
দাকোপ (খুলনা) প্রতিনিধি : খুলনার দাকোপে চালনা বাজারসহ বিভিন্ন হাট-বাজারে বইয়ের দোকান গুলোতে অবাধে বিক্রি হচ্ছে বিভিন্ন শ্রেণীর নিষিদ্ধ গাইড ও নোট বই। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা এ গাইড ও নোট বই কিনতে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের উৎসাহ দিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
খোঁজ খবর নিয়ে জানা গেছে, উপজেলা সদর চালনা বাজার ও বাজুয়া বাজারের বিভিন্ন বইয়ের দোকানগুলোতে প্রকাশ্যে সরকার নিষিদ্ধ গাইড-সহায়ক ও নোট বইয়ের জমজমাট ব্যবসা চলছে। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) সূত্রে জানা যায়, সরকার ১৯৮০ সালে আইন করে প্রথম থেকে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত পাঠ্যপুস্তকের নোট বই মুদ্রণ, বাঁধাই, প্রকাশনা, আমদানি, বিতরণ ও বিক্রি নিষিদ্ধ করে। এছাড়া উচ্চ আদালতের এক রায়ে গাইড ও নোট বই মুদ্রণ ও বাজারজাত সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়। উক্ত আইন অমান্য করলে ৭ বছরের সশ্রম কারাদন্ড, জরিমানা বা উভয় দন্ডের বিধানও রয়েছে। কিন্তু এক শ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ীরা ওই আইনকে উপেক্ষা করে অবাধে প্রথম থেকে শুরু করে বিভিন্ন শ্রেণীর নিষিদ্ধ গাইড-সহায়ক ও নোট বই বিক্রি করছে। এসব নিষিদ্ধ গাইড ও নোট বইয়ের মধ্যে বিভিন্ন প্রকাশনা ও সংস্থা রয়েছে। যেমন লেকচার, জুপিটার, পপি, পাঞ্জেরী, অনুপম, জননী, ইত্যাদি। অভিযোগ রয়েছে এক শ্রেণীর অসাধু শিক্ষক ও গাইড বই প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের লোকজন বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছে দিচ্ছে এই গাইড ও নোট বই। এতে করে তারা পাচ্ছেন মোটা অংকের অর্থ। প্রাথমিক, নিম্ন মাধ্যমিক ও মাদ্রাসাগুলোতে নতুন বছরের ক্লাস শুরু হতে না হতেই গাইড বই বিক্রির প্রতিযোগিতায় নেমে পড়েছে প্রকাশকরা। গাইড বই প্রকাশকদের পক্ষে নিয়োজিত মার্কেটিং বিভাগের প্রতিনিধিরা স্কুল ও মাদ্রাসাগুলোতে বই বিক্রির জন্য ইতিমধ্যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর কতিপয় শিক্ষকসহ স্থানীয় একাধিক শিক্ষক সমিতির নেতার সঙ্গে ডোনেশন চুক্তি করেছে বলে গুনজন রয়েছে। অভিভাবকদের অভিযোগ, নিষিদ্ধ গাইড বই বিক্রি বন্ধে প্রশাসন কার্যত কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। স্কুলের প্রধান শিক্ষকগণ গাইড বই প্রকাশনীর লোকজনের কাছ থেকে মুনাফা পেয়ে সিলেবাসে নিষিদ্ধ গাইড বই তালিকাভূক্ত করে। আর ওই সব বই অভিভাবকরা চড়া দামে কিনতে বাধ্য হচ্ছেন।
প্রকাশনা ও সংস্থা থেকে প্রথমে শিক্ষকদের বিনা মূল্যে কিছু গাইড ও নোট বই দেওয়া হয়। বই পড়ে ভালো লাগলে তারপর ছাত্র-ছাত্রীদের ওই নোট বই কিনতে উৎসায়িত করে শিক্ষকরা এমনটাই জানিয়েছে প্রকাশকদের পক্ষে নিয়োজিত কয়েকজন মার্কেটিং বিভাগের প্রতিনিধি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক জানান, সৃজনশীল শিক্ষাপদ্ধতিকে সফল করতে হলে সরকারের প্রণীত নীতিমালা অনুযায়ী শ্রেণীকক্ষে পাঠদান করতে হয়। এ ক্ষেত্রে গাইড ও নোট বইয়ের প্রয়োজন পড়ে না। এ জন্য সরকারিভাবে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এই স্বল্পমেয়াদী প্রশিক্ষণে অনেক শিক্ষকই বুঝতে পারেন না। তাই পুরনো পদ্ধতিতে পাঠদান করে থাকেন। অনেকে অবহেলাও করেন। এ কারণে শিক্ষার্থীদের গাইড ও নোট বইয়ের প্রতি আগ্রহ কমছে না।
এ ব্যাপারে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রেক্সোনা আক্তার বলেন, গাইড বইতো সরকার নিষিদ্ধ করেছে। কোন কোন শিক্ষক এগুলো করছে খোঁজ খবর নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ সোহেল হোসেন জানান, প্রত্যেক স্কুলের প্রধান শিক্ষকদের বলা আছে গাইড বই না কেনার জন্য। তারপরও যদি কোন স্কুলে নিষিদ্ধ গাইড কেনার ব্যাপারে ছাত্র-ছাত্রীদের তাগিদ দেয়, তাহলে সে সকল স্কুলের প্রধান শিক্ষকদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।