
পাইকগাছা প্রতিনিধি : পাইকগাছা উপজেলার হরিঢালী ইউনিয়নের উত্তর সলুয়ার জনবহুল আবাসিক এলাকায় গড়ে ওঠা একটি পোল্ট্রি ফার্ম যেন স্থানীয়দের জন্য অভিশাপে পরিণত হয়েছে। খামারের অসহনীয় দুর্গন্ধ, মুরগির বর্জ্য ও মশার উপদ্রবে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে পুরো এলাকার মানুষ। দিন-রাত নাকে কাপড় চেপে চলাচল করতে হচ্ছে বাসিন্দাদের। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি বাড়ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ অবস্থায় প্রশাসনের কাছে অভিযোগ জানালে উল্টো অভিযোগকারীকে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার হরিঢালী ইউনিয়নের উত্তর সলুয়ার আবাসিক এলাকায় স্থানীয় মৃত বিনোদ কর্মকারের ছেলে গৌর কর্মকার ও তার ছেলে সজল কর্মকার দীর্ঘদিন ধরে একটি পোল্ট্রি ফার্ম পরিচালনা করে আসছেন। অভিযোগ রয়েছে, ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় গড়ে ওঠা এ খামারটির বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ না করায় পুরো এলাকায় অসহনীয় দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, খামার থেকে নির্গত মুরগির বিষ্ঠা ও পচা বর্জ্য ড্রেন ও আশপাশের পরিবেশ দূষিত করছে। ফলে মশার উপদ্রব ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর বাসিন্দাদের ঘরে অবস্থান করাও কষ্টকর হয়ে পড়ে। শিশু ও বৃদ্ধদের মধ্যে শ্বাসকষ্ট, কাশি, অ্যালার্জি ও বিভিন্ন বায়ুবাহিত রোগের উপসর্গ দেখা দিচ্ছে বলেও দাবি স্থানীয়দের।
স্থানীয় সাংবাদিক রামপ্রসাদ কর্মকার বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে এলাকার মানুষ চরম দুর্ভোগের মধ্যে রয়েছে। বারবার বলার পরও খামার কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। বাধ্য হয়ে এলাকাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।”
অভিযোগের প্রেক্ষিতে পাইকগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরী বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে উপজেলা স্যানিটারি ও নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন। পরে উপজেলা স্যানিটারি কর্মকর্তা উদয় মণ্ডল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
তবে অভিযোগের পর থেকেই পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে বলে দাবি অভিযোগকারীদের। রামপ্রসাদ কর্মকার অভিযোগ করেন, খামারের বিরুদ্ধে অভিযোগ দেওয়ার পর সজল কর্মকার ও তার পিতা আমাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিচ্ছে। এমনকি আমাকে ফাঁসাতে নিজেরাই খামারের ক্ষতি করে আমার বিরুদ্ধে দায় চাপানোরও হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
এলাকাবাসীর দাবি, জনবহুল আবাসিক এলাকায় অপরিকল্পিতভাবে গড়ে ওঠা এ ধরনের পোল্ট্রি ফার্ম শুধু পরিবেশের জন্যই নয়, জনস্বাস্থ্যের জন্যও মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের মাধ্যমে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা তাদের।
নিজের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত রামপ্রসাদ জানান, তিনি এ ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত গৌর কর্মকার ও সজল কর্মকারের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি।