1. mesharulislammonir1122@gmail.com : দৈনিক সংযোগ প্রতিদিন : দৈনিক সংযোগ প্রতিদিন
  2. info@www.sangjogprotidin.com : দৈনিক সংযোগ প্রতিদিন :
শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ১১:৫৮ অপরাহ্ন

আজ পবিত্র শবে মেরাজ

  • প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারি, ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি : পবিত্র লাইলাতুল মেরাজ বা শবে মেরাজ আজ। মেরাজের ঘটনা মহানবী হযরত মোহাম্মদ (সা.) এর জীবনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় এবং ইসলাম ধর্মের তাৎপর্যপূর্ণ এ রাতে ইবাদত-বন্দেগির মাধ্যমে পবিত্র শবে মেরাজ পালন করবেন দেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমানেরা।
এ ঘটনার মধ্য দিয়েই সালাত বা নামাজ মুসলমানদের জন্য ফরজ করা হয় এবং এ রাতেই প্রতিদিন ৫ বার নামাজ আদায় করার বিধান নিয়ে আসেন প্রিয় নবী হযরত মোহাম্মদ (সা.)।
ইসলামের ইতিহাস-অনুযায়ী মুহাম্মাদ (সা.)-এর নবুওয়াতের দশম বছরে বা ৬২১ খ্রিষ্টাব্দের এক রাতে তিনি কাবা শরিফ থেকে জেরুজালেমে অবস্থিত ‘বায়তুল মুকাদ্দাস’ বা আল-আকসা মসজিদে গমন করে নবীদের জামায়াতে ইমামতি করেন। তার মসজিদুল আকসায় গমনের এ ঘটনাকে কুরআনের ভাষায় ‘ইসরা’ বলা হয়।
সেখান থেকে তিনি ‘বুরাক’ নামক বিশেষ বাহনে আসীন হয়ে ঊর্ধ্ব আকাশে গমন করেন এবং এ ঘটনাকে ‘মেরাজ’ বলা হয়। এ সফরে তার সফরসঙ্গী ছিলেন ফেরেশতা জিবরাইল (আ.)।
জিবরাইল (আ.) তাকে ঊর্ধ্বাকাশে অবস্থিত ‘সিদরাত-আল মুনতাহা’, বেহেশতের নদী ও ফেরেশতাদের জন্য আল্লাহর নির্ধারিত ইবাদতখানা ‘বায়তুল মা’মুর’ পরিদর্শন করান। এরপর তিনি মহান আল্লাহপাকের সাক্ষাৎ লাভ করেন।
বিশেষ এ দিনটিকে মহান রাব্বুল আলামিনের রহমত কামনায় ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা মসজিদে-মসজিদে, নিজগৃহে কিংবা ইসলাম ধর্মের অনুসারীদের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কোরআনখানি, জিকির-আযগার ও ইবাদত-বন্দেগীর মধ্য দিয়ে কাটিয়ে দেন।ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও যথাযথ মর্যাদায় আজ সোমবার রাতে দেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা পবিত্র শবে মেরাজ পালন করবেন। দিন পেরিয়ে আঁধার নামলেই আবির্ভাব ঘটবে এক অলৌকিক অসামান্য মহাপুণ্যে ঘেরা রজনির। এ রজনি মহাপবিত্র মহিমান্বিত লাইলাতুল মেরাজের। পবিত্র কোরআন ও সহীহ হাদিসের বর্ণনায় মেরাজের ঘটনাটি বিশ্বাস করা প্রত্যেক মুমিনের কর্তব্য এবং এই রজনী আল্লাহর ইবাদত (নফল নামাজ, তসবিহ ও কুরআন পাঠ) ও দিনে রোজা পালনের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভ সম্ভব।
এ মহিমান্বিত রাতে আমাদের প্রিয় নবি হযরত মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হযরত জিব্রাঈল আলাহিস্সালামের সঙ্গে পবিত্র কাবা হতে পবিত্র বায়তুল মুকাদ্দাস হয়ে সপ্তাকাশের ওপর সিদরাতুল মুনতাহা হয়ে ৭০ হাজার নূরের পর্দা পেরিয়ে আরশে আজিমে মহান আল্লাহ তায়ালার দিদার লাভ করেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জীবনের সবচেয়ে আলোড়ন সৃষ্টিকারী ঘটনা শবে মেরাজ। প্রিয় নবি হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর সব চেয়ে বড় মোজেজা এটি। ইসলামের ইতিহাসে এমনকি পুরো নবুয়তের ইতিহাসেও এটি এক অবিস্মরণীয় ঘটনা। কারণ সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব ও রাসূল হযরত মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ছাড়া অন্য কোনো নবি এই পরম সৌভাগ্য লাভ করতে পারেননি। আর এ কারণেই হযরত মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সর্বশ্রেষ্ঠ নবি।
উল্লেখ্য, মেরাজ রজনিতেই মানবজাতির শ্রেষ্ঠ ইবাদত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ হয়। আল্লাহপাকের দিদার শেষে রাসূল (সা.) পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের হুকুম নিয়ে দুনিয়াতে প্রত্যাবর্তন করেন। তিনি অবলোকন করেন সৃষ্টি জগতের সবকিছুর অপার রহস্য। মেরাজ শব্দটি আরবি, এর অর্থ ঊর্ধারোহণ। মেরাজের বড়দাগে অর্থ দাঁড়ায় সপ্তম আসমান, সিদরাতুল মুনতাহা, জান্নাত জাহান্নাম পরিদর্শন ও আল্লাহ তায়ালার নৈকট্য পর্যন্ত ভ্রমণ। এ ছিল আল্লাহ তায়ালার মহান কুদরত, অলৌকিক নিদর্শন, নবুয়তের সত্যতার স্বপক্ষে এক বিরাট আলামত। জ্ঞানীদের জন্য উপদেশ, মু’মিনদের জন্য প্রমাণ হেদায়েত নেয়ামত, রহমত, মহান আল্লাহর একান্ত সান্নিধ্যে হাজির হওয়া ও ঊর্ধ্বলোক সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান অর্জন।
শবে মেরাজ মুসলমানদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন। হিজরির নবম মাসের ২৬ তারিখে মেরাজ অনুষ্ঠিত হয়। ইসলাম ধর্মে লাইলাতুল মেরাজ বা মেরাজের রাত, যাকে সাধারণত শবে মেরাজ বলা হয়। সেই রাতে ইসলামের নবি মুহাম্মদ (সা.) ঐশী পথে আরোহণ করেছিলেন। সেই রাতেই তিনি সৃষ্টিকর্তার সঙ্গে দেখা করেন। ইবাদত বন্দেগির মধ্য দিয়ে মুসলমানরা এই মেরাজ রাত উদযাপন করে। এই রাতে আল্লাহ তার প্রিয় নবী মুহাম্মদকে অনেক কিছু দেখিয়েছেন। যেখানে সাধারণ জ্ঞানের বাইরে অনেক ঐশ্বরিক তথ্য ও ইতিহাস রয়েছে।
