
ডেস্ক রিপোর্ট : লাশ হয়ে বাড়ি ফিরলেন বর কনে সহ ১৪ বরযাত্রী। বাসর ঘরে ফেরার আগেই বর-কনের সলিল সমাধি হয়েছে। দুই পরিবারের বিয়েবাড়ির আনন্দ মুহূর্তেই বিষাদে রূপ নিল। নতুন জীবনের স্বপ্ন নিয়ে বাসর ঘরের পথে রওনা হয়েছিলেন নবদম্পতি সাব্বির ও মিতু। কিন্তু মোংলা-খুলনা মহাসড়কের রামপাল উপজেলার বেলাই ব্রিজ এলাকায় এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় থেমে গেল সব হাসি-গান। বৃহস্পতিবার বিকেলের সেই প্রাণঘাতী সংঘর্ষে বর-কনেসহ মোট ১৪ জন নিহত হয়েছে। তার মধ্যে বর পক্ষের বাবা ও ভাই-বোন সহ একই পরিবারের ৯ জন রয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাতে খুলনার কয়রা উপজেলার নাকশা গ্রামে সাব্বির ও মারজিয়া আক্তার মিতুর বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। বৃহস্পতিবার বিকেলে একটি মাইক্রোবাসে করে কনেকে নিয়ে মোংলার শেলাবুনিয়ার নিজ বাড়িতে ফিরছিলেন বরপক্ষ। পথে রামপালের বেলাই ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি নৌবাহিনীর স্টাফ বাসের সাথে মাইক্রোবাসটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষ এতটাই তীব্র ছিল, মাইক্রোবাসটি দুমড়েমুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই বেশ কয়েকজন প্রাণ হারায়।
নিহতদের মধ্যে বর পক্ষের একই পরিবারের সদস্য সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। শোকের ছায়া নেমে এসেছে মোংলা পৌরসভা এলাকার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বিএনপি সভাপতি আব্দুর রাজ্জাকের বাড়িতে। দুর্ঘটনায় তিনি নিজেও প্রাণ হারিয়েছেন। নিহতদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যরা হলেন-
বর মো. সাব্বির, এবং কনে মারজিয়া আক্তার মিতু। বরের পরিবার বরের বাবা আব্দুর রাজ্জাক, দুই বোন লামিয়া ও আয়শা, ভগ্নিপতি সামিউল, ভ্রাতৃবধূ পুতুল ও তার শিশুসন্তান আলিফ। কনের পরিবারকনের দাদি আনোয়ারা বেগম এবং নানি রাশিদা বেগম। এছাড়াও মাইক্রোবাসের চালক নাঈমসহ আরও কয়েকজন এই দুর্ঘটনায় মারা গেছেন।
আজ শুক্রবার ভোর রাতে নিহতদের মরদেহগুলো তাদের নিজ বাড়িতে আনা হলে এলাকায় হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। লাশগুলো গোসল করিয়ে জানাজার প্রস্তুতির জন্য সারিবদ্ধভাবে রাখা হয়েছে। জানা গেছে, আজ বাদ জুমা মোংলা পৌর কবরস্থানে তাদের জানাজা শেষে দাফন করা হবে। এই কঠিন সময়ে মরদেহ দাফন ও আনুষঙ্গিক কাজে বরের আত্মীয়-স্বজন এবং স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দ সহায়তা করছেন।
বাগেরহাটের কাটাখালী হাইওয়ে থানা পুলিশের উপ পরিদর্শক মো: হাসান জানান, দুর্ঘটনা কবলিত বাস ও মাইক্রোবাস দুটি দুর্ঘটনা এলাকা থেকে সরিয়ে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় পুরো উপজেলাজুড়ে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।