
মানছুর রহমান জাহিদ, পাইকগাছা : খুলনার পাইকগাছা উপজেলার ৭ নং গদাইপুর ইউনিয়নে সরকারি সহায়তার সামান্য অংশ থেকেও বাদ যাচ্ছে না অনিয়মের থাবা।
এবার জেলে কার্ডের চাল বিতরণের সময় অভিনভ কৌশল অবলম্বন করে কার্ড প্রতি ১’শ টাকা করে আদায়ের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সচিবসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনার নেপথ্যে, সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, অত্র ইউনিয়নে মোট ১৪৮টি জেলে কার্ডের বিপরীতে সরকারি বরাদ্দ বিতরণ করা হচ্ছিল। নিয়ম অনুযায়ী, সরকারি এই সহায়তা কোনো প্রকার কর্তন ছাড়াই সরাসরি জেলেদের হাতে পৌঁছানোর কথা। আর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, সচিব এবং ইউপি সদস্যদের সমন্বয়ে স্বচ্ছতার সাথে এই বিতরণ কার্যক্রম সম্পন্ন করাই বিধিবদ্ধ নিয়ম।
তবে অভিযোগ উঠেছে, চাল বিতরণের সময় প্রত্যেক জেলের কাছ থেকে ১’শ টাকা করে রাখা হচ্ছে। এভাবে ১৪৮টি কার্ড থেকে মোট ১৪ হাজার ৮’শ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে।
এদিকে দরিদ্র মৎস্য জীবীদের প্রাপ্য অধিকার থেকে এভাবে টাকা কেটে রাখাকে চরম ‘অমানবিক’ বলে দাবি করছেন স্থানীয়রা।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে বা স্থানীয় সচেতন মহলের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে জানতে চাইলে সংশ্লিষ্টরা দাবি করছেন, গুদাম থেকে মালামাল পরিবহনের ‘ট্রাক ভাড়া’ মেটানোর জন্য এই টাকা নেওয়া হচ্ছে। সরকারি সহায়তার মালামাল পরিবহনের জন্য আলাদা বরাদ্দ বা দাপ্তরিক খরচ থাকা সত্ত্বেও কেন দরিদ্র জেলেদের পকেট কাটা হচ্ছে, তা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদের দাপ্তরিক বা পরিবহন খরচ মেটানোর জন্য কি সরকারি কোনো বরাদ্দ নেই?
যা প্রান্তিক জেলেদের জন্য আসা সামান্য সহায়তা থেকে কেন ট্রাক ভাড়ার টাকা কাটতে হবে প্রশ্ন সচেতন মহলের।
যেখানে সরকার প্রান্তিক মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে কাজ করছে, সেখানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের এমন সিদ্ধান্ত কতটুকু যৌক্তিক ও আইনসম্মত, দাবি সচেতন মহলের ।
এছাড়াও দরিদ্র জেলেদের হকের টাকা এভাবে প্রকাশ্যে কেটে নেওয়াকে প্রকাশ্য অনিয়ম ও দুর্নীতির অংশ হিসেবে দেখছেন সচেতন মহল।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ভুক্তভোগী জেলেরা জানান, এমনিতেই অভাবের সংসার, তার ওপর সরকারের দেওয়া সাহায্য নিতে এসে যদি উল্টো টাকা দিতে হয়, তবে আমাদের যাওয়ার জায়গা কোথায়?
এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ এবং সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবিও জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
এব্যাপারে গদাইপুর ইউপি সচিব বেলাল হোসেন জানান, গাড়ি ভাড়ার জন্য প্রত্যেক কার্ড ধারীর নিকট থেকে ১’শ টাকা করে নেয়া হয়েছে এটা সঠিক। তবে কেন নেয়া হয়েছে সে ব্যাপারে চেয়ারম্যান মেম্বার এবং ট্যাগ অফিসার ভালো জানেন।
এ ব্যাপারে উক্ত ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সাথে 01609602499 নাম্বারে একাধিক বার যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
Like this:
Like Loading...
Related