
দশমিনা(পটুয়াখালী)প্রতিনিধি : পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের সড়ক কিংবা বসতঘরের আশেপাশে দেশি প্রজাতির হিজল-তমাল-জারুল ও কৃষ্ণচূড়া ফুল গাছ এখন আর আগের মতো চোখে পড়ছে না| জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে সাথে প্রতিনিয়ত দেশী প্রজাতির গাছগুলো বিলুপ্ত হতে চলছে| প্রকৃতিকে সাজাতে এবং আলোকিত করতে দেশি প্রজাতির এই গাছগুলোর শাখা-প্রশাখায় রক্তিম ফুলে ভরে উঠতো| গাছে গাছে পাখির কলকাকলি আর কিচির মিচির শব্দে প্রকৃতিতে নব জীবন ফিরে আসতো| ফুলে ফুলে রঙিন করা হিজল-তমাল-জারুল ও কৃষ্ণচূড়া গাছের রক্তিম ফুল এখন আর দেখা মিলছে না| জ্বালানী কাঠের প্রয়োজনে গাছগুলো কেটে ফেলার কারনে ধীরে ধীরে বিলুপ্তির দিকে চলে গেছে|
উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের পথে-প্রান্তরে হিজল-তমাল-জারুল ও কৃষ্ণচূড়া গাছ চোখে পড়তো| গাছে গাছে রঙিন ফুল চারিদিক মুখরিত করে সৌরভ ছড়াতো| বসন্তকালে ফুলের অপরূপ হিজল-তমাল-জারুল ও কৃষ্ণচূড়া ফুলের সৌন্দর্য শোভা বৃদ্ধি করতো| এক সময়ে গ্রামাঞ্চলে হিজল-তমাল-জারুল ও কৃষ্ণচূড়া গাছের দেখা মিলতো| কালের বিবর্তনে গাছগুলো বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে| প্রাকৃতিক ভাবেই প্রকৃতিতে এই গাছগুলো জন্মে থাকে| রোপন কিংবা গাছের কোন পরিচর্যা করতে হয় না| প্রকৃতির নিয়মেই আপনা আপনি বেড়ে উঠে| বসন্তকালে গাছের শাখায় শাখায় ফুলে ফুলে ছেয়ে যায়| ফুল ফুটলে লাল,নীল,রঙিন হয়ে উঠে| ফুলের সৌরভে আকৃষ্ট হয়ে কোকিলসহ অন্যান্য পাখি গাছের চারপাশে উড়তে থাকে| ফুলের রঙিন উচ্ছ্বাসে প্রকৃতিতে আনন্দঘন ও মনোমুগ্ধকর পরিবেশ যেন চোখ জুড়িয়ে যায়| গাছের নিচে মাটির উপর পড়ে থাকা ফুলগুলো যেন প্রকৃতি প্রেমীদের জন্য বিছানা বিছিয়ে দেয়| এমন দৃশ্য এখন আর দেখা মেলে না|
উপজেলার গ্রামাঞ্চলের সড়কের আশেপাশে হিজল-তমাল-জারুল ও কৃষ্ণচূড়া গাছ অযত্ন এবং অবহেলায় দেখতে পাওয়া যায়| তবে আগের মতো গাছগুলো পরিমানে বেশি নেই| স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মী ও দশমিনা প্রেসক্লাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি আহাম্মদ ইব্রাহিম অরবিল বলেন, কৃষ্ণচূড়া গাছ কদাচিৎ পাওয়া গেলেও হিজল-তমাল-জারুল গাছ চোখে পড়ে না| গাছগুলো যেন দূর্লভ হয়ে গেছে| বর্তমান প্রজন্মের অনেকেই এই গাছ এবং ফুলের সাথে পরিচয় নেই| প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য ধরে রাখতে এবং পরিবেশ রক্ষায় উপজেলার বিভিন্ন সড়কের পাশে হিজল-তমাল-জারুল ও কৃষ্ণচূড়া গাছ বপন করা প্রয়োজন|