মোংলা প্রতিনিধি : মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় বন্দরে কর্মরত শ্রমিকদের মজুরি ২৬ শতাংশ বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। এছাড়া শ্রমিকদের যাতায়াত সুবিধাসহ অন্যান্য দাবিগুলো পারস্পরিক সমঝোতার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত শ্রমিকদের কল্যাণ, নিরাপত্তা ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।
মোংলা বন্দরের কর্মরত শ্রমিকরা তাদের সংগঠন শ্রমিক কর্মচারী সংঘ (রেজি. নং খুলনা-২১৪৩)-এর মাধ্যমে মোট ১৮টি যৌক্তিক দাবি উত্থাপন করেন। এর মধ্যে কর্মঘণ্টা, মজুরি বৃদ্ধি, ভাতা, শ্রমিক কল্যাণ বোর্ডের সুবিধা, বীমা, চিকিৎসা সুবিধা ইত্যাদি অন্যতম।
বুধবার ১৪ (জানুয়ারি) বেলা ১২ টায়
এসব দাবি নিয়ে মোংলা বন্দর বার্থ ও শিপ অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন (মালিক পক্ষ) এবং শ্রমিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকগুলোতে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল শাহীন রহমান-এর সভাপতিত্বে গঠনমূলক আলোচনা হয় এবং পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে সকল দাবি নিষ্পত্তির সিদ্ধান্ত হয়।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দাবি ছিল শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধি। মালিক পক্ষ স্বাভাবিক ৮ ঘণ্টা কর্মঘণ্টার মজুরির ওপর ২৬% বৃদ্ধি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এছাড়া শ্রমিকদের বাসস্থান থেকে কর্মস্থলে যাতায়াতের বিষয়টি বিশেষ বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।
কিয়ারা লঞ্চঘাট থেকে ডিউটি শুরুর পূর্বে যাত্রা এবং ডিউটি শেষে নিরাপদে বাসস্থানে ফেরত আসার সময়কে কর্মঘণ্টার অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। একই সঙ্গে ডিউটি শেষে মালিক পক্ষ দ্রুত ও নিরাপদে কিয়ারা পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করবে। বাকি ১৬টি দাবি পর্যায়ক্রমে পারস্পরিক ঐকমত্যের ভিত্তিতে নিষ্পত্তি করা হবে। বৈঠকে মালিক পক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মোংলা বন্দর বার্থ ও শিপ অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সৈয়দ জাহিদ হোসেন, সেক্রেটারি মোঃ জুলফিকার আলী এবং শ্রমিক পক্ষের প্রতিনিধি মোঃ আলাউদ্দিন, আলী হোসেনসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
সভা শেষে মোংলা বন্দর বার্থ ও শিপ অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন এবং শ্রমিক নেতৃবৃন্দ মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান। তারা বন্দরের সার্বিক উন্নয়ন ও কার্যক্রমের গতিশীলতা বৃদ্ধিতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
এই সিদ্ধান্ত বন্দরের শ্রমিক-মালিক সম্পর্ককে আরও সুসংহত করবে এবং মোংলা বন্দরের সকল কার্যক্রমে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।
Like this:
Like Loading...
Related