1. mesharulislammonir1122@gmail.com : দৈনিক সংযোগ প্রতিদিন : দৈনিক সংযোগ প্রতিদিন
  2. info@www.sangjogprotidin.com : দৈনিক সংযোগ প্রতিদিন :
বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:৪৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
দিঘলিয়ায় হযরত মুহাম্মদ (সা:) কে কটূক্তির অভিযোগে যুবককে গণপিটুনি মোরেলগঞ্জে ১০ম শ্রেনীর শিক্ষার্থীকে অপহরণের অভিযোগ পাইকগাছায় যুবকের আত্মহত্যা শ্যামনগরে স্বামীর গোপন অঙ্গ কাটার পর হাসপাতালে নিয়ে গেলেন স্ত্রী ফকিরহাটে ব্যাবসায়ীকে ছুরিকাঘাত করে টাকা ছিনতাইকালে আটক ২ মোংলায় সড়ক দুর্ঘটনায় স্কুলছাত্রী নিহতের প্রতিবাদে মানববন্ধন কালিয়ায় ছাত্রশিবিরের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের জন্য হেল্পডেস্ক জ্বালানির দামের সঙ্গে পণ্যের দামের সমš^য় করা হবে : প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ক্যানসার হাসপাতালের উপ-পরিচালককে ছুরিকাঘাতের ঘটনায় গ্রেফতার ৫ সরকার ভুল পথে গেলে সোচ্চার হবেন নারী এমপিরাও: হামিদুর রহমান আযাদ

দুধ উৎপাদনে দ্বিতীয় স্থান হারাতে পারে সাতক্ষীরা

  • প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৫
  • ১০৯ বার পড়া হয়েছে

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি : সাতক্ষীরায় উৎপাদিত তরল দুধে চাহিদা মিটছে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের। প্রতিদিন গড়ে এক লাখ লিটার তরল দুধ উৎপাদন হচ্ছে উপকূলীয় এই জেলায়। তবে গো-খাদ্যের দামের তুলনায় দুধের দাম নিয়ে সন্তুষ্ট নন এখানকার খামারিরা। তারা বলছেন, আগের মতো দুধের চাহিদা নেই। মূলত চিনির মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে। আগের দিনে দুধ-চিনির মিশ্রণে নানা রকমের মিষ্টি তৈরি হলেও এখন সেটা হয় না। চিনির মূল্যবৃদ্ধির ফলে মিষ্টির কারখানায় দুধের চাহিদাও কমেছে।
তাদের দাবি, দুধের ন্যায্যমূল্য না পেয়ে বর্তমানে অনেক খামারি পশুর সংখ্যা কমিয়ে দিয়েছেন। এভাবে চলতে থাকলে আগামীতে দেশে তরল দুধ উৎপাদনে দ্বিতীয় অবস্থান হারাতে পারে সাতক্ষীরা বলে শঙ্কা তাদের।
সাতক্ষীরা জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরে জেলার সাতটি উপজেলায় গরুর দুধ উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৯০ হাজার টন। প্রতিদিন এক লাখ লিটার দুধ উৎপাদন হয় এ জেলায়। যার স্থানীয় চাহিদা ১৪ হাজার লিটার। বাকি দুধ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করা হয়। যার গড় বাজারমূল্য ৯১২ কোটি টাকারও বেশি।
জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর বলছে, সাতক্ষীরায় তিন হাজারের বেশি ছোট-বড় দুধের খামার রয়েছে। এর মধ্যে সরকারের নিবন্ধিত খামার ২ হাজার ৫০০টি। এসব খামারের উৎপাদিত দুধ দিয়ে ঘি, মাঠা ছাড়াও বিভিন্ন ধরনের মিষ্টান্ন তৈরি হয়। আর এই ডেইরি শিল্পে কর্মসংস্থান হয়েছে জেলার কমপক্ষে ৭০ হাজার মানুষের।
সাতক্ষীরা সদরের ঘোষপাড়া এলাকার বাসিন্দা উত্তম ঘোষ জানান, গত বছর তার খামারে গরু ছিল ২০টি। বর্তমানে গরু আছে মাত্র ৯টি। গরু কমে যাওয়ার কারণ হিসেবে গো-খাদ্যর মূল্যবৃদ্ধি ও দুধের ন্যায্যমূল্য না পাওয়াকে দায়ী করেন তিনি।
উত্তম ঘোষের ভাষ্য, ‘এখানে খুচরা পর্যায়ে প্রতি লিটার দুধ বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকায়। কিন্তু আমরা খামার থেকে বিক্রি করছি মাত্র ৪২ টাকায়। বিভিন্ন কোম্পানির কাছে বিক্রি করলে তারা দাম দেয় ৪৬-৪৮ টাকা। প্রতিদিন যে পরিমাণ দুধ উৎপাদন হয়, তা দিয়ে খামার পরিচালনা করা কঠিন।’
পুরোনো সাতক্ষীরা এলাকার খামারি ওমর আলী জানান, তার খামারে পাঁচটি বিদেশি জাতের গরু রয়েছে। তবে বর্তমানে যেভাবে গো-খাদ্যের (খৈল, ভুসি ও বিচলি) দাম বেড়েছে, তাতে খামার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, সরকারিভাবে কোনো সহযোগিতা পান না তিনি। তার ওপর গো-খাদ্যের দামের তুলনায় দুধের ন্যায্যমূল্য না পাওয়াতে এখন খামার বন্ধের উপক্রম হয়েছে।
তালা উপজেলার জেয়ালা গ্রামের দুগ্ধ খামারি সমিতির সভাপতি দিবস চন্দ্র জানান, ৩৫ বছর ধরে গরু লালন-পালন করছেন তিনি। বর্তমানে তার খামারে ফ্রিজিয়ান, জার্সি ও হাইয়াল জাতের গাভি রয়েছে ৪৫টি, যা থেকে গড়ে প্রতিদিন প্রায় ৫০০ লিটার দুধ উৎপাদন হয়। তবে বর্তমানে গো-খাদ্যের দাম বাড়ার কারণে খামার পরিচালনা করতে গিয়ে লোকসান দিতে হচ্ছে তাকে।
খামারি দিবস চন্দ্র বলেন, ‘বর্তমানে এক কেজি সয়াবিন খৈল কিনতে খরচ হয় ৮০-১০০ টাকা। এ ছাড়া ভুট্টা বা গমের ভুসি কেজিপ্রতি ৬০-৮০ টাকা পর্যন্ত। বর্তমানে প্রতি লিটার দুধ বিক্রি হচ্ছে ৪৮-৫০ টাকা। এতে কোনো রকম খরচটা উঠলেও পরিশ্রমটা ব্যর্থ।’
দুধের ন্যায্যমূল্য না পাওয়া প্রসঙ্গে তিনি জানান, করোনার আগে মিষ্টির কারখানায় দুধের চাহিদা ছিল। কিন্তু চিনির দাম বাড়ায় সেটি এখন কমেছে। কিছু প্রতিষ্ঠান তাদের কাছ থেকে দুধ কিনে শুধু ঘি তৈরি করছেন। এতে করে অনেক খামারি দুধের ন্যায্যমূল্য না পেয়ে পশুর সংখ্যা কমিয়ে দিয়েছেন। আর এভাবে চলতে থাকলে সাতক্ষীরা দেশের তরল দুধ উৎপাদনে দ্বিতীয় অবস্থানও হারাতে পারে বলে মন্তব্য করেন।
সাতক্ষীরা বিসিক এলাকায় মিল্ক ভিটার চিলিং সেন্টারে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপক নভেল আক্তার বলেন, ‘সাতক্ষীরায় মিল্ক ভিটার তিনটি দুধ সংগ্রহ কেন্দ্র রয়েছে। এসব কেন্দ্র থেকে দৈনিক প্রায় ১০ হাজার লিটার তরল দুধ কেনা হয়। যার প্রতি লিটার ৪৮-৫০ টাকা দাম নির্ধারণ করা রয়েছে।’
সাতক্ষীরা জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. এস এম মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘সাতক্ষীরা দুধ উৎপাদনে সম্ভাবনাময় জেলা। বর্তমানে জেলায় দৈনিক প্রায় ১ লাখ লিটার দুধ উৎপাদন হচ্ছে, যা দেশের তরল দুধ উৎপাদনকারী জেলাগুলোর মধ্যে দ্বিতীয়। তবে এখন গো-খাদ্যের মূল্য বাড়ায় অনেকে খামার করতে আগ্রহ হারাচ্ছেন।’
গরুর দুধ কে না খেতে পছন্দ করে! মানুষের খাদ্য তালিকায় দুধ হলো অন্যতম প্রধান খাবার। সর্বোচ্চ পুষ্টিমানের জন্যই দুধের শ্রেষ্ঠত্ব। আর সেই দুধ যদি হাতের নাগালে পাওয়া যায় তাহলে বিষয়টা কতোই না স্বস্তির। এমনকি দুধের কারণে সাতক্ষীরা জেলার তালার জেয়ালা গ্রাম কে এখন বলা হয় দুধের রাজধানী।
সাতক্ষীরা জেলার তালা উপজেলার জেয়ালা গ্রামে ঘোষ স¤প্রদায়ের বসতি। একসময়ের অবহেলিত ঘোষপাড়া জনপদটি এখন দুগ্ধপল্লি নামে পরিচিতি লাভ করেছে। দুধ উৎপাদনের জন্য জাতীয়ভাবে পরপর ৪ বার পেয়েছে শ্রেষ্ঠ সমবায়ী পুরস্কার। এ গ্রামে প্রতিদিন গড়ে পঞ্চাশ থেকে ষাট হাজার লিটার দুধ উৎপাদন হয়। এসব দুধ রপ্তানি হয় রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন বাজারে। যা প্রভাব ফেলেছে এলাকার অর্থনীতিতেও। যার ফলে যুবকরাও এখন ঝুঁকছে গাভি পালনে, গড়ে তুলছেন বড় বড় খামার।
তালার আটারুই গ্রামের আবু হারেজ সরদারের ছেলে আল-আমিন সরদার দুটা গাভি নিয়ে খামার শুরু করেন ২০১০ সালে। এখন আল-আমিনের খামারে ত্রিশটি গাভি। দৈনিক খরচ বাদ দিয়েও দুধ বিক্রি করে আয় করছেন ১২শ থেকে ১৫ শ টাকা।

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত -২০২৫, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।