
ডেস্ক রিপোর্ট : মধ্যরাতে নোটিশ দিয়ে বার কাউন্সিল নির্বাচন পেছানো খবরে সংসদে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এনসিপির সংসদ সদস্য রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আখতার হোসেন।
আজ বৃহস্পতিবার সংসদ অধিবেশনের শেষ পর্যায়ে পয়েন্ট অব অর্ডারে ফ্লোর চান এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন। নির্বাচন স্থগিতকরণের কারণ হিসেবে তীব্র জ্বালানি সংকটে নির্বাচন পেছানো হয়েছে—উল্লেখ করে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, আমরা যখন সংসদে জ্বালানি সংকটের কথা বলি তখন সরকারের তরফ থেকে বলা হয়—জ্বালানি সংকট নেই। আবার সরকারি একটা প্রতিষ্ঠান জ্বালানি সংকটের কথা বলে নির্বাচন স্থগিত করছে। মূল ইস্যুটা কী? এই জায়গাটাতে একটা সিদ্ধান্ত আসার প্রয়োজন উল্লেখ করে তিনি জ্বালানি ও আইনমন্ত্রীর বিবৃতি দাবি করেন।
তিনি বলেন, গতকাল (বুধবার) মধ্যরাতে আমরা একটা নোটিশ পেয়েছি যে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে। সেই স্থগিতকরণের কারণ হিসেবে বলা হয়েছে যে দেশে তীব্র জ্বালানি সংকট। এই কারণে বার কাউন্সিলের নির্বাচন স্থগিত করা হলো। এখানে দুই ধরনের বিষয় রয়েছে। এটা একটা সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান। যেটার সঙ্গে আইন মন্ত্রণালয়ের একটা সংযোগ আছে। আবার জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের একটা কারণ দেখিয়ে নির্বাচনটাকে স্থগিত করা হয়েছে।
আখতার হোসেন বলেন, বিধান অনুযায়ী তিন বছর পরপর বার কাউন্সিলের নির্বাচন হওয়ার কথা। তবে যদি নির্বাচন করার মতো পরিবেশ না থাকে, অর্থাৎ প্যান্ডেমিক বা অকওয়ার্ড—এমন কোনো ধরনের দুর্যোগ ঘটে তাহলে সেই সময়টাতে এক বছরের জন্য একটা অ্যাডহক কমিটির বিধান রয়েছে। করোনার সময়টাতে এটা করা হয়েছিল। কিন্তু সেই ধরনের কোনো পরিস্থিতি না থাকা সত্ত্বেও অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করার পর নির্বাচন না দিয়ে অ্যাডহক কমিটি করা হয়। সেই কমিটি এখনো পর্যন্ত চলমান রয়েছে। এই অ্যাডহক কমিটি থেকে একটা গণতান্ত্রিক যাত্রায় উত্তোলনের জন্য একটা নির্বাচনের সময়সীমায় ঘোষণা করা হয়েছিল।
তিনি বলেন, আগামী ১৯ মে নির্বাচনটা অনুষ্ঠিত হবে। কিন্তু গতকাল (বুধবার) মধ্যরাতে হঠাৎ করেই নির্বাচনকে একটা স্থগিত ঘোষণা করা হলো। প্রশ্ন হলো আমরা যখন সংসদে জ্বালানি সংকটের কথা বলি সরকার দলের তরফ থেকে ‘জ্বালানি সংকট নেই’ এই কথা বলা হয়।
তিনি বলেন, আবার সরকারি একটা প্রতিষ্ঠান জ্বালানি সংকটের কথা বলে নির্বাচন স্থগিত করছে। এই জায়গাটাতে একটা সিদ্ধান্ত আসার প্রয়োজন। আসলে কি জ্বালানি সংকটের ইস্যু? নাকি একটা গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে দলীয়করণ করে রাখা হবে—সেটা মূল ইস্যু। সংসদে জ্বালানিমন্ত্রী ও আইনমন্ত্রী উপস্থিত আছেন। আপনি (ডেপুটি স্পিকার) চাইলে এই বিষয়ে তাঁদের তরফ বিবৃতি দেওয়ার জন্য আহ্বান করতে পারেন।
জবাবে আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান বলেন, সংসদে একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু আনা হয়েছে। উনি (আখতার হোসেন) দু’টি বিষয় বলেছেন। প্যান্ডামিক অ্যান্ড অকওয়ার্ড। কিন্তু যেটা আনেননি সেটা হলো—অন্য যৌক্তিক সংগত কারণ যেটা আইনের মধ্যে আছে। ওই অংশটা উনি আনেননি। উনি সব বোঝেন, এটা যেমন মানি, কিন্তু যতটুকু ওনার প্রয়োজন ততটুকু উনি আনেন। এর বাইরের টুকু আনেন না। অবশ্যই নির্বাচনে যাওয়ার জন্যই আমরা দায়িত্ব গ্রহণ করার পরই বার কাউন্সিলের নির্বাচনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। বার কাউন্সিল একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান। তারা স্বকীয়ভাবে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেন।
তিনি বলেন, জ্বালানি মন্ত্রণালয়কে টেনে এনে বললেন শুধুমাত্র একটা কারণে—সেই প্রেস রিলিজ আমিও পড়েছি। উনি যে জিনিসটা বলেননি সেটা হলো ঢাকা বারসহ বেশ কয়েকটি বার অ্যাসোসিয়েশন থেকে বার কাউন্সিলের কাছে অনুরোধ এসেছে। তাদের ওখানে এখন নির্বাচন চলছে, তাদের নির্বাচনপ্রক্রিয়া সমুন্নত ও নির্বিঘ্ন রাখার জন্য বা কাউন্সিলের নির্বাচনটা পেছানোর জন্য বলেছেন। বার এসব অ্যাসোসিয়েশনের সেই অনুরোধটাও রক্ষা করেছেন। ফলে এই পার্টটা কিন্তু উনি বলেননি।
আইনমন্ত্রী বলেন, বার কাউন্সিল নিজস্ব মেধা প্রজ্ঞা স্বকীয়তা এবং স্বাধীনতা প্রয়োগ করে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সেই কারণে সেখানে আমরা কোনো হস্তক্ষেপ করিনি। আমরা চাই ওনার মতোই যে বার কাউন্সিলের একটি স্বাভাবিক নির্বাচন প্রক্রিয়ায় এগিয়ে যাক। সেই প্রক্রিয়া এগিয়ে যাওয়ার জন্য আমরা সেখানে হস্তক্ষেপের মধ্যে যাচ্ছি না। আমরাও চাই ওনার মতোই চাই বার কাউন্সিল স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিয়ে তাঁরা ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।