
ফকিরহাট প্রতিনিধি : বাগেরহাটের ফকিরহাটে হাড়কাঁপানো শীত, হিমেল বাতাস, ঘন কুয়াশায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। দেখাও মিলছে সূর্যের।
তীব্র শীতের প্রভাব পড়েছে খুলনা-মাওয়া মহাসড়কেও। কুয়াশার কারনে কয়েক হাত দূরের যানবাহনও দেখা যাচ্ছে না, ফলে অধিকাংশ যাবহন চলছে ধীর গতিতে এবং হেডলাইট জ্বালিয়ে। মহাসড়কের পাশের চায়ের দোকানগুলোতে মানুষের ভিড় থাকলেও নেই সেই চঞ্চলতা, সবাই শীতে কাঁপছে। অপরদিকে, মাঠের চিত্র আরও বেশি কষ্টদায়ক। ফকিরহাট উপজেলার বিস্তীর্ন ফসলের মাঠ এখন বোরো ধান রোপণের অপেক্ষায় উন্মুখ, কিন্তু এই কনকনে ঠান্ডায় মাঠে নামাই যেন এক দু:সাধ্য লড়াই হয়ে দাঁড়িয়েছে কৃষকদের জন্য। ঠান্ডা কাদাপানিতে নেমে চারা রোপণ করতে গিয়ে অনেকের হাত-পা অবশ হয়ে আসছে। চিকিৎসকরা এই হাড়কাঁপানো ঠান্ডায় শরীর বাঁচাতে ঘরের বাইরে বের না হওয়ার পরামর্শ দিলেও ফকিরহাটে খেটে খাওয়া মানুষের সেই সুযোগ নেই। পেটের দায়ে ভাতের সংস্থানে তারা বাধ্য হয়েই এই ঠান্ডা প্রতিকূলতার সাথে যুদ্ধ করছেন। শুধু মানুষ নয়, ঠান্ডা ও কুয়াশায় খামারিরা তাদের শেষ সম্বল গরু-ছাগলকে চটের বস্তা দিয়ে ঢেকে আর গোয়ালঘরে খড় জ্বালিয়ে উষ্ণতা দেওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা করছেন। হাঁস-মুরগরি শীতজনিত রোগ দেখা দিচ্ছে। এছাড়াও ফকিরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ওয়ার্ডগুলোতে এখন যেসব রোগী ভর্তি আছেন,তাদের অধিকাংশ শীতজনিত রোগে আক্রান্ত। শীতের প্রভাব পড়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতেও। কনকনে ঠান্ডায় শিশুরা স্কুলে যেতে চাইছে না। এদিকে সন্ধ্যার সাথে সাথে পথ-ঘাট, হাট-বাজারে জনশূন্য হয়ে পড়ছে। এই শীতে সবচেয়ে বিপাকে পড়েছেন নিম্ন আয়ের খেটে খাওয়া মানুষ। তারা একটু উষ্ণতার জন্য খড়কুটোতে আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছে।