
ডেস্ক রিপোর্ট : দাকোপ উপজেলার রামনগর গ্রামের জনৈক কনক কান্তি রায়ের ছেলে উৎস রায় (২৫) নগরীর নর্থ ওয়েস্ট নামের একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তেন| তিনি বিশ্ববদ্যালয়ের বকেয়া সেশন ফিস দিতে না পারায় বাবা-মায়ের সাথে বকাঝকা করে হতাশা ও অভিমানের জেরে আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রাথমিক ভাবে জানা গেছে| গলায় গামছা পেচিয়ে ঘরের ফ্যানের হুকের সাথে ঝুলন্ত অবস্থা হতে মঙ্গলবার রাতে পুলিশ তার মরদেহ উদ্ধার করেছে|
নগরীর খুলনা সদর থানাধীন নিরালা আবাসিক এলাকায় একটি ছয় তলা ভবনের ৬ তলার ফ্লাটে একটি রুমে উৎস ভাড়া থাকতেন| তার বাবা-মা স্কুল শিক্ষক| উৎসর বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় ৭২ হাজার টাকা সেশন ফিস বাকী ছিল| সেই টাকা নিয়ে তার বাবা ও মায়ের সাথে বচসা হয়| এর জের ধরে তিনি আত্মহত্যা করছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে| পুলিশ তার মোবাইল ফোন চেক করে সর্বশেষ সন্ধা ৬ টায় তার পিতার সাথে মোবাইলে কথা হওয়ার রেকর্ড পান| বাড়ীর মালিক এবং নিহতের এক বন্ধুর পুলিশের বিশেষ শাখার এক কর্মকর্তাকে দেয়া তথ্যে এসব কথা উঠে এসেছে|
ভিকটিমের তিন জন বন্ধুর কাঁন্না শুনে বাড়ীওয়ালা ওই ফ্লাটে ওঠেন| তারা দরজারর ফাঁকা দিয়ে উৎসর ঝুলন্ত ও নিথর মরদেহ দেখে কাঁদছিলেন| পরবর্তীতে খবর পেয়ে নিরালা ফাঁড়ির পুলিশ রাত সাড়ে ১০ টার দিকে তার লাশ উদ্ধার করেন| তার গলায় বাঁধা গামছাটি আলামত হিসেবে জব্দ হয়| আত্মহত্যার খবর পেয়ে নিহতের ২০/৩০ জন বন্ধু এসেছিলেন| তাদের মধ্যকার একজন পুলিশের ওই কর্মকর্তাকে প্রায় ৭২ হাজার টাকা বিশ^বিদ্যালয়ের বকেয়া সেশন ফিসের কারণে তার বাবা-মার সাথে বাক-বিতন্ডার জেরে অভিমান করে আত্মহননের পথ বেছে নেওয়ার কথা জানান|
খুলনা সদর থানার (ওসি) মোঃ শফিকুল ইসলাম বলেন, ময়না তদন্ত শেষে মরদেহ নিহতের ¯^জনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে| বকেয়া সেশন ফিস নিয়ে বাক-বিতন্ডা এবং অভিমান সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আত্মহত্যা হয়েছে কিনা, এ ব্যাপারে তাৎক্ষনিকভাবে তিনি নিশ্চিত নন| অপমৃত্যু মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে| তদন্তে আত্মহত্যার প্ররোচনা কিংবা অন্য কোনো বিষয় উঠে আসলে, সে ঘটনায় মামলাটি রূপ নেবে|