
ডুমুরিয়া প্রতিধি : ডুমুরিয়ায় দুইজন মুক্তিযোদ্ধার বিরুদ্ধে স্বার্থ বিরোধি কর্মকাণ্ডের অভিযোগ উঠেছে। প্রভাব বিস্তার করে তারা বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্পত্তি অবৈধভাবে দখলে রেখে পরিচালনা ও ক্ষমতার অপব্যবহার অব্যাহত রেখেছে। রবিবার (২৬ অক্টোবর) ১১টায় ডুমুরিয়া মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ভবনে বীর মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ কমিটি সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ তুলে ধরেন। মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সংবিধান ও মুক্তিযোদ্ধাদের স্বার্থ বিরোধী কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ কমিটির আহবায়ক এফ এম নুরুন নবী চৌধুরী।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহনকারী ডুমুরিয়া উপজেলায় ১০৫ জন মুক্তিযোদ্ধার নাম রয়েছে। তাদের মধ্যে মৃত্যুবরণ করেছেন ৫০জন। বাকি ৫৫ জন মুক্তিযোদ্ধার মধ্যে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় শয্যাসায়ী, রয়েছেন ৫/৭জন ও ভারতে রয়েছেন ৩ জন। ১৯৮৩ সালে ডুমুরিয়া মৌজায় ১ ও ২ নং খতিয়ানের বিভিন্ন দাগে ২ একর সম্পত্তি মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডারের নামে বন্দোবস্ত দেয় সরকার। ওই সম্পত্তির উপর ২০১৪ সালে সরকারি অর্থায়নে ৩ তলা বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন নির্মিত হয়। এছাড়া মুক্তিযোদ্ধাদের নিজস্ব অর্থায়নে ২০১৭ সালে (কমপ্লেক্স ভবনের পাশে) মুক্তিযোদ্ধাদের জায়গায় একটি মার্কেট নির্মাণ করা হয়। যে মার্কেটের উপর্জিত অর্থ বীর মুক্তিযোদ্ধা ও পরিবারকে বিভিন্ন খাতে আর্থিক সহায়তা দেয়ার কথা থাকলেও আজো তা সম্পূর্ণরূপে বাস্তবায়ন হয়নি। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের অর্থে নির্মিত মার্কেট ও সংগৃহিত জমির কিছু অংশ বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ ফিরোজ রহমান ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মোবারেক সরদারসহ মুক্তিযোদ্ধা সন্তান শিক্ষক রিয়াজুল ইসলাম দখল করে আছেন। সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়েছে, মুক্তিযোদ্ধা শেখ ফিরোজ রহমান মুক্তিযোদ্ধাদের নামে বরাদ্দকৃত জমিতে কমিটির অনুমতি ছাড়া ফ্লাট বাড়ি নির্মাণ করে ঘর ভাড়া দিয়েছে এবং কমপ্লেক্স’র সীমানা প্রাচীর ভেঙ্গে নিজের পারিবারিক যাতায়াতের রাস্তা করাসহ তার ছেলে মোঃ রিয়াজুল ইসলামও বিধি বহির্ভূতভাবে মুক্তিযোদ্ধাদের জমিতে দালানঘর তৈরি করে স্বপরিবারে সেখানে বসবাস করছেন। প্রভাব বিস্তার করে তিনি মুক্তিযোদ্ধা মার্কেট অনিয়মতান্ত্রিকভাবে পরিচালনাসহ সম্পত্তি আত্মসাতের চেষ্টা, এক মুক্তিযোদ্ধার নামে বরাদ্দকৃত দোকান কৌশলে নিজে দখল করা, মার্কেটের চুক্তিপত্রের নিয়ম ভঙ্গ করে মার্কেট ক্ষতিগ্রস্থ করা, কমপ্লেক্সের সোলার প্রজেক্ট থেকে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ ব্যবহার করায় প্রজেক্ট প্লান্টের লক্ষাধিক টাকা ক্ষতি করাসহ বিভিন্ন অভিযোগ করা হয়েছে রিয়াজুলের বিরুদ্ধে। মুক্তিযোদ্ধা মোবারেক সরদারও নিজের মত করে মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সম্পত্তি দখল করে ভবন নির্মান করে সেখানে বসবাস করছেন। এ বিষয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ ফিরোজ রহমান বলেন, ৭১’র বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে সরকার আমার নামে জমি বন্দোবস্ত দেয়। আগে গোলপাতার ঘর ছিলো। ঝড়-বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার পর ৫/৬ বছর হবে পাকা ঘর করেছি। সম্পত্তি নবায়নের জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন। এদিকে মুক্তিযোদ্ধা মোবারেক সরদার বলেছেন, নিয়ন মেনে শান্তিপূর্ণভাবে ২৫ বছরের দখলে রয়েছি আমি। এটা মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে গ্রুপিংয়ের বহিঃপ্রকাশ! সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, ডুমুরিয়া মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার নুরুল ইসলাম মানিক, ডেপুটি মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আবু তালেব হাওলাদার, গাজী নজিম উদ্দিন, বিভাষ চন্দ বৈরাগী, কুমুদ রঞ্জন, নির্মল মল্লিক, রবীন্দ্রনাথ বৈরাগী, ভোলানাথ বৈরাগী, অন্নদা কবিরাজ, সন্তোষ রাহা, ক্ষীরোদ চন্দ্র বৈরাগী, চিত্তরঞ্জন মন্ডল, নিমাই মন্ডল প্রমুখ।