1. mesharulislammonir1122@gmail.com : দৈনিক সংযোগ প্রতিদিন : দৈনিক সংযোগ প্রতিদিন
  2. info@www.sangjogprotidin.com : দৈনিক সংযোগ প্রতিদিন :
মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬, ০৮:০৭ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
শ্যামনগর প্রেসক্লাবের সভাপতি ‌‌মনিরের উপর হামলা, ৪ যুবদল নেতা বহিষ্কার ফুলতলায় ৯ম শ্রেণীর শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা খুলনায় মোবাইল কোর্ট অভিযানে দুইটি প্রতিষ্ঠানকে ৬০ হাজার টাকা জরিমানা তালায় সূর্যমুখী চাষে সম্ভবনার দুয়ার উন্মোচ মহেশপুর সীমান্তে কোটি টাকা মুল্যের মাদক ও ডিএনএ টেষ্ট কিট উদ্ধার মহেশপুরে প্রণোদনার বীজ ও সার বিতরণ সুন্দরবনে জাহাঙ্গীর বাহিনীর সদস্য অস্ত্রসহ আটক পাইকগাছায় নবাগত স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আহসানারা অবৈধ ও ঝুঁকিপূর্ণ যানবাহনের দাপটে আতঙ্কিত কালিয়া-চাপাইল প্রধান সড়ক প্রতিমন্ত্রী ড. লায়ন ফরিদকে ফোয়াব’র প্রকাশনা গ্রন্থ হস্তান্তর

পাইকগাছায় প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে চলছে পাখি শিকারের মহোৎসব

  • প্রকাশিত: সোমবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ১০০ বার পড়া হয়েছে

পাইকগাছা প্রতিনিধি : আইনে কঠোর নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও পাইকগাছার খাল-বিল, ধানক্ষেত ও জলাশয়জুড়ে রীতিমতো পাখি হত্যার মহোৎসব চলছে। প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে শিকারিরা প্রতিদিন নতুন কৌশলে দেশি-বিদেশি নানা প্রজাতির পাখি শিকার করছে। শীত মৌসুমে পাখি হত্যার উন্মাদনা থামেনি বরং আরও বেড়েছে শিকারিদের তৎপরতা। উপজেলার বিভিন্ন বিলে খুঁটি পুঁতে বিশাল কারেন্ট জাল টাঙিয়ে তৈরি হচ্ছে ভয়াবহ ফাঁদ। কয়েক একরজুড়ে বিস্তৃত এসব জালে সকাল হলে ঝুলতে দেখা যায় বালিহাঁস, সাদা বক, পানকৌড়ি, সরালী, শামুকখোলসহ নানা পাখির নিথর দেহ। উপজেলার বয়রা, কচুবুনিয়া, বাইসারাবাদ, তেঁতুলতলা, লতা, হানিমুনকিয়া, দেলুটি, সোলাদানা, খড়িয়া, চকবগুড়া, আমিরপুর, বাইনবাড়ীয়া, কুমখালী এবং পৌরসভার বিভিন্ন বিলে একই দৃশ্য। এলাকাবাসীর ভাষ্য—“কখনো ফসলের ক্ষেতে, কখনো ঘেরের পাশে, আবার কখনো খালের ধারে জাল দেখে আমরা ভয়ে যাই। রাতে পাতা জালে সকালে মৃত পাখি পড়ে থাকে স্তূপ করে।”প্রচলিত ফাঁদের পাশাপাশি এবার যোগ হয়েছে আরও ভয়াবহ একটি পদ্ধতি। শিকারিরা ইন্টারনেট থেকে পাখির ডাক রেকর্ড করে সাউন্ড বক্সে বাজিয়ে ধানক্ষেত, বিল ও ঘেরের পাশে ফাঁদ পেতে বসে থাকে।এই নকল ডাক শুনে আশপাশের পরিযায়ী পাখি মনে করে তাদের দল ডাকছে—আর দলবেঁধে এসে ধরা পড়ে ফাঁদে। একজন স্থানীয় কৃষক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,“এটা হত্যার চেয়েও ভয়ংকর। পাখির ডাক নকল করে ওদের প্রতারণা করা হচ্ছে। ওরা নিরাপদ মনে করে আসে, আর মৃত্যুর মুখে পড়ে।”শুধু জাল নয়—অনেক শিকারি মাছ, ব্যাঙ, ফড়িং জাতীয় খাদ্যে বিষ মিশিয়ে ফাঁদ পেতে রাখে। খাদ্যের সন্ধানে আসা পাখিরা এসব বিষ খেয়ে অল্পক্ষণেই মাটিতে পড়ে গিয়ে ছটফট করতে করতে মারা যায়। প্রতিদিনই এভাবে শত শত পাখি নিধন হচ্ছে—কেউ দেখছে, কেউ দেখেও না দেখার ভান করছে। স্থানীয় বাজার, চায়ের দোকান ও ঘাটে মাঝেমধ্যেই দেখা যায় ৩০ টাকা থেকে ৫০০ টাকায় পাখি বিক্রি হচ্ছে। কেউ রসনার তৃপ্তির জন্য, কেউ শখে কিনে নিয়ে যায়। মনে রাখা জরুরি—এ পাখিগুলো শুধু খাদ্য নয়, পরিবেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ। বাংলাদেশে প্রায় ৭৪০ প্রজাতির পাখি রয়েছে, আর বিশ্বে আছে প্রায় ১০ হাজার প্রজাতি। এদের অনেকেই প্রতিবছর শীত এলেই পাইকগাছার মতো উপকূলীয় এলাকায় আশ্রয় নেয়। কিন্তু নির্বিচারে শিকার, বিষটোপ, শব্দদূষণ ও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে পাখিদের অস্তিত্ব চরম হুমকির মুখে। পরিবেশবিদদের মতে— “যে সমাজ তার পাখিদের রক্ষা করতে পারে না, সে সমাজ নিজের ভবিষ্যৎ রক্ষা করতে পারবে না।”বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন ২০১২ অনুযায়ী পাখি শিকার, হত্যা, বিক্রি, পরিবহন—সবই শাস্তিযোগ্য অপরাধ। কিন্তু পাইকগাছায় আইন প্রয়োগ খুবই দুর্বল। দুই-একটি অভিযান হলেও শিকারিরা আবার ফিরে আসে আগের চক্রে। এলাকাবাসীর দাবি—“চাই নিয়মিত অভিযান, রাতের টহল, জাল জব্দ, জরিমানা। না হলে আগামীতে পাখি আর দেখা যাবে না।”পাখি বাঁচলে প্রকৃতি বাঁচবে—প্রকৃতি বাঁচলে মানুষ বাঁচবে। পাইকগাছার বিল, মাঠ, জলাশয়—কত গল্প লুকিয়ে রেখেছে এই পাখিরা। তারা শুধু আকাশের সৌন্দর্য নয়; তারা প্রকৃতির বার্তা। আজ যদি আমরা তাদের বাঁচাতে না পারি, কাল আমাদের সন্তানরা আর পাখির ডাক শুনে বড় হতে পারবে না। পাখিদের ডানা যেন না ছিঁড়ে যায় আমাদের অমানবিকতায়—এখনই সময় শিকার বন্ধে একসঙ্গে দাঁড়ানোর।

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০৩১  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত -২০২৫, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট