
স্টাফ রিপোর্টার : খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান ড. আব্দুল্লাহ আবু সাঈদ খানের বিরুদ্ধে অনৈতিক কর্মকাণ্ড ও পেশাগত ক্ষমতার অপব্যবহার প্রয়োগের বিভিন্ন অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তার স্ত্রী মোছাঃ মাহবুবা নাসরীন কেয়া তার বিরুদ্ধে খুবি’র উপাচার্য বরাবর আবারও লিখিত অভিযোগ করেছেন। গত (১৮ এপ্রিল) অফিসিয়াল রেজিস্টার্ড ডাকযোগে এ অভিযোগ পত্রটি প্রেরণ করা হয়। একইভাবে খুলনা জেলা প্রশাসক বরাবরও অভিযোগের কপি পাঠানো হয়েছে।
লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, শিক্ষক আবু সাঈদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট নানা অপকর্মের অভিযোগ রয়েছে। যেমন, অনৈতিক কর্মকাণ্ড ও পেশাগত ক্ষমতার অপব্যবহার করে ২০১৪ সাল থেকে তিনি বিভাগীয় প্রভাব খাটিয়ে এক ছাত্রীর সাথে অনৈতিক সম্পর্ক বজায় রেখে তাকে নম্বর প্রদানে সহযোগিতা ও ভালো ফলাফলসহ চাকরির ক্ষেত্রেও সুবিধা দেয়। উক্ত বিভাগের একজন নারী শিক্ষক বিষয়টি অবগত থাকা সত্ত্বেও কোনো প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা না নিয়ে বরং তার স্ত্রী কেয়াকে বিষয়টি গোপন রাখতে চাপ প্রয়োগ করেন। এছাড়াও ২০১৫ সালে আর এক ছাত্রীর সাথে তার গভীর সম্পর্কের প্রমাণ রয়েছে। যা তৎকালীন খুলনার নিরালার বাসার দারোয়ান ও প্রতিবেশীরা অবগত রয়েছেন।
অঙ্গীকার ভঙ্গ ও পরকীয়া : ২০১৫ সালে পরকীয়া ও নির্যাতনের কারণে নির্যাতিত স্ত্রী কেয়া তার সন্তানদের নিয়ে ঢাকা চলে যায়। পরবর্তীতে তিনি ক্ষমা চাইলে নিরালার বাসায় দুই শিক্ষকের উপস্থিতিতে পবিত্র কুরআন শরীফ ছুঁয়ে শপথ করে তিনি এমন কর্মকাণ্ড আর করবেন না বলে অঙ্গীকার করেন। কিন্তু তিনি সেই অঙ্গীকারও রক্ষা করেননি।
অভিযোগে আরও উল্রেখ করা হয়, ২০১৭ সালে খুলনায় আর এক কলেজ ছাত্রীর সাথে তার সম্পর্কের বিষয়টি স্ত্রী কেয়া’র নজরে আসে। যেখানে তারা নির্দিষ্ট দুটি মোবাইল নম্বরে নিয়মিত যোগাযোগ করতেন। এছাড়া ইতিপূর্বে খুলনা কলেজিয়েট গার্লস স্কুল এন্ড কলেজ এবং নর্দান বিশ্ববিদ্যালয়ে খন্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে কর্মরত থাকাকালীনও তিনি অনুরূপ নারী কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে অব্যাহতি পান বলেও অভিযোগ রয়েছে। যা তদন্ত করলে সত্যতা প্রমাণিত হবে বলে ভুক্তভোগীর অভিযোগ। সাম্প্রতিকও সময়েও এক ছাত্রীর সাথে তার অনৈতিক সম্পর্ক রয়েছ- উল্লেখ করে অভিযোগে বলা হয়, ওই ছাত্রী ২০১৫ সালে পড়াশোনা সম্পন্ন করলেও ২০২৩-২০২৪ সালে জার্নাল-থিসিসের অজুহাতে নিয়মিত বাসায় আসতেন এবং বেডরুমের দরজা বন্ধ করে উক্ত নারী এবং আবু সাঈদ দীর্ঘ সময় অবস্থান করতেন। এ ধরনের আচরণ স্ত্রী-সন্তানদের কাছে অত্যন্ত অস্বস্তিকর ও দৃষ্টিকটু হওয়ার ফলে পারিবারিক বিরোধ আরও সৃষ্টি হয়। এ সংক্রান্ত বিষয়টি গৃহ শিক্ষক ও প্রতিবেশীরা অভিযোগ করতেন তার স্ত্রীর কাছে।
শারীরিক-মানসিক নির্যাতন ও হুমকি প্রদান : উল্লেখিত অনৈতিক সম্পর্কের প্রতিবাদ করার কারনে স্ত্রী কেয়া ও তার অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের ওপর তিনি অমানবিক শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালান। তার নির্যাতনে ১৭ বছর বয়সী ছেলে আতিফ আব্দুল্লাহ খান-এর কানের পর্দা ছিদ্র হয়ে শ্রবণশক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ১২ বছর বয়সী কন্যা আরশি ইয়ানা খান দীর্ঘমেয়াদী মানসিক যন্ত্রণার শিকার হয়।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, আবু সাঈদের মেজ ভাই মোহাম্মদ বখতিয়ার উদ্দিন খানের লাইসেন্সকৃত আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে স্ত্রী কেয়া ও তার সন্তানদের তিনি প্রাণনাশের হুমকি দেন এবং ক্রমাগত হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন। জয়পুরহাটের বাড়ির কাজের মেয়েসহ খুলনার নিরালার বাসার প্রতিবেশী এবং গৃহ কর্মীরাও এ বিষয়ে অবগত রয়েছে। যেটি তারা স্বাক্ষী দিতেও প্রস্তুত।
রাজনৈতিক প্রভাব ও বিদেশ গমন : আবু সাঈদ বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সুবিধাভোগী হিসেবে প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন পদ দখল করেন। ২০২৪ সালের ৩ আগষ্ট দেশের অস্থির পরিস্থিতিতে পরিবারকে ঝুঁকির মুখে ফেলে তিনি ভারতে পালিয়ে যান। পরে তিনি দেশে ফিরে আসেন। যেটির পাসপোর্ট যাচাই করলে এর সত্যতা প্রমাণিত হবে।
এদিকে, তার নারী কেলেংকারীর বিষয়টি ঘিরে প্রত্যক্ষদর্শীদের কথার অডিও কল রেকর্ডেও বিভিন্ন কথোপকথনের প্রমাণ রয়েছে।
ভুক্তভোগী মাহবুবা নাসরীন কেয়া বলেন, স্বামীর উল্লিখিত কর্মকান্ডের বিষয়ে পূনরায় খুবির উপাচার্য বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছি। তিনি নিজেই আদালতে ‘দাম্পত্য অধিকার পুনরুদ্ধার’র মামলা করেছেন। আবার তিনি অত্যন্ত জঘন্যভাবে বিভিন্ন মহলে ও প্রচার মাধ্যমে মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছেন যে আমাদের মধ্যে বিবাহবিচ্ছেদ হয়েছে। যেটা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।
তিনি বলেন, আমি এখনও পর্যন্ত কোনো আইনানুগ তালাকনামা বা নোটিশ পায়নি। মামলা চলমান রেখে বাহরে তালাকের কথা প্রচার করাটা আদালত অবমাননা ও বড় ধরনের প্রতারণার শামিল। তিনি একজন শিক্ষক ও ডিসিপ্লিন চেয়ারম্যানের এমন জঘন্য ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদানের দাবি জানিয়েছেন।
যদিও, স্ত্রী’র এসব অভিযোগ অস্বীকার করে খুবির শিক্ষক ড. আব্দুল্লাহ আবু সাঈদ খান বলেন, আমি এ বিষয়ে আর কিছু বলতে চাচ্ছি না। কারণ তিনি এখন আমার হাউজ ওয়াইফ না, তাকে ডিফোর্স দিয়েছি।
তবে, ছাত্রীদের সাথে অনৈতিক সম্পর্কের বিষয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি একজন শিক্ষক আমার বাসায় ছাত্রী আসতেই পারে। তিনি যেটা বলছেন তার কোন সত্যতা নেই।
আদালতে নিজে ‘দাম্পত্য অধিকার পুনরুদ্ধার মামলা করে আবার ডিফোর্স দেওয়ার বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি বলেন, আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। এটা আদালতের বিষয়।