
ডেস্ক রিপোর্ট : খুলনায় অভিভাবকদের মাঝে হাম আতংক কাটছেই না| শিশুদের কোন ভাবে জ্বর সর্দি কাশি হলেই তারা শিশুদের নিয়ে বিচলিত হয়ে পড়ছেন| ছুটছেন শিশু হাসপাতালে| প্রতিদিন বহি:র্বিভাগে সাত শতাধিক শিশু চিকিৎসা গ্রহণ করছে| ২৬৫ শয্যার এ হাসপতালটিতে কোন বেড খালি নেই| বহু অভিভাবক শিশুদের ভর্তি করতে না পেরে ফিরে যাচ্ছেন| অনেকে অপেক্ষায় থাকছেন কখন বেড ফাঁকা হয়|
অন্যদিকে আবহাওয়ার পরিবর্তন শুরু হওয়ায় দিনের বেলা অতিরিক্ত গরম এবং রাতের শেষাংশে ঠান্ডার কারণে শিশু রোগীর সংখ্যা বেড়েই চলেছে| দিনের বেলা তাপমাত্রা ৩৩ দশমিক ৪ ডিগ্রী সে: থাকলে সন্ধ্যায় নেমে আসে ২৮.২৯ ডিগ্রী সে:| আবহাওয়ার এ খামখেয়ালীতে খুলনা শিশু হাসপাতালে জ্বর, সর্দি, কাশি ও নিউমোনিয়া জনিত রোগে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা বেড়েই চলেছে| গত ৪৫ দিনে এ হাসপাতালে সর্দি, জ্বর ও নিউমোনিয়া রোগে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয় ৫০৪ জন শিশু| রোগীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় চিকিৎসা দিতে হিমসিম খাচ্ছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ| অনেক শিশুকে ভর্তী করতে না পেরে অভিভাবকরা হাহাকার করছেন|
এদিকে খুলনা আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আমিরুল আজাদ বলেন, দিনের বেলা তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেয়ে সন্ধ্যায় প্রায় গড়ে ৫ ডিগ্রী সে: কমে আসে| ঘন্টায় ঘন্টায় তাপমাত্রা ওঠানামা করছে|
খুলনা শিশু হাসপাতালের দেয়া সূত্রমতে, চলতি বছরের এপ্রিল থেকে ৬ মে পর্যন্ত জ্বর, সর্দি-কাশি ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ভর্তির সংখ্যা ৫০৪ জন|
শিশু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, দিনের বেলা গরমের তিব্রতা ও রাতের বেলায় ঠান্ডার কারণে এবসব রোগ বেড়েই চলেছে| প্রতিদিন এ হাসপাতালে মায়েরা ৬শ’ থেকে ৭শ’ শিশুকে চিকিৎসা করাতে নিয়ে আসেন| তাদের মধ্যে নিউমোনিয়া ও সর্দি জ্বরে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যাই বেশী| রোগীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় বেড ¯^ল্পতার কারণে অনেক শিশুকে ভর্তি করাতে পারছেন না| অনেক অভিভাবক তাদের শিশুকে অন্য হাসপাতালে সাময়িক ভাবে চিকিৎসা দিতে নিলেও শিশু হাসপাতালে ভার্তির জন্য খোঁজ খবর রাখেন| বেড খালি পেলেই শিশুকে নিয়ে আসেন|
খুলনা শিশু হাসপাতালের সিনিয়র কনসালট্যান্ট ও তত্বাবধায়ক ডা: প্রদীপ দেবনাথ বলেন, শিশু হাসপাতালে ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া ও সর্দিজ্বরে আক্রান্ত রোগী বেশী আসছে| প্রতিদিন আউটডোরে ৬শ’ থেকে ৭শ’ শিশুকে তাদের অভিভাবকরা নিয়ে এসে চিকিৎসা নিচ্ছেন| অনেক শিশুকে ভর্তির দরকার হলেও বেড ¯^ল্পতার কারণে তা সম্ভব হয়ে উঠছে না| পাশাপাশি রয়েছে অক্রিজেন সংকট| গত ২৫ দিন ধরে রোগীর চাপের এমন পরিস্থিতি চলছে| তিনি বলেন, খুলনার মানুষের কাছে হাসপাতালটি আস্থার স্থলে পরিণত হওয়ায় আগের চেয়ে অনেক বেশী অভিভাবক তাদের শিশুকে চিকিৎসা দিতে নিয়ে আসছেন| তিনি বলেন ৬ মাসের কম বয়সি বাচ্চাদের বুকের দুধ খাওয়ানো কোন ভাবেই বন্ধ করা যাবে না| বিশুদ্ধ পানি বেশী করে পান কারাতে হবে| জ্বর হলে ঘাম শুকিয়ে যাবার আগে মুছে দিতে হবে| চিকিৎসকদের পরামর্শ নিতে হবে|