1. mesharulislammonir1122@gmail.com : দৈনিক সংযোগ প্রতিদিন : দৈনিক সংযোগ প্রতিদিন
  2. info@www.sangjogprotidin.com : দৈনিক সংযোগ প্রতিদিন :
শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১১:০৫ পূর্বাহ্ন

বিএনপি সরকারের যাত্রা শুরু চলার পথ মসৃণ হোক

  • প্রকাশিত: শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
  • ৩১ বার পড়া হয়েছে

সিরাজুল ইসলাম, সাতক্ষীরা : দেশে ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে নতুন সরকার গঠন করতে যাচ্ছে আজ মঙ্গলবার। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন দিনের সূচনা শুরু হবে নতুন সরকারের শপথের মাধ্যমে। দীর্ঘ ১৭ বছরের ঘাত-প্রতিঘাত চড়াই-উতরাই পেরিয়ে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের অব্যবহিত পর নির্বাচিত সরকার ক্ষমতা গ্রহণ করছে। দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর জনমনে প্রত্যাশা বেড়েছে আকাশছোঁয়া। অভ্যুত্থান-পরবর্তী অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব পালন করেছে ঠিকই, কিন্তু আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে, সামষ্টিক অর্থনীতিতে সংকট বেড়েছে। সরকার জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী সফলতার মুখ দেখেনি। দেশের এমনি সংকটময় অবস্থায় একটি জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে, বিএনপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। এখন স্বচ্ছ ভাবমূর্তির মন্ত্রিসভা গঠন করাই হবে বিএনপির রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ। এটি সময়ের দাবিও। দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় ধরে বিএনপি রাজনীতিতে কোণঠাসা হয়ে পড়ে ছিল। এ সময়টাতে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব এবং দলটির ওপর দিয়ে নজিরবিহীন ঝড় বয়ে যায়। তারেক রহমান লন্ডনে থেকে তার দলের নেতা-কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ রাখতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিলেন। আগস্ট-পরবর্তী রাজনীতিতে তারেক রহমান যথেষ্ট পরিপক্বতা ও বিচক্ষণতার পরিচয় দিয়েছেন। এ জন্য তিনি গণমানুষের আস্থা অর্জনে সক্ষম হয়েছেন। নির্বাচনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনই তা প্রমাণ।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল মেধা, সততা ও দেশপ্রেমকে অগ্রাধিকার দিয়ে একটি নতুন রাজনৈতিক আদর্শের জন্ম দেবে, যা তারেক রহমানের হাত ধরেই সম্ভব হবে। তিনি এমন এক নেতৃত্ব মন্ত্রিসভায় সম্পৃক্ত করবেন, যারা শুধু দেশ শাসন করবেন না, জনগণের সেবক হয়ে নতুনধারার রাজনৈতিক সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হবেন। অতীতের পচে যাওয়া গণতন্ত্র থেকে বের হয়ে একটি আধুনিক ও কার্যকর গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি উন্মেষ ঘটাবেন। বিজয়ের প্রথম প্রহরে তারেক রহমানের দেওয়া বক্তব্য ও দিকনির্দেশনা দেশে একটি স্থিতিশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতির আশাবাদ জাগিয়েছে। তার এই বক্তব্য প্রতিহিংসার ঊর্ধ্বে উঠে জাতীয় ঐক্যের যে ডাক দেওয়া হয়েছে, তা বর্তমান পরিস্থিতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এ দেশের মানুষ বৈষম্যের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছে। এ কারণে অভ্যুত্থান এসেছে। রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে জনগণের প্রত্যাশা ছিল অনেক। কিন্তু দিনের পর দিন এ দেশের মানুষ দেখেছে দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, বাজার সিন্ডিকেট- এ ধরনের নানা অব্যবস্থাপনা। তাই  মানুষ সোচ্চার হয়েছিল দেশের ইতিবাচক পরিবর্তনের জন্য। একটি দেশের রাজনৈতিক উৎকর্ষ নির্ভর করে রাজনৈতিক দলের নেতাদের সততার ওপর। একটি উদার গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির ধারা তাদের হাত ধরেই উৎকর্ষে পূর্ণ হয়ে ওঠে। কিন্তু আমরা বিগত বছরগুলোতে দেখেছি, রাজনীতিতে নীতি প্রায় বিলুপ্ত হতে বসেছিল। সংসদে আমরা ব্যবসায়ীদের রাজনীতি করতে দেখেছি। জনপ্রতিনিধিদের জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ততা ছিল না বললেই চলে। মূল্যস্ফীতির চাপে সাধারণ মানুষকে নাস্তানাবুদ হতে হয়েছে। দুর্নীতি করে এ দেশের সম্পদ বিদেশে পাচার করা হয়েছে। গণতন্ত্রের নতুন সূর্যোদয়ে সুষ্ঠু রাজনৈতিক চেতনার উন্মেষ হোক দল-মতনির্বিশেষে সবার মধ্যে। নতুন সরকারের সামনে নানামুখী চ্যালেঞ্জ রয়েছে। সংকট-সংশয় সত্ত্বেও অবশেষে আজ নির্বাচন-পরবর্তী নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ হচ্ছে। এ জন্য নতুন বাংলাদেশ গড়তে যারা আজ বিজয়ের মুকুট পরেছেন, সেই সব নির্বাচিত সদস্যকে অভিনন্দন ও  শুভেচ্ছা জানাই। আমরা আশা করি, নতুন সরকার পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে বহুল আকাঙ্ক্ষিত জনপ্রত্যাশা পূরণে সক্ষম হবে।বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন। তাঁর শপথের পর প্রথমে নতুন সরকারের মন্ত্রী এবং পরে প্রতিমন্ত্রীরা শপথ গ্রহণ করেন। আজ মঙ্গলবার বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তাঁদের শপথ পড়ান।
এর মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকারের যাত্রা শুরু হলো। একই সঙ্গে প্রায় দুই যুগ পর বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকারের যাত্রা শুরু হলো।
গত বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি ২০৯ আসনে জয়ী হয়। বিএনপি জোটের শরিকেরা ৩টি আসন পায়।
বাসস সূত্রে, বাংলাদেশের ইতিহাসের দীর্ঘ ঐতিহ্য ভেঙে নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান রাষ্ট্রপতি বঙ্গভবনের পরিবর্তে জাতীয় সংসদ ভবন কমপ্লেক্সের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত হয়।
কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, চীন, ভারত, পাকিস্তান, সৌদি আরব, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, মালয়েশিয়া, ব্রুনাই, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, মালদ্বীপ এবং ভুটানসহ ১৩টি দেশের বিশ্বনেতাদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে যোগদানের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। আমন্ত্রিত অতিথিদের মধ্যে ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা নয়াদিল্লির প্রতিনিধিত্ব করেছেন।
এ ছাড়াও বাংলাদেশ সংসদ কমপ্লেক্সের জমকালো দক্ষিণ প্লাজায় উপস্থিত অতিথিদের মধ্যে ছিলেন বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরা, প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী, প্রধান নির্বাচন কমিশনার, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি, সংসদ সদস্য, রাজনৈতিক নেতা, তিন বাহিনীর প্রধান, কূটনৈতিক কোরের সদস্য, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক এবং উচ্চপদস্থ বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তারা।
অনুষ্ঠানে তারেক রহমানের স্ত্রী জুবাইদা রহমান এবং মেয়ে জাইমা রহমান এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
সাদা জামা ও কোট-প্যান্ট পরিহিত তারেক রহমানকে এ সময় অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী এবং প্রাণবন্ত দেখাচ্ছিল। তিনি স্ত্রী জুবাইদা রহমান ও মেয়ে জাইমা রহমানকে সঙ্গে নিয়ে বিকেল ৩টা ৫৮ মিনিটে শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে প্রবেশ করলে দাঁড়িয়ে করতালি দিয়ে অভ্যর্থনা জানানো হয়।নতুন সরকারের সামনে পাহাড়সম চ্যালেঞ্জ।
দীর্ঘ দুই দশক ক্ষমতার বাইরে থাকা বিএনপি ঐতিহাসিক গণরায় নিয়ে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে। তারেক রহমানের নেতৃত্বে এমন এক সন্ধিক্ষণে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিচ্ছে দলটি, যখন তাদের সামনে রয়েছে পাহাড়সম চ্যালেঞ্জ। নতুন সরকারের কাঁধে থাকবে তলানিতে থাকা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি, আকাশচুম্বী মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও সংকটাপন্ন অর্থনীতি পুনরুদ্ধার। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মের প্রত্যাশা পূরণ; জুলাই সনদ বাস্তবায়ন; দুর্নীতি ও প্রশাসনিক সংস্কারের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক চাপে সমন্বিত কূটনীতি। একই সঙ্গে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শৃঙ্খলা ফিরাতে বিএনপিকে নজিরবিহীন পরীক্ষা দিতে হবে। দলটি ঐতিহাসিক বিজয়কে পুঁজি করে তারেক রহমান কতটা দূরদর্শী নেতৃত্ব দেবেন, সেদিকে সবার নজর থাকবে।
এরই মধ্যে নির্বাচনী বক্তব্যে তারেক রহমান এবং নির্বাচনের পর মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ জ্যেষ্ঠ নেতাদের বক্তব্যে এসেছে অর্থনীতি সচল, আইনশৃঙ্খলা ও দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার কথা। বিএনপি মহাসচিব নতুন সরকারের সামনে পাহাড়সম চ্যালেঞ্জ রয়েছে স্বীকার করে বলেছেন, অর্থনীতিসহ সেই চ্যালেঞ্জগুলো রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে মোকাবিলা করতে হবে। অতীতের অভিজ্ঞতা থাকায় বিএনপি এসব চ্যালেঞ্জে উত্তীর্ণ হবে—এমনটা আশা তার। নির্বাচন-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে গত শনিবার তারেক রহমানও বলেছেন, সরকারের সামনে সিরিয়াস চ্যালেঞ্জ হচ্ছে অর্থনীতি ঠিক করা, মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা।
এর কয়েক মিনিট পরে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বিকেল ৪টা ৪ মিনিটে প্রধানমন্ত্রীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশ করেন।
পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়।উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত নির্বাচন শেষে দেশ পেয়েছে একটি নতুন সরকার। এই সরকারের প্রতি জনগণের প্রত্যাশা আকাশচুম্বী। ‘সবার আগে বাংলাদেশ’—এই স্লোগানকে ধারণ করে বিএনপি দেশ পুনর্গঠনের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে। ধর্ম, বর্ণ ও গোত্র নির্বিশেষে সকল নাগরিককে নিয়েই বাংলাদেশ; আর দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে পেছনে রেখে কোনো দেশই টেকসইভাবে এগিয়ে যেতে পারে না। তাই আমাদের প্রত্যাশা, নতুন সরকার উন্নয়ন পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে দরিদ্র এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেবে। দারিদ্র্য বিমোচন কার্যক্রমকে গতানুগতিক কাঠামোর মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে প্রান্তিক মানুষের দৈনন্দিন জীবন, চাহিদা ও বাস্তবতা থেকে দারিদ্র্যকে অনুধাবনের চেষ্টা করবে। সেই উপলব্ধির আলোকে দারিদ্র্য বিমোচন কার্যক্রমকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক, শক্তিশালী ও কার্যকর করে তুলবে।
‘দরিদ্র বলতে কাদের বোঝায়?’ হঠাৎ যদি কাউকে এই প্রশ্নটি করা হয়, তাহলে অধিকাংশক্ষেত্রে উত্তরটা হবে অনেকটা এ রকম–“দরিদ্র মানুষের টাকা পয়সা থাকে না। তারা না খেয়ে থাকে। সংসারে অভাব-অনটন লেগেই থাকে।” কিন্তু যদি কাউকে বলা হয়, ‘দরিদ্র মানুষের কথা ভাবলে আপনার মনের পর্দায় কাদের ছবি ভেসে উঠে’। তখন কেউ হয়ত কল্পনার চোখে দেখবেন একটি ভাঙা ঘরের ছাদের ফুটো দিয়ে বৃষ্টির পানি পড়ছে। শিশু কোলে অসহায় বাবা-মা ভিজছেন। কেউ হয়ত বস্তির নোংরা পরিবেশে বসবাস করা মানুষের কথা ভাববেন। কারও চোখে ভাসবে ছিন্নমূল শিশুর ছবি। কেউ ভাববেন বন্যায় ফসল হারানো কৃষকের কথা, অন্য কেউ চা শ্রমিক বা অচ্ছ্যুৎ দলিত জনগোষ্ঠীর কথা।
আমরা দারিদ্র্যকে সাধারণভাবে ‘অর্থের অভাবে’ সীমাবদ্ধ করে রাখি। প্রকৃতপক্ষে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, খাদ্য, বাসস্থানসহ মৌলিক চাহিদার অপূর্ণতা, এবং ব্যক্তির সামাজিক ও ভৌগোলিক প্রান্তিক অবস্থার সঙ্গে দারিদ্র্যের সম্পর্ক জটিল এবং অবিচ্ছিন্ন। দুপুরবেলা রিকশার হুড তুলে ঘুমিয়ে থাকা রিকশাওয়ালাকে অলস বলে মনে হয়। কিন্তু তার অসময়ের ঘুমের পেছনে বৈষম্য এবং বঞ্চনার করুণ চিত্র রয়েছে। তিনি হয়তো বস্তির টিনের ঘরে প্রচণ্ড গরমে রাতে ঘুমাতে পারেননি। সকালে বনরুটি আর কলা খেয়ে রিকশা চালিয়েছেন। শহরে তার জন্য পানি পানের, টয়লেট করার বা একটু জিরিয়ে নেওয়ার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই, কিন্তু মাথার ওপর আছে পরিবারের মুখে দুমুঠো ভাত তুলে দেওয়ার দুঃচিন্তা। আরও আছে আয়ের বড় অংশ রিকশার মালিককে দিয়ে দেওয়ার জ্বালা। এই কঠিন জীবনসংগ্রামের ভারে দুপুর পর্যন্ত কাজ করে তিনি ক্লান্ত হয়ে গেছেন। আশাহীন মন আর রুগ্ন-পরিশ্রান্ত শরীর তাকে আরও বেশি পরিশ্রম করতে, অধিক আয় করতে দেয় না। একইভাবে, উপকূলবাসী একটি জেলে পরিবারের ক্ষেত্রে হয়ত দেখা যাবে, এক সময় মোটামুটি স্বাচ্ছন্দ্যে থাকা পরিবারের কর্তা সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সমুদ্র দিন দিন বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠছে। তারপরও তাকে ঝুঁকি নিয়ে গভীর সমুদ্রে যেতে হয়। উপকূলের কাছাকাছি মাছ পাওয়া যায় না। মাছ ধরেও শান্তি নেই। দাদন ব্যবসায়ীদের কাছে তাদের নির্ধারিত দামে মাছ বিক্রি করতে তিনি বাধ্য। এদিকে অন্যান্য খরচের বোঝা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। এলাকার জলাশয় এবং ভূগর্ভের পানি লবণাক্ত হয়ে গেছে। জেলে গিন্নিকে কয়েক কিলোমিটার হেঁটে বড় অঙ্কের টাকা দিয়ে সুপেয় পানি সংগ্রহ করতে হয়। কম পানি খাওয়াতে এবং বিভিন্ন কাজে লবণাক্ত পানি ব্যবহার করায় পরিবারের সদস্যরা নানাবিধ রোগে ভোগে। ফলে বেড়েছে চিকিৎসা খরচ। এদিকে এলাকায় ঝড় এবং জলোচ্ছ্বাসের মাত্রা বেড়েছে। বার বার ঘর মেরামতের প্রয়োজন হয়। অর্থ খরচের প্রতিটি সিদ্ধান্ত এই জেলে পরিবারের জন্য তাই একটি সমস্যা মোকাবিলা করতে গিয়ে আরেকটি নতুন সংকট ডেকে আনে।
বাংলাদেশকে দারিদ্র্যমুক্ত একটি সুখি-সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে হলে, নতুন সরকারকে তাই ‘দারিদ্র্য’-কে বোঝার লেন্সকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। দারিদ্র্য বিমোচনকে দেখতে হবে বহুমাত্রিক প্রেক্ষাপটে। শুধু আয়ের অভাব নয়, বরং শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও জীবনযাত্রার মানের মতো মানব উন্নয়নের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে যুগপৎ বৈষম্যের শিকার হওয়াকে বলা হয় বহুমাত্রিক দারিদ্র্য। বর্তমানে সারা বিশ্বেই জাতিসংঘ নির্ধারিত বৈষম্যের ভিত্তিতে দারিদ্র্যকে পরিমাপ করার এই ধারনাটি সুপ্রতিষ্ঠিত। এটি অনুযায়ী, দারিদ্র্য থেকে মুক্তি পেতে হলে, শুধু দু মুঠো খাবার নিশ্চিত করতে পারলে হবে না। খাবার হতে হবে পুষ্টিকর। শিশুরা স্কুলে যাচ্ছে, এটিতে সন্তুষ্ট থাকলে হবে না। নিশ্চিত করতে হবে ধর্ম-বর্ণ-গোত্র নির্বিশেষে সকল শিশুর গুণগত শিক্ষা লাভের অধিকার। সবার জন্য থাকতে হবে নিরাপদ পানি এবং স্যানিটেশনের ব্যবস্থা। পরিকল্পনা কমিশন প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী বর্তমানে বাংলাদেশের প্রায় চার কোটি মানুষ বহুমাত্রিক দারিদ্র্যের শিকার যা মোট জনগোষ্ঠীর ২৪.০৫ শতাংশ। নতুন সরকারের কাছে তাই অনুরোধ থাকবে বহুমাত্রিক দারিদ্র্যের আলোকে বাংলাদেশের দারিদ্র্য বিমোচন কর্মকৌশলকে আরও কার্যকর এবং ফলাফলমুখী করার উদ্যোগ নিতে। দারিদ্র্য বিমোচনের যত কর্মসূচি আছে সেগুলোতে অর্থনৈতিক সহযোগিতার পাশাপাশি মৌলিক চাহিদা এবং নাগরিক অধিকার প্রাপ্তি নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সংযুক্ত করতে।
এ লক্ষ্যে সরকারের অন্যতম শক্তিশালী হাতিয়ার হতে পারে একটি শক্তিশালী ও কার্যকর সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা। একটি দেশের জনগণের, বিশেষ করে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কল্যাণের ওপর বিরূপ প্রতিক্রিয়া ফেলে এমন সব পরিস্থিতি প্রতিরোধ, ব্যবস্থাপনা ও সেগুলো থেকে উত্তরণে তাদের সহযোগিতা করার লক্ষ্যে বিভিন্ন কার্যক্রমের প্যাকেজ নিয়ে এই ব্যবস্থা গড়ে ওঠে। বাংলাদেশে জাতীয় সামাজিক নিরাপত্তা কৌশলের মাধ্যমে সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হয়। কৌশলটি সুলিখিত হলেও এটির বাস্তবায়ন এখন পর্যন্ত দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে কোনমতে টিকে থাকার জন্য বিভিন্ন ধরনের ভাতাভিত্তিক সহায়তা নির্ভর। সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে জীবিকায়নে সহায়তা করার লক্ষ্যে প্রশিক্ষণ, এককালীন নগদ বা ঋণ সহায়তা ইত্যাদিও দেওয়া হয়। কিন্তু এগুলো বহুবিধ সমস্যায় জর্জরিত দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে দারিদ্র্যাবস্থা থেকে বের করে আনতে যথেষ্ট নয়। এই কর্মসূচিগুলোতে এমন কৌশল সংযুক্ত করা প্রয়োজন যেন প্রান্তিক মানুষ সেগুলোকে ব্যবহার করে দীর্ঘমেয়াদে জীবনমানের উন্নয়ন করতে পারে। যেমন: কর্মমুখী প্রশিক্ষণ বা ঋণ দেওয়ার পাশাপাশি অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা বিষয়ে দক্ষতা প্রশিক্ষণ, এন্টারপ্রাইজ পরিচালনায় প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান, মার্কেট লিংকেজে সহায়তা, অগ্রগতি ফলোআপ ইত্যাদি।
জলবায়ু পরিবর্তন বাংলাদেশের জন্য একটি মারাত্মক সংকট হিসেবে দেখা দিয়েছে। ইতিমধ্যেই তার প্রভাব আমরা উপলব্ধি করতে পারছি। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বিশ্বের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। ওয়ার্ল্ড রিস্ক ইনডেক্স ২০২৪ অনুযায়ী শীর্ষ দশের মধ্যে আমাদের অবস্থান নবম। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে দুর্যোগের সময় ও ধরণে যে পরিবর্তন আসছে তাতে দরিদ্র জনগোষ্ঠী সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। ঝড়ের মাত্রা এবং তীব্রতা বাড়ায় বার বার তারই ঘর ভাঙ্গছে যাদের নতুন করে ঘর বাধার সক্ষমতা নেই। হঠাৎ বন্যায় খেতের ফসল ডুবে গেলে জমিতে দিনমজুর হিসেবে যারা কাজ করেন তাদের দিনের পর দিন না খেয়ে থাকতে হয়। নতুন সরকার দারিদ্র্য বিমোচনসহ যেসব উন্নয়ন কার্যক্রম গ্রহণ করবে সেগুলোর যথাযথ বাস্তবায়ন করতে এবং ফলাফলকে টিকিয়ে রাখতে হলে কর্মসূচিগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনকে তাই অ্যাড্রেস করা জরুরি। জমিহীন একটি পরিবারকে একটা ঘর তুলে দেওয়া এখন আর যথেষ্ট নয়। সেই ঘর হতে হবে জলবায়ুসহিষ্ণু। ঝড়প্রবণ এলাকায় ঘরটি সহজে ভেঙে পড়বে না। বন্যাপ্রবণ এলাকায় সেটি উঁচু প্ল্যাটফর্মের ওপর তৈরি হবে যেন সহজে পানি না ঢোকে। কৃষিকে অগ্রাধিকার দিলেই হবে না, জলবায়ুসহিষ্ণু বীজ দরিদ্র কৃষকের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। দুর্যোগের আগাম বার্তা যেন তারা জানতে পারে সেই লক্ষ্যে শক্তিশালী আর্লি ওয়ার্র্নিং সিস্টেম স্থাপন করতে হবে। নদীভাঙ্গন বা বন্যাপ্রবণ এলাকায় শুধু ল্যাট্রিনের জন্য বরাদ্দ দিলেই হবে না। সেখানে পোর্টেবল ল্যাট্রিন বা অন্য ধরণের এলাকা উপযোগী স্যানিটেশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে বিশেষ উদ্যোগ নিতে হবে।
আমাদের প্রত্যাশা, নতুন সরকার কেবল অফিসকেন্দ্রিক নীতি প্রণয়নের মধ্যে নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখবে না। সরকারের প্রতিনিধিরা প্রান্তিক ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর কাছে যাবে, তাদের জীবনের বাস্তব প্রেক্ষাপট, দৈনন্দিন চাহিদা ও সংগ্রামকে সরাসরি উপলব্ধি করার চেষ্টা করবে। সেই বাস্তবতা থেকে শেখা অভিজ্ঞতার আলোকে যার যা প্রয়োজন, তা নিশ্চিত করতে কার্যকর ও সময়োপযোগী উদ্যোগ গ্রহণ করবে। আমরা চাই এমন একটি ব্যবস্থা, যেখানে কাউকে সারা জীবন সরকারি বা অন্য কারও সহায়তায় নির্ভর করে থাকতে হবে না; বরং সহায়তার ধরন হবে এমন, যা মানুষকে ধাপে ধাপে আত্মনির্ভরশীল করে তুলবে এবং নিজ প্রচেষ্টায় দারিদ্র্যের শৃঙ্খল ভাঙার সক্ষমতা দেবে। এই পথেই ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগানটি কেবল বক্তব্যে নয়, বাস্তবায়নে অর্থবহ হয়ে উঠবে—এই প্রত্যাশাই রইল।তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত মন্ত্রিসভা গতকাল শপথ নিয়েছে। এর মাধ্যমে নতুন বাংলাদেশে ফের গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় নির্বাচিত সরকারের আনুষ্ঠানিক পথচলা শুরু হলো।
চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার পতনের পর একটি অবাধ-সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন করে গণতান্ত্রিক ধারার সুযোগ পেয়েছি আমরা। দেশী-বিদেশী সব ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার গত ১৭ মাসে রাষ্ট্র সংস্কার এবং একটি অবাধ-সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনে প্রাণপণ প্রচেষ্টা চালিয়েছে। অবশেষে ১২ ফেব্রুয়ারি কাঙ্ক্ষিত ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এবারের নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট ২১২ আসনে জয়ী হয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে। পাশাপাশি জামায়াত এককভাবে ৬৮টি এবং জোটগতভাবে ৭৭টি আসনে জয় পেয়ে সংসদে শক্তিশালী বিরোধী দল হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। এবারের নির্বাচনের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো— ফ্যাসিবাদে বিশ্বাসী কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নির্বাচনে অংশ নিতে না পারা। বিগত ১৫ বছরে দলটির প্রধান ও নেতাকর্মীদের অপরাধের বিচার চলমান। এ ধারা আগামী দিনগুলোতে যেন আরো জোরদার হয়।
অতীতে দেশে সরকারি এবং বিরোধী দলের পারস্পরিক সম্পর্ক ছিল শত্রুতাপূর্ণ। অথচ সংসদীয় শাসনব্যবস্থায় বিরোধী দলও পরোক্ষভাবে সরকারের অংশ। আমরা আশা করব, নতুন সরকার বৈরিতার সংস্কৃতি পরিহার করে বিরোধীদের প্রতি সম্মান ও সহনশীলতার পরিচয় দিয়ে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের শক্ত ভিতে দাঁড় করাবে। অন্যদিকে সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে বিরোধী দল সংসদে সোচ্চার ভূমিকা নেবে। গঠনমূলক সমালোচনায় জনস্বার্থ রক্ষায় সোচ্চার থাকবে। আইন প্রণয়ন, বাজেট বিতর্ক এবং প্রশ্নোত্তরের মাধ্যমে সংসদকে প্রাণবন্ত করে তুলবে।
নতুন সরকারের কাছে জনপ্রত্যাশা হলো সুশাসন, দুর্নীতিমুক্ত ও জবাবদিহিমূলক শাসন প্রতিষ্ঠা। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও নাগরিক অধিকার সমুন্নত রাখা। ভঙ্গুর অবস্থায় থাকা রাষ্ট্র মেরামত, পুনর্গঠন ও যথাযথ সংস্কার করা না হলে সামনে অগ্রসর হওয়া যাবে না। দুর্বল অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধার করে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা বিশাল চ্যালেঞ্জ হয়ে থাকবে। নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে দুষ্টচক্রকে পর্যুদস্ত করার পাশাপাশি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সমাধান দিতে হবে। দায়িত্ব নিয়ে প্রথম দিন থেকে সরকারকে সতর্কতা ও বুদ্ধিমত্তার সাথে পথ চলতে হবে।
