
কালিয়া প্রতিনিধি : নড়াইলের কালিয়া উপজেলার নড়াগাতী এলাকায় মশার উপদ্রব আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। উপজেলার কলাবাড়িয়া, বাঐশোনা, জয়নগর, মাউলী, খাশিয়াল ও পহরডাঙ্গা ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম ও মহল্লায় মশার যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। দিন দিন পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, সন্ধ্যার পর তো বটেই—দিনের বেলাতেও মশার আক্রমণে স্বাভাবিক জীবনযাপন কঠিন হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আগে সাধারণত সন্ধ্যার পর মশার উপদ্রব বেশি দেখা যেত। কিন্তু বর্তমানে সকাল, দুপুর এমনকি দিনের ব্যস্ত সময়েও মশার উপদ্রব দেখা যাচ্ছে। ঘরের ভেতর-বাইরে কোথাও যেন স্বস্তি নেই। অনেকেই বাধ্য হয়ে সারাক্ষণ মশারি, কয়েল ও স্প্রে ব্যবহার করছেন। তবুও পুরোপুরি রক্ষা পাওয়া যাচ্ছে না।
স্থানীয় দোকানদার কবির সরদার বলেন, “আগে সন্ধ্যার পরে মশার উপদ্রব বেশি থাকলেও এখন দিনের বেলাতেও মশার আক্রমণ বেড়ে গেছে। দোকানে বসে থাকা দায় হয়ে পড়েছে। অনেক সময় ক্রেতারাও বিরক্ত হয়ে দ্রুত চলে যান। এতে আমাদের ব্যবসার ওপরও প্রভাব পড়ছে।”
এলাকাবাসীর অভিযোগ, নড়াগাতী এলাকার বিভিন্ন খাল, খানা-খন্দ, ডোবা এবং নিচু স্থানে দীর্ঘদিন ধরে পানি জমে রয়েছে। এসব জায়গা নিয়মিত পরিষ্কার না করায় সেখানে মশার বংশবিস্তার দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এছাড়া অনেক স্থানে অপরিষ্কার ও নোংরা পরিবেশ, আবর্জনার স্তূপ এবং বন্ধ হয়ে থাকা ড্রেন মশা জন্মানোর জন্য উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করেছে।
স্থানীয়রা জানান, বর্ষা মৌসুমের পরও অনেক স্থানে পানি জমে থাকে এবং ড্রেনেজ ব্যবস্থা দুর্বল হওয়ায় পানি সহজে নিষ্কাশন হয় না। ফলে এসব স্থানে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা পানিতে মশা জন্ম নিচ্ছে এবং আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে। এ কারণে শিশু ও বৃদ্ধরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।
অভিভাবকরা জানান, শিশুদের মশার কামড় থেকে রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেক সময় মশার কামড়ে শিশুদের শরীরে ফুসকুড়ি, চুলকানি ও অস্বস্তি দেখা দিচ্ছে। একইভাবে বয়স্ক ব্যক্তিরাও মশার উপদ্রবে রাতের ঘুম হারাম হয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেছেন।
এলাকাবাসী আরও বলেন, নড়াগাতী এলাকায় নিয়মিত মশা নিধন কার্যক্রম না থাকায় পরিস্থিতি দিন দিন খারাপ হচ্ছে। স্থানীয়ভাবে কোনো কার্যকর উদ্যোগ না থাকায় মানুষ নিজ উদ্যোগে কয়েল, স্প্রে ও মশারি ব্যবহার করেই মশার সঙ্গে লড়াই করছেন।
পহরডাঙ্গা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মল্লিক মাহমুদুল ইসলাম বলেন, “মশার উপদ্রব সত্যিই উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। দ্রুত খাল-ডোবা পরিষ্কার করা, জমে থাকা পানি অপসারণ এবং নিয়মিত মশা নিধন কার্যক্রম চালু করা জরুরি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সহযোগিতা প্রয়োজন।”
তিনি আরও বলেন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও সচেতন হতে হবে। আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখা, কোথাও পানি জমে থাকতে না দেওয়া এবং নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালালে মশার উপদ্রব অনেকটাই কমানো সম্ভব।
এদিকে এলাকাবাসীর আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে মশার মাধ্যমে ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া ও ম্যালেরিয়ার মতো রোগ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় দ্রুত খাল-ডোবা পরিষ্কার, ড্রেনেজ ব্যবস্থা উন্নত করা এবং নিয়মিত মশা নিধন কার্যক্রম চালুর জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন নড়াগাতীর সচেতন মহল।
Like this:
Like Loading...
Related