
ডেস্ক রিপোর্ট : পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়ার বান্নু জেলার ফতেহ খেল পুলিশ ফাঁড়িতে সন্ত্রাসীরা বিস্ফোরকবোঝাই একটি গাড়ি দিয়ে ধাক্কা মারলে অন্তত ১৫ পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও তিনজন। শনিবার (৯ মে) রাতে এই ঘটনা ঘটে। আজ রোববার নিশ্চিত করেছে বান্নু জেলা পুলিশ।
সংবাদমাধ্যম এক্সপ্রেস ট্রিবিউন জানিয়েছে, বিস্ফোরণের ঘটনায় ফাঁড়িটি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। বেশ কয়েজন সদস্য ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েছেন। উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলের ধ্বংসস্তূপ থেকে তিনজন পুলিশ কর্মকর্তাকে জীবিত উদ্ধার করেছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো গোষ্ঠীই এই হামলার দায় স্বীকার করেনি।
নিহত পুলিশ সদস্যরা হলেন রহমত আয়াজ, সানাউল্লাহ, নিয়াজ আলী (চালক), হাবিব, সাদুল্লাহ জান (চালক), কামরান, খান সিকান্দরের ছেলে কামরান, নূরুল্লাহ, কামরান, আবিদ জনি, ইমরান, কলিমুল্লাহ, সাদিকুল্লাহ, মুনির আলম খান, রাহাতুল্লাহ খান ও ফারুক। আর আহত মুজরিম ফিরোজ, হায়াতুল্লাহ ও কাদারুল্লাহকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
আহতদের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে খোঁজখবর নিতে বান্নুর ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল (ডিআইজি) সাজ্জাদ খান গভীর রাতে নিকটস্থ ডিএইচকিউ হাসপাতাল পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি সাংবাদিকদের বলেন, শক্তিশালী বিস্ফোরণে চেকপোস্টটিতে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ ঘটে এবং বেশ কয়েকজন কর্মী ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েছেন।
ডিআইজি আরও বলেন, এই প্রাণঘাতী হামলা সত্ত্বেও বান্নু পুলিশের মনোবল অটুট রয়েছে। সন্ত্রাসীরা তাদের ঘৃণ্য পরিকল্পনায় কখনোই সফল হবে না। এই হামলাটি সন্ত্রাসীদের ‘কাপুরুষোচিত কাজ’ হিসেবে প্রমাণিত হবে।
তিনি এই নৃশংস হামলার সঙ্গে জড়িত প্রত্যেক সন্ত্রাসীকে খুঁজে বের করার প্রতিজ্ঞার কথা জানান। বান্নু জেলা থেকে সন্ত্রাসীদের সমূলে নির্মূল করার ঘোষণা দেন ডিআইজি।
খাইবার পাখতুনখোয়ার মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদি এক বিবৃতিতে সন্ত্রাসী হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং প্রাণহানির ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি আহতদের সর্বোত্তম চিকিৎসা নিশ্চিত করার জন্য কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুধু খাইবার-পাখতুনখাওয়ার যুদ্ধ নয়, এটি সমগ্র দেশের যুদ্ধ। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে খাইবার পাখতুনখোয়া পুলিশ অপরিসীম ত্যাগ স্বীকার করেছে। খাইবার পাখতুনখোয়া সরকার সন্ত্রাসবাদের দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি পরিবারের পাশে আছে এবং জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে সম্মুখ সমরে প্রদেশের পুলিশ বাহিনীর আত্মত্যাগের প্রশংসা করেছেন।