
দাকোপ (খুলনা) প্রতিনিধি : আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় খুলনার দাকোপে এবছর বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে| কিন্তু দর পতনে এলাকার হাজারো কৃষক লোকসানের আশংকায় হতাশ হয়ে পড়েছেন| ফলন ভালো হওয়ায় গত বছরের তুলনায় এবছর বোরো চাষ অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে|
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য মতে, ৯টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা নিয়ে গঠিত এ উপজেলায় মোট চাষ যোগ্য জমি রয়েছে ২০ হাজার ৮৮৩ হেক্টর| এর মধ্যে এবছর বোরো ধানের চাষ হয়েছে ৫৯৯ হেক্টর জমিতে| গত বছর ২৯৩ হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছিল| এছাড়া আরো ৮ হাজার ২১২ হেক্টর জমিতে তরমুজসহ অন্যান্য রবি শষ্যার চাষ করা হয়েছে| আর ১২ হাজার ৭২ হেক্টর জমি পতিত রয়েছে| চলতি মৌসুমে ৩০৬ হেক্টর বেশি জমিতে বোরো চাষ হয়েছে| প্রায় দেড় হাজারেরও বেশি কৃষক এ বোরো ধানের আবাদ করেছেন| এবছর উপশী, হাইাব্রিড-৮, শক্তি-২, হীরা-২ সহ বিভিন্ন জাতের ধান চাষ করা হয়েছে| ধানের ফলনও হয়েছে ভাল| ধান কাটাও প্রায় শেষের দিকে| দীর্ঘকাল পর এ অঞ্চলের কৃষকরা ৫০ শতকের প্রতি বিঘা জমিতে ৪০ থেকে ৪৫ মন ধান পেয়েছে বলে একাধিক কৃষকের সাথে আলাপ করে জানা গেছে| প্রধান ফসল আমনের বাম্পার ফলনের পর এবার বোরো ধানের বাম্পার ফলন হলেও দাম অত্যান্ত কম হওয়ায় চাষীরা হতাশ হয়ে পড়েছেন| সরকার দেশে কৃষি বিপ্ল¬ব ঘটানোর দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করলেও এবং সারা দেশে যখন কমবেশি বোরো ধান উদপাদন হচ্ছে তখন এউপজেলায় শুধু মিষ্টি পানি, আধুনিক সেচ ও চাষ যন্ত্রের অভাবে শত শত বিঘা জমি পতিত থাকছে| উপকূলীয় এঅঞ্চলের কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ও সেচ সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে এসব পতিত অনাবাদী জমি বোরো চাষাবাদের আওতায় আনা সম্ভব| আর এতে প্রতিবছর আরো কয়েক হাজার মেট্রিকটন অতিরিক্ত খাদ্য শস্য (বোরো) উপাদন করা সম্ভব বলে এলাকার সচেতন মহল ও স্থানীয় উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা মনে করেন| এছাড়া আমনের পর দ্বিতীয় অর্থকারি ফসল তরমুজে ব্যাপক লোকসানের কারণে আগামীতে কমতে পারে তরমুজ চাষ| আর ভালো ফলন হওয়ায় বোরো চাষ অনেক বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করেন ওই মহল|
আনন্দ নগর এলাকার কৃষক শুভংকর রায় জানান, তিনি দেড় বিঘা জমিতে বোরা হাইাব্রিড ৬৭ ও ৯৭ জাতের ধানের চাষ করেছেন| এতে তার সব মিলে প্রায় ৩০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে| ফলনও হয়েছে খুব ভাল| ৫০ শতকের বিঘা প্রতি ৪০ থেকে ৪২ মন ধান পেতে পারেন বলে আশা করছেন| কিন্তু মাত্র ৮০০ টাকা ধানের মন বিক্রি হচ্ছে বলে হতাশা ব্যক্ত করেন তিনি| তার মতো বিভিন্ন এলাকার একাধিক কৃষক একই অভিমত ব্যক্ত করেন|
এব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম বলেন, এবছর বোরোর বাম্পার ফলন হয়েছে| তবে দাম অত্যান্ত কম| এতে কৃষকের বেশি লাভ হবে না| এবছর যেহেতু তরমুজ চাষে কৃষকের ব্যাপক লোকসান হয়েছে| সেহেতু আগামীতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বোরো চাষ অনেক বৃদ্ধি পাবে| কারণ এবছর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অনেক খাল খনন করা হয়েছে| যে যে এলাকায় খাল খনন করা হয়েছে সে সব এলাকায় আরো বেশি করে বোরো চাষ হবে| কারণ সেচের পানির আর সংকট থাকবে না| এতে আগামীতে আর কোন জমি পতিত থাকবে না এবং এলাকার কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করলে আরো অতিরিক্ত খাদ্য শষ্যা উদপাদন করা সম্ভব হবে|