
তবে নির্মাণের আগেই সড়ক নষ্ট হওয়ার পেছনে দায়ী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মোজাহার এন্টারপ্রাইজের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
সড়ক বিভাগ থেকে জানা গেছে, খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়কের দৈর্ঘ্য ৬৪ কিলোমিটার। সড়কের খুলনা অংশে রয়েছে ৩৩ কিলোমিটার। জিরোপয়েন্ট থেকে উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, মুহাম্মদনগর রেলস্টেশন এলাকা এবং চুকনগর বাজার ও ১৮ মাইলের দিকে যেতে কিছু অংশে ভয়াবহ অবস্থা বিরাজ করছে।
সূত্রটি জানায়, সড়কের সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত ২ দশমিক ৩০০ কিলোমিটার এলাকা ১৮ ইঞ্চি করে ঢালাই দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে জিরোপয়েন্ট থেকে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি কার্যালয়ের বিভিন্ন অংশে ১১৫০ মিটার এবং চুকনগর বাজার এলাকার ১২০০ মিটার ঢালাই দেওয়া হবে। সড়কের প্রথম ৪ ইঞ্চি সিসি (রড ছাড়া প্লেইন সিমেন্ট কংক্রিট) এবং পরবর্তী ১৪ ইঞ্চি আরসিসি রিইনফোসর্ড সিমেন্ট কংক্রিট বা রড দিয়ে ঢালাই দেওয়া হবে)। এজন্য গত ১৮ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স এম. এ. ইঞ্জিনিয়ারিং ও জে এন্টারপ্রাইজকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে। আগামী ৩ ডিসেম্বরের মধ্যে তাদের কাজ শেষ করতে হবে। চুক্তি অনুযায়ী এই কাজে ব্যয় হবে ২৪ কোটি ৯২ লাখ টাকা।
খুলনা সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. তানিমুল হক পূর্বাঞ্চলকে বলেন, ধারণ ক্ষমতার চাইতে অতিরিক্ত লোডের যানবাহন চলাচল করায় সড়কটি দ্রæত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এজন্য পিরিয়ডিক মেইনটেন্যান্স প্রোগ্রামের (পিএমপি) মাধ্যমে সড়কটি সংস্কার করা হবে। গত ১৮ জুন ঠিকাদারকে কার্যাদেশ দেওয়া হলেও অব্যাহত বৃষ্টির কারণে সড়কের কাজ শুরু করা যায়নি। তবে আশার কথা হচ্ছে সড়কের কাজ শুরু হয়েছে এবং দ্রæত গতিতে এগিয়ে চলছে। আশা করা যাচ্ছে, নির্ধারিত সময়েরই আগেই সড়কের কাজ শেষ হবে। তখন দুর্ভোগ অনেকটাই কমে যাবে।
বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির সভাপতি শেখ আশরাফ উজ জামান বলেন, শত কোটি টাকা দিয়ে সংস্কারের বছর ঘুরতেই সড়ক ভাঙবে, আবার কোটি টাকা খরচ করে ঠিক করা হবে-এ যেন চোর পুলিশ খেলা। আগের বার সংস্কারে কারও গাফিলতি থাকলে, নি¤œমানের কাজের প্রমাণ পেলে সবার আগে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। পাশাপাশি বর্তমান কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করতে হবে। নতুন করে ২৫ কোটি টাকা খরচের পরও যদি দুর্ভোগ তৈরি হয়-তাহলে সবাইকে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে।