
পাইকগাছা প্রতিনিধি : খুলনার পাইকগাছায় মৎস্য ও মৎস্যপণ্য পরিদর্শন এবং মান নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়নে এক বিশেষ পুশ বিরোধী অভিযান পরিচালিত হয়েছে। ২০ মে বুধবার সকালে উপজেলার কপিলমুনি কাছিঘাটা ও তালতলা রোড এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে চিংড়ি বিক্রয় এবং ক্ষতিকর পুশ করার অপরাধে ৪ জন মাছ ব্যবসায়ীকে মোট ১০ হাজার টাকা প্রশাসনিক জরিমানা করা হয়েছে। একই সাথে আনুমানিক ২০ কেজি জেলি বা তরল পুশকৃত ভেজাল চিংড়ি জব্দ করে তা বিনষ্ট করা হয়।
অভিযানটি পরিচালনা করেন পাইকগাছা সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সৈকত মল্লিক। অভিযানে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য দপ্তরের ক্ষেত্র সহকারী রণধীর সরকার। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় সার্বিক সহযোগিতা করেন কপিলমুনি পুলিশ ফাঁড়ির সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) সোহরাব হোসেন ও তাঁর সঙ্গীয় ফোর্স।
মৎস্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে একশ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ী বেশি লাভের আশায় চিংড়ির ওজন বাড়াতে অপদ্রব্য বা জেলি পুশ করে আসছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আজ সকালে কাছিঘাটা ও তালতলা রোড এলাকার বিভিন্ন বিক্রয় কেন্দ্র ও পরিবহনে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় হাতেনাতে ভেজাল ও অস্বাস্থ্যকর চিংড়ি পাওয়ায় ৪ ব্যবসায়ীকে আর্থিক জরিমানা করার পাশাপাশি মাছগুলো জব্দ করে জনসম্মুখে বিনষ্ট করা হয়। অভিযান শেষে সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সৈকত মল্লিক বলেন, “চিংড়ি আমাদের দেশের অন্যতম প্রধান রপ্তানিযোগ্য ও মূল্যবান সম্পদ। এই সেক্টরের সুনাম নষ্ট করতে একশ্রেণীর অসাধু চক্র চিংড়িতে ক্ষতিকর জেলি ও অপদ্রব্য পুশ করছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকিস্বরূপ। নিরাপদ ও মানসম্মত মৎস্য উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ নিশ্চিত করতে আমাদের এই কঠোর অবস্থান। ভোক্তা অধিকার রক্ষা এবং চিংড়ি শিল্পের গৌরব ধরে রাখতে অপদ্রব্য পুশ ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের বিরুদ্ধে মৎস্য বিভাগের এই চিরুনি অভিযান আগামীতেও অব্যাহত থাকবে। কোনো অসাধু ব্যবসায়ীকে ছাড় দেওয়া হবে না।” এলাকাবাসী ও সাধারণ মৎস্য চাষিরা মৎস্য বিভাগের এই ঝটিকা অভিযানকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং স্থানীয় বাজারে নিয়মিত এমন তদারকি বজায় রাখার দাবি জানিয়েছেন।