সামাজিক স্থিতিশীলতা আনতে আইনশৃঙ্খলার উন্নতি ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের আধুনিকায়ন, প্রত্যেকটি সূচকে টেকসই উন্নয়নে মনোনিবেশ করতে হবে। দুর্নীতির কাঠামো ভেঙে জবাবদিহিমূলক ও স্বচ্ছ প্রশাসন নিশ্চিত করতে হবে নতুন সরকারকে।
গণতান্ত্রিক সংস্কারে ভোটাধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতায় প্রতিহিংসার রাজনীতি ভুলে সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে ঐক্যবদ্ধ কাজের পরিবেশ তৈরি এখন সময়ের দাবি। এক্ষেত্রে জন-অভিপ্রায় অনুযায়ী গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।
নতুন সরকারের প্রতি মানুষের মূল চাওয়া শান্তিপূর্ণ, বৈষম্যহীন ও গণতান্ত্রিক একটি ‘নতুন বাংলাদেশের’ যাত্রা শুরুর কার্যকর উদ্যোগ নেয়া। এটি একটি দেশের পক্ষে তখনই অর্জন করা সম্ভব— যখন সুশাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি, আইনের শাসন, দুর্নীতি প্রতিরোধ এবং জন-অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা যাবে। এসব কিছু পরিপূর্ণ বাস্তবায়নে রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও সামাজিক সচেতনতা অত্যাবশ্যক। তবে সবার আগে নতুন সরকারকে জনপ্রত্যাশা বুঝতে হবে।
পরিশেষে, নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার মন্ত্রিসভার সব সদস্যকে প্রাণঢালা অভিনন্দন, শুভেচ্ছা ও স্বাগত।
এরপর প্রথমে তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথগ্রহণ করেন। পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ (টুকু), মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম, এ জেড এম জাহিদ হোসেন, খলিলুর রহমান (টেকনোক্র্যাট), আবদুল আউয়াল মিন্টু, কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ, মিজানুর রহমান মিনু, নিতাই রায় চৌধুরী, খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর, আরিফুল হক চৌধুরী, জহির উদ্দিন স্বপন, মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ (টেকনোক্র্যাট), আফরোজা খানম, শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, আসাদুল হাবিব দুলু, মো. আসাদুজ্জামান, জাকারিয়া তাহের, দীপেন দেওয়ান, ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন, সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, ফকির মাহবুব আনাম ও শেখ রবিউল আলম।
মন্ত্রীদের শপথের পর প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, মো. শরিফুল আলম, শামা ওবায়েদ ইসলাম, সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, কায়সার কামাল, ফরহাদ হোসেন আজাদ, আমিনুল হক (টেকনোক্র্যাট), মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, হাবিবুর রশীদ, মো. রাজিব আহসান, মো. আব্দুল বারী, মীর শাহে আলাম, জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি, ইশরাক হোসেন, ফারজানা শারমিন, শেখ ফরিদুল ইসলাম, নুরুল হক নুর, ইয়াসের খান চৌধুরী, এম ইকবাল হোসেইন, এম এ মুহিত, আহম্মদ সোহেল মঞ্জুর, ববি হাজ্জাজ ও আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম।

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত -২০২৫, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট