শুরু করতেন প্রিয়নবী (সা.)। হজরত আয়শা (রা.) বলেন, ‘আমি রাসুল (সা.)-কে শাবান মাস ছাড়া আর কোন মাসেই এত বেশি নফল রোজা রাখতে দেখিনি। (বুখারি।) তিনি (সা.) সাহবিদেরও রোজার প্রস্তুতির জন্য উৎসাহ দিতেন। হজরত ইমরান ইবনে হুসাইন (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) কোন একজনকে বলছিলেন, হে অমুকের পিতা! তুমি কি শাবান মাসের শেষ দিকে রোজা রাখনি? তিনি বললেন, না। রাসুল (সা.) বললেন, তাহলে তুমি রমজানের পরে দুটি রোজা পূর্ণ কর। (বুখারি।)
রমজানের ঠিক আগে আগেই রাসুল (সা.) রমজানের ফজিলত এবং বরকত সম্পর্কে সাহাবিদের জানিয়ে দিতেন। এ সম্পর্কে অনেকগুলো হাদিসের মধ্যে একটি হাদিস উল্লেখ করছি। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘রমজান বরকতময় মাস। এ মাসে শয়তানকে শৃঙ্খলাবদ্ধ করা হয়। আকাশের দরজাসমূহ খুলে দেয়া হয়। জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করে দেয়া হয়। এ মাসে এমন একটি মহিমান্বিত রাত রয়েছে যা হাজার মাসের চেয়েও শ্রষ্ঠ।’ (মুসলিম।) বিভিন্ন হাদিস থেকে জানা যায় রাসুল (সা.) চাঁদ দেখে রোজা শুরু করতেন। হাদিসের বর্ণনা থেকে পাওয়া যায়, কেউ এসে তাকে চাঁদের সংবাদ দিলে তিনি তা ঘোষণা করার অনুমতি দিতেন। তিনি (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘তোমরা চাঁদ দেখে রোজা রাখ এবং চাঁদ দেখেই রোজা ছাড়। (বুখারি।)
জাকজমকহীন অনাড়ম্বর রোজা পালন করতেন রাসুল (সা.)। নবীজী (সা.) এর সাহারি ও ইফতার ছিল সাধারণের চেয়েও সাধারন। হজরত আনাস (রা.) বলেন, ‘রাসুল (সা.) কয়েকটি ভেজা খেজুর দিয়ে ইফতার করতেন। ভেজা খেজুর না থাকলে শুকনো খেজুর দিয়ে ইফতার করতেন। ভেজা কিংবা শুকনো খেজুর কোনটাই না পেলে কয়েক ঢোক পানিই হত তাঁর দিয়ে ইফতার।’ (তিরমিজি।) রাসুল (সা.) সূর্যাস্তের সঙ্গে সঙ্গেই ইফতার করতে পছন্দ করতেন। ইফতারে দেরি করা তিনি পছন্দ করতেন না। তেমনিভাবে রাসুল (সা.) এর সাহারিও ছিল খুব সাধারণ। তিনি (সা.) দেরি করে একেবারে শেষ সময়ে সেহরি খেতেন। সেহরিতে তিনি দুধ ও খেজুর পছন্দ করতেন। সেহরিতে সময় নিয়ে কঠোরতা করা তিনি (সা.) পছন্দ করতেন না।
অন্যান্য সময়ের চেয়ে রমজানে রাসুল (সা.) এর ইবাদতের পরিমাণ বেড়ে যেত। বুখারির বর্ণনা অনুযায়ী তিনি (সা.) প্রবাহিত বাতাসের মত দান করতেন। রমজানে রাসুল (সা.) জীবরাইল (আ.) কে কোরআন শুনাতেন। আবার জীবরাইল (আ.) হজরত (সা.)কে কোরআন শুনাতেন। রমজানের রাতে তিনি (সা.) খুব কম সময় বিশ্রাম নিয়ে বাকি সময় নফল নামাজে কাটিয়ে দিতেন। নির্ভযোগ্য হাদিস থেকে জানা যায়, রাসুল (সা.) তিনদিন সাহাবিদের নিয়ে ২০ রাকাত সালাতুত তারাবি পড়েছেন। চতুর্থ দিন থেকে তিন ঘরে আর সাহাবিরা বাইরে নিজেদের মতো নামাজ পড়তেন। খলিফা ওমর (রা.) এর সময় জামাতে তারাবি পড়ার প্রচলন হয়। আমাদের দেশে রমজান এলেই তর্ক বিতর্ক শুরু হয়ে যায়, যা মোটেই কাম্য নয়। তারাবি সুন্নাত নামাজ। আর বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা হারাম। সমাজে ফেতনা সৃষ্টি করার অধিকার আমাদের কারো নেই।
