
দশমিনা(পটুয়াখালী)প্রতিনিধি : পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলায় উদ্যোক্তা নারী কিষানী ছালেহা বেগমের কৃষি খামারে বিভিন্ন প্রজাতির রঙিন ফুলকপি ব্যাপক ফলন হয়েছে। উপজেলার বহরমপুর ইউনিয়নের দক্ষিন আদমপুর গ্রামের সফল কৃষক সুলতান সরদার ও তার স্ত্রী ছালেহার যৌথ কৃষি খামারে কৃষক পর্যায়ে রঙিন ফুলকপি চাষ করে ব্যাপক ফলন পেয়েছে। উপজেলায় প্রথম রঙ্গিন ফুলকপি চাষ করে তারা এই সফলতা পেয়েছে। খামারের এক পাশের জমিতে হলুদ প্রজাতির ফুলকপি বাম্পার ফলন হয়েছে। খামারে রঙিন ফুলকপি চাষ করে সবাইকে তাক লাগিয়ে কৃষিতে সবুজ বিপ্লব ঘটিয়েছে। কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের বরিশাল অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক কৃষিবিদ ড.মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম সিকদার,আঞ্চলিক প্রকল্প কর্মকর্তা কৃষিবিদ রিফাত সিকদার, তেল জাতীয় ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি প্রকল্পের মনিটরিং অফিসার কৃষিবিদ আলী আজিম শরীফ ও জেলা ডিএই’র অতিরিক্ত উপপরিচালক (শস্য) কৃষিবিদ শাহাদাত হোসেন সবজি ফসলের জমি পরিদর্শন করে কৃষক-কিষানীদেরকে প্রশংসা করেছেন।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের এসএসিপি-রেইনস প্রকল্পের আওতায় কৃষক সুলতান সরদার খামারের এক পাশের জমিতে রঙ্গিন ফুলকপি ও অন্য পাশের জমিতে ব্রকলির চাষ করেন। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শে জমিতে রঙ্গিন ফুলকপি চাষ করে বাম্পার ফলন পেয়েছে। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের পরামর্শে কৃষক সুলতান মিশ্র পদ্ধতিতে সবজি চাষ করতে আগ্রহী হয়। তার খামারে এখনও রঙ্গিন ফুলকপি শোভা পাচ্ছে। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের এসএসিপি-রেইনস প্রকল্পের আওতায় কৃষক সুলতান সরদার রঙ্গিন ফুলকপি চাষ করতে শুরু করেন। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শে ব্রকলি ও ফুলকপির চাষ করেন। রঙ্গিন ফুলকপি ও ব্রকলি চাষ করা সহজ ও ব্যয়ের চেয়ে লাভ বেশী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের ক্ষুদ্র এবং প্রান্তিক কৃষকদেরকে এই সবজি চাষাবাদের জন্য বলা হয়েছে। জমিতে রঙ্গিন ফুলকপি ও ব্রকলি চাষ করে কৃষকরা আর্থিক ভাবে লাভবান হবে। চলতি মৌসুমে কৃষক সুলতান রঙ্গিন ফুলকপি চাষ করেই বাজিমাত করেছে। তার খামারে নানা জাতের শাকসবজি চাষের সাথে রঙ্গিন ফুলকপির চাষ করে সবাইকে তাক লাগিয়ে সবুজ বিপ্লব ঘটানোর চিন্তা করছে। উপজেলায় এই প্রথম কৃষক পর্যায়ে রঙ্গিন ফুলকপির চাষ করা হয়। কিষানী ছালেহার প্রদর্শনী খামারে সারি সারি রঙ্গিন হলুদাভ ও বেগুনী ফুলকপি ও ব্রকলি শোভা পাচ্ছে। খামারে ফলন দেখে এলাকার সকলেই রীতিমত অবাক হয়ে গেছে। কম জমিতে উন্নত জাতের চারা রোপন করার পর একটু পরিচর্যা করলেই ভাল ফলন পাওয়া যায়। তার খামারে রঙ্গিন হলুদাভ ও বেগুনী ফুলকপির বাম্পার ফলন হয়েছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. জাফর আহমেদ এই প্রতিনিধিকে জানান, উদ্যোক্তা নারী কিষানী ছালেহা বেগম ২ বিঘা জমিতে রঙ্গিন ফুলকপি চাষ করে বাম্পার ফলন পেয়েছে। তার সফলতায় উপজেলার অন্যান্য কৃষক এই ফুলকপি চাষ করতে উৎসাহিত হচ্ছে।