
ডেস্ক রিপোর্ট : দেশে পেঁয়াজের অপচয় কমাতে বড় উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। পেঁয়াজ ও রসুন উৎপাদন বেশি হয়—এমন এলাকাগুলোতে মোট আট হাজার এয়ার-ফ্লো মেশিন স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে এ তথ্য দেন তিনি। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
কৃষিমন্ত্রী জানান, পেঁয়াজ সংরক্ষণে কৃষক পর্যায়ে প্রণোদনার মাধ্যমে ইতোমধ্যে বিভিন্ন উপজেলায় এয়ার-ফ্লো মেশিন সরবরাহ করা হয়েছে। এর মধ্যে পাংশা উপজেলায় ৫০৫টি, কালুখালি উপজেলায় ২৬০টি এবং বালিয়াকান্দি উপজেলায় ৪৯৫টি মেশিন স্থাপন করা হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, বায়ু প্রবাহ পদ্ধতিতে পেঁয়াজ ও রসুন সংরক্ষণ আধুনিক করতে কৃষি বিপণন অধিদফতর একটি প্রকল্প নিয়েছে, যা বর্তমানে কৃষি মন্ত্রণালয়ে পর্যালোচনায় রয়েছে। প্রকল্প অনুমোদন পেলে রাজবাড়ীসহ অন্যান্য উৎপাদনশীল এলাকায় এই মেশিন স্থাপন করা হবে। শুধু রাজবাড়ীর কয়েকটি উপজেলাতেই ৮০০ থেকে এক হাজার মেশিন বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
সংসদে প্রশ্নোত্তরে এক সংসদ সদস্য বলেন, দেশে চাহিদা অনুযায়ী পেঁয়াজ উৎপাদন হলেও সংরক্ষণের অভাবে প্রতি বছর ছয় থেকে সাত লাখ মেট্রিক টন পেঁয়াজ নষ্ট হয়। একটি আধুনিক সংরক্ষণাগার (মডেল ঘর) তৈরি করতে চার থেকে সাড়ে চার লাখ টাকা খরচ হয়, যেখানে ৬০০ থেকে ৮০০ মণ পেঁয়াজ সংরক্ষণ করা সম্ভব।
জবাবে কৃষিমন্ত্রী বলেন, দেশে উৎপাদিত পেঁয়াজের ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত সংরক্ষণ সংকটে নষ্ট হয়। তবে এয়ার-ফ্লো প্রযুক্তি ব্যবহার করলে আট থেকে নয় মাস পর্যন্ত পেঁয়াজ সংরক্ষণ করা সম্ভব এবং অপচয় কমে মাত্র ২ থেকে ৪ শতাংশে নেমে আসে।
তিনি আরও জানান, আগামী মৌসুমেই উৎপাদনশীল এলাকায় দ্রুত আরও প্রায় এক হাজার এয়ার-ফ্লো মেশিন সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এতে পেঁয়াজের অপচয় কমবে এবং দেশ পেঁয়াজ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ার পথে এগোবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।