
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি : সাতক্ষীরা শহরের প্রাণকেন্দ্র ও অতি গুরুত্বপূর্ণ এলাকা সার্কিট হাউস মোড়। এই সড়কের পাশেই অবস্থিত জেলা প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর ও কর্মকর্তাদের বাসভবন। অথচ এই ভিআইপি এলাকার প্রধান সড়কটিই এখন সাধারণ মানুষের জন্য চরম ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। উন্নয়নের নামে রাস্তা খুঁড়ে ফেলে রাখায় সামান্য বৃষ্টিতেই তা কর্দমাক্ত হয়ে ‘মরণফাঁদে’ পরিণত হয়েছে। গত কয়েক দিন ধরে এলাকাটি ঘুরে দেখা গেছে, কার্পেটিং করা রাস্তার চিহ্ন পর্যন্ত নেই। পুরো সড়ক জুড়ে রয়েছে হাঁটু সমান কাদা আর বড় বড় গর্ত। এর ওপর দিয়েই ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে রিকশা, ভ্যান ও ইজিবাইক। পথচারীদের অবস্থা আরও করুণ; কাদা মাড়িয়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে গিয়ে অনেককে পোশাক নষ্ট করে নাজেহাল হতে হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় ধরে ড্রেনেজ ও রাস্তা সংস্কারের কাজ চললেও তা শেষ করার কোনো লক্ষণ নেই। সড়কের দুই পাশে যত্রতত্র মাটি ও বালু ফেলে রাখায় বৃষ্টির পানি নামতে পারছে না। ফলে পানি জমে মাটি গলে পিচ্ছিল কাদায় রূপ নিয়েছে। এলাকার ব্যবসায়ী সেলিম হোসেন, জাহিদ হোসেনসহ অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “শহরের ভেতরের রাস্তার যদি এই দশা হয়, তবে গ্রামগঞ্জের অবস্থা কী? প্রতিদিন কেউ না কেউ এই কাদার গর্তে পড়ে আহত হচ্ছে। আমরা চরম দুর্ভোগের মধ্যে আছি, কিন্তু পৌরসভা বা প্রশাসনের কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই।” সাতক্ষীরা সার্কিট হাউস এলাকায় প্রতিনিয়ত ভিআইপিদের যাতায়াত থাকলেও রাস্তার এই জরাজীর্ণ অবস্থা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্বশীলতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। এলাকাবাসীর দাবি, বর্ষা মৌসুম পুরোপুরি শুরু হওয়ার আগেই যেন দ্রুত রাস্তাটি সংস্কার করে চলাচলের উপযোগী করা হয়। এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্থানীয় পৌরসভার সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, বৃষ্টির কারণে কাজে কিছুটা বিঘ্ন ঘটছে, তবে দ্রুতই সমস্যার সমাধান করার চেষ্টা চলছে। এ অবস্থা শুধু সার্কিট হাউস সড়কের নয়, সাতক্ষীরা পৌরসভার অভ্যন্তরীণ সকল সড়কের দুরাবস্থা এখন পৌরবাসীর দুর্ভোগ। সাতক্ষীরা প্রাণকেন্দ্রে তুফান কোম্পানির মোড় থেকে কেষ্ট ময়রার ব্রিজ পেরিয়ে পিএন স্কুল মোড় পর্যন্ত সড়কটির কোথাও আস্ত নেই। গর্তে গর্তে ভরে গেছে সড়কটি। একই অবস্থা পিএন স্কুল মোড় থেকে ডে-নাইট কলেজ পেরিয়ে সুলতানপুর পিটিআই মোড় পর্যন্ত সড়কটিরও। গড়েরকান্দা গফুর সাহেবের ব্রিজ থেকে চালতেতলা বাজার সড়কের অবস্থাও অভিন্ন। এদিকে স্থানীয়রা বলছেন, আশ্বাস নয়, বরং দৃশ্যমান কাজ চান তারা। প্রতিদিনের এই যন্ত্রণাদায়ক চলাচল থেকে মুক্তি পেতে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ।