
দশমিনা(পটুয়াখালী) প্রতিনিধি : পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলায় বিস্তীর্ন মাঠ জুড়ে সূর্য্যমুখীর ফুল হাসি দিয়ে ফুটে থাকায় এবং নজরে পড়ায় দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে| উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের গ্রামাঞ্চলে ফসলি জমিতে সূর্যমুখীর ফুল দেখে পথচারীসহ দর্শনার্থীরা ক্ষেতের পাশে গিয়ে ছবি তুলে ক্যামেরা বন্দি হয়ে স্মরনীয় করে রাখছে| অনেক দর্শনার্থী ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পোষ্ট করছে| ছবি পোষ্ট করার পর তা ভাইরাল হয়ে যাওয়ায় সূর্যমুখীর ক্ষেতে দর্শনার্থীর সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে| দিগন্ত জোড়া ফসলের মাঠে যতদুর চোখ যায়, শুধু সবুজ আর হলুদ ফুলের সমারোহ| উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের মাঠ জুড়ে চোখ জুড়ানো মনোমুগ্ধকর হলুদের সমারোহ| সবুজ গাছের মাথায় থাকা এসব হলুদ ফুল বাতাসে দুলছে| ফুলে ফুলে ঘুড়ে বেড়াচ্ছে মৌমাছি আর প্রজাপতি| সেই দৃষ্টিকাড়া ফুলের সৌন্দর্য্য দেখতে সকাল ও বিকালে ছবি তুলতে ভিড় করছে সব বয়সের নারী-পুরুষ| সরকারি কর্মকর্তারা পরিবার-পরিজন নিয়ে সেখানে ছুটে যাচ্ছেন|
উপজেলায় গত বছরের তুলনায় এই বছর ১০০ একর জমিতে সূর্যমুখীর চাষ করা হয়| ভোজ্য তেল সংকট নিরসনের জন্য রাজ¯^ প্রকল্পের আওতায় অত্র উপজেলায় বারি-৩ জাতের সূর্যমুখীর চাষ করা হয়| উপজেলার ৭টি ইউনিয়নসহ চরাঞ্চলে বিস্তীর্ন মাঠ জুড়ে যেন সূর্য্যরে হাসি বিরাজ করছে| সূর্য্যমুখী চাষ করায় বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে| এলাকার কৃষকরা নতুন করে ¯^প্ন দেখছে| আবাদ সংকল্প দেখে মনে হয় এমন পরিশ্রমী কৃষকদের জন্যই দেশ এগিয়ে যাচ্ছে| কৃষি বিপ্লবের পাশাপাশি কৃষকরা নতুন করে সম্ভাবনা সৃষ্টি করছে| উপজেলার উত্তর বাঁশবাড়িয়া, মধ্য বাঁশবাড়িয়া, গছানী, ঢনঢনিয়া, চরহোসনাবাদ, নেহালগঞ্জ, আদমপুর, বহরমপুর, বগুড়া, দশমিনা, হাজিকান্দা, গোলখালী, আরজবেগী, ˆসয়দজাফর, লক্ষীপুর, নিজাবাদগোপালদী, বেতাগী-সানকিপুর, জাফরাবাদ, মাছুয়াখালী, আলীপুর, যৌতা, খলিশাখালী, চাঁদপুরা, রণগোপালদী, আউনিয়াপুর, গুলি, চরঘুনি, চরবোরহান, চরশাহজালাল, চরহাদি গ্রামে এই বছর বাড়তি লাভের আশায় সূর্য্যমুখী আবাদ করা হয়| এই সকল গ্রামে পথচারীসহ দর্শনার্থীরা ফুলের সৌন্দর্য দেখে পুলকিত হচ্ছে| উপজেলার গ্রাম-গঞ্জের মাঠ জুড়ে হলুদ সূর্যমুখী ফুলের সমারোহ| আর এমন দৃশ্যের দেখা মিলছে উপজেলার ৭টি ইউনিয়নে| উপজেলায় দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে সূর্যমুখীর চাষ| চলতি রবি মৌসুমে উপজেলায় ১৭ শত হেক্টর জমিতে সূর্যমুখীর চাষাবাদ করা হয়| কম সময় আর ¯^ল্প খরচে ভালো লাভ পাওয়ায় চাষীরাও বেশ খুশি| সূর্যমুখীর নজরকাড়া সৌন্দর্য পুলকিত করে যে কাউকেই| সেই সাথে তেল হিসেবেও এর ব্যবহার রয়েছে| বলা হয়ে থাকে সয়াবিনের চেয়ে সূর্যমুখীর তেল বেশি পুষ্টিগুনসম্পন্ন| আর্থিকভাবে লাভজনক হওয়ায় এ ফুলের চাহিদা বেড়েই চলেছে| এ কারণে উপজেলায় দিন দিন বাড়ছে সূর্যমুখীর চাষ| উপজেলার ৭টি ইউনিয়নে প্রায় অর্ধশতাধিক চাষী সূর্যমুখী চাষ করেছেন| মাঠ জুড়ে আছে ফুল| সূর্যমুখীর ফুলে ফুলে ছেয়ে গেছে ক্ষেত| উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের ভ্রমন পিপাসুরা সূর্যমুখীর সৌন্দর্য দেখতে ও স্মৃতি হিসাবে ছবি তুলে রাখছে|
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো.জাফর আহমেদ জানান, ধান চাষের পরেই জমিতে সূর্যমুখী আবাদ হয়েছে| তেল হিসেবে সূর্যমূখীর ব্যবহার এবং নজরকারা সৌন্দর্যের কারনে এই ফসলের চাষ বৃদ্ধি পেয়েছে|