
মানছুর রহমান জাহিদ, পাইকগাছা : খুলনার পাইকগাছায় শারদীয় দুর্গা পূজার প্রতিমা তৈরি শেষে রং তুলিতে ব্যস্ত সময় পার করছে কারিগররা।
আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হবে সনাতন হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। আর এ উপলক্ষে ইতোমধ্যে প্রতিমা তৈরি শেষে রং তুলিতে ব্যস্ততা বেড়েছে পাইকগাছার উপজেলার প্রতিমা শিল্পীদের। তাদের দিন রাতের পরিশ্রমে গড়া তোলা হয়েছে দেবী দুর্গার প্রতিমা।
এদিকে মুগ্ধ ভক্তরা আবার এই শিল্পীদের যাতে খোঁজেন, সুনাম হয় এবং দেবী প্রসন্ন হন সে আখাংখা থেকে সর্বত্মক প্রচেষ্টায় ব্যস্ত থাকেন শিল্পীরা।
উপজেলার বিভিন্ন পূজা মণ্ডপে সকাল হতে গভীর রাত পর্যন্ত মাটি দিয়ে প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রতিমা তৈরি কাজে ভাস্কর শিল্পীরা। এখন চলছে রং তুলিতে সাজানো। এবছর উপজেলায় ১৪৩ টি পুজা মন্দির বা মণ্ডবে শারদীয় দুর্গাপূজার প্রস্তুতি চলছে।
সরেজমিনে পূজামণ্ডপ ঘুরে দেখা গেছে, ভাস্কর বা কারিগররা প্রতিমা তৈরির কাজ শেষ করে বর্তমানে দিনরাত ব্যস্ত সময় পার করছেন সাজানোর কাজে। নিপুণ হাতের ছোঁয়ায় তৈরি হচ্ছে দেবীদুর্গা, লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক, অসুরসহ বিভিন্ন দেব-দেবীর প্রতিমা।
প্রকৃতিতে শরতের শুভ্রতার সঙ্গে আসছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা। দুর্গা আদ্যাশক্তি, মহামায়া, শিবানী, ভবানী, দশভুজা, সিংহবাহনা ইত্যাদি নামে অভিহিত হন। দুর্গ বা দুর্গম নামক দৈত্যকে বধ করেন বলে তাঁর নাম হয় দুর্গা। জীবের দুর্গতি নাশ করেন বলেও তাঁকে দুর্গা বলা হয়। ব্রহ্মার বরে পুরুষের অবধ্য মহিষাসুর নামে এক দানব স্বর্গরাজ্য দখল করলে রাজ্যহারা দেবতারা বিষ্ণুর শরণাপন্ন হন। বিষ্ণুর নির্দেশে সকল দেবতার তেজঃপুঞ্জ থেকে যে দেবীর জন্ম হয় তিনিই দুর্গা। দেবতাদের শক্তিতে শক্তিময়ী এবং বিভিন্ন অস্ত্রে সজ্জিতা হয়ে এ দেবী যুদ্ধে মহিষাসুরকে বধ করেন। তাই দেবীর এক নাম হয় মহিষমর্দিনী।
একই সঙ্গে শরতের দুর্গোৎসবকে পরিপূর্ণভাবে সাজাতে মন্দিরগুলোতে চলছে প্রস্তুতি।
পাইকগাছা উপজেলা বাংলাদেশ পুজা উদযাপন ফ্রন্টের সভাপতি সন্তোষ কুমার সরকার জানান, উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন ও ১ টি পৌরসভায় মোট ১৪৩টি মন্দিরে সর্বজনীন দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর হতে দুর্গা পূজা শুরু হবে।
জানা গেছে, পাইকগাছা পৌরসভায় ৬ টি, হরিঢালী ইউনিয়নে ১৭ টি, কপিলমুনি ইউনিয়নে ১৬ টি, লতা ইউনিয়নে ১২ টি, দেলুটি ইউনিয়নে ১৩টি, সোলাদানা ইউনিয়নে ১০ টি, লস্কর ইউনিয়নে ১৬ টি, গদাইপুর ইউনিয়নে ৭ টি, রাডুলী ইউনিয়নে ১৯ টি, চাঁদখালী ইউনিয়নে ১৫ টি ও গড়ইখালী ইউনিয়নে ১১ টি সর্বমোট ১৩০ টি মন্দিরে দুর্গা উৎসব উদযাপিত হবে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ পুজা উদযাপন পরিষদ পাইকগাছা পৌরসভা শাখার সভাপতি বাবুরাম মণ্ডল জানিয়েছেন, এ বছর দুর্গোৎসব সুষ্ঠ, সুন্দর ও শান্তিপূর্ণভাবে পালনের লক্ষে বাংলাদেশ পুজা উদযাপন কেন্দ্রীয় কমিটির, জেলা কমিটি ও প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে পাইকগাছা উপজেলা পুজা উদযাপন পরিষদের পক্ষ থেকে নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহেরা নাজনীন বলেন, দুর্গাপূজা উপলক্ষে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হবে।
Like this:
Like Loading...
Related