
দাকোপ (খুলনা) প্রতিনিধি : অতি মাত্রায় সার কীটনাশক ব্যবহার, বৃষ্টি এবং ভেজাল বীজের কারণে খুলনার দাকোপে এবছর তরমুজের ফলন তেমন ভালো হয়নি| এ ছাড়া জ্বালানী তেলের দাম ও পরিবহন খরচ ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় দর পতনে এলাকার হাজারো তরমুজ চাষী লোকসান খেয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন| উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বলছেন ফলন কম হলেও গড় হিসাবানুযায়ী প্রায় ১৫৩ কোটি টাকার তরমুজ বিক্রি হয়েছে|
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য মতে, ৯টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা নিয়ে গঠিত এ উপজেলায় মোট চাষ যোগ্য জমি রয়েছে ২০ হাজার ৮৮৩ হেক্টর| এর মধ্যে এ বছর তরমুজ চাষ হয়েছে ৬ হাজার ৮০০ হেক্টর বা ৫১ হাজার বিঘা জমিতে| গত বছর তরমুজ চাষ হয়েছিলো ৮ হাজার ১০০ হেক্টরে| এ ছাড়া বোরো ধান ৫৯৯ হেক্টর, সূর্য্যমুখি ৮২ ভূট্টা ৮ হেক্টর, বাঙি ৬৫ হেক্টর, গম ২ হেক্টর, মুগ ডাল ৩০ হেক্টর, আলু ১৬০ হেক্টর, মিষ্টি আলু ২২ হেক্টর, শাক সবজি ৯১০ হেক্টর, শরিষা ৫৯ হেক্টর, চিনা বাদাম ২ হেক্টর, পেয়াজ ১৩ হেক্টর, রসুন ১০ হেক্টর, সয়াবিন ২ হেক্টর, মরিজ ৩৭ হেক্টর ও শাম্মাম ১০ হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছে| উপজেলার বিভিন্ন এলাকার প্রায় ১৫ হাজার কৃষক তরমুজের এ আবাদ করেন| এঅঞ্চলের অধিকাংশ কৃষক প্রধান ফসল আমনের পর এ মৌসুমে তরমুজ, সবজিসহ অন্যান্য ফসলের উপর নির্ভরশীল| কৃষকরা এসব ফসল বিক্রি করে সারা বছরের ধার দেনা ও লোনের টাকা পরিশোধ করে সংসার খরচসহ ছেলে মেয়েদের কাপড় চোপড়, স্কুল-কলেজের খরচসহ সকল ব্যায়ভার বহন করে থাকে| কিন্তু এবছর অতি মাত্রায় সার কীটনাশক ব্যবহার, বৃষ্টি এবং ভেজাল বীজসহ নানা কারণে তরমুজের ফলন তেমন ভাল হয়নি| তরমুজের ক্ষেত বেচাকেনাও প্রায় শেষ প্রান্তে| এ ছাড়া জ্বালানী তেলের দাম ও পরিবহন খরচ ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় দর পতনে এলাকার হাজারো তরমুজ চাষী লোকসান খেয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন| এদিকে বাজুয়া এলাকার সদ্য গজিয়ে ওঠা একটি চক্র তরমুজ কেনা ব্যাপারীদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করছে বলে ব্যাপক গুণজন চলছে|
সরেজমিনে উপজেলার চুনকুড়ি এলাকার কৃষক অজয় কুমার মন্ডল বলেন, তিনি এবার ৯ বিঘা জমিতে তরমুজ চাষ করেছেন| এতে তার ৫০ শতকের প্রতি বিঘায় প্রায় ৩০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে| ফলন হয়েছে খুব কম| সব মিলে তিনি তরমুজ বিক্রি করছেন মাত্র ৫৫ হাজার টাকা| তিনি বলেন এবছর তার ব্যাপক লোকসান হয়েছে| এতে তার পরিবার পরিজন নিয়ে সংসার চালাতে এবং দেনা পরিশোধ খুব কষ্ট হবে| তার মতো একই এলাকার শিবা মন্ডল, অরুন মন্ডল, নিকুঞ্জ মন্ডল, সুনিতা রানী রায়, সন্দিব বিশ^াসসহ বিভিন্ন এলাকার একাধিক কৃষক তাদের লোকসানের কথা তুলে ধরেন|
চুনকুড়ি এলাকার সাবেক ইউপি সদস্য কৃষক জীবনানন্দ মন্ডল ও বানিশান্তা এলাকার ইউপি সদস্য জয়ান্ত গাইন জানান, এ বছর অতি বৃষ্টি, ভেজাল বীজ ও ভাইরাসের কারণে তরমুজের ফলন ভালো হয়নি| এছাড়া সার ও তেলে দাম বৃদ্ধির কারণে কৃষকের খরচও অনেক বেশি হয়েছে| তাছাড়া পরিবহন খরচ ব্যাপক বৃদ্ধি পাওয়ায় এবং এলাকায় এলাকায় দালালদের দৌরাত্ব, খেয়াঘাটে ও ফেরীতে ব্যাপারীদের কাছ থেকে চাঁদাবাজির কারণে অধিকাংশ কৃষক ব্যাপক লোকসান খেয়ে ঋনের বোঝা মাথায় নিয়ে পরিবার পরিজন নিয়ে কি খেয়ে বাঁচবেন এই চিন্তায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন|
এবিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম বলেন, অতি মাত্রায় সার কীটনাশক ব্যবহার, বৃষ্টি এবং ভেজাল বীজের কারণে এবছর তরমুজের ফলন তেমন ভালো হয়নি| এছাড়া জ্বালানী তেলের দাম ও পরিবহন খরচ ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় দর পতনে বিভিন্ন এলাকার তরমুজ চাষীদের লোকসান হয়েছে| তবে ফলন কম হলেও প্রতি বিঘা নিন্মে ১০ হাজার আর সর্বোচ্চ ১ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে| গড় হিসাবানুযায়ী প্রায় ১৫৩ কোটি টাকার তরমুজ বিক্রি হয়েছে|