মহান আল্লাহ এত বড় এই ঘটনা দ্বারা বুঝাতে যা তাঁর বান্দাদেরকে বুঝাতে চেয়েছেন তার গুরুত্ব ও তাৎপর্য অপরিসীম। শবে মেরাজ মুসলমানদের বড় ও পবিত্র পালনীয় আচার অনুষ্ঠানগুলোর একটি। লাইলাতুল মিরাজ বা পবিত্র এই রজনীর ঘটনা হাজারো সহীহ হাদিসের পাশাপাশি আসমানী কিতাব আল কোরআনে উল্লেখ রয়েছে। আল্লাহ পবিত্র কোরআনে ইরশাদ করেছেন, ‘অতঃপর তিনি নিকটে এসেছেন এবং অতীব নিকটবর্তী হয়েছেন। এমনকি দুই ধনুকের মত নিকটবর্তী হয়েছেন, এমনকি আরও অধিকতর নিকটবর্তী হয়েছেন। (সূরা নজম : আয়াত ৮ ও ৯)।মানব ইতিহাসের সূচনা কাল থেকেই এ যাবত যত বিস্ময়কর-আজব ঘটনা ঘটেছে এবং ঘটে চলছে, সেগুলোর মধ্যে নভোমন্ডল ভ্রমণের ক্ষেত্রে বিশে^র প্রথম ও সর্বশেষ ঘটনা হচ্ছে মেরাজুন নবী (সা.)। সপ্ত আকাশ অতিক্রম করে ‘সিদরাতুল মোন্তাহা’রও আগে ‘কাবা কাওসাইনে’র বা আরো আগে মহান আল্লাহর সান্নিধ্যে উপনীত হওয়ার একমাত্র বিস্ময়কর ঘটনা সর্বশেষ রসূল মহানবী (সা.) এর মেরাজে গমন। একে একটি স্বাপ্নিক ঘটনা আখ্যায়িত করে এর অসীম, মহিমান্নিত শানকে খাটো করা যায় না, এ সম্পর্কে বিতর্কের অবকাশও নেই। রাতারাতি মৃত্তিকার পৃথিবী থেকে সমস্ত নভোমন্ডল ভ্রমণ করে যথাস্থানে প্রত্যাবর্তন করার ঘটনাকে কাফেররা অযৌক্তিক ও অবাস্তব মনে করে এর সত্যতায় সন্দেহ পোষণ করে কাফেরই থেকে যায়, পক্ষান্তরে হযরত আবু বকর (রা.) ঘটনাটি শ্রবণ করা মাত্র তাতে বিশ^াস স্থাপন করে ‘সিদ্দীক’ (মহা সত্যবাদী) উপাধিতে ভূষিত হন।
হুজুর (সা.) এর মেরাজের ঘটনার অসীম গুরুত্ব, তাৎপর্য ও বৈশিষ্ট্যের প্রকৃষ্ট প্রমাণ সূরা ‘বনি ইসরাঈল’ ও সূরা ‘আননজম’-এ এই আজব ঘটনার নানা দিক বর্ণিত হয়েছে। তফসীর গ্রন্থাবলীতে যার বিশদ ব্যাখ্যা বিবরণ বিদ্যমান এবং বিভিন্ন হাদীসে এ ঘটনার ধারাবাহিকতা ছাড়াও দুই ডজনের অধিক সাহাবী কর্তৃক এটি বর্ণিত।
‘কুন ফায়াকুন’ আল্লাহর গুণ বিশেষ, আল্লাহ যখন কোনো কিছু সম্পর্কে ‘কুন’ (হও) বলেন, তখন সাথে সাথে তা ‘ফায়াকুন’-বাস্তবে পরিণত হয়ে যায়। মেরাজের ঘটনাটিও তারই অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় মসজিদে হারাম থেকে মসজিদে আকসা (বায়তুল মোকাদ্দাস) এবং সেখান থেকে একে একে সাত আসমান অতিক্রম করিয়ে আল্লাহ তার প্রিয় রাসূলকে নিজের সান্নিধ্যে নিয়ে যান এবং রাতারাতি যথাস্থানে ফিরে আসেন। এটি ছিল আল্লাহর এক অদ্ভূত রহস্য। মেরাজের ক্ষেত্রে আল্লাহ তাআলা তার সেই অসীম কুদরতে কামেলা প্রদর্শন করে অবিশ^াসী কাফেরদের বুঝিয়ে দিয়েছেন, যিনি আল্লাহর একত্বের বাণী প্রচারে প্রেরিত হয়েছেন, তিনি আল্লাহর নিকট কত মহান মর্যাদার অধিকারী, তার বিরুদ্ধাচরণ নয়, তার আনুগত্য স্বীকারের মধ্যেই তাদের মুক্তি ও কল্যাণ নিহিত। কিন্তু পাপিষ্টদের দুর্ভাগ্য, মেরাজের মতো বিস্ময়কর ঘটনার পরও রসূলুল্লাহ (সা.) এর প্রতি কাফেরদের অত্যাচার-নির্যাতন থেমে যায়নি। অবশেষে অতিষ্ঠ হয়ে তিনি আল্লাহর নির্দেশে মদীনায় হিজরত করেন।
ওলামায়ে কেরামদের সর্বসম্মত মত এই যে, মহানবী (সা.)-কে আল্লাহ তাআলার নৈকট্য লাভের এ অপূর্ব মর্যাদা তাকে জাগ্রত অবস্থায় সশরীরে প্রদান করেছেন, তিনি দৈহিকভাবে মহান আল্লাহর দরবারে উপস্থিত হয়েছিলেন। তিনি তার এ অভূত সফরের সর্বক্ষেত্রে আজব দৃশ্যাবলী অবলোকন ও নিদর্শনাবলী প্রত্যক্ষ করেন।
সীরাত লেখকগণ এ মহিমান্বিত ঘটনাকে দুই ভাগে ভাগ করেছেন- ১. ইসরা ও ২. মেরাজ। হুজুর (সা.) এর সশরীরে মসজিদে হারাম থেকে সমজিদে আকসা পর্যন্ত সফরকে ‘ইসরা’ বলা হয়, যার বর্ণনা কোরআনে ‘সোবহানাল্লাযি আসরা বিয়াবদিহি’-এ এসেছে। মসজিদে আকসা (বায়তুল মোকাদ্দাস) থেকে আসমানসমূহ অতিক্রম করা এবং বিস্ময়কর ঘটনাবলী ইত্যাদি প্রত্যক্ষ করাকে ‘মেরাজ’ বলা হয়েছে।
হজরত জিবরাইল (আ.) সফর সঙ্গী হয়ে রসূলুল্লাহ (সা.)-কে বোরাকযোগে মসজিদে আকসায় (বায়তুল মোকাদ্দাস) নিয়ে যান রাতের অংশে এবং সমাপ্ত হয় মেরাজের ‘ইসরা’ অংশ। এখান থেকে শুরু হয় মেরাজে গমনের প্রস্তুতি।
রসূলুল্লাহ (সা.) যখন বায়তুল মোকাদ্দাসে (জেরুজালেমে) পৌঁছেন, তখন ফেরেশতাদের একটি দল তাকে স্বাগত জানানোর জন্যে সেখানে উপস্থিত ছিলেন। ফেরেশতাগণ তাকে সাদরে সম্মানের সাথে সালাম জানান, তিনিও সালামের জবাব দেন। অতঃপর জিবরাইল (আ.) তাকে বোরাক থেকে নামান এবং রেশমি রশি দিয়ে বোরাককে প্রাচীরের সাথে বেঁধে রাখেন। বলা হয়, নবীগণ তাদের সোওয়ারী সেখানেই বেঁধে রাখতেন। সেকালে এটাই ছিল নিয়ম। রসূলুল্লাহ (সা.) মসজিদে আকসায় প্রবেশ করেন। বায়তুল মোকাদ্দাসে অবস্থিত এটি তারই পবিত্রতম অংশ। মুসলমান, ইহুদী এবং খৃষ্টান সকলেরই এটি পবিত্রতম স্থান। একই সীমার মধ্যে ‘কুব্বাতুস সাখরা’ অর্থাৎ সাখরা গুম্বুজ অবস্থিত। হেরমের মধ্যে স্থানে স্থানে বহু সুউচ্চ স্থান রয়েছে, মুসলমানগণ সেগুলোকে ‘মেহরাব’ও অতি পবিত্র জ্ঞান করে থাকেন এবং সেগুলোর সামনে নফল নামাজ আদায় করে থাকেন।
বর্ণিত আছে যে, হেরম শরীফের ইমারতগুলোতে কাঠের চার হাজার সাতশ পাথরের স্তম্ভ এবং পাঁচশ পিতলের শিকল লাগানো রয়েছে, মুসলিম শাসনামলে প্রতি রাতে এক হাজার ৬শ’ প্রদীপ ও ফানুস প্রজ্জ্বলিত করা হতো এবং এ কাজের জন্যে একশ চল্লিশ জন গোলাম-কর্মী নিয়োজিত ছিল। প্রদীপ ও ফানুসগুলো যয়তুন তেলে জ¦লত। হেরেম শরীফে বৃহদাকারের ১৬টি সিন্দুক ভর্তি পবিত্র কোরআন রয়েছে। ওযু করার জন্যে চারটি হাউজ রয়েছে এবং ওয়াজ করার জন্যে চারটি মিম্বর নির্মিত।
মসজিদ ও গম্বুজগুলোর ছাদসমূহ দামি, ৪৫ হাজার চাদর দ্বারা আবৃত। মসজিদের অভ্যন্তর ভাগে সত্তর গজ দীর্ঘ মহিলাদের কক্ষ। হেরেম শরীফের অভ্যন্তর ও বহির্বিভাগে পঞ্চাশটি প্রবেশ পথ রয়েছে। এগুলোর মধ্যে একটির নাম ‘বাবে মোহাম্মদ’ তার অর্ধেক অংশ ভূমির ভেতরে আল্লাহ তাআলা বনি ইসরাইলকে এ দরজা দিয়ে প্রবেশের নির্দেশ দিয়েছিলেন। রসূলুল্লাহ (সা.) মেরাজ রজনীতে এ দরজা দিয়ে মসজিদে আকসায় প্রবেশ করেন। এটি মক্কা এলাকার সামনের দিকে খুলে।
কুব্বাতুস সাখরা সম্পর্কে বহু কাহিনী বর্ণিত হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে একটি হচ্ছে- হিজরতের পর রসূলুল্লাহ (সা.) প্রায় দুই বছর পর্যন্ত এ কোববার দিকে মুখ করে নামাজ আদায় করতে থাকেন। এজন্যে মসজিদে আকসাকে মুসলমানদের প্রথম কেবলা বলা হয়। এ সম্পর্কে বর্ণিত আছে যে, হিজরতের দ্বিতীয় বর্ষে হুজুর (সা.) মদীনার বাইরে বনি সালমার মসজিদে বায়তুল মোকাদ্দাসের দিকে আসরের নামাজ আদায় করছিলেন, মাত্র দুই রাকাত পড়েছেন, এই সময় ওহী নাজেল হয় কেবলা পরিবর্তন করে খানা-ই-কাবার দিকে মুখ করে নামাজ আদায় করার। তৎক্ষণাৎ তিনি কাবার দিকে মুখ করে নামাজ শেষ করেন। এজন্যে বণি সালমার মসজিদের নাম হয় ‘মসজিদে কেবলাতাইন’ অর্থাৎ দুই কেবলার মসজিদ। এ প্রসঙ্গে সূরা বাকারায় কয়েকটি আয়াত নাজেল হয়।
বিভিন্ন বর্ণনা হতে জানা যায় যে, বায়তুল মোকাদ্দাসে অবস্থানকালে আরো কিছু অনুষ্ঠান শেষ করার পর হজরত জিবরাইল (আ.) হুজুর (সা.) এর হাত ধরে তাকে কোববাতুস সাখরায় নিয়ে যান। সেখানে তিনি একটি সিঁড়ি দেখতে পান, যা ভূমি থেকে আকাশ পর্যন্ত প্রলম্বিত। এটি ফেরেশতাদের আসা যাওয়ার সিড়ি, যারা আকাশ হতে পৃথিবীতে আসতেন এবং পৃথিবী হতে আকাশে প্রত্যাবর্তন করতেন। হুজুর (সা.) এ সিঁড়ির মাধ্যমে আকাশে গমন করেন।
ইসরা পর্ব শেষ করে মেরাজ পর্বের প্রথম স্তর শুরু হয় প্রথম আকাশে পদার্পণের মাধ্যমে। হজরত জিবরাইল (আ.) হুজুর (সা.)-কে সঙ্গে নিয়ে একে একে প্রত্যেক আকাশে গমন করেন এবং যে আকাশে যে নবীর অবস্থান, প্রত্যেকের সাথে তার পরিচয় করিয়ে দেন এবং প্রত্যেক আকাশের সংশ্লিষ্ট ফেরেশতাদের সঙ্গেও। রসূলুল্লাহ (সা.) প্রত্যেক আকাশেই নানা বিস্ময়কর ঘটনা এবং বিভিন্ন লোকের অবস্থা প্রত্যক্ষ করেন এবং হজরত জিবরাইল (আ.) সব কিছুর রহস্য ও কারণ বলে দেন। এভাবে সিদরাতুল মোন্তাহা পর্যন্ত পৌঁছার পর হযরত জিবরাইল (আ.) অগ্রসর হওয়া থেকে বিরত থাকেন এবং বলেন যে, তিনি আল্লাহর নির্দেশ অমান্য করে অগ্রসর হলে শাস্তি স্বরূপ তার নূরের পরগুলো পুড়ে যাবে। সুতরাং, রসূলুল্লাহ (সা.) এর কাছ থেকে তিনি বিদায় নিয়ে চলে যান। অতঃপর অনন্ত রহস্য জগতে যাত্রা শুরু হয়।
সে যা হোক, আল্লাহর সান্নিধ্য থেকে প্রত্যাবর্তনের সময় আল্লাহর পক্ষ থেকে তাকে দৈনিক পঞ্চাশ ওয়াক্ত নামাজ দান করা হয়েছিল, কিন্তু হজরত মূসা (আ.) এর পীড়াপীড়ির ফলে রসূলুল্লাহ (সা.) আল্লাহর কাছ থেকে তা কমিয়ে পাঁচ ওয়াক্তে নিয়ে আসেন। তাই নামাজকে মোমেনদের মেরাজ বলা হয়।
রসূলুল্লাহ (সা.) যখন মেরাজ হতে প্রত্যাবর্তন করছিলেন, তখন আল্লাহ তাআলা বললেন, হে আমার হাবীব! আপনার উম্মতের জন্যে আমার পক্ষ হতে উপহার নিয়ে যান, যাতে তারা প্রত্যেক নামাজ পড়ে সম্পদ ও উদারতা লাভে ধন্য হয়। যখন বান্দা নামাজে ‘আত্তাহিআতুলিল্লাহ’ বলে তখন আমি বলি হে বান্দা, তুমি আমার প্রশংসা করেছ, কেয়ামতের দিন আমি তোমার প্রশংসা করব। বান্দা যখন বলে ‘ওয়াস সালাওয়াতু’ তখন আমি বলি, হে বান্দা, আমিও তোমার প্রতি দরুদ প্রেরণ করি। বান্দা যখন বলে ‘ওয়াত তাইয়্যিবাতু’ তখন আমি বলি তোমাকে পবিত্র করব এবং তোমাকে পবিত্র ঘরই দেব। বান্দা যখন বলে ‘আসসালামু আলাইকা’ তখন আমি বলি, আমিও তোমার প্রতি সালাম জানাই এবং বান্দা যখন বলে ‘ওয়া বারাকাতুহু’ তখন আমি বলি, আমি তোমাকে বরকত দেব। হুজুর (সা.) যখন আরশ থেকে পৃথিবীর দিকে যাত্রা করেন তখন তিনি শুনতে পান যে, সকল ফেরেশতা তার প্রতি দরূদ ও সালাম জানাচ্ছেন অর্থাৎ আল্লাহ তাকে আত্তাহিয়া দুয়াটি উপহার হিসেবে তাকে দান করেন। এটি মেরাজের একটি অতি সংক্ষিপ্ত বর্ণনা।

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত -২০২৫, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট