
মাদারীপুর প্রতিনিধি : মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার মাদবরের চর হাট থেকে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় ও উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অমান্য করে খাস আদায়ের অভিযোগ উঠেছে| বৃহস্পতিবার থেকে সেখানে শিবচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে খাস আদায় করা হচ্ছে|
স্থানীয় ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, শিবচর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী মাদবরের চর হাটটি সমিরদ্দিন মাদবর ওয়াকফ এস্টেট ও রহিমদ্দিন মাদবর ওয়াকফ এস্টেটের| কয়েক যুগের ব্যবধানে হাট, হাটের জমি ও নিয়ন্ত্রণ মূল মালিক পক্ষের হাত থেকে প্রভাবশালীদের কাছে চলে যায়| এ বিষয়ে বারবার জেলা প্রশাসনে অভিযোগ জানিয়েও কোন সমাধান মেলেনি| বাধ্য হয়ে মোতাওয়াল্লিদের পক্ষে তছলিম চৌধুরী ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওয়াক&ফ প্রশাসকের কার্যালয়ে আবেদন করেন| তাঁর আবেদনের ভিত্তিতে জেলার ওয়াক&ফ কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসককে আদেশ দেওয়া হয়| ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওয়াক&ফ প্রশাসকের কার্যালয়ে আদেশ অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা না নেওয়ায় উচ্চ আদালতে যান মোতাওয়াল্লি তছলিম চৌধুরী|
এ বিষয়ে হাইকোর্ট বিভাগে রিট পিটিশন (নং ১০৫/২০২৫ মামলা) করা হলে ২০২৫ সালের ২৭ জুলাই আদালত আদেশ প্রতিপালন করতে নির্দশেনা দেন জেলা প্রশাসনকে| সেই আদেশ পালন না করায় আবারও আদালতে যায় এস্টেট কর্তৃপক্ষ| ২০২৫ সালের ১১ নভে¤^র মোতাওয়াল্লির পক্ষে রায় দেন আদালত| এ বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা না নেওয়ায় ও হাটের ইজারা কার্যক্রমের পরিপ্রেক্ষিতে উচ্চ আদালতে গিয়ে আদালত অবমাননার অভিযোগ তুলে আবেদন করেন মোতাওয়াল্লি তছলিম চৌধুরী| চলতি বছরের ১৬ মার্চ এই বিষয়ে আদালত জেলা প্রশাসনকে চার সপ্তাহের মধ্যে কারণ দর্শানো নোটিশ দেন| পাশাপাশি একই দিন হাটের ইজারা কার্যক্রম ছয় মাসের জন্য স্থগিতের আদেশ দেন|
মোতাওয়াল্লি তছলিম চৌধুরীর ভাষ্য, গত সরকারের মতো এখনও আরেকটি চক্র প্রভাব বিস্তার শুরু করেছে| প্রশাসনের সহায়তায় শিবচরের ঐতিহ্যবাহী মাদবরের চর হাটটি লুটেপুটে খাওয়ার চেষ্টা চলছে| ওয়াক&ফ সম্পত্তি হলেও বছরের পর বছর বিভিন্ন দপ্তরে ধরনা দিয়ে উচ্চ আদালতের রায় পান|
শিবচরের ইউএনও এইচ. এম. ইবনে মিজান বলেন, ‘আদালতের আদেশ পেয়েছি| আপিলের কার্যক্রম চলমান| এটি পেরিফেরি হাটের তালিকাভুক্ত থাকায় আপিলের আগেই খাস কালেকশন করা হয়েছে| কয়েকটি রেকর্ড অনুযায়ী মাদবরের চর হাটটি সরকারি সম্পত্তি| তাই খাস কালেকশন করা হচ্ছে|’
মাদারীপুরের জেলা প্রশাসক মর্জিনা আক্তার বলেন, বিষয়টির সঠিক সমাধান আদালতের আদেশ অনুসারেই হবে| আইনের বাইরে কিছু করার সুযোগ আমি দেখছি না| মাদবরের চর হাটটির বিষয়টির আরো বিস্তারিত ভাবে খোঁজ খবর নিয়ে দেখবো|