1. mesharulislammonir1122@gmail.com : দৈনিক সংযোগ প্রতিদিন : দৈনিক সংযোগ প্রতিদিন
  2. info@www.sangjogprotidin.com : দৈনিক সংযোগ প্রতিদিন :
বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:০৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
অতিরিক্ত ডিআইজি ও পুলিশ সুপারসহ ১২ কর্মকর্তাকে একযোগে বদলি দেশে ফেরাতে সেভাবে কেউই উদ্যোগ নেয়নি: সাকিব রাষ্ট্রপতিকে অপসারণ ও গ্রেপ্তার করতে হবে : সংসদে নাহিদ ইসলাম ভূমধ্যসাগরে প্রাণ গেল ২৬ অভিবাসীর দুইদিন লোডশেডিংমুক্ত ছিল দেশ: দাবি বিদ্যুৎ বিভাগের হাম-ডেঙ্গু মোকাবেলায় সরকারের যথেষ্ট সক্ষমতা রয়েছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী বাগেরহাটে নতুন পুলিশ সুপার হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকাবদারকে ১৫ বছরে শেয়ার বাজার থেকে লুট ১ লাখ কোটি টাকা: রুমিন ফারহানা সংবিধান সংস্কারের দাবিতে ১১ দলের নতুন কর্মসূচি, ২০ জুন খুলনায় বিভাগীয় সমাবেশ একযুগের সাজানো সংসার বজ্রপাতে ছাই, ঘরে না থাকায় তিনজনের প্রাণ রক্ষা

দাকোপে তরমুজ চাষে ব্যাপক লোকসানে কৃষকরা দিশেহারা

  • প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৩২ বার পড়া হয়েছে

দাকোপ (খুলনা) প্রতিনিধি : অতি মাত্রায় সার কীটনাশক ব্যবহার, বৃষ্টি এবং ভেজাল বীজের কারণে খুলনার দাকোপে এবছর তরমুজের ফলন তেমন ভালো হয়নি| এ ছাড়া জ্বালানী তেলের দাম ও পরিবহন খরচ ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় দর পতনে এলাকার হাজারো তরমুজ চাষী লোকসান খেয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন| উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বলছেন ফলন কম হলেও গড় হিসাবানুযায়ী প্রায় ১৫৩ কোটি টাকার তরমুজ বিক্রি হয়েছে|
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য মতে, ৯টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা নিয়ে গঠিত এ উপজেলায় মোট চাষ যোগ্য জমি রয়েছে ২০ হাজার ৮৮৩ হেক্টর| এর মধ্যে এ বছর তরমুজ চাষ হয়েছে ৬ হাজার ৮০০ হেক্টর বা ৫১ হাজার বিঘা জমিতে| গত বছর তরমুজ চাষ হয়েছিলো ৮ হাজার ১০০ হেক্টরে| এ ছাড়া বোরো ধান ৫৯৯ হেক্টর, সূর্য্যমুখি ৮২ ভূট্টা ৮ হেক্টর, বাঙি ৬৫ হেক্টর, গম ২ হেক্টর, মুগ ডাল ৩০ হেক্টর, আলু ১৬০ হেক্টর, মিষ্টি আলু ২২ হেক্টর, শাক সবজি ৯১০ হেক্টর, শরিষা ৫৯ হেক্টর, চিনা বাদাম ২ হেক্টর, পেয়াজ ১৩ হেক্টর, রসুন ১০ হেক্টর, সয়াবিন ২ হেক্টর, মরিজ ৩৭ হেক্টর ও শাম্মাম ১০ হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছে| উপজেলার বিভিন্ন এলাকার প্রায় ১৫ হাজার কৃষক তরমুজের এ আবাদ করেন| এঅঞ্চলের অধিকাংশ কৃষক প্রধান ফসল আমনের পর এ মৌসুমে তরমুজ, সবজিসহ অন্যান্য ফসলের উপর নির্ভরশীল| কৃষকরা এসব ফসল বিক্রি করে সারা বছরের ধার দেনা ও লোনের টাকা পরিশোধ করে সংসার খরচসহ ছেলে মেয়েদের কাপড় চোপড়, স্কুল-কলেজের খরচসহ সকল ব্যায়ভার বহন করে থাকে| কিন্তু এবছর অতি মাত্রায় সার কীটনাশক ব্যবহার, বৃষ্টি এবং ভেজাল বীজসহ নানা কারণে তরমুজের ফলন তেমন ভাল হয়নি| তরমুজের ক্ষেত বেচাকেনাও প্রায় শেষ প্রান্তে| এ ছাড়া জ্বালানী তেলের দাম ও পরিবহন খরচ ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় দর পতনে এলাকার হাজারো তরমুজ চাষী লোকসান খেয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন| এদিকে বাজুয়া এলাকার সদ্য গজিয়ে ওঠা একটি চক্র তরমুজ কেনা ব্যাপারীদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করছে বলে ব্যাপক গুণজন চলছে|
সরেজমিনে উপজেলার চুনকুড়ি এলাকার কৃষক অজয় কুমার মন্ডল বলেন, তিনি এবার ৯ বিঘা জমিতে তরমুজ চাষ করেছেন| এতে তার ৫০ শতকের প্রতি বিঘায় প্রায় ৩০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে| ফলন হয়েছে খুব কম| সব মিলে তিনি তরমুজ বিক্রি করছেন মাত্র ৫৫ হাজার টাকা| তিনি বলেন এবছর তার ব্যাপক লোকসান হয়েছে| এতে তার পরিবার পরিজন নিয়ে সংসার চালাতে এবং দেনা পরিশোধ খুব কষ্ট হবে| তার মতো একই এলাকার শিবা মন্ডল, অরুন মন্ডল, নিকুঞ্জ মন্ডল, সুনিতা রানী রায়, সন্দিব বিশ^াসসহ বিভিন্ন এলাকার একাধিক কৃষক তাদের লোকসানের কথা তুলে ধরেন|
চুনকুড়ি এলাকার সাবেক ইউপি সদস্য কৃষক জীবনানন্দ মন্ডল ও বানিশান্তা এলাকার ইউপি সদস্য জয়ান্ত গাইন জানান, এ বছর অতি বৃষ্টি, ভেজাল বীজ ও ভাইরাসের কারণে তরমুজের ফলন ভালো হয়নি| এছাড়া সার ও তেলে দাম বৃদ্ধির কারণে কৃষকের খরচও অনেক বেশি হয়েছে| তাছাড়া পরিবহন খরচ ব্যাপক বৃদ্ধি পাওয়ায় এবং এলাকায় এলাকায় দালালদের দৌরাত্ব, খেয়াঘাটে ও ফেরীতে ব্যাপারীদের কাছ থেকে চাঁদাবাজির কারণে অধিকাংশ কৃষক ব্যাপক লোকসান খেয়ে ঋনের বোঝা মাথায় নিয়ে পরিবার পরিজন নিয়ে কি খেয়ে বাঁচবেন এই চিন্তায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন|
এবিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম বলেন, অতি মাত্রায় সার কীটনাশক ব্যবহার, বৃষ্টি এবং ভেজাল বীজের কারণে এবছর তরমুজের ফলন তেমন ভালো হয়নি| এছাড়া জ্বালানী তেলের দাম ও পরিবহন খরচ ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় দর পতনে বিভিন্ন এলাকার তরমুজ চাষীদের লোকসান হয়েছে| তবে ফলন কম হলেও প্রতি বিঘা নিন্মে ১০ হাজার আর সর্বোচ্চ ১ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে| গড় হিসাবানুযায়ী প্রায় ১৫৩ কোটি টাকার তরমুজ বিক্রি হয়েছে|

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত -২০২৫, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।