
পাইকগাছা প্রতিনিধি : খুলনার পাইকগাছায় উৎসবমুখর পরিবেশে সরকারিভাবে অভ্যন্তরীণ বোরো ধান সংগ্রহ অভিযানের উদ্বোধন করা হয়েছে। ১২ মে মঙ্গলবার সকালে উপজেলা খাদ্য গুদাম চত্বরে প্রধান অতিথি হিসেবে ফিতা কেটে ও কৃষকের কাছ থেকে ধান গ্রহণের মাধ্যমে এ অভিযানের সূচনা করেন খুলনা-৬ (কয়রা-পাইকগাছা) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মাওলানা আবুল কালাম আজাদ। উপজেলা নির্বাহী অফিসার ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ও বক্তারা দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং কৃষকের উৎপাদিত ফসলের নায্য মূল্য নিশ্চিতে বর্তমান সরকারের নানামুখী পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন। এমপি আবুল কালাম আজাদ তাঁর বক্তব্যে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়ে বলেন, “ধান সংগ্রহে যেন কোনো প্রকৃত কৃষক হয়রানির শিকার না হয় এবং স্বচ্ছতার সাথে লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয় সেদিকে কড়া নজর রাখতে হবে।” উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক হাসিবুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন, উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো. একরামুল হোসেন, উপজেলা খাদ্য পরিদর্শক দেবলা শীল এবং ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন জেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য আলহাজ্ব মাও. আমিনুল ইসলাম, জেলা ইউনিট সদস্য সহকারী অধ্যাপক আব্দুল মোমিন সানা, উপজেলা নায়েবে আমীর মাও. জিএম বুলবুল আহমেদ ও সেক্রেটারি মাও. আলতাফ হোসেন, অ্যাড. মোর্তজা জামান আলমগীর রুলু, তামিম রায়হান, সোহেল সহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ এবং খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তাবৃন্দ। সংগ্রহ অভিযানের সময়সীমা আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত সংগ্রহ অভিযান চলবে। নির্ধারিত মূল্য প্রতি কেজি ৩৬ টাকা (মণ প্রতি ১,৪৪০ টাকা) দরে সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ধান কেনা হবে। চলতি মৌসুমে উপজেলা থেকে মোট ৬২৯ মেট্রিক টন বোরো ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। একজন কৃষক সর্বনিম্ন ১ মেট্রিক টন থেকে সর্বোচ্চ ৩ মেট্রিক টন পর্যন্ত ধান সরকারি গুদামে বিক্রয় করতে পারবেন। অনুষ্ঠানে কৃষক অনুকূল ব্যানার্জি ও সবুর মোড়ল সহ স্থানীয় চাষিরা সরাসরি সরকারের কাছে ধান বিক্রি করতে পেরে সন্তোষ প্রকাশ করেন। খাদ্য বিভাগের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা জানান, মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য রোধে এবার কঠোর মনিটরিং ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।