
মোংলা প্রতিনিধি : মোংলা বন্দরে আধুনিক বর্জ্য ও নিঃসৃত তেল অপসারণ ব্যবস্থাপনা শীর্ষক প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি ২০২৬) নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের মাননীয় উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই প্রকল্পের শুভ সূচনা করেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল শাহীন রহমান। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (হারবার ও মেরিন) কমডোর মো. শফিকুল ইসলাম সরকার, সদস্য (অর্থ) ও পরিচালক (প্রশাসন) (অতিরিক্ত দায়িত্ব) কাজী আবেদ হোসেন (যুগ্ম সচিব), সদস্য (প্রকৌশল ও উন্নয়ন) ড. এ. কে. এম. আনিসুর রহমান (যুগ্ম সচিব), পরিচালক (বোর্ড) কালাচাঁদ সিংহ (যুগ্ম সচিব) এবং হারবার মাস্টার ও প্রকল্প পরিচালক ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ শফিকুল ইসলামসহ বন্দরের বিভিন্ন বিভাগীয় প্রধান, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং বন্দর ব্যবহারকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা।
বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক MARPOL Convention-এর স্বাক্ষরকারী দেশ হিসেবে সামুদ্রিক দূষণ রোধে অঙ্গীকারবদ্ধ। এই কনভেনশনের আওতায় আন্তর্জাতিক বন্দরসমূহে কার্যকর ও আধুনিক Port Reception Facility (PRF) পরিচালনা বাধ্যতামূলক। মোংলা বন্দরে নবনির্মিত এই পিআরএফ স্থাপনের মাধ্যমে বাণিজ্যিক জাহাজ ও দুর্ঘটনাকবলিত জলযান থেকে নির্গত বর্জ্য ও তেল আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী সংগ্রহ, পরিশোধন ও নিষ্কাশনের সক্ষমতা নিশ্চিত হয়েছে। প্রকল্পটির মোট ব্যয় ৫শ১১ কোটি টাকা।
প্রকল্পের আওতায় সংযোজিত হয়েছে ২টি তেল অপসারণকারী জলযান, ১টি বর্জ্য সংগ্রহকারী জলযান, একটি আধুনিক পিআরএফ প্লান্ট, ১টি ডাম্প বার্জ, ১টি সেল্ফ প্রপেল্ড বার্জ, ১টি সার্ভিস টাগ বোট, ১টি পন্টুনসহ প্রয়োজনীয় জেটি ও ইয়ার্ড। এসব অবকাঠামো ও সরঞ্জামের মাধ্যমে মোংলা বন্দর এখন পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক মানের সামুদ্রিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বন্দরে পরিণত হয়েছে।
কার্যক্রম শুরু হয় সমুদ্রে অবস্থানরত জাহাজ থেকে। বন্দর কর্তৃপক্ষের বিশেষায়িত জলযানের মাধ্যমে বহির্নোঙর ও বন্দরে অবস্থানরত জাহাজ থেকে দূষিত তেল ও বর্জ্য সংগ্রহ করে প্লান্টের জেটিতে আনা হয়। পরে ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষার মাধ্যমে পরিশোধন প্রক্রিয়া নির্ধারণ করে পরিবেশবান্ধব পদ্ধতিতে শোধন করা হয়।
নতুন প্লান্টে বর্জ্য শোধনের পাশাপাশি পুনর্ব্যবহারযোগ্য উপাদান উৎপাদনের ব্যবস্থা রয়েছে। তৈলাক্ত বর্জ্য পরিশোধনের মাধ্যমে প্রায় ৮৫ শতাংশ পানি, ১২ শতাংশ ব্যবহারযোগ্য জ্বালানি এবং ৩ শতাংশ ছাই উৎপাদিত হয়। এই জ্বালানি বিভিন্ন শিল্পকারখানায় কাঁচামাল ও জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করে উৎপাদন ব্যয় কমানো যাবে।
এই প্রকল্প চালুর ফলে মোংলা বন্দর আন্তর্জাতিক মানের জাহাজ বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করেছে। সমুদ্রে তেল ও ক্ষতিকর বর্জ্য অবৈধ নিষ্কাশন রোধ, মৎস্য সম্পদ ও জলজ আবাসস্থল সংরক্ষণ, উপকূলীয় বাস্তুতন্ত্র রক্ষা এবং পরিবেশবান্ধব সবুজ বন্দর হিসেবে বন্দরের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হয়েছে। পাশাপাশি বর্জ্য সংগ্রহ ও শোধন ফি আদায়ের মাধ্যমে বন্দরের জন্য নতুন টেকসই আয়ের উৎস সৃষ্টি হয়েছে।
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনৈতিক প্রাণপ্রবাহ মোংলা বন্দর বর্তমানে খাদ্যশস্য, সার, কয়লা, তেল, সিমেন্ট ক্লিংকার, এলপিজি গ্যাস, মোটরগাড়ি ও মেশিনারিজ আমদানির পাশাপাশি গার্মেন্টস পণ্য, হিমায়িত খাদ্য, চিংড়ি, সাদা মাছ, পাট ও পাটজাত দ্রব্য রপ্তানি করে জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। এই আধুনিক পিআরএফ প্রকল্পের সংযোজন বন্দরের সক্ষমতা ও আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা আরও সুদৃঢ় করবে।
Like this:
Like Loading...
Related