শেষ দশ দিন ইতিকাফ করা রাসুল (সা.) এর নিয়মিত সুন্নাত ছিল। ইতিকাফে কদরের রাত তালাশ করাই মূল উদ্দেশ্য। অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও সত্য, শেষ দশকে আমাদের মসজিদগুলো মুসল্লিশূন্য থাকে। রাসুল (সা.) শাওয়ালের চাঁদ দেখে রোজা ছাড়তেন। একাধিক হাদিস থেকে জানা যায়, শাওয়ালের পহেলা রাত খুবই বরকতময়। এ রাতে রাসুল এবং সাহাবিরা এবাদত বন্দেগী করে কাটিয়ে দিতেন। আমাদেরও উচিত ইবাদতময় জীবন গড়ে তোলা।
রমজানকে স্বাগতম জানিয়ে প্রিয়নবীর (সা.) ভাষণ
মাহে রমজানকে স্বাগতম জানিয়ে মহানবী হযরত মুহম্মদ মোস্তফা (সা.) বিশ্ববাসীর উদ্দেশ্যে যে ঐতিহাসিক ভাষণ প্রদান করেন বিশুদ্ধ হাদিসের কিতাবে তা সংগৃহীত রয়েছে খুব নিখুঁতভাবে। পাঠকদের জন্য মাহে রমজানকে স্বাগত জানিয়ে মহানবী (সা.) এর ঐতিহাসিক ভাষণটি হুবহু তুলে ধরা হলো।
বিশিষ্ট সাহাবি হযরত সালমান ফারসি (রা.) হুজুর (সা.) এর ভাষণটি বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, একবার শাবান মাসের শেষ দিন রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের উদ্দেশ্য এক গুরুগম্ভীর ভাষণ প্রদান করলেন। ওই ভাষণে প্রিয়নবী (সা.) বলেন, হে লোক সকল! তোমাদের উপরে এক মহান মাস! এক কল্যাণময় মাস! ছায়া বিস্তার করছে। এটা এমন এক মাস, যাতে এমন একটি রাত রয়েছে, যা হাজার মাস অপেক্ষা অধিক উত্তম। আল্লাহ তায়ালা তোমাদের জন্য এ মাসের রোজাকে ফরজ করেছেন এবং রাতে (সালাতুত তারাবি) নামাজ পড়াকে নফল করেছেন। যে ব্যক্তি এ মাসে আল্লাহর নৈকট্য লাভের আশায় একটি সুন্নাত বা নফল কাজ করবে, আল্লাহ তাকে অন্য মাসে একটি ফরজ আদায় করার সমান সওয়াব দান করবেন। আর যে ব্যক্তি এ মাসে একটি ফরজ পালন করবেন, অন্য মাসে সত্তরটি ফরজ পালনের সওয়াব তার আমলনামায় আল্লাহতায়ালা লিখে দিবেন।
এটা পরস্পরিক সহানুভূতির মাস। এটা ঐ মাস যাতে মুমিন ব্যক্তির রিজিক বাড়িয়ে দেওয়া হয়। এ মাসে যে ব্যক্তি একজন রোজাদারকে ইফতার করাবে এটা তার পক্ষে তার গুনাহ সমূহের জন্য ক্ষমা স্বরুপ হবে এবং তার নিজেকে জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তির কারণ হবে। আর তাকে রোজাদারের সমান সাওয়াব দান করা হবে এতে তার সাওয়াব হতে কিছুই কমানো হবেনা।
হাদীস বর্ণনাকারী বলেন, আমরা বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমাদের প্রত্যেক ব্যক্তি এমন সামর্থ রাখে না যা দ্বারা রোজাদারকে ইফতার করাতে পারে। তখন রাসূল (সা.) বললেন, আল্লাহ তায়ালা এ সাওয়াব ঐ ব্যক্তিকেও দান করবেন যে কোন রোজাদারকে এক ঢোক দুধ দ্বারা, একটি খেজুর দ্বারা অথবা এক ঢোক পানি দ্বারা ইফতার করাবে। যে ব্যক্তি কোন রোজাদারকে পরিতৃপ্তির সাথে ভোজন করায় আল্লাহ তায়ালা তাকে হাউজ কাউসার হতে পানীয় পান করাবেন। ফলে জান্নাতে প্রবেশ করা পর্যন্ত সে কখনো তৃষ্ণার্ত হবে না। এটা এমন একটি মাস যার প্রথম অংশ রহমত, মধ্য অংশ ক্ষমা আর শেষ অংশ জাহান্নাম হতে মুক্তি লাভের মাস। যে ব্যক্তি এ মাসে নিজের অধিনন্তদের কর্মভার হালকা করে দিবে আল্লাহ তায়ালা তাকে ক্ষমা করে দিবেন এবং তাকে জাহান্নাম হতে মুক্তি দান করবেন। (বায়হাকি শরিফ এবং মিশকাতুল মাসাবিহ, হাদিস নম্বর : ১৮৬৮।)
