
পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি : খুলনার পাইকগাছায় ইসলামী ব্যাংকে জাল ‘সেলফিন’ ভাউচার ব্যবহার করে দেড় লাখ টাকা আত্মসাতের চেষ্টাকালে এক যুবককে আটক করা হয়েছে। ব্যাংক কর্মকর্তার বিচক্ষণতা ও স্থানীয় জনতার তৎপরতায় সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের একটি অপচেষ্টা ভেস্তে যায়। আটক যুবক পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত জনতার হাতে ধরা পড়ে পুলিশের কাছে সোপর্দ হয়।
আটক যুবকের নাম নাইমুল হক। তিনি বরিশাল জেলার নেছারাবাদ থানার পিরোজপুর গ্রামের মৃত এনামুল হকের ছেলে বলে জানা গেছে।
বৃহস্পতিবার সকালে পাইকগাছা ইসলামী ব্যাংক শাখায় এ ঘটনা ঘটে। ব্যাংক সূত্র জানায়, নাইমুল হক ক্যাশ কাউন্টারে ‘সেলফিন’ অ্যাপের মাধ্যমে দেড় লাখ টাকার একটি ভাউচার জমা দেন। তবে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ভাউচারটি যাচাই করার সময় সেটিতে অসঙ্গতি দেখতে পান। পরে আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষায় এটি জাল ভাউচার বলে নিশ্চিত হওয়া যায়।
বিষয়টি টের পেয়ে অভিযুক্ত যুবক দ্রুত ব্যাংক থেকে বের হয়ে পালানোর চেষ্টা করেন। এসময় ব্যাংকের ভেতরে ও বাইরে থাকা লোকজন তার আচরণ সন্দেহজনক মনে হলে ধাওয়া দেয়। পরে স্থানীয় জনতা তাকে আটক করে পুনরায় ব্যাংকে নিয়ে আসে।
ইসলামী ব্যাংক পাইকগাছা শাখার ম্যানেজার মো. আবু জাফর বলেন, “যুবকটি একটি সেলফিন ভাউচার জমা দিলে আমাদের কর্মকর্তা সেটি যাচাই করতে গিয়ে জালিয়াতির বিষয়টি বুঝতে পারেন। পরে সে পালানোর চেষ্টা করলে স্থানীয় লোকজন তাকে ধরে ফেলে। সাথে সাথেই থানা পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।”
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ জানতে পেরেছে, একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে ব্যাংকিং অ্যাপের ভাউচার জাল করে বিভিন্ন স্থানে প্রতারণার চেষ্টা চালিয়ে আসছে। আটক নাইমুল হক কয়েকদিন আগে খুলনার বড়বাজার এলাকায় একই ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন বলেও তথ্য মিলেছে।
খবর পেয়ে পাইকগাছা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্তকে হেফাজতে নেয়। পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় জড়িত অন্য সদস্যদের শনাক্ত করতে তদন্ত শুরু হয়েছে। একই সাথে প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে।