1. mesharulislammonir1122@gmail.com : দৈনিক সংযোগ প্রতিদিন : দৈনিক সংযোগ প্রতিদিন
  2. info@www.sangjogprotidin.com : দৈনিক সংযোগ প্রতিদিন :
সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬, ০৩:২৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
মোরেলগঞ্জে ব্যবসায়ীর পরিবার আতংকে, হামলা ভাংচুর মারপিটে আহত ৩ ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে আর কত প্রাণ ঝরলে ৬-লেনে উত্তির্ন হবে? এফসিপিএস অধ্যাদেশ বাতিল ও ভাতার দাবিতে যশোরে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি যশোর প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় ইউপি সদস্য আটক যশোর মুক্তেশ্বরী নদী রক্ষা ও দখলমুক্ত করার দাবিতে স্মারকলিপি কালিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা র‍্যালি ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান দিঘলিয়া উপজেলা মৎস্যজীবী দলের সভা অনুষ্ঠিত বটিয়াঘাটায় চেতনা নাশক ঔষুধ দিয়ে চুরির চেষ্টা মূলশ্রী গ্রামের খাল কচুরিপানায় ভরাট, পরিষ্কারের দাবিতে ইউএনওর কাছে আবেদন রকিব উদ্দিন পান্নুকে আহ্বায়ক করে খুলনা সাংবাদিক ইউনিয়নের কমিটি গঠন

বাধাহীন হোক সাংবাদিকতা

  • প্রকাশিত: শনিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  • ১০১ বার পড়া হয়েছে

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি : সাংবাদিকদের মুখ্য উদ্দেশ্য হলো সাংবাদিকতাকে অবলম্বন করে জন-মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য ভূমিকা রাখা। সে কারণে গণমাধ্যমকে জনগণ ভরসার শেষ ঠিকানা মনে করেন। বাংলাদেশে সাংবাদিকতার ইতিহাসে সাংবাদিকদের ওপর বিভিন্ন সময় চালানো হয় জেল-জুলুম, নির্যাতন, অত্যাচার ও নিপীড়ন। সাংবাদিক হত্যার ঘটনাও নতুন নয়। আইনি জটিলতাও মুক্ত সাংবাদিকতায় বাধা সৃষ্টি করছে।
সাংবাদিকতা একটি মহৎ পেশা। এ পেশার মূল লক্ষ্য হলো মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করা। মানুষের কথা বলা। মানুষের সমস্যা, সমাজের নানা অসঙ্গতি অনিয়ম অবিচার তুলে ধরা। রাজধানী ঢাকার মতো মফস্বলেও এ পেশায় আত্মনিয়োগ করে সাংবাদিকরা জনসেবা ও সমাজকল্যাণ কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। কিছু পাওয়ার জন্য নয়, নিতান্ত ভালোবাসা ও জনসেবার মহৎ উদ্দেশ্য থেকে ঝুঁকিপূর্ণ এ পেশায় আসেন একজন প্রকৃত সাংবাদিক। একজন ভালো সাংবাদিককে যেমন সাহসী হতে হয়- তেমনি সত্যনিষ্ঠ ও নীতির প্রশ্নে আপসহীন এবং ন্যায়ের প্রশ্নে অবিচল থাকতে হয়। ঝুঁকি থাকলেও অনেকেই ভালোবাসার কারণে এ পেশাকে বেছে নেন এবং আজীবন সাংবাদিকতায় স্বতশ্চল