এ হাদিসে প্রিয়নবী (সা.) রমজানের মাহাত্ম্য সম্পর্কে বলেছেন যেনো তার উম্মত রোজা সম্পর্কে আরো বেশি আগ্রহী এবং উদ্যমী হয়। আমরা যেনো বেশি বেশি সুন্নাত-নফল এবং ফরজ ইবাদত করে মহান আল্লাহ তায়ালার নৈকট্য হাসিল করতে পারি- এ বিষয়ে আমাদের আরো বেশি যত্মশীল হতে হবে। আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে মাহের রমজানের পূর্ণ ফয়েজ এবং বরকত দান করুন।মানবতার মুক্তির দূত মহানবী (সা.) যেভাবে রোজা পালন করেছেন, তার উম্মতদেরও সেভাবেই রোজা পালন করতে হবে। তাই প্রতিটি মুসলমানকে জেনে রাখা দরকার কীভাবে হুজুর (সা.) রোজা পালন করেছেন। রাসুল (সা.) রমজানের জন্য দুমাস আগ থেকেই প্রস্তুতি নিতেন। রজবের চাঁদ দেখে তিনি বারবার রমজান পর্যন্ত পৌঁছার দোয়া করতেন। হজরত আনাস ইবনে মালেক (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রজব মাস শুরু হলে রাসুল (সা.) এই দোয়া পড়তেন- ‘হে আল্লাহ আমাদের জন্য রজব ও শাবান মাসকে বরকতময় করে দিন। আর আমাদের রমজান মাস পর্যন্ত পৌঁছে দিন।’ (নাসায়ি)। রমজানের প্রস্তুতির জন্য শাবান থেকেই নফল রোজা শুরু করতেন প্রিয়নবী (সা.)।
রমজানের ঠিক আগে আগেই রাসুল (সা.) রমজানের ফজিলত এবং বরকত সম্পর্কে সাহাবিদের জানিয়ে দিতেন। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘রমজান বরকতময় মাস। এ মাসে শয়তানকে শৃঙ্খলাবদ্ধ করা হয়। আকাশের দরজাসমূহ খুলে দেওয়া হয়। জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়। এ মাসে এমন একটি মহিমান্বিত রাত রয়েছে (লাইলাতুল কদর), যা হাজার মাসের চেয়েও শ্রেষ্ঠ।’ মুসলিম
রাসুল (সা.) চাঁদ দেখে রোজা শুরু করতেন। তিনি (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘তোমরা চাঁদ দেখে রোজা রাখো এবং চাঁদ দেখেই রোজা ছাড়ো। বোখারি
জাঁকজমকহীন রোজা পালন করতেন রাসুল (সা.)। নবীজি (সা.)-এর সাহরি ও ইফতার ছিল সাধারণের চেয়েও সাধারণ। হজরত আনাস (রা.) বলেন, ‘রাসুল (সা.) কয়েকটি ভেজা খেজুর দিয়ে ইফতার করতেন। ভেজা খেজুর না থাকলে শুকনো খেজুর দিয়ে ইফতার করতেন। ভেজা কিংবা শুকনো খেজুর কোনোটাই না পেলে কয়েক ঢোক পানিই হতো তার ইফতার।’ তিরমিজি ইফতারে দেরি করা তিনি পছন্দ করতেন না। তেমনিভাবে রাসুল (সা.)-এর সাহরিও ছিল খুব সাধারণ। তিনি (সা.) দেরি করে একেবারে শেষ সময়ে সাহরি খেতেন। সাহরিতে তিনি দুধ ও খেজুর পছন্দ করতেন।
রমজানে রাসুল (সা.)-এর ইবাদতের পরিমাণ বেড়ে যেত। বোখারির বর্ণনা অনুযায়ী তিনি (সা.) প্রবাহিত বাতাসের মতো দান করতেন। রমজানে রাসুল (সা.) জিবরাইল (আ.)-কে কোরআন শোনাতেন। আবার জিবরাইল (আ.) হজরত (সা.)-কে কোরআন শোনাতেন। রমজানের রাতে তিনি (সা.) খুব কম সময় বিশ্রাম নিয়ে বাকি সময় নফল নামাজে কাটিয়ে দিতেন। রাসুল (সা.) সাহাবিদের নিয়ে ২০ রাকাত সালাতুত তারাবি পড়েছেন। তারাবি পড়া সুন্নত। ৮ রাকাত ২৯ রাকাত- এ বিষয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা হারাম। সমাজে ফিতনা সৃষ্টি করার অধিকার আমাদের কারো নেই।
