
দাকোপ (খুলনা) প্রতিনিধি : কাজ সমাপ্তের তিন বছর অতি বাহিত হলেও খুলনার দাকোপে চালনা পৌরসভায় নির্মিত সারফেস পানি শোধনাগার প্ল্যান্টটি এখনো পর্যন্ত চালু হয়নি| ফলে প্রায় সাড়ে ৭ কোটি টাকা ব্যয় নির্মিত সারফেস ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টটি জনসাধারণের কোন কাজে আসছে না| এতে একদিকে সুপেয় ও বিশুদ্ধ পানির সংকটে পৌরসভার কয়েক শত সেবা প্রত্যাশী গ্রাহকের মাঝে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে| অন্যদিকে প্ল্যান্টটির বিভিন্ন সরঞ্জাম নষ্ট ও বিকল হয়ে যাচ্ছে|
জানা যায়, ২০১৯-২০ অর্থ বছরে ঢাকা জন¯^াস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের ৩২টি পৌরসভায় পানি সরবরাহ ও মানববর্জ্য ব্যবস্থাপনাসহ এনভায়রণমেন্টাল স্যানিটেশন প্রকল্পের আওতায় সারফেস পানি শোধনাগার প্ল্যান্টটি পৌর ভবনের পাশে নির্মান করা হয়| প্রায় সাড়ে ৭ কোটি টাকা ব্যয় প্ল্যান্টটি নির্মান কাজ বাস্তবায়ন করে মেঘনা স্ট্রাকচার এন্ড কনস্ট্রাকশন লিমিটেড নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান| এছাড়া ২০০ ঘনমিটার পানি ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন এই প্ল্যান্টের প্রায় ১২ কিলোমিটার দুরাত্বে খোনা খাটাইল এলাকা সংলগ্ন ভদ্রা খালে পানি সরবরাহ পাইপ লাইন স্থাপন করে প্রতিষ্ঠানটি| তাছাড়া ৩৫১টি সেবা প্রত্যাশী গ্রাহকের বাড়িতে পানি সরবরাহের সংযোগ লাইনও| ২০২৩ সালের মে মাসে নির্মান কাজ শেষ হওয়ার পর প্ল্যান্টটি পৌরসভার কাছে হস্তান্তর করা হয়| কিন্তু সেই থেকে এখন পর্যন্ত অযত্ন ও অবহেলায় বন্দ অবস্থায় পড়ে আছে প্ল্যান্টটি| ফলে ভেতরে থাকা বিভিন্ন লোহার সরঞ্জামাদিতে জং ধরে নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে| ইলেক্ট্রিকের বিভিন্ন যন্ত্রপাতিও নষ্ট হয়ে যাচ্ছে| এমনকি মাঝে মধ্যে প্ল্যান্টের তারসহ মূল্যবান যন্ত্রপাতি চুরিও হচ্ছে এবং এ ঘটনায় থানায় একটি মামলাও করা হয়েছে| বর্তমানে পৌরসভায় আর কোন পানি শোধনাগার প্ল্যান্ট না থাকায় ব্যক্তি মালিকানা প্ল্যান্ট থেকে চড়া দামে বিশুদ্ধ পানি কিনতে বাধ্য হচ্ছে সেবা প্রত্যাশী গ্রাহকসহ অধিকাংশ নাগরিক| অনেক ¯^চ্ছল ব্যক্তি আবার বটিয়াঘাটা, খুলনাসহ বাহিরের বিভিন্ন এলাকা থেকে পানি কিনে জীবন ধারন করছেন| যেহেতু প্ল্যান্টটি জনসাধারণের কোন কাজে আসছে না তাহলে কেন সরকারের এতো টাকা অপচয় করা হলো এমন অভিযোগ পৌরসভার অসংখ্য নাগরিকের|
চালনা বাজার এলাকার মুকুল সাহা জানান, ভদ্রা খালে পানি সরবরাহ পাইপ লাইন স্থাপনের সময়ে সেবা প্রত্যাশী গ্রাহকের বাড়িতেও পানি সরবরাহের সংযোগ লাইন স্থাপন করা হয়| এসময়ে তিনিও বাড়িতে পানির পাইপ লাইন নেওয়ার জন্য পৌরসভায় ৫০০ টাকা জমা দেন| পরবর্তীতে লাইন স্থাপনের সময়ে তার আরো প্রায় এক হাজার টাকা খরচ হয়| কিন্তু মাসে ২ থেকে ৪ দিন পানি সাপ্লাই দিয়ে তার কাছ থেকে পুরো এক মাসের বিল ৩০০ টাকা করে নিয়েছে| এভাবে তিনি ৩ মাস পর্যন্ত বিল দিয়েছেন| তারপর থেকে দীর্ঘদিন যাবৎ পানি সাপ্লাই সম্পূর্ণ বন্দ রয়েছে| এতে পৌরসভার জনসাধারণের চরম হয়রানি এবং ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে| তার মতো একাধিক ব্যক্তি একই অভিমত ব্যক্ত করেন|
এবিষয়ে উপ-সহকারি জন¯^াস্থ্য প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বলেন, পানি বিশুদ্ধ করণ প্ল্যান্টের পাইপটি পাশর্^বর্তী ভদ্রা খালে স্থাপন করা হয়েছে| কিন্তু খালটি ইজারা দেওয়া এবং শুকনো মৌসুমে খালটির আশে পাশে অসংখ্য কৃষক ধান ও তরমুজ চাষ করে এবং খালটির পানি সেচ হিসাবে ব্যবহার করার ফলে পানি শুকিয়ে যায়| সে কারণে প্রকল্প পরিচালক পৌরসভার পাশের লেকটি অথবা ৩ একর জমি বরাদ্দ চেয়েছে| কিন্তু পৌর কর্তৃপক্ষ এখনো পর্যন্ত কোনটি দিতে পারেনি বিধায় পানি সরবরাহ বন্দ রয়েছে|
এব্যাপারে পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বোরহান উদ্দিন মিঠু জানান, পৌরসভার পাশে লেকটি যেহেতু পানি উন্নয়ন বোর্ডের| আইনগত একটু সমস্যা আছে| এটি সমাধানের পর লেকটি পুনঃ খনন করে আগে পানি আধার সৃষ্টি করতে হবে| তারপর সেখান থেকে আমরা পানি সাপ্লাই দিতে পারবো|