থাকেন। যারা অকপট সততার সঙ্গে এ পেশায় সক্রিয় থাকেন তাদের এক ধরনের আত্মতৃপ্তি থাকে। ভালো কাজের জন্য আনন্দ থাকে। তাদের কাজ মানুষের জন্য কল্যাণ বয়ে আনে। বাহবা কুড়ানোর অভিপ্রায় ও অর্থলিপ্সুতা তাদের থাকে না। অর্থকড়ি উপার্জন তাদের উদ্দেশ্য নয়। প্রতিপত্তির চাহিদা থেকে একজন প্রকৃত সাংবাদিক দূরে থাকেন সবসময়। জনসেবার জন্য সাংবাদিকতা করেন। অমিত সাহস নিয়ে ছুটে যান খবরের কাছে। অনেক পরিশ্রম করে তথ্য তুলে আনেন ঘটনার গভীর থেকে। অসীম সাহসিকতার সঙ্গে নানা বৈরী পরিবেশের বিরুদ্ধে লড়াই করতে হয় অবিরাম। প্রচুর পড়াশোনা করতে হয় একজন ভালো সাংবাদিকের। যাতে তার লেখনীতে মেধার স্ফুরণ ঘটে। সাংবাদিকতা সম্পর্কে সঠিক ধারণা থাকা জরুরি। আমরা যে সমাজে বাস করি এখানে সাংবাদিকতার ঝুঁকি অনেক। অনেক সময় মামলা ও শারীরিক আক্রমণের শিকার হতে হয়। নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে সাংবাদিকতা করতে হয়। একজন সাংবাদিকের কাজ সমাজের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরা। সে জন্য গণমাধ্যমকে সমাজের দর্পণ বলা হয়। এই দর্পণে প্রতিবিম্বিত হয় সমাজের প্রতিচিত্র। অন্যায়, অনিয়ম, নিগ্রহ, শোষণ-বঞ্চনা ও অধিকার হরণের বিরুদ্ধে একজন সাংবাদিককে সোচ্চার থাকতে হয় সবসময়। চোখ রাঙানোকে গণ্য না করে নির্ভীক ও নিরলসভাবে কাজ করতে হয়। প্রচলিত সমাজ ব্যবস্থার চিত্র প্রত্যক্ষ করতে হয়। মানুষের সমস্যার কথা তুলে ধরার দায়িত্ব পালন করতে হয়। অনেক বাধা বিপত্তির মধ্যে তাদের দিন যায়। ক্ষমতাধরদের রক্ত চক্ষু উপেক্ষা করে সাহসিকতার সঙ্গে এগিয়ে যেতে হয়। অভাব অনটনের ভেতর শিরদাঁড়া সোজা করে দাঁড়াতে হয়। পরিশ্রম করতে হয় অনেক। সততা নীতি ও আদর্শ নিয়ে যারা সাংবাদিকতা করেন অর্থাভাব তাদের নিত্যসঙ্গী। টানাপড়েনের ভেতর দিয়ে তাদের চলতে হয়। সংসার চালানো তাদের জন্য বড় কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে। দারিদ্রের ঘেরাটোপে বন্দি থেকে তাদের জীবন কাটাতে হয়।
এর ব্যতিক্রম চিত্রও আমরা দেখতে পাই। অযোগ্য অর্বাচীন কিছু মানুষের পদচারণায় কলঙ্কিত হতে দেখা যায় বাংলাদেশের সাংবাদিকতার গৌরবময় জগৎ। কোনো মহৎ উদ্দেশ্য থেকে নয় অর্থ লিপ্সুতা থেকে এবং সমাজে প্রভাব তৈরি করার ইচ্ছে থেকে অনেকে এ পেশার সঙ্গে যুক্ত হন। ভুঁইফোড় সংবাদ মাধ্যমের সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে
তারা নানা ধান্ধাবাজি করে। নানারকম অপতৎপরতায় লিপ্ত থাকে। বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে টার্গেট করে সংবাদ পরিবেশনের হুমকি দেয়। ভয় ভীতি প্রদর্শন করে দেদারসে অর্থ আদায় করে। খুব অল্পসময়ের মধ্যে এরা অর্থ সম্পদের মালিক হয়ে যায় এবং একই ধরনের কিছুসংখ্যক ব্যক্তি মিলে গড়ে তোলে সাংবাদিক সিন্ডিকেট। এদের পড়াশোনা ও মেধার ঘাটতি থাকে। সাংবাদিকতার সঠিক সংজ্ঞাও এরা জানে না। দু’য়েক জন সাংবাদিকের সঙ্গে এরা সুসম্পর্ক তৈরি করে। এবং তাদের কাছ থেকে প্রাপ্ত লিখিত নিউজ কপি করে সংবাদ মাধ্যমে প্রেরণ করে। অজ্ঞতা অনেক থাকলেও এরা সাংবাদিকতার তকমা পরে ঘুরে বেড়ায়। লেখালেখির দক্ষতা এদের একেবারেই ক্ষীণ। শুদ্ধভাবে একটি বাক্য লেখার ক্ষমতা অনেকেরই নেই। এদের কারণে সাংবাদিকতা পেশার মর্যাদা নষ্ট হচ্ছে। কলুষিত হচ্ছে সাংবাদিকতার জগৎ। এদের চিহ্নিত করার পাশাপাশি এসব ব্যক্তির বিরুদ্ধে সবার রুখে দাঁড়ানো প্রয়োজন। সাংবাদিকতার মর্যাদা অক্ষুণ্ন ও সমুন্নত রাখার জন্য সাংবাদিকদেরই পদক্ষেপ নেয়া দরকার। এবং সাংবাদিকদের উচিত এদের অসহযোগিতা করা। ভুয়া সাংবাদিকদের নির্মূল করার জন্য মোক্ষম ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।

ঢাকার বাইরের সাংবাদিকদের প্রশিক্ষণ নেয়ার সুযোগ কম। ফলে সাংবাদিকতা সম্পর্কে তাদের ধারণা কম থাকে। মফস্বল সাংবাদিকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ দেয়া প্রয়োজন। মফস্বলে সাংবাদিকতার কারণে অনেক রকম বিপদে পড়ার আশঙ্কা বেশি থাকে। প্রশাসন কিংবা রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে সংবাদ সংক্রান্ত বিরোধ হলে সাংবাদিকদের কুটিল চক্রান্তের শিকার হতে হয়। সাংবাদিকদের নানা ফন্দি-ফিকির করে নানারকম ফাঁদ পেতে বিপদে জড়ানোর চেষ্টা করা হয়। মফস্বলে সাংবাদিকদের মধ্যে ঐক্যের অভাব লক্ষ্য করা যায়। ফলে সাংবাদিকদের সহযোগিতা করার মতো কাউকে পাশে পাওয়া যায় না। অথচ যদি সাংবাদিকরা ঐক্যবদ্ধ থাকে তাহলে সম্মিলিতভাবে যে কোনো পরিস্থিতির মোকাবিলা করা যায়। কারণ, ঐক্যবদ্ধ থাকার চেয়ে বড় শক্তি আর কিছুতে নেই।
বাংলাদেশের আধুনিক সাংবাদিকতায় বৈপস্নবিক পরিবর্তন সূচিত হয়েছে। আমাদের প্রাত্যহিক জীবনে সংবাদ মাধ্যমের গুরুত্ব অপরিসীম। সংবাদ মাধ্যম এখন ডিজিটাল যুগে পৌঁছে গেছে। প্রযুক্তির ব্যবহার সংবাদ মাধ্যম ও সাংবাদিকতার বাঁক পরিবর্তন করেছে। সাংবাদিকতা গণমুখী হয়েছে। জনপ্রিয় হচ্ছে অনলাইন সাংবাদিকতা। দেশে এখন অনলাইন সংবাদ মাধ্যমের সংখ্যা অনেক। প্রায়ই নতুন নতুন সংবাদ মাধ্যম আত্মপ্রকাশ করছে। পাঠক এখন খুব সহজে অল্প সময়ের ভেতর জানতে পারে ঘটে যাওয়া যে কোনো ঘটনার খবর। অপেক্ষা করতে হয় না। আগে অপেক্ষা করতে হতো। আগের দিনের ঘটনা জানা যেত পরের দিনের পত্রিকায়। এখন সময় বদলে গেছে। পাল্টে গেছে সংবাদপত্রের দীর্ঘদিনের প্রচলিত ধারা। বৈচিত্র্য এসেছে সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে। আধুনিক সাংবাদিকতায় নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে। একটি পত্রিকা কিংবা সংবাদ মাধ্যম এখন পাঠকদের চাহিদা মেটাতে পারে। বিভিন্ন বিভাগ সংযোজিত হচ্ছে সংবাদ মাধ্যমে। সম্পাদকীয়, উপসম্পাদকীয়, ফিচার কলাম, খেলাধুলা, বিনোদন, সাহিত্য, স্বাস্থ্য এবং শিক্ষার্থীদের শিক্ষাসহায়ক বিষয় গুরুত্ব সহকারে সংবাদ মাধ্যমে উপস্থাপিত হচ্ছে। গতানুগতিক দৃষ্টিভঙ্গির ও সাংবাদিকতার পুরনো ধাঁচ থেকে বেরিয়ে সংবাদ মাধ্যমগুলো আধুনিক, অনবদ্য দৃষ্টিভঙ্গি এবং নান্দনিকতায় পরিপুষ্ট হয়ে উঠেছে। সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে এখন ইন্টারনেট ব্যবস্থা যুক্ত হয়েছে। ফলে পৃথিবীর যাবতীয় দৈনন্দিন ঘটনাবলি মুহূর্তে জানার সুযোগ পাওয়া যাচ্ছে। বিশ্বের চলমান পরিস্থিতির সার্বিক চিত্র আমরা সহজেই দেখতে পাই। অনেক প্রতিকূল পরিবেশে প্রতিবেশের মধ্যে বাংলাদেশের সংবাদ মাধ্যমগুলো সর্বদাই গণমানুষের কথা তুলে ধরছে। সংবাদ মাধ্যমগুলো ক্ষুরধার লেখনী ও প্রচার এবং প্রকাশের মাধ্যমে বস্তুনিষ্ঠতা ও ন্যায় পরায়ণতার পরিচয় দিচ্ছে। আমাদের দেশে বর্তমানে স্বাধীন ও মুক্তচিন্তার সাংবাদিকতার পাশাপাশি দলীয় সাংবাদিকতাও লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক ঘটনাবলি, দলীয় দর্শন, সাংগঠিক সংবাদ ও কলাম বিশেষভাবে পরিবেশিত হচ্ছে।
সাংবাদিকদের মুখ্য উদ্দেশ্য হলো সাংবাদিকতাকে অবলম্বন করে জন-মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য ভূমিকা রাখা। সে কারণে গণমাধ্যমকে জনগণ ভরসার শেষ ঠিকানা মনে করেন। বাংলাদেশে সাংবাদিকতার ইতিহাসে সাংবাদিকদের ওপর বিভিন্ন সময় চালানো হয় জেল-জুলুম, নির্যাতন, অত্যাচার ও নিপীড়ন। সাংবাদিক হত্যার ঘটনাও নতুন নয়। আইনি জটিলতাও মুক্ত সাংবাদিকতায় বাধা সৃষ্টি করছে।
এসব বন্ধ করতে হলে একত্রিত হতে হবে। সম্মিলিতভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলার প্রচেষ্টা চালাতে হবে। নিজেদের মধ্যে বিভাজন দূর করতে হবে। তা না হলে সমস্যা থেকেই যাবে। কেবল সংঘবদ্ধভাবে এসব সমস্যার উত্তরণ ঘটাতে সম্ভব। মুক্ত সাংবাদিকতার চর্চাকে বাধাহীন করতে হলে এবং সাংবাদিকদের সুরক্ষা ও সব ধরনের সংকট নিরসনের জন্য সব সাংবাদিকের এক সারিতে দাঁড়াতে হবে। তাহলেই পরিশুদ্ধ সাংবাদিকতার পরিবেশ সৃষ্টি করা যাবে এবং মুক্ত সাংবাদিকতা চর্চার ক্ষেত্রে অবদান রাখার উদাহরণ সৃষ্টি করা সম্ভব হবে।

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত -২০২৫, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।