শেষ দশ দিন ইতিকাফ করা রাসুল (সা.)-এর নিয়মিত সুন্নত ছিল। ইতিকাফে কদরের রাত তালাশ করাই মূল উদ্দেশ্য। অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও সত্য, শেষ দশকে আমাদের মসজিদগুলো মুসল্লিশূন্য থাকে। রাসুল (সা.) শাওয়ালের চাঁদ দেখে রোজা ছাড়তেন। একাধিক হাদিস শরিফ থেকে জানা যায়, শাওয়ালের পহেলা রাত খুবই বরকতময়। এ রাতে রাসুল এবং সাহাবিরা ইবাদত-বন্দেগি করে কাটিয়ে দিতেন। আমাদেরও উচিত ইবাদতময় জীবন গড়ে তোলা।
মাহে রমজানকে স্বাগতম জানিয়ে মহানবী হজরত মুহাম্মদ মোস্তফা (সা.) বিশ্ববাসীর উদ্দেশে যে ঐতিহাসিক ভাষণ প্রদান করেন। বিশিষ্ট সাহাবি হজরত সালমান ফারসি (রা.) হুজুর (সা.)-এর ভাষণটি বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, একবার শাবান মাসের শেষ দিন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের উদ্দেশে এক গুরুগম্ভীর ভাষণ প্রদান করলেন। ওই ভাষণে প্রিয়নবী (সা.) বলেন, হে লোক সকল! তোমাদের ওপরে এক মহান মাস! এক কল্যাণময় মাস! ছায়া বিস্তার করছে। এটা এমন এক মাস, যাতে এমন একটি রাত রয়েছে, যা হাজার মাস অপেক্ষা অধিক উত্তম। আল্লাহতায়ালা তোমাদের জন্য এ মাসের রোজাকে ফরজ করেছেন এবং রাতে (সালাতুত তারাবি) নামাজ পড়াকে নফল করেছেন। যে ব্যক্তি এ মাসে আল্লাহর নৈকট্য লাভের আশায় একটি সুন্নত বা নফল কাজ করবে, আল্লাহ তাকে অন্য মাসে একটি ফরজ আদায় করার সমান সাওয়াব দান করবেন। আর যে ব্যক্তি এ মাসে একটি ফরজ পালন করবেন, অন্য মাসে সত্তরটি ফরজ পালনের সওয়াব তার আমলনামায় আল্লাহতায়ালা লিখে দেবেন।
এটা পারস্পরিক সহানুভূতির মাস। এটা ওই মাস যাতে মুমিন ব্যক্তির রিজিক বাড়িয়ে দেওয়া হয়। এ মাসে যে ব্যক্তি একজন রোজাদারকে ইফতার করাবে এটা তার পক্ষে তার গুনাহসমূহের জন্য ক্ষমাস্বরূপ হবে এবং তার নিজেকে জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তির কারণ হবে। আর তাকে রোজাদারের সমান সাওয়াব দান করা হবে, এতে তার সাওয়াব থেকে কিছুই কমানো হবে না।
প্রিয়নবী (সা.) রমজানের মাহাত্ম্য সম্পর্কে বলেছেন, যেন তার উম্মত রোজা সম্পর্কে আরো বেশি আগ্রহী এবং উদ্যমী হয়। তাই আসুন, পবিত্র রমজান মাসে আমরা যেন বেশি বেশি সুন্নাত-নফল এবং ফরজ ইবাদত করে মহান আল্লাহতায়ালার নৈকট্য হাসিল করতে পারি- এ বিষয়ে আমাদের আরো বেশি যত্নশীল হতে হবে। আল্লাহতায়ালা আমাদের সবাইকে মাহে রমজানের পূর্ণ ফয়েজ এবং বরকত দান করুন। আমিন।সাহরি খাওয়া সুন্নত। রোজা রাখার উদ্দেশ্যে শেষরাতে ঊষা উদয়ের আগে যে পানাহার করা হয়, তা-ই সাহরি। আল্লাহর রাসুল (স.) সাহরি খাওয়ার জন্য উম্মতকে উদ্বুদ্ধ করেছেন। বলেছেন, ‘তোমরা সাহরি খাও। কেননা, সাহরিতে বরকত রয়েছে।’ (সহিহ মুসলিম: ১/৩৫০)
