
দশমিনা(পটুয়াখালী)প্রতিনিধি : পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের অধিকাংশ জমিতে কৃষকেরা বোরো ধান চাষ করেছেন| বর্তমানে চাষিরা বোরো ধান পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন| গত বছর বোরো ধানের বাম্পার ফলন এবং বাজারে ধানের দাম বেশি থাকায় উপজেলার কৃষকরা এবার বোরো ধানের চাষ বাড়িয়েছেন| তাই বোরো ধান পরিচর্যায় আগে ভাগেই মাঠে নেমেছেন কৃষকরা| তাদের প্রধান আবাদি ফসল নানা জাতের বোরো ধান চারা কৃষকরা পরিচর্যা করছেন| উপজেলার প্রতিটি গ্রামের মাঠেই এই ধানের আবাদ করা হয়েছে| ফলে কৃষকরা বোরো ধানেই নতুন করে স্বপ্ন দেখছে|
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের চলতি বছর ২হাজার ৫শ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে যা গত বছরের তুলনায় ৬শ’ ২০হেক্টর বেশি| বোরো ধান চাষে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাগণ সব রকমের সহযোগিতা করে যাচ্ছেন| তাছাড়া ভালো ফলন পেলে ও ধানের বর্তমান বাজার মূল্য ঠিক থাকলে সকল খরচ বাদ দিয়ে পরিবারের চাহিদা কৃষকরা পূরণ করতে পারবেন| উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের বাঁশবাড়িয়া, রনগোপালদী, বেতাগী-সানকিপুর, বহরমপুর,দশমিনা সদর,আলীপুরা ও চরবোরহানের গ্রামাঞ্চলে ফসলি জমিতে এই বছর আধুনিক জাত ব্রি-১০১ ও ব্রি-৮৯ বোরো ধানের আবাদ করা হয়|
সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, এ যেন বিস্তীর্ণ মাঠ জুড়ে কৃষকদের এক আনন্দঘন পরিবেশ তৈরি হয়েছে| উপজেলার বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের দক্ষিন দাস পাড়া গ্রামের মজিদ হাওলাদার জানান, রাতদিন পরিশ্রম করে আবাদ করি| চারা রোপণের পর থেকে নিয়মিত পরিচর্যাও করতে হয়| তেল-সার ও ঔষুধের দাম বৃদ্ধিতে খরচও বেশি হচ্ছে| দাম ভালো বেশি হলে সকল খরচ বাদ দিয়ে লাভ হবে| তিনি আরও বলেন,গতবছর ধানের দাম ভাল থাকায় এই বছরও বোরো ধানের ভাল দামের আশায় বোরো ধানের চাষ করছি| এখন ধানের জমিতে ক্ষেত পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছি| ধানের আগাছা দমন বিভিন্ন পোকামাকড়ের আক্রমণ ও ফলন বৃদ্ধির জন্য আগাছা অপসারন সার বপন ও কীটনাশক ব্যবহার করছি|
উপজেলার বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের বাঁশবাড়িয়া ব্লকের কৃষক নাসির হোসেন বলেন, উপজেলা কৃষি অফিস থেকে ২৫জন কৃষক সংঘবদ্ধ হয়ে সমলয় পদ্ধতিতে বোরো ধান আবাদের প্রশিক্ষন গ্রহন করে ৫০একর জমিতে বোরো ধানের আবাদ করেছি| ব্লকের অপর কৃষক বজলু গাজী বলেন, মেশিন দিয়ে জমিতে ধান রোপন করতে অনেক সাশ্রয় আর সময়ও কম লেগেছে| এই রকম মেশিন আছে তা জানলে কৃষি কাজ আরও সহজ ও লাভজনক হতো|
দশমিনা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. জাফর আহম্মেদ বলেন, বোরো ধান চাষে কৃষকদের সব ধরনের পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে| প্রণোদনার আওতায় ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক চাষিরা বিনা মূল্যে ব্রি-১০১, ব্রি-৮৯ ও বীনা-২৫ সহ স্থানীয় জাতের ধানের বীজ রোপন করেছেন| তবে কৃষি অফিস থেকে বীজ এবং সার বিতরন করা হয়| গত বছরের তুলনায় চলতি মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অধিক জমিতে বোরো ধানের আবাদ করা হয়েছে|