জামাল উদ্দীন, সাতক্ষীরা : দিন যায়, কথা থাকে – আর কথায় নয়, বাস্তবতায় ছবি কথা বলে। আমি যে ছবিটি আপনাদের সামনে তুলে ধরেছি, তা যেন এক বৃন্তে ফোঁটা চারটি ফুল।
কত অশ্রু আর ত্যাগে ফুটেছে এ ফুলগুলো – ২০১৮ সাল থেকে ভারত সীমান্তবর্তী ২৭২ কিলোমিটার সীমান্তের জেলা সাতক্ষীরায়। এখানে বিতাড়িত সরকারের বিরোধী শিবিরে জাতীয়তাবাদী আদর্শের সেনাপতি সংগঠন ছাত্রদলের নেতৃত্ব দেওয়া কতটা চ্যালেঞ্জ আর সংগ্রামের, তা জানে ছাত্রদলের প্রতিটি কর্মী ও সমর্থক।
সাতক্ষীরা জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি শেখ সজিবুজ্জামান সজিব – যিনি এক রাতও বাসায় নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারেননি। প্রতিদিনই ফোন আসতো, “গোয়েন্দা পুলিশ যাচ্ছে গ্রেফতার করতে।” আজ তিনি জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক।
বিগত ছাত্রদল কমিটির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন সাবেক এমপি হাবিবুল ইসলাম হাবিবের ভ্রাতুষ্পুত্র মমতাজুল ইসলাম চন্দন। এমপি হাবিব মিথ্যা মামলায় ৭০ বছরের সাজাপ্রাপ্ত, আর তাঁর ভাইপো চন্দন হয়ে উঠেছিলেন সেনাপতি দলের অগ্রসৈনিক। ৪৮ মামলার আসামী, বারবার গ্রেফতার আর জেল-জুলুমের শিকার হলেও তাঁর কণ্ঠে জেলের দেয়াল প্রকম্পিত হতো।
ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান নিজেকে সুরক্ষিত রেখে জুলাই আন্দোলনের আগে সংগঠনকে আরও মজবুত করেন। তাঁকে গ্রেফতার আর মামলা দিয়ে দমিয়ে রাখা যায়নি।
বর্তমান কমিটির সভাপতি এস কে রাহয়ান – বিগত কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক। তিনি জীবনকে বাজি রেখে সম্মুখযুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়েছেন। জুলাই আন্দোলন যখন হঠাৎ ঝিমিয়ে পড়লো, তখন তাঁকে গুম বা খুন করার নানা পরিকল্পনা চলছিল। কিন্তু রাহয়ান রাজপথে অগ্নিশিখা হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন, দেশমাতাকে রক্ষায় মৃত্যুঞ্জয়ী দাবানল হয়ে।
তাঁদের প্রতিটি মিছিল আর স্লোগানের পেছনে ছিল সজিব, চন্দন, মেহেদীসহ আরও অনেক ছাত্রনেতার পরিকল্পনা। অর্থ, খাবার, যানবাহন – যুদ্ধের সব সরঞ্জামের হিসাব আজও রক্ষিত আছে চন্দন-মেহেদীর কাছে।
জুলাই আন্দোলনের ফুটেজে রাহয়ানকে দেখা যায় মৃত্যুঞ্জয়ী দাবানল হয়ে। যদি সরকার পালিয়ে না যেত, তবে হয়তো তাঁদের লাশের খবরই পাওয়া যেত। কতটা ভয়ংকর ছিল সেই দিনগুলো – যখন রাহয়ান রাজপথে লড়ছিলেন, আর তাঁর ভাই আইনজীবী আরিফুর রহমান আলো জেলহাজতে বন্দী ছিলেন।
৫ আগস্টে বিপদগামী একদল বিপ্লবী জেলের তালা ভেঙে আসামীদের বের করে দিলেও, আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল আলো পালিয়ে ছিলেন। গভীর রাতে রক্ষী আর অল্প কয়েকজন হাজতী মিলে পাহারা দিয়েছিলেন জেল।
ত্যাগ আর সংগ্রামের এই ফুলগুলো আজ সত্যিই গর্বিত। নবগঠিত সাতক্ষীরা জেলা ছাত্রদলের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় সজিব, চন্দন, মেহেদীরা আনন্দিত। জেলার তৃণমূলের ছাত্রদল তথা জাতীয়তাবাদী আদর্শের প্রেমিকদের একান্ত চাওয়া – মমতাজুল ইসলাম চন্দনকে রাহয়ানের মতো একটি মুকুট পরিয়ে দিক বর্তমান দলের নীতিনির্ধারকরা।