1. mesharulislammonir1122@gmail.com : দৈনিক সংযোগ প্রতিদিন : দৈনিক সংযোগ প্রতিদিন
  2. info@www.sangjogprotidin.com : দৈনিক সংযোগ প্রতিদিন :
রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬, ০১:২৬ পূর্বাহ্ন

৩ থেকে‌৫‌ নভেম্বর সুন্দরবনের দুবলার রাস মেলা

  • প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৫
  • ১৭৯ বার পড়া হয়েছে

বিশেষ প্রতিনিধি : সুন্দরবনের দুবলারচরে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের রাস উৎসব হতে যাচ্ছে ৩-৫ নভেম্বর। তবে গত বছরের মতো এবারও হচ্ছে না রাসমেলা। জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, দূষণ রোধের স্বার্থে পুণ্যার্থী ছাড়া অন্য কেউ ওই সময় সুন্দরবন ভ্রমণ করতে পারবে না। তাদেরও যেতে হবে নির্দিষ্ট পথে, জাতীয় পরিচয়পত্র নিয়ে (সমকাল, ১৯ অক্টোবর ২০২৫)।
সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষার বিষয়টি কেবল পর্যটকের সংখ্যা ও আচরণের ওপর নির্ভরশীল নয়। বলা বাহুল্য, বিভিন্ন সময়ে উপকূলে ঘূর্ণিঝড়ের আঘাতের বড় অংশ সুন্দরবন বুক পেতে নিলেও প্রতিবছর বিশ্বের বৃহত্তম এই ম্যানগ্রোভ আরও দুর্বল, আরও লবণাক্ত, আরও খণ্ডিত হয়ে পড়ছে। দেশের এই প্রাকৃতিক ঢালকে রক্ষায় আমরা তাকাতে পারি পূর্বমুখে; মেকং ব-দ্বীপের ম্যানগ্রোভের দিকে, ভিয়েতনাম যেটার টেকসই পুনরুদ্ধার নিশ্চিত করেছে।
সুন্দরবনের সংকট জটিলতর, সন্দেহ নেই। গত দুই দশকে উপকূলীয় অঞ্চলের কিছু অংশ সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি ও ক্ষয়ের চাপে হারিয়ে গেছে; লবণাক্ততা ভেতরের দিকে গিয়ে ফসল ও পানীয় জলের ভিত্তি দুর্বল করেছে। গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র ব্যবস্থায় উজানের নিয়ন্ত্রণের কারণে স্বাদু পানির প্রবাহ কমেছে। উপরন্তু চিংড়ি চাষ বহু জায়গায় সুরক্ষামূলক সবুজ বনভূমি উজাড় করেছে। মধু, মাছ, কাঁকড়া ও বনজ সম্পদের ওপর নির্ভরশীল লাখ লাখ প্রান্তিক অধিবাসীর জীবন ও জীবিকা ঘূর্ণিঝড় ও জোয়ারের ঢেউয়ে আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠছে। টহল, নিষেধাজ্ঞা, জরিমানার মতো ঐতিহ্যগত সংরক্ষণ কৌশল এসব বহুস্তরীয় ঝুঁকির সামনে দুর্বল। সুন্দরবনকে কেবল পাহারায় বাঁচানো যাবে না। এর জন্য প্রয়োজন মানুষ, স্থানীয় মালিকানা আর প্রতিবেশ ও জীবিকার মেলবন্ধন।
নব্বইয়ের দশকে ভিয়েতনামের রেড রিভার ও মেকং ডেল্টা একই সংকটে পড়েছিল; ধ্বংসপ্রাপ্ত ম্যানগ্রোভ, মৎস্য সম্পদ হ্রাস, ঘন ঘন ঝড়ে বাঁধ ও অবকাঠামোর ক্ষতি। অবনতি ঠেকাতে ভিয়েতনাম সরকার রেড ক্রস ও নারী ইউনিয়নের মাধ্যমে কম খরচে, কমিউনিটিনির্ভর চারা পুনঃরোপণ কর্মসূচি চালু করে। বন-সংলগ্ন গ্রামবাসী নারী ও ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী দৈনিক মজুরিতে স্থানীয় ম্যানগ্রোভ প্রজাতির নার্সারি স্থাপন, চারা রোপণ, সেগুলো বাঁচাতে বাঁশের বেড়া নির্মাণ করে। এক দশকের মধ্যে সমুদ্রপ্রাচীর ও প্রতিরক্ষা বাঁধের ঝড়জনিত ক্ষতি উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেল এবং মাছ-কাঁকড়ার আহরণ বেড়ে গেল। ব্যয়বহুল কংক্রিট বাঁধের বদলে সেখানে গড়ে উঠল সাশ্রয়ী ও পরিবেশসম্মত জীবন্ত ঢাল, যা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আরও শক্তিশালী বৈ দুর্বল হয় না।
বাংলাদেশ ও ভিয়েতনামের ব-দ্বীপের মধ্যে অনেক মিল; উষ্ণমণ্ডলীয় আবহাওয়া, লবণাক্ত মাটি, জোয়ার-ভাটা, মৎস্য ও বনজ সম্পদনির্ভর জীবিকা। যে ভিত্তি দিয়ে ভিয়েতনাম শুরু করেছে, বাংলাদেশের তা এখনই বিদ্যমান; ইউনিয়ন পরিষদ, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচি, বিস্তৃত এনজিও নেটওয়ার্ক। খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাটের ঝুঁকিপূর্ণ প্রতিটি ইউনিয়ন যদি উপকূলীয় সহনশীলতার জন্য অল্প পরিমাণ অর্থও বরাদ্দ পায়, সেটা দিয়ে সহজেই ম্যানগ্রোভ নার্সারি, চারা রোপণ ও বাঁশের বেড়া স্থাপন করতে পারে। একই বরাদ্দ প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য এক ধরনের জলবায়ু মজুরি হিসেবে কাজে লাগতে পারে। বন বিভাগ প্রশিক্ষণ দেবে, তদারকি ও কাজের মান নির্ধারণ করবে। বননির্ভর জনগোষ্ঠী কাজ করবে এবং লাভের অংশও পাবে।
এ লক্ষ্যে জাতীয় উপকূলীয় ম্যানগ্রোভ মিশন নেওয়া যায়, যেটি সমন্বয় করবে পরিবেশ মন্ত্রণালয় ও বন বিভাগ এবং বাস্তবায়ন করবে ইউনিয়ন পরিষদ ও স্বীকৃত এনজিওগুলো। স্বচ্ছতার জন্য খোলা ড্যাশবোর্ডে অগ্রগতি দেখিয়ে সামগ্রিক ব্যবস্থা করা যায়। ভিয়েতনামের দিকে তাকালে এটাই সুস্পষ্ট হয়, নারীকে অগ্রাধিকার দেওয়ায় সামগ্রিক সফলতা সুনিশ্চিত হয়েছে। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য বরাদ্দ এই অর্থ ত্রাণ নয়; মর্যাদাপূর্ণ আয় হিসেবে গণ্য হবে। সুন্দরবন ব্লু কার্বন ফান্ড গড়ে কার্বন সংরক্ষণে অর্থায়নের ব্যবস্থা করা যায়; সেই সঙ্গে গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ড ও বিশ্বব্যাংক থেকে সহায়তা নিয়েও অর্থায়নের ব্যবস্থা। যেহেতু সুন্দরবন সীমারেখায় বিভক্ত প্রতিবেশ ব্যবস্থা, তাই বাংলাদেশ ও ভারত যৌথভাবে লবণাক্ততা, পলি ও উপকূলরেখা পরিবর্তনের তথ্য বিনিময় করতে পারে।
ভিয়েতনামের দিকে তাকানোর পাশাপাশি নিজেদের ভুল থেকেও শিক্ষা নিতে হবে। বাংলাদেশ আগেও গাছ লাগানোর চেষ্টা করেছে। সেখানে ভুল ছিল একক প্রজাতি রোপণ, রক্ষণাবেক্ষণে গাফিলতি এবং চারাগুলো রক্ষায় স্থানীয়দের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনার ঘাটতি। সঠিক পদ্ধতিগুলো তো স্পষ্ট: স্থান-উপযুক্ততাভেদে নানা প্রজাতির চারা রোপণ; সঠিকভাবে বাঁশের বেড়া দেওয়া, মৌসুমভেদে সুনির্দিষ্ট যত্ন নেওয়া, উপযুক্ত নিয়মে কাটা এবং চারা রোপণের প্রতিটি অংশের দায়িত্ব স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে দেওয়া। সুন্দরবন পুনরুদ্ধার তখনই সফল হবে, যখন স্থানীয় জনগোষ্ঠী মনে করবে, তারা নিজেদের মালিকানা রোপণ করছে; শুধু গাছ নয়।
উপর্যুক্ত পদক্ষেপগুলো নেওয়ার পর তিনটি বর্ষা মৌসুমের মধ্যেই সাফল্য চোখে পড়বে বলে আমার ধারণা। ঝুঁকিপূর্ণ তীরে নতুন গাছগুলোর কারণে জলোচ্ছ্বাসের সময় উপচে পড়া পানি অনেকাংশে কম হবে। জেলেরা আরও ভালো করে মাছ আহরণ করতে পারবে এবং নারীর নেতৃত্বে সংগঠিত সমবায় ব্যবস্থার নার্সারিগুলো ও পণ্য স্থিতিশীল আয় করবে।
জলবায়ু পরিবর্তনের কঠোর থেকে কঠোরতর হয়ে ওঠা অভিঘাতের বিরুদ্ধে সুন্দরবন আমাদের প্রতিরক্ষা দুর্গ। ভিয়েতনাম দেখিয়েছে, প্রকৃতি রক্ষা ও মানুষের ক্ষমতায়ন একই সঙ্গে হতে পারে। সেটা সুন্দরবনেও সম্ভব, যদি এখনই সুনির্দিষ্টভাবে ভিয়েতনামের মতো পরিবেশ পুনর্গঠনের পদক্ষেপ নেওয়া যায়।

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত -২০২৫, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট