1. mesharulislammonir1122@gmail.com : দৈনিক সংযোগ প্রতিদিন : দৈনিক সংযোগ প্রতিদিন
  2. info@www.sangjogprotidin.com : দৈনিক সংযোগ প্রতিদিন :
শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ০১:১৭ পূর্বাহ্ন

পুরাতন আসন উদ্ধারে মরিয়া জামায়াত,ছাড় দিতে নারাজ বিএনপি

  • প্রকাশিত: সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
  • ১১৪ বার পড়া হয়েছে

পাইকগাছা প্রতিনিধি : কয়রা ও পাইকগাছা উপজেলা নিয়ে খুলনা-৬ আসন গঠিত। ভোটের আর মাত্র কিছুদিন বাকি। তবে শেষ সময়ে জমে উঠেছে খুলনা-৬ আসনের ভোটের মাঠ। ভোটের মাঠে এখন পুরাতন আসন উদ্ধারে মরিয়া জামায়াতে ইসলামী। অন্যদিকে, নির্বাচনে ছাড় দিতে নারাজ বিএনপির প্রার্থী। জাতীয় পার্টির লাঙ্গলের প্রার্থী মোস্তফা কামাল জাহাঙ্গীর ও কমিউনিস্ট পার্টির কাস্তে প্রতীকের প্রার্থী এ্যাড. প্রশান্ত মন্ডল এবং ইসলামী আন্দোলনের হাতপাখার প্রার্থী আসাদুল্লাহ আল গালিব লড়াইয়ে থাকলেও প্রচার-প্রচারনায় নেই উত্তাপ।
ভোটের মাঠের চিত্র: সকালে এক প্রার্থী যেখানে জনসংযোগ করছেন, বিকেলেই সেখানে দেখা যাচ্ছে আরেক প্রার্থীর বহর। স্থানীয় ভোটারদের ভাষায়, এবার দুই পক্ষই মাঠে নেমেছে পুরো শক্তি নিয়ে। বিশেষ করে বিএনপির ও জামায়াতের প্রার্থী প্রচারনায় রয়েছেন মুখোমুখি।
একাধিক ভোটারের সাথে কথা হলে- তারা জানান, বিএনপির প্রার্থী মনিরুল হাসান বাপ্পী এ আসনে নতুন মুখ। তবে মনোনয়ন পাওয়ার পর থেকে বেশ সক্রিয় হয়েছেন তিনি। দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে তিনি নিয়মিত গ্রামে গ্রামে ঘুরে ভোট চাইছেন। কোথাও উঠান বৈঠক, কোথাও পথসভা, আবার কোথাও বাজারে হেঁটে হেঁটে সাধারণ মানুষের সঙ্গে কুশল বিনিময় করছেন। অল্প দিনে তিনি বেশ পরিচিতি লাভ করেছেন। অন্যদিকে কয়রা ও পাইকগাছা উপজেলার জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আবুল কালাম আজাদ এলাকার দীর্ঘদিনের পরিচিত মুখ। তিনি জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সদস্য ও খুলনা অঞ্চলের সহকারী পরিচালক। তিনিও বিভিন্ন জনসভা, পথসভা ও গণসংযোগের মাধ্যমে ভোটারদের কাছে নিজের অবস্থান তুলে ধরছেন। জনগনের সমস্যা শুনছেন এবং সমস্যা সমাধানের আশা ব্যক্ত করছেন। মাওলানা আবুল কালাম আজাদ তার বক্তব্যে জানান দিচ্ছেন দেশের মানুষ দুর্নীতি, দুঃশাসন ও বৈষম্যে অতিষ্ঠ। তিনি ন্যায়বিচার, সুশাসন ও দুর্নীতিমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন।
খুলনা-৬ আসনের রাজনৈতিক ইতিহাস: ১৯৯১ ও ২০০১ সালে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী নির্বাচিত হয়েছেন এ আসন থেকে এবং বিগত সময়ে আওয়ামীলীগের দখলে ছিলো এ আসন। বিএনপি কোনো নির্বাচনে এ আসনে নির্বাচিত হতে পারেনি। জামায়াতে ইসলামী বিগত দিনে দুইবার নির্বাচিত হওয়ার কারনে এবং আওয়ামীলীগ মাঠে না থাকাতে এবারের হিসাবে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর দিকে বেশী ঝোকার সম্ভাবনা রয়েছে ভোটারদের। তবে ভোটের লড়াইয়ে বিএনপি এবার হার মানতে নারাজ।
এলাকার সমস্যা: এলাকার সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করা, স্কুল-কলেজ ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোর সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো, বেকারত্ব দূর করা, নদীভাঙন ও জলাবদ্ধতা সমস্যার সমাধানে কার্যকর উদ্যোগের দাবী এলাকাবাসীর।
ভোটারদের মতামত: খুলনা-৬ (কয়রা-পাইকগাছা) আসনে বেড়িবাঁধেই সীমাবদ্ধ নয়। দুর্নীতি ও সেবার স্বচ্ছতা, দুর্যোগের পর পূর্ণবাসন, শিক্ষা ও যুবসমাজ, আইন-শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা, যোগাযোগ ও স্বাস্থ্য সেবাসহ সব দিকে কঠোর নজরদারি দিতে হবে। এছাড়াও ভোটারদের একটি সাধারণ মত নির্বাচনের আগে যোগাযোগ থাকলেও পরে অনেক প্রতিনিধি এলাকায় কম আসেন। তাই নিয়মিত জনগণের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন এমন নেতৃত্ব প্রত্যাশা রয়েছে এ আসনের ভোটারদের। ভোটাররা শুধু প্রতিশ্রুতি নয়, বাস্তব কাজ দেখতে চান। দীর্ঘমেয়াদি সমস্যাগুলো স্থায়ী সমাধান এখন তাদের প্রধান প্রত্যাশা।
উল্লেখ্য, খুলনা-৬ আসন (পাইকগাছা-কয়রা) ১৭টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত একটি গুরুত্বপূর্ণ উপক‚লীয় নির্বাচনী এলাকা। এই আসনে মোট ভোটকেন্দ্র রয়েছে ১৫৫টি। নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ২৩ হাজার ৩’শ ৩১ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ১২ হাজার ৮’শ ৬৯ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ১০ হাজার ৪’শ ৬১ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ১ জন।

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত -২০২৫, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।