
পাইকগাছা প্রতিনিধি : খুলনার পাইকগাছা উপজেলার চাঁদখালী এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে চলমান অবৈধ ইটভাটা ও কয়লার চুল্লি উচ্ছেদ করা হয়েছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করেছিলেন, অনুমোদন ছাড়া এসব কার্যক্রম পরিচালনার ফলে ধোঁয়া ও ছাই থেকে কৃষিজমি, বসতবাড়ি, শিক্ষার্থী ও পথচারীদের স্বাস্থ্যের ওপর মারাত্মক প্রভাব পড়ছিল।
১৮ ডিসেম্বর, ২০২৫ তারিখে দৈনিক জন্মভূমি পত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পর ২১ জানুয়ারি বুধবার দিনভর অভিযান পরিচালনা করেন খুলনা পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক হারুন উর রশীদ ও পাইকগাছা উপজেলা প্রশাসনসহ যৌথভাবে অভিযান চালায়। অভিযানে চাঁদখালীর তিনটি অনুমোদনবিহীন ইটভাটা ও ৫০টির বেশি কয়লার চুল্লি ভেঙে উচ্ছেদ করা হয়। অভিযানে ফায়ার সার্ভিস, সেনাবাহিনী, পুলিশ ও আনসারসহ ৭০–৮০ জন অংশ নেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরী জানান, “পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের স্বার্থে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে আছে। অনুমতি ছাড়া কোনো ভাটা বা চুল্লি চলতে দেওয়া হবে না এবং আইন ভঙ্গ করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” অভিযানের নেতৃত্বদানকারী ভূমি কর্মকর্তা (এসিল্যান্ড) ফজলে রাব্বি বলেন, “ভবিষ্যতে কেউ অনুমোদন ছাড়া ভাটা বা চুল্লি চালালে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং পুনঃস্থাপনের সুযোগ থাকবে না।”
স্থানীয়রা অভিযানের ইতিবাচক প্রভাব দেখতে পাচ্ছেন। একজন কৃষক বলেন, “ধোঁয়া ও ছাইয়ে ধান-সবজির ফলন কমে যাচ্ছিল। এখন যদি অভিযান চলমান থাকে, পরিবেশ ভালো হবে।” তবে ভাটা মালিকরা জীবিকার জন্য উদ্বিগ্ন। পরিবেশবিদরা মনে করেন, ব্যবসা বা জীবিকার যুক্তিতে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের ক্ষতি মেনে নেওয়া যায় না।
পাইকগাছার চাঁদখালীতে প্রশাসনের এই উদ্যোগকে স্থানীয়রা দীর্ঘদিনের অনিয়মের বিরুদ্ধে বাস্তব পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।