
মঠবাড়িয়া (পিরোজপুর) প্রতিনিধি: পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় খালেদা বেগম (২৪) নামে এক সন্তানের জননীকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে শ্বশুর, শাশুড়ী ও দেবরের বিরুদ্ধে। রোববার সকাল ৯টার দিকে ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার সদর ইউনিয়নের উত্তর মিঠাখালী গ্রামে। খবর পেয়ে থানা পুলিশ নিহত খালেদার লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য দুপুরে পিরোজপুর জেলা মর্গে প্রেরণ করেছেন। নিহতের চাচা জসিম বিশ্বাস জানান, প্রায় তিন বছর পূর্বে উপজেলার উত্তর মিঠাখালী গ্রামের ছগির ঘরামীর পুত্র আ: রাজ্জাক ঘরামীর সাথে খালেদার বিয়ে হয়ে। বর্তমানে তাদের জাইফা নামে দেড় বছরের একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। খালেদার স্বামী আ: রাজ্জাক চট্টগ্রামে একটি কোম্পানিতে চাকুরি করেন। খালেদা শিশু সন্তান নিয়ে শ্বশুর বাড়িতে থাকতেন। কিন্তু বিভিন্ন সময় শাশুড়ী রাবেয়া ও দেবর রায়হান তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে খালেদার গায়ে হাত তুলতো। এমনকি শ্বশুর ছগির ঘরামীও মাঝে মধ্যে স্ত্রী ও সন্তানের সাথে পুত্রবধূকে নির্যাতন করত। এ ঘটনায় খালেদা সম্প্রতি বাবার বাড়িতে চলে আসে। পরে স্বামীসহ পরিবারের লোকজনের সমঝোতায় আবার স্বামী বাড়িতে যায়। জসিম বিশ্বাস আরও জানান, রোববার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে খালেদা তাকে ফোন দিয়ে বাবার বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার জন্য বলে। পরে খালেদার কাছ থেকে ফোন কেড়ে নিয়ে শ্বশুর ছগির ঘরামী ও শাশুড়ী রাবেয়া খুব উত্তেজিত অবস্থায় কথা বলেন। এর আধা ঘণ্টা পরে খালেদার শ্বশুর তাকে ফোন দিয়ে খালেদা অসুস্থ হয়ে পড়েছে বলে জানান। এর মধ্যে অন্য এক লোক ফোন দিয়ে খালেদা আত্মহত্যা করেছে বলে জানান। পরে আমরা স্থানীয় ইউপি সদস্যসহ ঘটনা স্থলে গিয়ে দেখি খালেদার মরদেহ বসত ঘরের মেজেতে পড়ে আছে। নিহত খালেদার বাবা নাসির বিশ্বাস জানান, তার মেয়েকে শ্বশুর বাড়ির লোকজনে গলা টিপে হত্যা করে আত্মহত্যার প্রচার চালাচ্ছে। এদিকে খালেদা নিহতের পরে শাশুড়ী রাবেয়া ও দেবর রায়হান পলাতক রয়েছে।
মঠবাড়িয়া থানা অফিসার ইনচার্জ মো: রবিউল ইসলাম জানান, নিহত এক সন্তানের জননী খালেদার লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পিরোজপুর জেলা মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্টের পরে বলা যাবে হত্যা না আত্মহত্যা। তবে এব্যাপারে থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের হয়েছে।
Like this:
Like Loading...
Related