
দিঘলিয়া প্রতিনিধি : দিঘলিয়ার বারাকপুর ইউনিয়নে এক স্কুলছাত্রের নাটকীয় নিখোঁজ ও মুক্তিপণ দাবির চাঞ্চল্যকর ঘটনার অবসান ঘটেছে। নিখোঁজ হওয়ার একদিন পর পুলিশ তাকে ডুমুরিয়া উপজেলার থুকড়ো সাহাপুর এলাকা থেকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। তবে উদ্ধারের পর বেরিয়ে এসেছে পুরো অপহরণের ঘটনাটি ছিল ওই ছাত্রের নিজেরই সাজানো একটি নাটক। ঘটনার শুরু গত ১৪ এপ্রিল ২০২৬ তারিখ সকাল ৮ টায়। বারাকপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র পরশ গোলদার (১৪) প্রতিদিনের ন্যায় প্রাইভেট শিক্ষকের নিকট পড়ার উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হয়। পরশ দিঘলিয়া কৃষি অধিদপ্তরের সাবেক কর্মচারী বিপুল গোলদারের ছেলে। বর্তমানে পাইকগাছা উপজেলা কৃষি অধিদপ্তরে বদলি হয়েছেন। পরশ বাসা থেকে বের হওয়ার সময় সে কৌশলে তার মায়ের মোবাইল ফোনটি সাথে নিয়ে যায়। এরপর থেকেই শুরু হয় রহস্যময় সব কর্মকাণ্ড। পরশ নিখোঁজ হওয়ার কিছু সময় পর থেকেই তার পরিবারের কাছে বিভিন্ন মাধ্যমে প্রাণনাশের হুমকি আসতে থাকে। বিশেষ করে ‘Bd gang’ নামক একটি ফেসবুক আইডি ব্যবহার করে পরশের মায়ের মেসেঞ্জারে ভয়ংকর সব বার্তা ও ছবি পাঠানো হয়। একটি ছবিতে পরশকে নিথর অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়, যা দেখে পরিবার ও এলাকাবাসীর মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বার্তার প্রেরক নিজেকে অপহরণকারী দাবি করে জানায় যে, পরশ তাদের কব্জায় আছে এবং তাদের দাবি না মানলে তাকে হত্যা করে লাশ গুম করা হবে। এমনকি মুক্তিপণ হিসেবে পরশের মায়ের বিকাশ নম্বরে টাকাও দাবি করে এবং বলে অপহরণকারী হ্যাকাররা ওই টাকা হ্যাকিং সিস্টেমে তুলে নিবে। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে গ্রহণ করে দিঘলিয়া থানা পুলিশ দ্রুত অভিযানে নামে। দিঘলিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ শাহ আলম, ওসি তদন্ত প্রবীর কুমার বিশ্বাস ও থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই লিটন সহ পুলিশের একটি দল আধুনিক তথ্য প্রযুক্তির সহায়তা নিয়ে অপহরণকারীর অবস্থান শনাক্ত করার চেষ্টা চালায়। তদন্তের এক পর্যায়ে পুলিশ নিশ্চিত হয় যে, কোনো প্রকৃত অপহরণকারী নয়, বরং পরশ নিজেই বিভিন্ন স্থান থেকে ছবি তুলে এবং ‘Bd gang’ আইডি ব্যবহার করে এই নাটকটি সাজিয়েছে। শেষ পর্যন্ত প্রযুক্তির নিখুঁত ব্যবহারের মাধ্যমে তাকে ডুমুরিয়া উপজেলার থুকড়া এলাকা থেকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পুলিশের এই সফল অভিযানে দিঘলিয়া থানা পুলিশের এই আপ্রাণ প্রচেষ্টাকে স্থানীয়রা সাধুবাদ জানিয়েছেন। তবে এই ঘটনাটি কিশোর বয়সের আবেগ ও ডিজিটাল প্রযুক্তির অপব্যবহারের এক নেতিবাচক উদাহরণ হিসেবে সামনে এসেছে। পুলিশ প্রশাসন ও সচেতন মহল থেকে অভিভাবকদের বিশেষভাবে সতর্ক করা হয়েছে, যাতে তারা তাদের সন্তানদের ইন্টারনেট ব্যবহার ও মানসিক অবস্থার প্রতি আরও যত্নশীল থাকেন।