নবীজি আরও বলেছেন, ‘আমাদের রোজা ও আহলে কিতাবের রোজার মধ্যে পার্থক্য হলো সাহরি খাওয়া।’ (মুসলিম: ১০৯৬; আবু দাউদ: ২৩৪৩)
প্রিয়নবীজির সাহরিতে বিশেষ কোনো আয়োজন ছিল না। সাধারণ খাবারই গ্রহণ করতেন তিনি। আরবের সাধারণ খাবার ছিল খেজুর। সেই খেজুর ও পানি দিয়েই সাহরি সম্পন্ন করতেন নবীজি। আর নবীজির অনুসরণে সেটিই উম্মতের জন্য সর্বোৎকৃষ্ট সাহরি। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেন, মহানবী (স.) বলেন, ‘খেজুর কতই না উত্তম সাহরি!’ (আবু দাউদ: ২৩৪৫
খেজুর আমাদের দেশে বেশ পরিচিত ও সুস্বাদু একটি ফল। প্রচুর ভিটামিন এবং মিনারেলস যেমন কপার, ম্যাগনেসিয়াম, ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, আয়রন ইত্যাদি উপাদানসমৃদ্ধ এই খেজুর শরীরের জন্য অনেক উপকারী। চিকিৎসকরা বলেন, শুধু রমজান মাস নয়, সারাবছরই খাদ্যতালিকায় খেজুর রাখা যেতে পারে।
রাসুলুল্লাহ (স.) সাহরির সঙ্গে সারিদের উল্লেখ করেছেন অন্য হাদিসে। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন- السحور بركة والثريد بركة والجماعة بركة ‘সাহরি বরকতময়, সারিদ (গোশতের ঝোলে ভেজানো রুটি) বরকতময়, জামাতে নামাজ আদায় করা বরকতময়।’ (কানজুল উম্মাল: ২৩৯৭৭)
সাহরি পেট ভরে খাওয়া জরুরি নয়, এক ঢোক পানি পান করলেও সাহরির সুন্নত আদায় হয়ে যায়। এ প্রসঙ্গে রাসুলুল্লাহ (স.) ইরশাদ করেছেন, ‘এক ঢোক পানি দিয়ে হলেও সাহরি করো। কারণ যারা সাহরি খায়, আল্লাহ তাআলা তাদের উপর রহমত বর্ষণ করেন এবং ফেরেশতারা তাদের জন্য রহমতের দোয়া করেন।’ (মুসনাদে আহমদ: ৩/১২; মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা: ৯০১০; সহিহ ইবনে হিববান: ৩৪৭৬)
উদরপূর্তি করে সাহরি খেলে ইবাদতে আলস্য আসতে পারে এবং পেট খারাপ হওয়ার আশঙ্কা আছে। তাই উম্মতের জন্য খেজুর না থাকলে সাধারণ খাবার পরিমাণমতো খাওয়া ভালো। আবার সাহরি  না খাওয়াও ঠিক নয়। এতে ক্ষুধা লাগবে এবং সাহরির বরকত থেকে বঞ্চিত হতে হবে।
সুবহে সাদিকের আগে রাতের শেষ ভাগে সাহরি খাওয়া উত্তম। বিখ্যাত সাহাবি জায়েদ বিন সাবিত (রা.)  বলেন, আমরা আল্লাহর রাসুল (স.)-এর সঙ্গে সাহরি খাই, এরপর তিনি সালাতের জন্য দাঁড়ান। বর্ণনাকারী বলেন, আমি জিজ্ঞেস করলাম, ফজরের আজান ও সাহরির মাঝে কতটুকু ব্যবধান ছিল? তিনি বললেন, পঞ্চাশ আয়াত (পাঠ করা) পরিমাণ। (বুখারি: ১৯২১)
অন্য হাদিসে রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘সকল নবীকে সময় হওয়ার পরপরই (তাড়াতাড়ি) ইফতার করতে এবং শেষ সময়ে সাহরি খেতে আদেশ করা হয়েছে।’ (আলমুজামুল আওসাত: ২/৫২৬; মাজমাউজ জাওয়ায়েদ: ৩/৩৬৮) তবে খেয়াল রাখতে হবে, বিলম্ব করতে গিয়ে যেন সাহরির সময় পার না হয়ে যায়।
আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে পবিত্র রমজানের প্রত্যেকটি বিষয়ে যথাযথ সুন্নাহ অনুসরণের তাওফিক দান করুন। আমিন।

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত -২০২৫, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট